পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩২৮ . প্রবাসী । - - - ভুলেন নাই। রাজা ও প্রাডুবিবাকের দ্বারা বিচার কাৰ্য নিৰ্ব্বাহের কথা পূৰ্ব্বেই উক্ত হইয়াছে। এখন যেমন রাজপুরুষের স্থানীয় অবস্থা পরিদর্শনের জন্ত আপন অধিকারের মধ্যে ভ্রমণে বহির্গত হন, হিন্দু রাজত্বে তৎসদৃশ কিছু ছিল না এমন নছে । মন্ত্র গ্রামপতি, দশগ্রামপতি প্রভৃতি উপবিভাগীয় কৰ্ম্মচারীর নিযোগেষ ব্যবস্থা করিয়া *so of District Magistrate of স্থানীয় নগরাধিপতির ব্যবস্থা করতঃ বলিয়াছেন, "স তনেমু পরিক্রমেৎ সর্বানেব সদ্যস্বয়ং। তেষাং বৃত্ত পরিণরেৎ সম্যগ্রাষ্টুেধু তক্ষীরা।" মনুসংহুিভার যে পুলিসের ব্যবস্থা আছে আমরা বাষ্পীয় যান, তাড়িত বার্তাবহ প্রভৃতি বিধিধ উপকরণে সজ্জিত হইয়াও তাহার কার্য্যকারিতার সমকক্ষতা করিতে পাবিয়াড়ি কি না সন্দেহ । মনুর নবম অধ্যায় পাঠে জানা যায় প্রকাশু ও গুপ্ত দুই প্রকার পুলিসেরই ব্যবস্থা ছিল এবং তাহদের কাৰ্য্যক্ষেত্র অতীব বিস্তৃত ছিল । অনেকের নিকট হয় ত মনে হটতে পারে যে, গুপ্তচর আর কিছু অল্প পরিমাণে নিযুক্ত হইলেও হয় ত রাজ্যশাসনের পক্ষে মঙ্গল বই অমঙ্গল হইত না। কিন্তু তাহারা সেই সময়ের এবং বর্তমান সময়ের দেশে অবস্থার তারতম্য স্মরণ রাখবেন । জাতিভেদে দণ্ডভেদ এবং প্রাণদণ্ডে মিথ্যাসাক্ষোর সমর্থন ব্যতীত হিন্দুর দণ্ডবিধির আরও দুষ্টট বিষয় বৈদেশিক লেখকগশের তীব্র সমালোচনা আকর্ষণ করিয়াছে । ১ম-অনেক স্থলে অপরাধের গুরুত্ব ও লঘুত্ব অনুসারে দণ্ডের গুরুত্ব ও লঘুত্ব স্থিরীরত হয় নাই—অমুপাত যথাযথরূপে রক্ষিত হয় নাই। sর-স্থানবিশেষে একই অপরাধে বিভিন্নদণ্ডের বিধান আছে, তাহাতে সামঞ্চস্তের অভাব পাঠকের কর্ণালী উৎপাদন করে এবং অপরাধীর অদৃষ্ট অনিশ্চিত ছিল এইরূপ অনুমান জন্মাইয়াদের। ইহার উত্তরে বলা যার যে, যেখানে একই সংহিতায় আপাততঃ সামঞ্জন্তের অভাব লক্ষিত হয়,সেখানে টীকাকারের সাহায্যে জাতিভেদের স্বত্র অবলম্বন করির যতদূর সম্ভব সামঞ্জস্ত রক্ষা করার চেষ্টা করাই সমালোচকের কৰ্ত্তব্য। আমরা বলি না যে এইরূপ করিলেই সৰ্ব্বত্র সন্তোষজনক ফললাভ হইবে। ময়সংচিত বা বিষ্ণুসংহিতার শ্লোক [ ৫ম ভাগ । গুলি (বিষ্ণুসংহিতারই অপরাধভেদে দণ্ডের অনুপাতরাহিত্য অতিরিক্ত যাত্রার দৃষ্ট হয় ) স্বয়ং ব্যবস্থাকার মুদ্রাযন্ত্রের সাহায্যে প্রকাশ করিয়া ধান নাই ; সম্ভবতঃ দেশকাল-পাত্রভেদে যে ভিন্ন ভিন্ন বিধির স্পষ্ট হইয়াছিল, মূল ব্যবস্থাকারের মতের মধ্যে র্তাহার শ্রোতৃবর্গ ও টীকাকারগণ যে আপনাদিগের মত সন্নিবেশিত করিয়াছিলেন, সংগ্রহকার তাহার পৌৰ্ব্বাপৰ্য্য বা অসামঞ্জস্ত বিচার ল| করিয়া একস্থানে স্তুপীকৃত করিয়া রাপিয়াছেন। তাই বিভিন্ন বিধিগুলি সঙ্গমস্থলে গঙ্গা ও যমুনার স্তার পৃথকভাবে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছে। যাহারা এই বিধির প্রয়োগের জন্য দায়ী ছিলেন রাহাব অবশুই সংহিতার আদশ সম্মুখে রাগিয়া নিজের বুদ্ধি বিবেচনা ও স্থানীয় ব্যবহার অনুসারে কার্য্যনিৰ্ব্বাহ করিতেন। সঙ্গমস্থলে বর্ণের বিভিন্নত দৃষ্ট হইলেও নিম্নদেশে যেমন তাহা লক্ষিত হয় না, সেইরূপ প্রয়োগস্থলে দগুলীতি সাধারণতঃ অনিশ্চিত ছিল না—এইরূপ অল্পমান করাই যুক্তিযুক্ত। অপরাধের গুরুতা ও লঘুতার সহিত যে দণ্ডের গুরুতা ও লঘুতার অনুপাত সৰ্ব্বত্র রক্ষিত হয় নাই তাহারও প্রধান কারণ—হয় ত লেখকের প্রতি অনেক “আৰ্য্যসস্তান” বিরক্ত হইবেন কিন্তু সত্যের সরল ভাবে উপস্থিত হওয়াই মাঞ্চনীয়—ব্রাহ্মণদিগের প্রতিপত্ত্বি রক্ষার চেষ্টা । সংহিতাকারদিগের ব্যবস্থা আছোপান্ত পর্যালোচনা করিলে ব্ৰাহ্মণের প্রতি অতিরিক্ত অনুগ্রহ এবং শূদ্রেয় প্রতি অতিরিক্ত নিগ্ৰহ পদে পদে লক্ষিত হয় । স্বদেশপ্রেম দ্বারা পরিচালিত হইয়া জগতের নিকট যিনি যতই কূটভর্ক উপস্থিত করুন না, আধাত্মিক ব্যাথার ভ্যও হস্তে করিয়া যতই সুগন্ধি জাতীয় গৌরব বিতরণের চেষ্ট করুন না, কঠোর সত্যের অপলাপ বড়ই দুরূহ ব্যাপার। যদি এরূপই হয় যে, দণ্ডবিধি দ্বারা এইরূপ জাতিবিভাগ বা উচ্চবর্ণের গৌরব সংস্থাপনের চেষ্টার মধ্যে কোন গুঢ় রাজনীতি বা সৰ্ব্বসাযারণের মঙ্গলজনক নীতি নিধিত আছে বলিয়া শাস্ত্রকারগণ বিশ্বাস করিতেন, তাহা হইলেও সেই নীতির সারবত্তা স্বীকার করিতে আধুনিক জগৎ পরীষ্মথ হইবে। যে সময়ের আদর্শ রাজত্বে শূদ্র তাপসের শিরচ্ছেদ একটা প্রধান পুণ্যকৰ্ম্ম f - ৬ষ্ঠ সংখ্যা । | বলিয়া কীৰ্ত্তিত হইয়াছে, সেই সময়ের ব্যবস্থাকারের নীতি যেখানে জাতিভেদের অস্কুশে নিয়মিত সেখানে তাহা বর্তমান সাম্যের যুগে আত না হইলে বিস্ময়ের বিষয় কি আছে ? গো-ব্রাহ্মণের প্রতি অতিরিক্ত অনুগ্রহ, শূদ্রাদি নীচজাতির প্রতি অতিরিক্ত নিগ্রহ, রাজশাসন দ্ব্যর বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্ম ও নীতি রক্ষার চেষ্টা ইত্যাদি বিশেষ বিশেষ কারণ বাদ দিলে মঙ্গুসংহিতার ব্যবহাবশাস্ত্র যে তৎকালীন জগতের পক্ষে অতি উচ্চ অঙ্গের তাহা কেহই অস্বীকার করিতে পারিবেন না। অবশু সেই প্রাচীন কালে, সমাজবদ্ধ মানবের শৈশব্যবস্থায়, ইতিহাসের জন্মগ্রহণের পূৰ্ব্বে, ছিদ্রপুন্ত, মার্জিত দ গুবিধির আশা বিড়ম্বনা মাত্র । সংঙিতাকারগণ কোথাও বা বৃত্তাস্তঘটিত বিষয়ের সত্য মিথT নির্ণয় স্থলেও বিচারকের স্বাধীনতার প্রডি হস্তক্ষেপ করিয়াছেন, কোথাও বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা লিপিবদ্ধ করিতে তুলিয়া গিয়াছেন। কিন্তু সৰ্ব্বাঙ্গমুন্দর ব্যবহার-বিধি সময় ও পরীক্ষাসাপেক্ষ। বিংশ শতাব্দীর মানদণ্ড দ্বারা হিন্দুর ব্যবহারশাস্ত্র পরীক্ষা করিতে হর কর, কিন্তু তাহাকে পৃথিবীন্থ জাতিসমূহেয় মহাসবিতিতে উৎকৰ্ষানুসারে স্থান প্রদান করিতে হইলে অতীতের কুঙ্গিভেদ করতঃ অস্ততঃ তিন সহস্ৰ বৎসর পুৰ্ব্বে দৃষ্টিনিক্ষেপ করিতে হইবে। আধুনিক সমালোচকগণের মধ্যে কেহ কেহ অনুমান কমে যে, প্রাচীন হিন্দুরাজো বাস্তবিক সংহিতার ব্যবস্থা অনুসায়ে রাজ-কন্যা পরিচালন্ত হইত না। রাজ্ঞা আপনার বুদ্ধি ও বিবেচনা অনুসারে পৃথক্ বিধি প্রণয়ন করিতেন ; ব্রাহ্মণের স্বার্থপরতা দ্বারা শৃঙ্খলিত হইয়া কাৰ্য্য করতেন না। তাহদের অনুমানের একটা প্রধান কারণ এই যে, বর্তমান মূগে কোম হিন্দুরাজ্যে মসুর ব্যবস্থায়সালে বিচারকার্য পরিচালিত হইতে দেখা যায় নাই এবং মৃচ্ছকটিক নাটকে ব্রাহ্মণের প্রাণ-দণ্ড আদেশের স্থায় প্রাচীন পুরাণ কাব্যাদিতে স্থানে স্থানে রাজকাৰ্য্যে মনুর বিধির বিপর্যায় नृहे श्ण। ইহঁদের তর্কের উত্তরে বলা যাইতে পারে যে, স্থানীয় আচার ব্যবহারের প্রতি লক্ষ্য রাখার আবশুকত মই পর্যক্ষরে নির্দেশ করিয়া গিয়াছেন, কিন্তু তাই বলিয়৷ প্রাচীন ভারতে ফৌজদারী বিভাগ। ...। రిఫిసి --- তাহার ব্যবষ্টারশাস্থের মৌলিক নীতিই যে প্রাচীন ভারতে বিচারকার্য্যের প্রধান অবলম্বন ছিল তাহাতে সন্দেহ করা নিতান্তই অযৌক্তিক । সমালোচকের স্মরণ রাখা উচিত যে ধৰ্ম্ম ও সমাজের কি ভীষণ বিপ্লব যীশুখ্রষ্টের জন্মগ্রহণের শত শত বৎসর পূৰ্ব্ব হইতে ভারত-বক্ষ আন্দোলিত করিয়াছে। আধুনিক ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টিপাত করিলে কাহাল মনে উদয় হুইবে যে, এমন দিন গিয়াছে যথন মুসলমাণ বা খ্ৰীষ্টান জগতে জন্মগ্রহণ করে নাই ; কিন্তু বেদবেদাঙ্গের সরল বা শান্তিময় উপদেশ, স্মৃতির কঠোর শাসন, বাল্মীকির মধুর সঙ্গীত ও বেদব্যাসের অলোকসামান্ত পাণ্ডিতা মুণ্ডিতকেশ বৌদ্ধভিক্ষুর নিকট রূপাপ্রার্থী হইয়। সমগ্ৰ ভারতে ম্ৰিয়মাণ ভাবে অবস্থিত রহিয়াছে ! এই ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিত, এই অভূতপূৰ্ব্ব সংঘর্ষ সে প্রত্যঙ্গ ও পরোক্ষ ভাবে হিন্দুঞ্জগতে আপনার প্রভাব বিস্তার করিবে, বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্মের নিয়মাবলীর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে সংহিতার ব্যবস্থাবলীর কার্যাক্ষেত্রে প্রয়োগও ক্রমশঃ পরিবর্ধিত হইবে, তাছাতে বিস্ময়াম্বিত হইবার কি আছে । ইংরেজ লেখকগণ যে সময়ে দেশার রাজ্যের বিচারপ্রণালী প্রত্যক্ষ করিবার অবসর পাইয়াছেন, তাহার পূৰ্ব্বে আরও কত বিপ্লব, আরও কত আদর্শ, আরও কত বিজাতীয় সমাজের সংঘর্ষ যে এই সকল য়াজ্যে আপন প্রভাব বিস্তার করিয়া গিরাছে তাহ কে অর্থাকার করিতে পারে ? ब्रिकitयी मथ्राभित्र गउ श्रृंशैंउ श्हेउ कि न उाइद्र মীমাংসা করিতে গেলে এই প্রকার বিবিধ প্রতিদ্বী প্রভাবের পূর্ব সময়ের ইতিবৃত্ত আলোচনা করা আবখ্যক এবং পরবর্তী সমরে এই বিভিন্ন প্রভাবযুক্ত মতের সহিত মিশ্রিত হইয়া মম্বাধির মত রূপান্তরিত তবে বিচারকের কাৰ্য্যাবলী নিয়মিত করিয়াছে কি না তাহাই বিবেচনা করা আবশ্যক। সংহিতার লিখিত জাতিভেদ এমন রূপান্তরিত ভাবে বিদ্যমান বলিয়া কি কেহ বলিতে চাহেন যে, শাস্ত্রকার আপনার উর্ধ্বর মস্তিষ্ক হইতে তৎকালীন জাতিগুলির অস্তিত্ব কল্পনা করিয়া গিয়াছেন - বিচারাদি কায্যে প্রাচীন ভারতে মনুসংহিতাই যে প্রধান অবলম্বন ছিল তাহ বুঝিবার জন্ত কেবল অনুমানের উণর নির্ভর করিতে হয় না। মেগাস্থিনিস ছয়ে সঙ -