পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গুঢ় কারণ প্রকাশ্ব সরকারী কাগজে নাই, হয় ত কোন গোপনীয় কাগজে আছে । যেমন মান শুভ ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়-কমিশনের কারণ বলিয়া ঘোষিত হইয়াছিল ; কিন্তু আসল কারণ উচ্চ শিক্ষা যথাসম্ভব ধন্ধ করিবার ইচ্ছা । তজন্তই লর্ড কার্জন একটি গোপনীয় মন্তব্যে লিথিয়াছিলেন, “I have always thought that Dr. Gooroo, Das Banerji held a brief for his unworthy client, the Bengali student, whom it is our desire যাক্ সে কথা। আমরা বলিয়াছি, বঙ্গ-বিভাগের সরকার কর্তৃক প্রকাশিত কারণগুলি প্রকৃত কারণ নহে ; গৃঢ় কারণ আছে। কারণ রাজনীতিজ্ঞ ও ইতিহাসঞ্জ লোকেরা জানেন যে রাজপুরুষের দরকার মত খুব মিথ্যা কথা বলেন। আমরা ভয়ে বা ভদ্রতার খাতিরে প্রায়ই উহাদিগকে মিথ্যাবাদী বলি না ; কিন্তু অনেক স্থলে তাহাদিগকে ভণ্ড ও মিথ্যাবাদী বলিলে যে কোল অধৰ্ম্ম কয় ন, তাহ নিশ্চয় করিয়া বগা যাইতে পারে। সরকারী কাগজপত্রে অনেক সময় মিথ্যা কথাই থাকে ; অবখ্য তৎসমুদয় হইতে সত্য বাহির করা বtয় বটে ; কিন্তু রাজপুরুষেরা মিথ্যাবাদী, এইরূপ সন্দেহ করিয়া অগ্রসর হইলে তবে সত্যের দেখা পাওয়া যাইতে পারে। সুবিখ্যাত Ñfs&ifšrw NowItā ēfofa Methods of Historical Study নামক গ্রন্থে বলিয়াছেন — " Dut wlien we comme te nianisestos, proclamations, politely to suppress." diplomatic documents wlieh lave not yet reaclied lhe slage of treaties, the case is wholly different. Here we are in the very choscil region is lies: they are lies told by locople who know the truth : truth may even. by various processes, be goi out of the lies; but it will not be got out of them by the process of believing theni. He is us childlike simplicity indeed who be. lieves every royal proclamation er the preamhle of every act of Parliament, as telliug us, not only what certain august persois did, but the notives wlich led them to do it: . . " (pp. 458-59) ফ্রীম্যান প্রকারাগুরে বলিতেছেন ষে সরকারী কাগঞ্জ পত্রকে বিখ্যা কথা পূর্ণ বলিয়া ধরিয়া লইলে তবে তাহা হইতে সত্য কথা বাহির করা যায়। বাস্তবিক, যখন দার্জিলিঙ্গের পক্ষে ও মধ্য-প্রদেশের ওড়িয়াদিগের পক্ষে বে যুক্তি দুটি প্রবাসী । - MMM S S S S S না, তা নয়। এরূপ একগুঁয়েমির গৃঢ় কারণ আছে। সে [ ৫ম ভাগ । - থাটিল, পূর্ববঙ্গের বেলা তাহা না থাটিতে দেখিয়াই আমাদের মনে হওয়া স্বাভাবিক যে এক ভাষাভাষী, প্রাচীনকালাগত সম্বন্ধে, মায়ামমতায় আবদ্ধ একটি জাতিকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন করিয়া চিরকালের জন্ত শক্তিহীন করাই গবৰ্ণমেণ্টের উদ্দেশু । এই জন্য আমাদের ধারণা, বাঙ্গালীরা (অর্থাৎ কার্যত: বাঙ্গালী হিন্দুয়া) রাজনৈতিক বিষয়ে সামান্ত যে একটু শক্তিশালী হইয়াছে, বাঙ্গালীদিগকে দুই ভাগে বিভক্ত করিয়া সেই শক্তি মাশ করা, তাহ বাড়িবার সম্ভাবন লোপ করা, বঙ্গ-বিভাগের আসল উদ্দেশু। পূৰ্ব্ববঙ্গে হিন্দুবাঙ্গালী, মুসলমান-বাঙ্গালী অপেক্ষ অনেক কম। পশ্চিমবঙ্গ ও বেহারে বাঙ্গালী, বিহারী প্রভৃতি অপেক্ষা কম। সুতরাং উভয় প্রদেশেই হিন্দু-বাঙ্গালীর দাবী, ধাওয়া, মত, গবর্ণমেণ্ট অগ্রাহ করিবার বেশ একটা কারণ পাইবেন। আমাদের ইহা বগা উদেখা নয় যে দেশটা কেবল হিন্দু-বাঙ্গালীর মত অনুসারে শাসিত হউক ; যা কেবল তাঁহাদেরই ক্ষুদ্র স্বাথের দিকে লক্ষ রাখা হউক। আমরা, হিন্দু-বাঙ্গালীর ও মুসলমান-বাঙ্গালীর স্বার্থ পৃথক, এ রকম মনে করিয়া এ কথা লিখিতেছি না। জাতীয় স্বার্থ উভয়েরই এক ; ইংরাজের পদে উভয়েট দলিত, ইংল্পাজ মুখে মুসলমানের আদর করিলেও, হিন্দুকে যেমন নিজের কোন স্বাৰ্থ বা একচেটিয়া চাকরী ছাড়িয়া দেন না, মুসলমানকেও তেমনি দেন না । বাঙ্গালীহিন্দুর মুখ বন্ধ হইলে, তাহার প্রভাব কমিলে হিন্দু মুসলমান উভয়েরই অমঙ্গল ; এই জন্ত আমরা এরূপ লিখিতেছি। আমরা দেখিতেছি যে, বেহারী ও মুসলমান-বাঙ্গালীদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার অপেক্ষাকৃত কম ; এই জন্য তাহারা স্থানিক ও সাম্প্রদায়িক স্বার্থে যে পরিমাণ অন্ধ, হিন্দু শিক্ষিত বাঙ্গালীরা ততটা নয়। সমস্ত দেশের মঙ্গলামঙ্গল হিঙ্গু বাঙ্গালী নেতারা যতটুকু বুঝেন, চান ও দাবী করেন, তাহা যদি সামান্ত হয়, তাহা হইলেও উহা মুসলমানবাঙ্গালী ও বেহারীরা যাহা চান, তদপেক্ষ অনেক বেশী। বাঙ্গালী মুসলমান ভ্রাতার অপর সকলের সঙ্গে থাকিয়৷ সুশিক্ষিত হউন, সমস্ত দেশের, সমগ্র জাতির মঙ্গল উত্তরোত্তর অধিক পরিমাণে বুঝিতে ও দাবী করিতে ৬ষ্ঠ সংখ্যা । ] - ------- থাকুন : স্বার্থীদ্বেষী ইংরাজ রাজপুরুষদের দ্বারা তাহাদের সম্মুখে ধৃত ক্ষুদ্র প্রলোভন উপেক্ষা করিতে শিখুন , ইহাই আমাদের অভিলাষ । সমস্ত বাঙ্গালীয় একত্র থাকা হিন্দু মুসলমান, খৃষ্টান, ব্রাহ্ম, বৌদ্ধাদি সকলেরই মঙ্গলের কারণ হুইবে । এইরূপ কিছু দিন চলিতে থাকিলে যখন বাঙ্গালীমুসলমানগণ শিক্ষাগুণে হিন্দুবাঙ্গালীরষ্ট মত জাতীয় অধিকার চাহিয়া বাজপুরুষদের বিরাগভাজন হইবেন, তখন ইংরাজের ভেদনীতি হয় ত ভিন্ন আকার ধাবণ কপ্লিবে । তপন আর স্থানবিশেষে হিন্দু ও মুসলমান বাঙ্গালীর প্রাধান্য অপ্রাধাষ্ঠের কথা লইয়া কোন জাতীয় অমঙ্গলের ভাবমী ভাবিতে হুইবে না । বাঙ্গালা দেশে অন্তান্ত কোন কোন প্রদেশের মত হিন্দু মুসলমানে ঝগড়া ও ঈর্ষ বিদ্বেষ নাই। এই জন্য জাহাদের সম্বন্ধে এই ভেদনীতি অবলম্বিত হইতেছে । কিন্তু এই অগুত নীতি এখানেই থামিবে না। পূৰ্ব্ববঙ্গ ও পশ্চিম বঙ্গেও ঝগড়া বাধাইবার চেষ্টা হইবে। পূৰ্ব্ববঙ্গবাসী পশ্চিম বঙ্গে এবং পশ্চিম বঙ্গবাসী পুৰ্ব্ববঙ্গে চাকরী পাইবে না, এরূপ নিয়ম নিশ্চয়ই হইবে, এবং তাহা হইলে একই জাতির দুই শাখায় রাজপুরুষদের চিত্ততোষক বেশ ঈর্ষ বিদ্বেষ জন্মিবে। - ংখ্যক লোক সমবেত চেষ্টা ও শক্তি প্রয়োগে, সকলের টাকা একত্র বায় করিয়া, মঙ্গলের পথে বেরূপ অগ্রসর হইতে পারে, অল্পসংখ্যক লোকে তাঙ্গ পারে না, সুতরাং দ্বিখণ্ডিত বাঙ্গালী জাতির উন্নতি যে অতঃপর কম হইবে, তাহা নিশ্চয় বলা যাইতে পায়ে । তাহার পর, আর এক কথা । স্বাধীন দেশেও দেখিতে পাই, প্রজাদিগকে নিজেদের অধিকার ও সুবিধাগুলি বজায় রাখিবার জন্ত সৰ্ব্বদাই সজাগ থাকিয়া চেষ্টা করিতে হয়। এই চেষ্টার জন্ত অনেক টাকা, অনেক লোকের উৎসাহ ও পরিশ্রম, অনেক লোকের মতের ঐক্যের প্রভাব, আবখ্যক হয়। বাঙ্গালী জাতি দুই প্রদেশে দুই শাসনকৰ্ত্তার অধীনে, দুই বিভিন্ন ব্যবস্থাপক সভা কৃত বিভিন্ন আইনের অধীনে, বাস করিলে, এই জাতির দুই শাখার অভাব, অভিযোগ, ভিন্ন ভিন্ন রকমেয় হুইবে । সুতরাং চেষ্টাও ভিন্নমুখী হইবে । ষে অর্থ, ষে উৎসাহ, যে পরিশ্রম, দে - - = للسد- _ l বঙ্গ-বিভাগ । లిగి - একই কেন্দ্রে ঘনীভূত মতের প্রভাব, একমাত্র চেষ্টাকে সফল করিতে পারিত, তাহা দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় ব্যর্থ হইবে । আমরা চাই এক হইতে, গবর্ণমেণ্ট আমাদিগকে বিভিন্ন আইন, শিক্ষাবিভাগ প্রভৃতির অধীনে আনিয়া দুই ভিন্ন জাতিতে পরিণত করিতে চাহেন। , সাহিত্য জাতীয় চরিত্রকে গড়িয়া তুলে। যে সাহিত্য যত বেশ লোকে পড়ে, যাহার রস ও বল যত বেণী মামুষের হৃদয় হইতে আঙ্গত ও সঞ্চি, তাহার প্রভাব ও শক্তি তত বেশী। পূৰ্ব্ববঙ্গের ও পশ্চিম বঙ্গের চলিত ভাষায় কিছু প্রভেদ আছে । বঙ্গদেশ বিভক্ত হইয়া গেলে, গবর্ণমেণ্ট আপাততঃ বে ভাষাভেদ কাৰ্য্য হইতে বিরত আছেন, তাহ অবাধে দ্বিগুণ উৎসাহে সম্পাদন করিতে পারবেন। মিশনারীরা ও স্বার্থীন্ধ স্কুলপাঠ্য পুস্তকরচয়িতারা, এবং হয় ত কোন কোন মুসলমান লেখক গবর্ণমেণ্টের এই কাৰ্য্যের সহায় হইবেন। বাঙ্গালী সমাজের ঘদি মাথা থাকে, এবং সেই শীর্ষস্থানীয় লোকদের বুদ্ধি ও হৃদয় প্রকৃতিস্থ থাকে, তাহা হইলে স্কুলপাঠ্য পুস্তক সম্বন্ধে যাহাই হউক, উচ্চ সাহিত্যের বড় বেশ ক্ষতি বোধ হয় হইবে না। কিন্তু । মোটের উপর বাঙ্গলা সাহিত্যের কিছু ক্ষতি ষে হইবে, উহার শক্তি যে কিছু কমিবে, তাহাতে সন্দেহ নাই। - - সংবাদপত্রগুলিরও অবস্থা বিবেচ্য। এগুলি গবৰ্ণমেণ্টের চক্ষুশূল । ইহাদের উৎকর্ষ ও ক্ষমতা কতকটা গ্ৰাহকসংখ্যার উপর নির্ভর করে। গ্রাহকের স্বভাবতঃ মিজের প্রদেশের, নিজের জেলার, নিজের সহর ও গ্রামের অভাব অভিযোগের কথা পড়িতে অধিক ভাল বাসেন। আমরা দেখিতেছি, কলিকাতার একট। হত্যাকাণ্ডের কথা কলিকাতার দৈনিক ও সাপ্তাহিক কাগজগুলির যত যায়গা অধিকার করে, আঞ্জাঅযোধ্য প্রদেশের শিক্ষা যা অল্পবিধ গুরুতর সমস্ত তাহার সিকি স্থানও পায় না। এই হেতু বঙ্গ-বিভাগহইলে কলিকাতার শক্তিশালী কাগজগুলি পূর্ববঙ্গের কথা তত আলোচনা করিতে না পারায় অনেক গ্রাহক হারাইয়া আয়ের নূ্যনত বশতঃ তেমন স্থপরিচালিত হইবে না, সুতরাং অপেক্ষাকৃত শক্তিহীন হইবে । পক্ষান্তরে ঢাকায় শক্তিশালী কাগজের আবির্ভাব হইতে অনেক বৎসর লাগিবে। এই প্রকারে -