পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లీo e শক্তিউপাসক ছিলেন। তাহার মৃত্যু অতি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। আমরা মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত আদিত্যরাম ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ের মুখে শুনিয়াছি যখন হরবল্লভ বাঁবুকে . উপহার আদেশ মত গঙ্গাযাত্রা করাইবার জন্ত দ্বারাগঞ্জের ঘাটে লইয়া যাওয়া হয়, তপন তিনি পুত্ৰগণ সমভিব্যাহারে স্বয়ং জলে নামিয়া যান এবং আবক্ষ গঙ্গাজলে রাডাইয় জপ করিতে থাকেন । এদিকে পুত্রগণকে আদেশ দেন যে যতক্ষণ তিনি জপ করিবেন কেহ যেন তাঙ্কাকে স্পর্শ বা বিরক্ত না করে। তিনি যখন অবসর হইয়া হেলিয়া পড়িবেন তখন তাহাকে ধরিয়া অন্তর্জলির জন্য ঘাটের নিকট লইরা যাইবে।—জপ করিবার কালে হঠাৎ জোলে ঢেউ লাগিয়া তিনি একটু হেলিয়া পড়েন। অমনি পুত্রগণ শশব্যস্তে র্ত্যহাকে ধরিতে উদ্ভূত হন। হরবল্লভ বাৰু ঈষৎ হাসিয়া বলেন, “এখন সরে যাও, এখনও সময় হয় নাই।” এই বলিয়া পুনরায় ইষ্টমন্ত্র জপে রত হন। ক্ষণকাল পরে অন্তিম সময় উপস্থিত হইলে তিনি পুত্রগণকে ইঙ্গিতে জানাইয়া চিরনিদাময় হন। ঘাটের উপর হইতে এবং নিম্নে বহু নরনারী অবাকৃ হইয়া এই ঘটনা লক্ষ্য করিতেছিল। কয়েকজন হিন্দুস্থানী বৃদ্ধ মনের আবেগে বলিয়া উঠিলেন, “বাঙ্গালী হোকে এয়স মরতা হায় !” পুৰ্ব্বেই একজন প্রকৃত ধৰ্ম্মপ্রাশ এবং ভক্তিমান পুরুষ বলিয়া হরবল্লভ বাবুর প্রতি জনসাধারণের অসীম ভক্তি ছিল, পরে এই ঘটনা রাষ্ট্র হইলে তাহার বংশবরগণের প্রতি সাবারণের শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাইল। কালীচর্ণ বাৰু পিতার সাবিক ভাব এবং ধৰ্ম্মনিষ্ঠ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। শৈশবকাল হইতেই তিনি সত্যনিষ্ঠ ছিলেন। তখন ক্রমে ক্রমে ইংরালী শিক্ষার প্রচার হইলেও পারস্ত ও উর্দু, শিক্ষা অপরিহার্য্য ছিল। সুতরাং কিছু বাঙ্গালা শিক্ষা করিয়া এলাহাবাদ দরিয়াবাদের প্রসিদ্ধ মৌলবীদিগের নিকট তিনি পারস্ত ভাষা শিক্ষা করেন। ঐ ভাষায় পয়ে তাহার বিশেষ ব্যুৎপত্তি জন্মিয়ছিল। কিন্তু যখন দেখিলেন যে ইংরাজী শিক্ষা ব্যতীত ইংরাজী দপ্তরে উচ্চ বেতনের কৰ্ম্মপ্রাপ্তির, দস্তাবনা লাই এবং ইংরাজী অব শিক্ষণীর ও আদালতে প্রাদেশিক ডাষার প্রচলনের হুকুম জারি হইল,তখন তিমি এলাহাবাদের ইংরাজী বিদ্যালয়ে প্রবেশ কয়িলেন। তখন তাহার বয়ঃক্রম প্রবাসী । চতুর্দশ বর্ষ। অধিক বয়সে ইংরাজী আরম্ভ করিলেন বটে। কিন্তু অধ্যবসায় ও প্রতিভা প্রভাবে ছয় বৎসরের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হইলেন। অধ্যক্ষ লুইস সাহেব তাছাকে বিশেষ স্নেহ করিতেন। পাঠ্যাবস্থাতেই কালীবাবুকে তিনি এক শ্রেণীতে অধ্যাপনা করিতে দিয়াছিলেন এবং তাহার প্রিয় ছাত্রের কৃতকাৰ্য্যত দেখিয়৷ পরম প্রীতিলাভ কলিয়াছিলেন । কিছুকাল পরে "আউধ ** **wrosofia" (Oudh Royal Observatory) অধ্যক্ষ কর্ণেল উইলকক্স করেকজন কৰ্ম্মচারীর জন্য লুইস সাহেবকে লিগিয়া পাঠান। লুইস সাহেব মাধবদাস বাবাজীর সহিত অন্য যে দুই তিন জন ছাত্রকে পাঠান, কালীচরণ বাবু তাহদের একজন সাহেব তিন জনের সহিতই স্বতন্ত্র পরিচরপত্র দিয়াছিলেন। কালীবাবুকে বিদায় দিবার কালে লুইস সাহেব চক্ষের জল সম্বরণ করিতে পারেন নাই। উইলকক্স সাহেবের নিকট তাহার কোন কষ্ট না হয় সে জন্ত তিনি পরিচয়পত্রে বিশেষ অনুরোধ করিয়া লিখিলেন, এবং বলিয়া দিলেন “যদি সংস্ৰ লোক একদিকে থাকে অল্প কালীবাবু অদ্যদিকে, তাহ হটলে কালীবাবুর কথাই পতা বলিয়া গ্রহণ করিবেন। ইং। আমার বহু পরীক্ষার ফল জানিবেন।” লক্ষে পৌঁছিয়া কালীবাবু স্বীয় আত্মীয় বাৰু ভৈরবচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যাগের সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। ভৈরব বাৰু লক্ষ্মেীর রেসিডেন্সীর টেঙ্গারার ছিলেন । এই পদ তপন বর্তমান খাজাঞ্চীব মত ছিল না। আর্থিক দায়িত্ব ব্যতীত অন্তাল্প বিষয়ের অধিকারে মীমাংসা ও বিচারেরও ক্ষমতা ছিল। উহ। তখন যেমন সম্মানের অধ্ৰুপ আবামেয় পদ ছিল । বিশেষতঃ ভৈরব বাবুর তথায় ভয়ানক প্রতাপ ছিল। র্তাহার নামে সে সময় লক্ষ্মেী এ বামে গরুতে এক ঘাটে জল থাইত। নবাব মহলেও তাহার যথেষ্ট প্রতিপত্তি ছিল। কালীচরণ তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া কৰ্ম্মস্থানে গমন করিলেন । তাঁহার কার্য্যকলাপ এবং আচরণ দেখিলু উইলকক্স সাহেব ঠাহীর পক্ষপাতী হইছেনি। ১৮৪- অঙ্গে কর্ণেল মহোদয়কে গবর্ণমেণ্টের অনুজ্ঞাক্ৰমে কাবুল যার করিতে হয় । যাইবার সময় সরকারী কৰ্ম্ম ব্যতীত তাঙ্গর কয়েকট সাংসারিক বিষয়ের তত্ত্বাবধান করিবার ভার ৫ম ভাগ । ਾ। কালীবাবুর উপর গুস্ত করিয়া যান। ফিরিয়া আসিয়া সমুদয় কাৰ্য্য সুচারুরূপে সম্পাদিত ইয়াছে দেখিয়া কালী বাবুর উপব যৎপরোনাস্তি সস্তুষ্ট হন এবং অতঃপর তাহার সহিত বন্ধুর দ্যায় ব্যবহার করেন । কয়েকজন কুমন্ত্রী নবাব ওরাষ্ট্ৰীদ আলীর্থীকে একবার পলামর্শ দেয় যে “মানমন্দিরের বাড়ীকে রাজপ্রাসাদ করিলেই ঠিক হয় ; কারণ গ্রীষ্মের সময় ইহার"তহ্থান" (মৃত্তিকাভাক্ষরস্থ গৃহ) অতিশয় মনেীলম ও সুশীতল হয়” ইত্যাদি । এষ্ট স্বত্রে নবাব একদা মানমন্দির পরিদর্শন করিতে আইলেন। কালী বাবু তথম কাৰ্য্যে ব্যাপৃত ছিলেন। নবাব তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিলে তিনি জ্যোতির্বিদ্য ও যন্ত্রাদি সম্বন্ধে অনেক বুঝাইয়া দিলেন। নবাব - তাহাতে অতান্ত প্রত হইয় পুৰ্ব্ব সঙ্কল্প ত্যাগ করিয়া চলিরা গেলেন। কর্ণেল উইলকক্স কিছুদিন পরে পরলোকগমন করেন। তাহার স্থান অধিকার করিবার উপযুক্ত পাত্র তখন না থাকায় মানমন্দিরের দপ্তর উঠিয়া যায়, এবং কালী বাবু তাহার আীয় ভৈরব বাবুর নিমস্ত নায়েব খাজাঞ্জীর পদ প্রাপ্ত হন । কয়েক বৎসল পরে ভৈরব বাবুর মৃত্যু হইলে কালী বাবুই তাহার পদে স্থায়ী দ্বন। জেনারেল আউটরাম তখন রেসিডেন্ট ছিলেন। কালী বাৰু তাহার একজন কৰ্ম্মচারী হইলেও তাহাকে বন্ধুভাবে দেখিতেন। রেসিডেন্সী এবং নবাব সরকারের কাজকৰ্ম্ম বেশ শাস্তিতে নিৰ্বাহ হইতেছিল, এমন সময় বড়লাট লর্ড ডালহৌসী জেনারেল আউটরামের প্রতি ব্লাঞ্জাজ্ঞা প্রেরণ করেন যে, তিনি যেন অযোধান নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করেন এবং প্রদেশের ভার নিজহস্তে গ্রহণ করেন । তাহার কারণ “জীবকুলের অভিসম্পতিস্বরূপ নবাবের শাসনকার্য্যের আর অধিক প্রশ্রয় দিলে ঈশ্বর ও মানবের নিকট ইংরাজ গবর্ণমেণ্টকে অপরাধী হইতে হইবে ” নবাব সরকারের উচ্ছেদসাধন করিয়া জেনারেল বাহাদুর ইংলও গমন করলে সায় হেনরি লরেন্স পঞ্জব হইতে আর্মিয় অযোধ্যার চীফ কমিশনর হল । ইনি কর্ণেল শ্রীম্যান ও জেনারেল আউটরামের ছায় কালী বাবুকে বন্ধুভাবে দেখিতে লাগিলো। নূতন শাসনপ্রণালী বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত হইলে পর কিছুকাল বেশ শাস্তিতে কাটিতেছিল। ভাওীর ধনধান্তে | সিপাহী বিদ্রোহের দিনে প্রবাসী বাঙ্গালী । S}o o পূর্ণ এবং কৰ্ম্মচারীরা সকলেই বেশ সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু কোথা হইতে হঠাৎ বিদ্রোহের. বাতাস বহিতে লাগিল । পরিবর্তনের চিহ্ন দেথা দিল। কালীচরণ বাবু কার্য্যোপলক্ষে ছুটী লষ্টয়া এলাহাবাদ গমন করিলেন। অবসর কালের ভিতরে তিনি কাশীতে অবস্থান করিতেছিলেন ; এমন সময় চীফ কমিশনর সাহেবের পত্র পাইলেন যে, অবিলম্বে তাছাকে লক্ষ্মেী যাইতে হুইবে । কারণ বাদও স্পষ্ট কোন লক্ষণ দেখা দেয় নষ্ট তথাপি বিদ্রোহের পূর্বসূচনা হইতেছে। পত্রপ্রাপ্তি মাত্র কালী, বাবু লক্ষ্মেী যাত্রা করিলেন এবং পুনরায় কাৰ্য্যভার গ্রহণ করিলেন । ১৮৫৭ অশ্বের ২৮শে জুন শাস্তির শেষ দিবস। খাজান বেশ নিরাপদে ছিল। কাণী বাবুর তত্ত্বাবধানে নগদ ও নোটে এক কোটির উপর টাকা ছিল। ভিন্ন ভিন্ন সিন্দুকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার তোড়া ও পচিশ হাজার টাকার পয়স ছিল। এই সমুদয় বেলাগার্ডের দুর্গে সুরক্ষিত ছিল। ২৯শে জুন প্রাতে যখন কালীচরণ বাবু মফঃস্বলের আমদানী তিন লক্ষ টাকা গণিয়া রাখিতেছিলেন, এমন সময় হঠাৎ কে ঠাহার নাম ধরিয়৷ উচ্চৈঃস্বরে ডাকিল। অগ্রসর হইয়া দেখেন চীফ কমিশনরুসায় হেনরি লরেন্সসঙ্গে কর্ণেল— । উভরেই ভয়বিহবল ! তৎক্ষণাৎ তিন জনে পরামর্শ করিয়া কৰ্ত্তব্য নিৰ্দ্ধারণ করিলেন। এদিকে তারে খবর আসিল খে বিদ্রোহ আয়ন্ত হইয়াছে।—সুতরাং এক্ষণে খাজনা রক্ষার বন্দোবস্ত করিতে হইবে । কালী বাবু বলিলেন তিনি সমস্ত আদেশ পালন করিতে প্রস্তুত। সাহেব বাহাদুর প্রস্তাব করিলেন যে “দেশ রক্ষী সৈন্ত স্থলে যুরোপীয় রক্ষী সৈন্ত স্থানে স্থানে বসাইতে হইবে।” কালী বাবু তাহাতে আপত্তি করিয়া বলিলেন, “তাহা কোন মতেই হইবে না। কারণ মিপাহিগণ তৎক্ষণাৎ সদের করিয়া সমস্ত থাজান লুঠ করিবে, এবং আমাদের হত্যা করিবে ।” অবশেষে তাহারই পরামর্শ গৃহীত হইল। কালী বাবু খাজান রাখিবার স্থান ও গারদ (প্রহরী) নির্দেশ করিপ্লাঞ্ছিলেন। তদবধি লরেন্স মহোদয় প্রায় সকল্প শাসনসংক্রান্ত শুরতর ও গুপ্ত বিষয়ে কালী বাবুর পরামর্শ লইয়া কাৰ্য্য করিতে লাগিলেন । কিন্তু তথায় মিদ্রোহেয় আতঙ্ক ক্রমেই ঘনীভূত হইতে লাগিল। শেষে কালী বাবুর একাস্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি খাজান মচ্ছিভ