পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-- రిషి 8 --- গামী মানবের পবিত্রত রক্ষার জন্য আর্যা ঋষিগণের চিন্তার প্রথম নিদর্শন পাই । শ্রীতিশাস্ত্রে রাজ্যশাসন ও সমাজশাসনের এইরূপ দণ্ডের প্রায়শ্চিত্তমূলক যে অঙ্কুরের উদগম লক্ষিত হয়, ধৰ্ম্মস্থত্রে তাহারই ক্ষুদ্র পাদপঙ্কপে বিকাশ এবং স্মৃতিতে তাহারই শাখাপরবাদিযুক্ত প্রকাও বৃক্ষে পরিণতি। অনেক সংহিতায়ই রাজদণ্ড ও পাপের প্রায়শ্চিন্তু স্বতন্ত্র অথচ সংস্পষ্ট ভাবে বিধিবদ্ধ। প্রায়শ্চিত্তের ভীষণতাকে স্থলবিশেষে রাজদণ্ডের ভীষণভাও অতিক্রম করিতে পারে নাই । আধার মন্তসংহিতার ৮ম অধ্যায়ের ৩১৮ সংখ্যক শ্লোক হইতে দেথা যায় স্থতিশাস্ত্রের মতে নৃপতিকর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তি পাপমুক্ত হইয়া পুণ্যাত্মার হায় স্বৰ্গলোকে গমন করে। “রাজ নিদ্ধ তদওস্তি কৃত্ব পাপানি মানব নিৰ্ম্মলা স্বর্গমায়ন্তি সন্তঃমুকুতিনো যথা ॥” রামায়ণকার প্রথানতঃ এই শ্লোকের নজির ধরিয়াই বালীবধ সমর্থনের প্রয়ান পাইয়াছেন এবং অন্যত্র সারমেয় কর্তৃক অতিযুক্ত ব্রাহ্মণকে রামচন্দ্রের নিকট দও প্রার্থী স্বরূপ চিত্রিত করিয়াছেন। যদিও এই রামায়ণেই আবার রাজদণ্ডপ্রাপ্ত বাক্তির প্রায়শ্চিত্তেল উল্লেখ আছে; কিন্তু উল্লিখিত শ্লোক ও তাহার সমর্থন হইতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, বিচারালয়ে দণ্ডিত ব্যক্তির প্রায়শ্চিত্ত সাধারণতঃ নিম্প্রয়োজন বলিয়া গণ্য হইত। পক্ষীস্তরে, কুতাপরাধ ব্যক্তি প্রায়শ্চিত্ত করিলেও বিচারালয়ে দণ্ডিত হইবে কি ন৷ তাহার স্পষ্ট নির্দেশ না থাকিলেও মনুর ৯ম অধ্যায়ের ২৩৫, ২৪০ সংখ্যক শ্লোক প্রভৃতি হইতে দেখিতে পাওয়া যায় যে, এরূপ প্রায়শ্চিন্তু রাজদ্বারে বিবেচিত হইত এবং সেই বিবেচনার উপর দণ্ডের তারতম্য নির্ভর কবিত। যেখানে অপরাধ ব্যক্তিবিশেষের অপকারে নিয়োজিত হইয়াছে, সেখানে সেই অপকারের প্রতিকার যে প্রায়শ্চিত্তকারীকেও করিতে হইত তাঁহা নিশ্চিত । আমরা বর্তমান প্রবন্ধে বিবিধ প্রায়শ্চিত্তবিধির সমালোচনা করতঃ স্মৃতিশাস্ত্রব্যবসায়ী পণ্ডিতগণের কার্য্যক্ষেত্র আক্রমণ করিতে ইচ্ছা করি না। তবে প্রাচীন আৰ্য্যাবর্তের বিচারালয়ের কার্য্যাবলী সমালোচনা করিতে হইলে শাস্ত্রবিহিত প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা ও ভাবার সহিত বিচারকার্যের সংস্রব স্মরণ রাখা আবগুক, এই জল্পই এ সকল কথার উল্লেখ প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । - - করিলাম। বঢ়ল প্রায়শ্চিত্তবিধির সমাবেশ সত্ত্বেও অপরাধের লিবারণ ও অপরাধীর দও যে রাজ্যশাসকেরই কাৰ্য্য, শাস্ত্রকারগণ তাহা পরিস্ফুট বাক্যে নির্দেশ করিয়া গিয়াছেন। সমাজ আপনার পবিত্রত রক্ষার জন্য সচেষ্ট হইলে ও রাজাকে এই গুরু কৰ্ত্তব্যের সম্পূর্ণ দায়িত্ব হইতে নিষ্কৃতি প্রদান করে নাই। সমাজ অপরাধীকে আপন সীমানার মধ্যে স্থান দিতে মা পারে, প্রবল অভিমত বিরুদ্ধে উগাপন করিয়া তাহার মানসিক অবস্থার উপর ক্রিয়া করিতে পারে ; কিন্তু অপয়াধী স্বয়ং মস্তক অবনত না করিলে তাহার কেশ স্পর্শ করিবার অধিকার সমাজেল নাই-প্রাচীন আর্য্যাবৰ্ত্তেও ছিল না। প্রজার স্বাধীনতার প্রত হস্তক্ষেপ করিবার অধিকার এখন যেমন প্লাজার, তখনও তাহাই ছিল। এই অধিকার পরিচালনা করিবার সময়ে অন্ত ধৰ্ম্মনীতি পদদলিত না হয়, তজ্জন্ত বর্তমান সভ্য জগৎ নানা প্রকার ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ করিয়াছে। বিনি অপরাধের মুলোচ্ছেদ করিবার জন্ত দায়ী এবং অপরাধীর দণ্ডবিধাতা তিনি এক দিকে লক্ষ্য স্থির রাখিতে গিয়া অপর দিক্ হইতে লক্ষ্যভ্ৰষ্ট হইবেন ইহা অস্বাভাবিক লহে । অথচ দগুশাস্ত্রের একটা মূল বিবি এই যে, দোষী ব্যক্তি লিঙ্কতি পায় পাউক, নির্দোষ ব্যক্তি যেন দণ্ডিত না হয়। এই জন্ত রাজার বা রাজশক্তির যথেচ্ছাচারিতা সংযত রাখিবার জনা নাম প্রকৃত বা কাল্পনিক বিভীবিকার ধিরুদ্ধে ব্যবস্থাপকের নানা বিধানের অবতারণা দেখিতে পাওয়া যায়। ইংলণ্ডে এই উদ্দেশ্লে ব্যবস্থাবলী বিধিবদ্ধ করিবার এবং অক্ষুণ্ণ রাখিবার জন্য প্রজাশক্তি অনেক বার য়াজশক্তির বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হইয়াছে, রাজশক্তির প্রতিকূলতাচরণ করিয়া ক্রমশঃ বল সঞ্চয় করিয়াছে এবং অবশেষে রাজীকে ব্যবস্থাপকের এবং বিচারকের আসন হইতে কাৰ্য্যত: অপসারিত করিতেও ক্রটি করে নাই। প্রাচীন আৰ্য্যাবর্তে এরূপ সংঘর্ষের আমশুকত হয় নাই। ইংলণ্ডে যেখানে প্রজাপুঞ্জ পাশবব প্রয়োগ করিয়াছে, আর্য্যাবৰ্ত্তে সেখানে ধৰ্ম্মের শাসন এবং ব্রাহ্মণদিগের প্রতিপত্তি দ্বারা কাৰ্য্যোদ্ধার হইয়াছে। অাৰ্য্যাবর্তের হিন্দু রাজা ঈশ্বর-প্রেরিত পুরুষ হইলেও ব্যবস্থাপক নহেন । শাস্ত্রকার ঋষিরা তৎকালীন সভ্য জগতের প্রতিনিধি স্বরূপ রাজার কৰ্ত্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে নির্দিষ্ট করিয়া I ৬ষ্ঠ সংখ্য। ] - --- -- দিয়াছেন ; তাহার পদস্খলন না হয় তজ্জন্ত পার্থিব ও অপার্থিব নাম প্রকার শাসনে তিনি বদ্ধ। তিনি আইনকৰ্ত্ত নহেন , আইনের প্রয়োগকৰ্ত্ত । ঋষিরা এই গুরু কর্তব্যভার আপন স্বন্ধে গ্রহণ করিয়া ব্যবস্থাপক সভার সাহায্য ব্যতীত কিরূপে তাহ বহন করিয়াছেন আমরা সংক্ষেপে তাতারই কিঞ্চিৎ আলোচনা করিব। অপরাধের বিচারকালে যে কয়েকট মূলনীতির উপর লক্ষ্য রাখা মানবসমাজ ক্রমশ: আবখ্যক মনে করিয়াছে তাহার প্রধান একটী এই যে, দণ্ডের প্রকার ও পরিমাণ এরূপ হইবে যাচাতে অপরাধীর চরিত্র সংশোধিত হয় এবং অল্প লোক ভীত হইয়া অপরাধের কার্য্য হইতে নিবৃত্ত হয় অথচ সমাজের জীবনীশক্তি ও নৈতিক শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে এবং মিথ্যা অভিযোগের প্রবৃত্তি বৰ্দ্ধিত না হয়। সংক্ষেপতঃ দণ্ডের উদ্দেস্ত হুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন । এই উদেখ বহু প্রাচীন কাল ইষ্টতেই আর্য ব্যবহারশাস্ত্রের লক্ষ্য। অপরাধীর এবং যে ব্যক্তি মিথ্যা বা অকারণ বিরক্তিজনক অভিযোগ আনয়ন করে এ উভয়েরই দণ্ডের আবশ্বকত৷ স্মৃতিগ্রন্থে স্পষ্টাক্ষরে নির্দিষ্ট রহিয়াছে। দণ্ডের পরিমাণ স্থির করিবার সময় ঋষিগণ কোন কোমল প্রবৃত্তি দ্বারা অভিভূত হন নাই এবং চিারক এরূপ প্রবৃত্তির বশীভূত হইয় শিথিলহস্ত না হন, তজ্জন্ত তাহার প্রতি শাসনৰাকা প্রয়োগেরও ক্রটি করেন নাই। অতি প্রাচীন কালে পৃথিবীর অনেক স্থানে, বিশেষতঃ পুৰ্ব্ব ইয়ুরোপে, চৌর্য্য, নরহত্যা ইত্যাদি সামাজিক অপরাধ সাধারণতঃ ব্যক্তিগত অপকার স্বরূপ গণ্য হইত ; কিন্তু আর্য্যাবৰ্ত্তের আদর্শ চিরকালই তাঁহা অপেক্ষী উচ্চ। এই সকল অপরাধের নিবারণ ও প্রতিকার যে রাজ্যশাসনের একটা প্রধান অঙ্গ এবং রাজপক্ষ হইতেই যে তাহার সম্যক ব্যবস্থা আবশ্বক, অপহৃত দ্রব্য বা তাঙ্গর দ্বিগুণ প্রতাপণ করাইলেই যে উস্করের প্রতি বাজার কর্তৃব্যের শেষ হইল না, বহু প্রাচীনকাল হইতেই এদেশে তাঁহা স্বীকৃত ইষ্টয়া আসিয়াছে। স্মৃতিগ্রন্থে পদে পদে তাছার প্রমাণ পাওয়া যায় । ইলেণ্ডে জুরি দ্বারা বিচারপ্রণালী রাজশক্তি ও প্রজাশক্তির ভীষণ সংঘর্ষের ফল। ইংরেজরাজ উহ্য আপন প্রাচীন ভারতে ফৌজদারী বিভাগ । --- రిపె(t - ইচ্ছায় ধরিত্রকে মষ্টিভিক্ষ স্বরূপ প্রজাকে প্রদান করেন নাই। জন ষ্টুয়ার্ট বিলের বহু পূৰ্ব্ব হইতেই ইংরেজ সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জুই লালায়িত এবং তাহা অর্জন করিতে সচেষ্ট। প্রাচীন ভারতে যখন রাজ্যবিশেষের পরিসর অল্প ছিল, যখন এক রাজার মুলুক হইতে অপর রাজার মূলুকে যাইতে বাষ্পীয় বানের সাহায্য ব্যতিরেকেও প্রজাকে গলদঘৰ্ম্ম হইতে इंदेड न, मथन ब्रांछ वग्नः वा डाशत्र নিযুক্ত প্রাড় বিবাকৃ সমস্ত অভিযোগের মীমাংসা করিতে সমর্থ হইতেন, যখন রাজা প্রজাদিগের নিকটে অবস্থান করত: তাহানের রীতি গীতি, মতিগতি ও কাৰ্যকলাপ ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞ ছিলেন, যখন বিবিধ প্রতিদ্বনী ধৰ্ম্মবিশ্বাস ও সামাঞ্জিক ব্যবহার বিচারকের মস্তিত্ব আলোড়িত করিবার জন্ত পরস্পরের প্রতিবাসিত্ব স্বীকার করে নাই, তখনও ঋষিগণ বিচারবিভ্ৰাটজনিত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লোপের প্রতিবিধান করিতে উদাসীন ছিলেন না। ভারতে { হয় ত তখনও ভারতবর্ষ নামের স্পষ্ট হয় নাই ) তখনও জুরি ও এসেসার নিয়োগের প্রথা প্রচলিত । 간 : ব্যবহারান দিদৃক্ষপ্ত ব্ৰাহ্মলৈ সহ পান্ধিব । মন্ত্ৰঞ্জৈ মন্ত্রিভিশ্চৈব বিনীতঃ প্রবিশেংসভা । ব্রাহ্মণ ও অমাত্যগণের সহিড মিলিত হইয়া বিনীতভাৰে রাজা বিচারকার্যের জন্ত সভায় প্রবেশ করবেন। কেবল আপনার বুদ্ধির উপর নির্ভর করিয়া বিচারকার্য্য নিৰ্ব্বাছ করিতে রাজ্যকে শাস্ত্রকার পরিষ্কার বাকো নিষেধ করিয়া গিয়াছেন । রাজা যখন স্বয় বিচারকাৰ্য নিৰ্ব্বাহ করিতে অক্ষম তখন তাহার নিযুক্ত প্রাড় বিবাক “সভৈরেব ব্ৰিতি বৃত;" অর্থাৎ তিন জন সভোর সহিত মিলিত হইয় বিচারকাৰ্য্য আরম্ভ করিবেন। যদিও মনুসংহিতায় রাজার সহকারী ব্রাহ্মণ ও মন্ত্রীদিগের এবং প্রাড় বিবাকের সহযোগী সভ্যত্রয়ের ক্ষমতা ও কার্য পরিষ্কাররূপে নির্দিষ্ট নাই, তথাপি গ্রন্থের ভাব ও ভাষা হইতে এইরূপ সিন্ধান্তে উপনীত হওয়াই যুক্তিযুক্ত যে, রাজার সহযোগী মন্ত্রী ও ব্রাহ্মণগণ এসেসার স্বরূপ এবং প্রাড় বিবাকের সহযোগী সভ্যত্রয়