পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Հ)e Ե কারণ বিদ্রোহীরা যখন কালীবাবুর মস্তকের জন্ত পীচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে, তখন তাহার বিশ্বাসী ভৃত্যগণ র্ত্যহার মৃত্যুসংবাদ চতুর্দিকে রাষ্ট্র করিয়া দেন। কেহ তাহাদিগের নিকট কালীবাবুর সংবাদ চাহিলে বা তাহার নামমাত্র করিলে তাহারা তাহার মৃত্যু হইয়াছে বলিয়া ক্ৰন্দন করিত । ইহাতে উভয় বিদ্রোহী এবং রাজপুরুষগণ সকলেরই ধারণা ছিল যে, কালী বাবু আর নাই। তিনি কি প্রকারে প্রাণ বাঁচাইতে সমর্থ হইলেন জানিবার জন্ত সাহেব বড়ই কৌতুহলাক্রান্ত হইলেন। কালীবাবু বলিলেন বাচিয়াছি বটে কিন্তু মরিয়া বাচিয়াছি অর্থাৎ মৃত্যুসংবাদ ইতি পূৰ্ব্বেই রাষ্ট্র হইয়াছিল। এই বলিয়া তিনি তাহার দুঃখের কাহিনী সমস্ত বর্ণন করেন। মার্টিন সাহেব বিদ্রোহের সময় প্রত্যহ রাত্রে মোগলের ছদ্ম বেশে বেলীগার্ড দুর্গ হইতে বাহির হইয়া সহরের সংবাদ লইয়া যাইতেন । সেই স্থত্রে তিনি সংবাদ পান যে কালী বাবুর মৃত্যু হইয়াছে। অতঃপর মার্টিন সাহেব কালী বাবুকে অবিলম্বে কণিপুর গিয়া লক্ষ্মেী হইতে প্রেরিত খাজনার ভার এবং বার মাসের বক্ৰী বেতন গ্রহণ করিতে আদেশ করিলেন। তখন বিদ্রোহ সম্পূর্ণরূপে দমিত হর নাই এবং কালীবাবুও বহু কষ্টের পর গৃহে থাকিয়া শাস্তিভোগ করিতেছিলেন। কিন্তু রাজভক্ত কালীবাবু মার্টিন সাহেবের অনুরোধ এড়াইতে পারিলেন না। তিনি শীঘ্রই কাণপুর যাত্রা করিলেন। পথে একদল গোরা সৈন্য তাহাকে বিদ্রোহী মনে করিয়া গুলি করিতে উদ্যত হইল। তিনি বহু কষ্ট্রে এবং বিবিধ প্রকারে বুঝাইয়া তবে প্রাণ পাইলেন। এই সমর পথে ঘাটে যেখানে যেমন দেশীয়কে দেখিতে পাইয়াছে উন্মত্ত গোরায়া হয় গুলি করিয়া মারিয়াছে-লা হয় গলে রঞ্জু বা বস্ত্র বাধিয়া বৃক্ষশাখায় ঝুলাইয়া দিয়া হত্যা করিয়াছে। যাহা হউক, সৈন্তগণ পরে কালীবাবুকে চিলিতে পারিয়া তাহাকে নিরাপদে কাণপুরে পৌছাইয় দেয়। তথায় গিয়াই কালীবাবু থাজানার ভার গ্রহণ করেন। কিছু দিন পরে মাটিন সাহেবও কাণপুরের “চীফ ম্যাজিষ্ট্রেট” হুইয়া দাম। পরে কালীবাবু ও তাহার ভ্রাতা ৬ মাসের বাকী বেতন লইয়া এলাহাবাদে ফিরিয়া আইসেন। তাহার প্রবাসী । পিতা মৃত্যুকাল পর্যন্ত আয় পুত্রগণকে চক্ষের অন্তরাল করেম নাই। কাণপুর হইতে মার্টিন সাহেব লক্ষ্মেীএর কলেক্টর হইয়া যান এবং তথা হইতে পুনরায় কালীবাবুকে নিয়োগপত্র প্রেরণ করেন। পত্রের মৰ্ম্ম এই যে লক্ষ্মেী এক্ষণে সম্পূর্ণরূপে ব্রিটিশ গবর্ণমেণ্টের অধিকারে আসিয়াছে, আর কোন ভয় নাই, কেবল একজন সুদক্ষ কৰ্ম্মচারী পাওয়া যাইতেছে না, অতএব কালীবাবু ও তাহার অপর দুই ভ্রাতা নিশ্চয়ই যেন কৰ্ম্মস্থলে আসিয়া যোগ দেন । কিন্তু যদি অন্য ভ্রাতৃদ্বয় ঘটনাক্রমে কৰ্ম্ম করিতে অপারগ হন, তবে কালীবাবু যেন অন্ততঃ এক বৎসরের জন্য কৰ্ম্ম স্বীকার করিয়া অফিষের সুবন্দোবস্ত করিয়া দিয়া যান। কালীবাবুর ভ্রাতার অসম্মত হইলে তিনি একাকী লঙ্কে দাত্র করেন। অফিৰে গিয়া দেখেন সমস্তই নুতন করিয়া গড়িতে হইবে স্বতরাং ভিনি প্রভূত পরিশ্রম করিয়া দপ্তর পুনর্গঠিত করিলেন এবং পূর্বাবৎ তইশলের কার্য সুনিয়তি করিলেন। লঙ্কেএ পুনরায় ইংরাজ গবৰ্ণমেণ্টের প্রভুত্ব প্রতিষ্টিত হইল। কালীবাবুর স্বযশ মিস্তারলাভ করিল এবং উচ্চ রাজপুরুষগণ তাহার সঞ্চ, ণের পক্ষপাতী হইয়া পড়িলেন – কিন্তু টেজারি অফিসারের তাহা অসহ্য হইল। কালীবাবু তাহাকে ঈর্ষ্যাকুল দেখিয়া কৰ্ম্মত্যাগ করিলেন । ইহা তাহার অল্প গৌরবের বিষয় নহে যে তিনি ৮১ লক্ষ টাকার হিসাব কড়ায় গণ্ডার বুঝাইয়া দিয়া একপক্ষ কালের মধ্যেই অবসরগ্রহণ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন । তিনি কৰ্ম্মস্থল হইতে নিৰ্ম্মল চরিত্র ও স্বযশ লইয়া এবং পদস্থ রাজপুরুষদিগের প্রতি ও শ্রদ্ধা অর্জন করিয়া অবসরগ্রহণ করিলেন। - তিনি অবসরকালের কিয়দংশ এলাহাবাদে এবং কিছুকাল বারাণসীতে ক্ষেপণ করিতেন। একবার তাহার পুরাতন বন্ধু হরপ্রসাদ সাহেব সীতারামী তাহাকে কাশীবাস করিতে পরামর্শ দেন এবং নিজেও কাশীতে বাস করিবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি কাশীনরেন্থের নিকট কালীবাবুর প্রসঙ্গ উত্থাপিত করেন। তাহার মিকট কালীবাবুর পরিচয় পাইয়৷ কাশীনরেশ অতিশয় প্রীত হন এবং তাহাকে দেখিতে চাহেল । রায় বলদেব বক্স সে সময় কাশীনরেশের "মাদারুল মোহীম” ( ম্যানেজার) ছিলেন । { ৫ম ভাগ । !..... হরপ্রসাদের একান্ত ইচ্ছা ছিল যে, কালীবাবু মহারাজার ষ্টেটে কোন কৰ্ম্মগ্রহণ করেন। তাছা হইলে বন্ধুত্রয় একত্রে বাস করিতে সমর্থ হন। এক দিবস তিনি কালীয়াবুকে রামনগর প্রাসাদে লইয়া যান। মহারাজা রামনগর প্রাসাদেই প্রায় থাকিতেল । তথায় রাত্রে তাহার সহিত কালীবাবুর সাক্ষাৎ হয়। কার্শানরেশ বলেন যে তিনি উভয় লাহী ৪ ইংরাজী কৰ্ম্ম অতিশয় দক্ষতার সহিত সম্পাদন করিয়া স্বনাম অজ্জন করিয়াছেন। এক্ষণে তিনি র্তাeার সাহাধ্য প্রাপ্ত হইতে চাহেন । তদুত্তরে কালীবাবু নিবেদন করিলেন যে, তাহার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস হওয়ায় তিনি একপ্রকার অকৰ্ম্মণ। হইয়া পড়িয়াছেন। মহারাজা বলিলেল, আপনি বসিয়া থাকিলেও আপনারমুখের কথায় অনেক কাজ পাওয়া যাইতে পারে, তখন তিনি আয় কোন আপত্তি করিতে পারিলেন না, বরং কাশীনরেশের সৌজন্তে সম্মানিত বোধ করিলেন । মহীয়াজ প্তাহাকে মৰ্য্যাদাস্থচক পরিচ্ছদ ( robe of lionour ) দিয়া কৰ্ম্মে বরণ করিলেন । ধনাগার (জবাহীরথান ) ৪ অগ্নাগার তাহার হস্তে ন্যস্ত কষ্টল। মহারাঞ্জা ঠাঙ্গার প্রতি চিরসদয় ছিলেন এবং তাঙ্গর পরলোকপ্রাপ্তির পর প্তাহার পুত্র মহারাজা নারায়ণ সিংহ সাহেব কালীবাবুর পদ সম্মান এবং প্রতিপত্তি পূৰ্ব্ববং অক্ষুণ্ণ রাখিয়াছিলেন। তাহার ৭৩ বৎসর বয়ঃক্রম হইয়াছিল। কিন্তু বাৰ্দ্ধক্যে ঠাহান বুদ্ধিবৃত্তি বা কৰ্ম্মশক্তি হ্রাসপ্রাপ্ত হয় নাই। গঙ্গার পূর্ব উপকূলে রামনগর প্রাসাদ অবস্থিত। কাশীতে র্তাহার পরিবারবর্গকে রাথিয়া তাহাকে রামনগরেই থাকিতে হইত। এলাহাবাদের বাড়ীতে বড় একটা থাকিবার অবকাশ পাইতেন না। কিন্তু মৃত্যুর অব্যবহিত পূৰ্ব্বেই তাহার মনের ভাব হঠাৎ কিরূপ হইল, তিনি মহারাজার অনুমতি না লইয়াই হঠাৎ এলাহাবাদে আসিয়া পুরাতন বন্ধু বান্ধব এবং আত্মীয় স্বজনের সহিত সাক্ষাৎ করিয়াই কাশী ফিরিয়া গেলেন । কিন্তু আর র্তাহাকে কৰ্ম্মস্থানে যাইতে হইল না। তিনি মৃত্যু শয্যায় শয়ন করিলেন । ১৮৯৩ অব্দের ২৬শে এপ্রেল বিবার স্বৰ্য্যোদয়কালে দাৰু কালীচরণ চট্টোপাধ্যায় ইষ্টমন্ত্র জপ করিতে করিতে স্বৰ্গলাভ করিলেন। তিনি কয়েকটা অনন্যসাধারণ গুণ পাইয়া আসিয়াছিলেন। শৈশব হইতেই BBBBB BBB BBB BBB BB BBB BB BB S BB BBDD BB BBBB BBBS BBBB BBB BB ভ্রমণ । جی به نام তাহার বুদ্ধিবৃত্তি, কৰ্ম্মশক্তি এবং ধৰ্ম্মপ্রবৃত্তি বিকাশলাভ করিয়াছিল। তিনি সংস্থত, ইংরাজী, পারস্ত প্রভৃতি ভাষা উত্তমরূপে শিক্ষা করিয়াছিলেন। বাঙ্গালীর মুখে অনর্গল সাধুভাষায় নিভুল উদ্ধ, শুনিয়া অনেকে বিস্থিত হইয় যাইতেন। পারস্ত কাব্যগ্রন্থ ইষ্টতে অসংখ্য শ্লোক তাহার কণ্ঠস্থ হইয়া গিয়াছিল। হাফিজ সিরাজীর দিবান সৰ্ব্বদা তিনি সঙ্গে রাপিতেন। উছা তাহার প্রিয় গ্রন্থ ছিল। সংস্কুতেও তাহার বেশ অধিকার ছিল। তিনি প্রায়ই পণ্ডিতগণের সহবাসে শাস্ত্রালোচনা ও ধৰ্ম্মলাপে কালক্ষেপ করিতেন। তিনি স্বভাবতঃই দয়ার্ডচিত্ত ও বদান্ত ছিলেন। তাহার পূৰ্ব্বেই তাঙ্গার অনেক বাল্যবন্ধু এবং তাহার বিপদের সঙ্গী হথরাম ব্ৰহ্মচারী, ভবানীদ্বীন পণ্ডিত ভূত্য পুরী ও দীক্ষিতজ প্রভৃতির মৃত্যু হয়, কিন্তু তিনি আজীবন সকলের পরিবায়বর্গের রক্ষণায়েক্ষণ ও সাহায্য করিয়াছেন।* তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্ৰ সদাননা বাৰু ইংরাজী,পারস্ত ও সংযুক্ত শিক্ষা করিয়া কাশীর রাজকুমারের শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন এবং পরে তহশলদারের পদ প্রাপ্ত হইয়া এলাহাবাদে বাস করিতে থাকেন , কিন্তু তিনি অধিক দিন জীবিত থাকেন নাই। কালী বাবুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা খামাচরণ বাবু ও কনিষ্ঠ তারিণী বাবু ইতি পূৰ্ব্বেই পরলোকগমন করিয়াছিলেন। তাহার পুত্র ঐযুক্ত জ্ঞানানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় এক্ষণে কাশানরেশের তহীলঙ্কারের পদে প্রতিষ্ঠিত হইয়া এলাহাবাদে অবস্থিতি করিতেছেন। ঐজ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস । ভ্রমণ । বম্বে-বড়োদা লাইনে যোরিডুি ষ্টেশনের নিকটে শতাধিক শৈল-গুহা আছে। বেসিন এককালে পর্তুগীজ বাণিজ্যে বিশেষ শ্ৰীসম্পন্ন ছিল। তপতী নদীর তীরে স্বরাট বা প্রাচীন

  • ১৮৯৭-অন্ধে ধারাণসী জালালী যন্ত্ৰালয় হইতে সৈয়দ ওয়াঙ্গীৰ হোসেন কর্তৃক প্রকাশিত “ইনকিলাবে রোজগার" নামক পুস্তক হইতে ও কালী বাবুর পুত্র জ্ঞানানশ বাবু এবং মহামছোপাধ্যায় পণ্ডিত আদিত্য স্বাম ভট্টাচাৰ্য্য এম. এ. মহাশয়ের নিকট হইতে কালীচরণ वाबू मृश्वरक বত দূর সংগ্রহ করা গিয়াছে তাহারই একটা সংক্ষিপ্ত কাহিনী প্রকাশিত হইল।—লেখক ।