পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○め8 বস্তি । ইহাকে এখন সহর বলা যায় না। প্রাচীরবেষ্টিত পাহাড়ের উপর চিতোরগড়। এক মাইল পরিমিত পাহাড়ের ঢালু পথে হস্তি ধীরে ধীরে আরোহণ কবিতেছিল, তখন আমার মনে কত চিন্তা, কত ভাব সাগরজলে জোয়ারের মত উচ্ছল, চঞ্চল, উদ্বেল হইয়া উঠিতেছিল। এই বাপ্পাবাওর চিতোর, এই পদ্মিনী য়াণীর চিতোর, এই রাণা প্রতাপসিংহের চিতোর। মনে পড়িল ইহার ভাগাবিপৰ্য্যয়ের কথা ! এক রাজপুত কবি সমতল প্রান্তরের মধ্যে একক বিযুক্ত পৰ্ব্বত শীর্ষে চিতোরকে “অবনীর তিলক” বলিয়াছেন ; ইহা অতি রঞ্জন লাহে । সহরে যাইতে পর পর ৭টি তোরণ অতিক্রম করিলাম । তাহদের নাম—-পদল পোল, ফুটা পোল, হনুমান পোল, গণেশ পোল, তৌরল পোল, লক্ষ্মণ পোল এবং রাম পোল । পদল পোল অতিক্রম কলিয়াই প্রস্তরচিহ্নিত একটি স্থান প্রদর্শিত হইল। ১৫৩৫ সালে বাহাদুর শার আক্রমপকালে বাঘসিংহ এই স্থানে গৌরবদীপ্ত মৃত্যুলাভ করেন। ফুট। ও হনুমান পোলের মধ্যে ১৫৬৮ সালে আকবরের আক্রমণ সময়ে জয়মল ও কন্ন বীরদ্বয়ের মৰণক্ষেত্র "ছত্ৰী” (সমাধিমন্দির) দ্বারা চিহ্নিত রহিয়াছে দেখিলাম। তৎপরে নগর মধ্যে প্রবেশ করিয়া হস্তিত্যাগ করিয়া পদব্ৰজে সমস্ত দেখিতে আরম্ভ করিলাম। বহু প্রাচীন প্রাসাদ, মন্দির ও সমাধিক্ষেত্র দেখিলাম । জয়স্তস্ত প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মালোয়াবিজয় স্মরণীয় করিবার জন্ত এই স্তম্ভ ১৪৫০ সালে রাণীকুম্ভকর্তৃক নিৰ্ম্মিত হয়। ইহা নয়তল উচ্চ। রাণী কুম্ভের খিরাত খাস্বাও খুব উচ্চ স্তম্ভ। ইহার গাত্রে বহু চিত্র ও লিপি খোদিত রহিয়াছে। রাণী কুস্তের অপরাপর কীৰ্ত্তি কৃষ্ণমন্দির, কুৰ্ম্মসাগর, মহাদেবের মন্দির, যশোমন্দির, প্রাসাদ এবং স্বীয় পিতা রাণ মুকুলের অৰ্দ্ধমূৰ্ত্তিরক্ষিত মন্দির। যশোমন্দির কাহারো মতে খুব প্রাচীন, নবম শতাব্দীতে নিৰ্ম্মিত। রাণী কুম্ভেব প্রাসাদসংলগ্ন বিস্তীর্ণ পুষ্করিণীদ্বয় বড় মনোরম। এত উচ্চ স্থানে জলাশয় প্রতিষ্ঠা বহু ব্যয় ও আয়াসসাধ্য হইয়াছিল সন্দেহ নাই। রত্নসিংহের প্রাসাদ ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নিৰ্ম্মিত। ইহা এখনো অটুট রহিয়াছে। একটি জলাশয়ের উপর রাণী প্রবাসী । ৫ম ভাগ । পদ্মিনীর মুন্দর প্রাসাদ হিন্দুশিল্পের গঞ্চের সামগ্ৰী। ইহার শিল্প এত সুন্দল যে আকবর ইহার একটা তোরণ আগরীয় লষ্টয়া গিয়াছিলেন । ভক্তিপ্রাণী মীরা বাঈর আদরের কৃষ্ণমন্দিরের নিকটে “চয়বাঘ” যা রাণাদিগের সমাধিক্ষেত্র। জয়স্তম্ভের নিকটেও একটি দারুময় অলিন্দ রাণাদিগের দ্বাস্থান চিহ্নিত রাগিয়াছে। ইহার নাম “মহাগত।” রায়মল, জয়মল, মুকুল পত্ত প্রভৃতির বহু প্রাসাদ আজো বিদ্যমান আছে। দরিখানা বা দরবালগুহ, ভবানীমন্দির, রাজপুতরমণীগণের আপৎকালে চিতারোহণস্থান, বহু কুপ প্রভৃতি এথনো যথাযথ প্রদর্শিত হইয়া থাকে। একটি বটবৃক্ষ মূল ভেদ করিয়া “গোখ” নিন্মর প্রবাহিত হইতেছে - উহাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্ঘ্যে চিতোরকে অধিকতর ঐসম্পন্ন করিয়াছে। ইহায় নিকটে রাণীদের জহর বা আত্মনাশভূমি। শ্রদ্ধামিশ্রিত আনন্দে এই স্থানে মস্তক নত করলাম । আমার সঙ্গী সাহেব দেখিয়া হাসিলেন । সহবের মধ্যস্থলে জৈনমন্দির ও জৈনমুৰ্বিদমম্বিত এক স্তম্ভ আছে। সৰ্ব্বশেবে আমরা তোপথান দেখিতে গেলাম ; সেথানে কতকগুলা পুরাতন কামান চিতোরের স্বদিন দিলে যে কাৰ্য্য করিয়াছে তাঁহারই সাক্ষ্যরূপে পড়িয়া আছে ; অস্থাগারে আরো নানাপ্রকার পুরাতন অস্ত্র সজ্জিত দেপিলাম। আর এথানে রহিয়াছে উদয়পুরের মহারাঞ্জার রুটি ও অহিফেনবিলাশল গুটিকয়েক সিপাহী। হায় চিতোর, প্রতিপদক্ষেপে আমাদের চরণে যে সকল ইষ্টক প্রস্তর ঠেকিতেছিল, তাছা কত পবিত্র, কত পুণাস্মৃতি বিজড়িত, কিন্তু আজ তোমার দুরবস্থা দেখিয়া চোথে জল আসে । যে এতকাল আত্মরক্ষা করিয়াছে, হায়, সেও আজ অবসন্ন ! এখানে কেহই হলদিঘাটের কিছুই জানে না ! কোথায় কতদূরে কেহই বলিতে পারিল না ! দেই স্থান দেখিতে না পাইয়া বড় দুঃখিত হইল্পছিলান । চিতোর হইতে জয়পুরের টিকিট করিলাম। আজমীঢ়ে গিয়া গাড়ী পরিবর্তন করিতে হয়। রাত্রে আজমীঢ়ের ষ্টেসনের শোভা দেখিয়া ও ষ্টেসনের বাহিরে ক্লকটাওয়ার দেখিয়া সহর দেখিবার বড় প্রলোভন হইতে লাগিল । এমন সময় দেখিলাঘ একজন লোক একটা ল%ল লই৷ ৬ষ্ঠ সংখ্যা । ] দাঁড়াইয, লণ্ঠন ইংরাজিতে লেখা হিন্দু হোটেল। লোত প্রবল হইয়া উঠিল, আমি *Toto journey break করিলাম। ষ্টেসনের অতি নিকটেই হিন্দু হোটেল। বেশ পরিদরি পবিচ্ছন্ন, দ্বাজান, গোছান। চোটেলের ল্যানেজারও খুব অমায়িক ও ভদ্র ; চাকর পাচক সকলেষ্ট খুব কায়দারেস্ত । আমি প্রবাসে এই আশ্রয় পাষ্টয় পুলকিত ইষ্টলন। প্রাতে স্নান সমাপ্ত করিয়া ঠোঁটেলেরষ্ট ঠিক গাড়ীতে যন্তর দেখিতে যাহির হইলাস। সহর খুব বড় নয়, পশ্চিমে মহর যেমন হয়, গলিখুঁজি, ময়লা অপরিস্কাল। তবে বাজারের প্রধান অংশ ও কলেজের দিকটা বেশ সুদৰ্শ ও পরিবার। আজমীঢ়ের শোভ ও গৌরবলানী সহরের বাছিরটা। জাহাঙ্গীর বাদশারচিত ১৯৪৭ হিজরীর দৌলতৰাগের নীচেষ্ট জলচরবিহঙ্গমস্থল বিস্তীর্ণ হ্রদ আনা সাগর, আনাসাগরের উপরে দৌলতবাগের মধ্যে পাথরের স্বালান, জলে নামিবায় ঘাট ও একটি ক্ষুদ্র শৈলশিপরে কমিশনার সাহেবের কুঠি বড় সুন্দর। শুনিলাম, এই আমাসাগবের কূলে জাহাঙ্গীরেল হাওয়াথানার সঙ্গে আরো অনেক গুহ নিৰ্ম্মিত হইয়া গবর্ণমেণ্টের দপ্তরখানা হইয়াছিল ; পরে ইণ্ডিয়া গবর্ণমেণ্ট নতন ভবন ভগ্ন করিয়া পুরাতন কীৰ্ত্তি যথাযথ রক্ষণ কৰিঙ্গছেন। একখানা প্রস্তরফলকেও এই ইতিহাস উৎকীর্ণ আছে । অন্যসাগরের পরপারে তিন ক্রোণ উত্তরে সাবিত্রী পাহাড়। প্রাতঃস্ফুর্যোর স্বর্ণদীপ্তি খৰ্ব্বকায় বৃক্ষগুণাগুলিকে ভাস্বর করিয়া তুলিয়াছিল। আমি পদ্ধরযাত্রী ও উটের সারি দেখিতে দেখিতে পৃদ্ধরদর্শনে চলিলাম। কি বিষম চড়াই, উৎরাই। একটা আস্ত পাহাড় ভিঙ্গাইয়া পুষ্কর যাইতে ছর : পৃক্ষয় একটা অধিতাকার মধ্যে। অধিতাক উপত্যক। শুধু ভূগোলের পৃষ্ঠায় পড়িয়াছিলাম আঞ্জ তাহার পুষ্ট ধারণ হইল । পুধরে একটি হ্রদ আছে , তাহার কুলে বহু মন্দির ও পাণ্ডার বাসে একটি ছোট সহর হইয়৷ গিয়াছে। আমি সাবিত্রী পাহাড়ে উঠি নাই। একদিকে যেমন আনাসাগর, পুষ্কর হ্রদ ও সাবিত্রী পাহাড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে পথিকের যন ছয়ণ করে, অপর দিকে তেমনি তালাগড় নামক শৈলশিখরস্থ গড় ভ্ৰমণ । రి){ শ্রদ্ধা আকর্ষণ করে। এই গড় আজমীঢ়ের ইতিহাসে বিশেষ প্রসিদ্ধ বলিয়া ইহার যথেষ্ট আকর্ষণী আচে । সহরের মধ্যে দর্শনীয়-আজমীচ সহরের তোরণ। ইহার ঝরেীক জাহাঙ্গীর বাদশার প্রকাশু দরবারের স্থান ছিল। এই স্থানেষ্ট ইংরাজদূত য়ে সাহেব প্রথম বাদশার সাক্ষাংলাভ করেন । আড়াই দিন কা ফোপয়। ইছা আীে হিন্দু মন্দির ছিল, শেষে মুসলমালের মসজিদে পরিণত হয়। টড, ফাগুসন প্রভৃতি ইহার সৌন্দৰ্য্য, গাম্ভীৰ্য্য ৪ শিল্পকলায় মুগ্ধ হইয়া সবিশেষ প্রশংসা করিয়াছেন। - মুলচাদ শেঠের জৈনমন্দিরও বড় চমৎকার। ইহাও প্রাচীন হিন্দুমন্দির। সারি সারি স্তন্ত-আশ্রিত মন্দিরটি নানাবিধ কারুশিল্পে বাস্তবিকই চমৎকার। টড সাহেৰ ও ফাণ্ডসন সাহেব স্পেন, মিশর, আরব ও পারস্তে ইছার তুলা সুন্দর কিছু দেখেন নাই। এই মন্দিaেs মুসলমান-অধিকালে মুসলমান স্থাপতোর অনেক সংযোগ হইয়াছে। ইহার তোরণ ও নানাপ্রকারের পাথরকটি জাফরী পরদা বিস্ময় ও শ্রদ্ধা উদ্রেক করে । থাজা সাহেবের দরগাও দর্শনীয় ও প্রসিদ্ধ। ইহা একজন মুসলমান সাধুপুরুষের সমাধিস্থান । পুত্ৰকামীর এখানে আসিয়া পূজা ও মালত করিয়া থাকেন। সম্রাট আকবর পুত্ৰকামনায় দিল্লি হইতে পদব্রঙ্গে এখানে আসিয়াছিলেন। শাজাহান একটি প্রশস্ত হল প্রার্থনামন্দিরের জন্ত প্রস্তুত করিয়া দিয়াছেন। গোয়ালিয়র ৪ জয়পুরের মহারাজারা রৌপ্য দ্বারা প্রকাগু রীর মণ্ডিত ও কবরের চতুর্দিকে শ্বেত প্রস্তরের জাফরকোটা অতি স্বত্র বেড়া দিয়া দিয়াছেন। এখানে মহরম ও ইদের সময় খুব ধুম হয় ; দরিদ্র ভোজনই প্রধান। দুইটি বিরাট চুল্লী ও স্থালী s* *BI* 31st si Brohdingnagian az orts. পাত্র বলিয়া মনে হয়। মৰ্ম্মরমণ্ডিত বৃহৎ প্রাঙ্গণ ও সোপান আমাদের স্বভাবগত অপরিচ্ছন্নভার জাগায় দিঐ হইয়। আছে ; পারাবতের বিষ্ঠা, জল কাদার আচ্ছন্ন। দুইটি যুদ্ধজিত নাগরার আওয়াজ বড় গুরুগম্ভীর। এই নাগরার আওয়াঞ্জ নাকি আগরা হইতে শুনা যায়। এখানে আমায় নিকট হইতে অনেক পয়সা আদায় করিয়া