পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఛి( c - - ও উহার মূলধন ১৫২০ লক্ষ টাকার কম হওয়া উচিত নহে। কারণ উহা বঙ্গেল গ্রামে গ্রামে লগরে লগরে ক্ষুদ্র দোকানগুলিকে মাল বেগাইবে । এ সামান্ত মূলধন বাঙ্গালীর পক্ষে তোলা কঠিন নছে । ১০ টাকা করিয়া শেয়ার করিলে সমগ্ৰ বঙ্গে কি ২ লক্ষ বাঙ্গালী লাই যাহার দেশের জন্য ১০২ টাকা দিতে পারে? আমি বলিতে চাহি ন বে এই একটা দোকান, সামান্ত মূলধন লইয়া সমস্ত দেশের স্বদেশ বঙ্গাদির অভাব পূর্ণ করিবে। একটা পথপ্রদর্শকের অত্যন্ত আবখ্যক পরে হয় ত এ প্রকার ৫০ থানা দোকান খুলিলেও যথেষ্ট হইবে না। কিন্তু এরূপ একটা কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার না খুলিলে স্বদেশী ব্যাপার বেশ দূর অগ্রসর হুইবে না। যাহারা আমাদের মত স্বদেশ দ্রব্যাদির বাবলায়ে লিপ্ত তাহারাই জানেন, স্বদেশী বস্থাদি পাওয়া কত গুরূহ ব্যাপার । আমাদের প্রস্তাবিত ষ্টোর ফরমাইস দিয়া বোম্বাই, আহম্মদাবাদ, মান্দ্রীজ, বাঙ্গালোর, কানপুর, ধারওয়াল ইত্যাদি মিল হইতে পছনাসক্ট বাঙ্গালীর দরকায়মৃত বস্ত্রাদি ও অদ্যাপ্ত দ্রব্যাদি যাহ। ভারতে সহজে সস্তায় প্রাপ্য হইতে পারে, তৈয়ার করাষ্টয় সৰ্ব্বদা বিক্রয়ার্থ প্রস্তুত রাথিবে। এরূপ ব্যবসায়ে লোকসান হুইবায় সম্ভাবনা নাই ( কারণ ইহা ঝুঁকিদার ব্যবসা নহে-কিন্তু কোন ব্যক্তিবিশেব এরূপ ব্যবসারে প্রথম প্রথম এত টাকা থtটাইতে অগ্রসর হইবে না ) । বিশ্বস্তুত ও সামান্ত বিষয়বুদ্ধির পরিচালনা করিলেই যথেষ্ট হুইবে । বঙ্গে যেরূপ বল্লাদির বিশেষ কাটত ও ব্যবহার ত্যহয়ে একটা নমুনা সংগ্ৰহ করতে হইবে ও নমুনা দেখাইয়া মিলের দ্বারা বস্ত্রাদি প্রস্তুত করাইতে হইবে । বিলের সহিত দর দপ্তর করিয়া সৰ্ব্বধ সুলভ মূল্যে দ্রব্যাদি প্রস্তুত করাইবার জন্য সচেষ্ট থাকিতে হইবে। বাঙ্গাল দেশে কাট কাপড় বিস্তর বিক্রয় হয় ; পাইকাবা কাটা কাপড়ের একটা শাখা খুলিতে হইবে। কারণ কাটা কাপড়ে সহজে বিলাতী দেশ তেদ করা কঠিন, ইহাতে ধৰ্ম্মীধৰ্ম্মজ্ঞানশূন্য অনেক দোকানদারের খরিদদারকে ঠকাইবে । ষ্টোরসের থাল বস্তাবন্দী করিয়া মফঃস্বলে ক্লওয়ানা করিবার জন্য | একটা বিভাগ উত্তমরূপে সজ্জিত (equip) কল্পির রাঁথিতে হইবে। কারণ মফঃস্বলের অর্ডার সরবরাহ করাষ্ট ষ্টহীর প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । - প্রধান কার্য হুইবে । জিনিস অল্প লাভে, এক দরে, নগদ দামে বিক্রয় করিতে হইবে । খলচ যথাসম্ভব কম কলিতে হুইবে । কারণ এরূপ দোকালের বাহ চাকচিক্যের অবস্থাকত নাই । এক কথায় ইহা কলিকাতায় একটা বড় আমদানীর হোঁসের মত হইবে । এখন দেখা যাক্ মফঃস্বলে প্রচারকার্য্য কিরূপে করিতে হইবে । গ্রামে গ্রামে, লগত্রে নগরে, ক্ষুদ্র, বৃহৎ স্বদেশী দোকাল খুলিতে হইবে । প্রতোক দোকালের মূলধন ১•১২ জন শিক্ষিত উৎসাহী ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে সংগ্ৰহ করিবেন স্থানবিশেষে আপাততঃ ২-০২।১০০০ হইলে চলিবে । ঢাকা ইত্যাদির মত বড় স্থানে ১০১৫ হাজার দরকার হইতে পারে। ক্ষুদ্র দোকানগুলা অংশীদারেরা নিজেই চালাইতে চেষ্টা করিবেল। প্রথমে চাকর রাখিবার আবশ্বকতা নাই। দোকান কোন অংশীধারের বহিৰ্ব্বাটীতে স্থাপন করিয়া প্রাতে ও সন্ধ্যার সময় খুলিলে চলিবে । আমরা প্রথমে এরূপ করিয়াছিলাম, ক্রমশঃ অভিজ্ঞতা ও দরকার মত মুলধন বুদ্ধিকরাযাইতে পারে। কলিকাতার কেন্দ্রীয় ভাণ্ডায় হইতে নগদ দামে মাল কিনিতে হুইবে ও লিঞ্জেদের মধ্যে নগদ টাকার বিক্রয় করিতে হইবে । ধারে বিক্রয় করিলে কম মূলধনে চালান কষ্টকর হইবে। সকল কার্য্য ব্যবসার নিয়মে কবিতে হইবে। লোকসান হওয়া উচিত নয়। শাথ দোকান রেল, ষ্টীমার খরচ বাদে এ • বা /১০ টাকায় লাভ য়াথিয় বিক্রয় করিতে পারেন। এরূপে কার্যা আরম্ভ করিলে কথল অকৃতকাৰ্য্য হইতে হইবে না। কোন বিষয়ে পরামর্শ দরকার হইলে কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার পরামর্শ দিবেন। অনেকে বুলিবেন, স্থানীয় বর্তমান দোকানগুলার দ্বার কি এই কার্য হইতে পারে না ? এ কার্য্যে সফলতা লাভ করিবার জন্ত প্রথমত কতকটা স্বদেশী ভাবের sিentinent) আবশ্বক। যে উৎসাহী শিক্ষিত যুবকের দোকান খুলিৰেন তাহারা নিজের দেশীয় দ্রব্যাদি ব্যবহার করিবেম, ও মায় সকলকে লওয়াইবেন । তাছাদের কথায়, ও কায্যের দৃষ্টাস্তে অত্যধিক ফুল হইবে । এরূপ মহৎ কার্যা অশিক্ষিত লোকের হস্তে দিলে চলিবে না । বিদেশীয় দ্রব্যে অধিক লাভ । যাহারা বিদেশ দ্রব্য বিক্রয় করে, তাহারা দেশীয় দ্রব্যাধির ৬ষ্ঠ সংখ্যা । | - ব্যবহার বিস্তার করিতে কথন ও উৎসাহী হইবে না । তবে কালে যদি দেশীয় দ্রব্যাদির কাটত অধিক হয় তখন তাহার পথামুসরণ করিবে কিন্তু প্রথম পথপ্রদর্শক শিক্ষিত লোককে ইষ্টতে হুইবে । উপরি উক্ত উপায়ে স্বদেশী ব্যাপার অতি শীঘ্ৰ দেশ মধ্যে ছাইয়া পড়িবে। এ বিষয়ে t regular organised effort) নিয়মিত, স্থব্যবস্থিত, চেষ্ট হওয়া উচিত, ( disconnected, spasmodic attempts ) orož সহিত সম্পর্কবিষ্ঠান, অব্যবস্থিত থামখেয়ালী চেষ্ট হইলে সফলতা লাভ হইবে না । স্বদেশী ব্যাপারের নেতাদের এ বিষরে অগ্রসর হওয়া উচিত। তাহাল্লা কলিকাতায় একটা সমিতি গঠন করিয়া একটা কেন্দ্রীর ভাণ্ডার খুলিবার বন্দোবস্ত করুল ও মফঃস্বলে স্থানীয় উৎসাহী ব্যক্তিদের দ্বারা অ্যান্ত দোকান স্থাপিত করিবার চেষ্ট করুন। দোকান খোলা হইলেই হইবে না । আরও কিছু চাই । দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হইতে হইবে যে, যত অসুবিধা ভোগ করিতে হউক না কেন, তবুও এক গিরাও বিদেশীয় বস্ত্র কিম্বা অষ্ঠ দ্রব্যাদি বাহা দেশে প্রস্তুত:না হয়, ব্যবহার করিব না-- এজন্য স্বাৰ্থত্যাগের আবশ্বকতা, কিন্তু এ স্বাৰ্থত্যাগ বিশেষ কঠিন | কিম্বা কষ্টকর নহে। কেবল একটু দৃঢ়সঙ্কল্প হইতে হইবে। আর সাহেবদের দোকানে জুতা, জামার জন্ত দৌড়াইব না, দেশ থস খসে, মোট বঙ্গ ও দেশীয় চামড়ার কঠিন জুতা পরিধান করিয়া আপনাকে গৌরবস্থিত, সন্মানিত মনে করিব। কারণ উহাই আমাদের দেশের, যে বিলাতী পরিবে সেই হীন, সেই নীচ । দেখিবে দেশেরও কাৰ্য্য চইবে, অনেক টাকাও বঁচিবে । আময়া ত মোটা, থস খসে পরিলাম, কিন্তু অনেকে বলবেন, আমাদের গৃহলক্ষ্মীর বিস্তর ওজ্বর আপত্তি করিবেন ; উfহাধের বিলাতী সিন্ধের বডিস, ও নয়নমুখের সেমীজ ন৷ হইলে প্রলয় উপস্থিত হইবে । কিন্তু যাহারা ত্ৰত করিয়া কত সুন্দর, সুখাদ্য বস্তু চিরজীবনের জন্ত ত্যাগ করিতে পারেন, তাহারা কি একটা সামান্ত বিদেশী বস্ত্রের মায়া ছাড়িতে পরিবেন না ? ইহা কখনও বিশ্বাস করিতে পারি না । যখন আমেরিকার যুক্তরাজ্যের মরনারীসমূহ একমত হইয়া ইংরঞ্জের ব্যাদি ব্যবহার কবিব না বলিয়া প্রতিজ্ঞ করিয়াছিলেন সে সময় আমাদের দেশের মতও নিত্য

... l. দেশী জিনিস ব্যবহার ।


-


ব্যবহার্য্য দ্রব্যাদি তথায় প্রস্তত হইত না । অতি মোট রুগ্ম বঙ্গাদি ভিন্ন আর কিছুই পাওয়া যাইত না । কিন্তু আমেরিকান মহিলাদের স্বদেশপ্রেম এত দৃঢ় ছিল যে তাহার কম্বলের মত মোট বঞ্জাদি কোমল অঙ্গে পরিয়া নিজেকে গৌরবমণ্ডিত মনে করিয়াছিলেন । কিছু কাল পূৰ্ব্বে আমাদের বর্তমান রাজা ও ডচেস অব ডেভনসায়ার প্রমুখ কতকগুলি সন্ত্রাস্তবংশীয় মহিলার। দেখিলেন বে ইংলণ্ডে ফ্রান্স ও ইটালী হইতে বহু কোটী টাকার রেশমী বঙ্গ আমদানী হয়। ইংলণ্ডের জলবায়ু রেশমের বক্স বয়ন ও রঞ্জনের পক্ষে একান্ত অনুপযোগী । তথাপি তাহারা সমস্ত টংলণ্ডে সভা সমিতি করিয়া প্রতিজ্ঞ করিলেন যে মোটাই হউক, আর চিকণষ্ট হউক, ইংলণ্ডে প্রস্তুত রেশম ব্যতীত অম্ভ রেশম পরিধান করিবেন না । তাহার ফলে এ সময় ইংলণ্ডে ৪ কোট টাকার অধিক রেশম প্রস্তুত হইতেছে । এখনই মিল খুলিয়া কাপড় পরিব এ আশা করা বৃথা। একটা মিল প্রস্তুত কুইতে অন্ততঃ দুই তিন বৎসর লাগিবে। এ সময় ভারতের অন্য সকল প্রদেশের মিলেক্স উপর আমাদের নির্ভর করিতে হুইবে । - উপসংহারে এইমাত্র বলিব শ্বে আমাধের এ স্বদেশী প্রচেষ্টা চীনাদের অনুকরণ নহে । দেশীয় দ্রব্যাধি ব্যবহার করিব এ ইচ্ছা বহু বৎসর হইতে লোকের মনে জাগরিত হইয়াছে ; এবং তদনুসারে অনেকে কাজও করিয়া আসিতেছেন। উপযুক্ত সময় পাইয়া কেবল উহা পূৰ্ব্বাপেক্ষা প্রসার লাভ করিয়াছে। এখন জিনিস যোগাইতে পারলেই শুধু । কিন্তু কোন জিনিস মাঝে মাঝে ন পাওয়া গেলেও আমাদের নিরুৎসাহ হওয়া উচিত নয়। যখন পাইব তখনই আবার কেনী চাই। তা ছাড়া প্রস্তুত কল্পিবার ও পাইবার জন্য সমবেত চেষ্টা চাই । যাহার অতিবুদ্ধিমান, কাজে কিছু করিতে চান না, তাহারা এখন হয় ত এই বলিয় আপত্তি তুলিবেন, “আরে, তোমার ভারতবর্ষে আর কটা কাপড়ের কল আছে, যে সমৃদয় বাঙ্গালীর কাপড় যোগাইতে পারিবে ?” তাহাদিগক্ষে বলি, সকল বাঙ্গালীই ত একদিনে বিলাতী ছাড়িয়া শ্ৰেণী কাপড় ধরিতেছে না। চিন্তার প্রয়োজন কি ? কিন্তু ইহাতে