পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬ষ্ঠ সংখ্যা । ] বেতন দিয়া পড়েন, তাঙ্গদের বেতনের টাকা হইতে স্কুল কলেজের সমুদয় খরচ উঠে না । সুতরাং ত্যহারীও সাধারণ লোকদের নিকট শিক্ষার জন্ত ঋণী । কিন্তু আমাদের মধ্যে কয় জন দাদাভাই লাওরৌঞ্জীর মত, জনসাধারণের টাকায় শিক্ষা পাইয়াছি বলিয় তাহদের দেধায় আত্মোৎসর্গ করেন, বা করিতে ইচ্ছা করেন ? “যখন আমি কলেজের সৰ্ব্বোচ্চ শ্রেণীতে, তখন শিক্ষাAssoq (Board of Education) Tosolso is আবৃদ্ধি পের, আমার সম্বন্ধে তাছার উচ্চ ধারণা থাকায়, আমাকে ব্যারিষ্টার হইবার জন্ত বিলাত পাঠাইতে চান । আমাদের সমাজের নেতারা অৰ্দ্ধেক ব্যয় দিলে বাকী অদ্ধেক সাৱ আরস্কিন দিতে রাজী হন। সে সময়ে কয়েকটি পার্সি যুবক খৃষ্টান হইয়া যাওয়ায় পার্সি-সমাজে আন্দোলন চলিতেছিল। বোধ হয় সেই কারণে, পাছে বিলাতে পাদরীর আমাকে খুষ্টান করিয়া ফেলে এই ভয়ে, আমাকে বিলাত পাঠাইবার প্রস্তাব কার্যে পরিণত হয় নাই । বছ বৎসর পরে সায় অবস্থিন আমাকে বলেন যে, আমাকে বিলাত পাঠাইবার প্রস্তাব অমুসারে কাজ না হওয়ায় ভালই হইয়াছে। কারণ র্তাহার এই বিশ্বাস জন্সিয়াছিল যে, আমি ব্যারিষ্টার হইলে দেশের যত উপকায় হইত, আমার জীবন তদপেক্ষ জনসাধারণের অধিক হিতকর হইয়াছে।

  • এক্ষণে আমার কোন একটা জীবিকার কথা ভাবিবার সময় আসিল । আমি সরকারী চাকরী পাইয়াছিলাম বললেও হয়। শিক্ষাসমিতির সম্পাদক সেক্রেটারিয়েটে আমার জন্য একট চাকরীয় যোগাড় করিয়াছিলেন । ইহা আমি ডাৰী সৌভাগ্যের বিষয় মনে করিয়াছিলাম। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কোন কোন কারণে আমার ঐ চাকরী লওয়াতে বাধা পড়িল । বাস্তবিক ইহা খুব ভালই হইয়াছিল। নতুবা আমাকে গবর্ণমেণ্টের একটা নিয়শ্রেণীর চাকরীর সংকীর্ণ ভবিষ্যৎ উন্নতির আশাবিহীন জীবনে আমাকে বাধা পড়িয়া থাকিতে হইত ।

“১৮৫৪ সালে আমরা তিন জনে বিলাতে আসিয়া কমি এও কোং নাম দিয়া বিলাতে সৰ্ব্বপ্রথম ভারতবর্ষীয় সওদাগরী হোঁস খুলি। ইহার পূর্বের ছয় সাত বৎসর, সামাজিক, শৈক্ষিক, রাজনৈতিক, ধাৰ্ম্মিক, নানাবিধ সংস্কার মহাত্মা দাদাভাই নাওরোজী। ○Qふ কার্য্যে ব্যাপুত ছিলাম। স্ত্রী-শিক্ষা, সামাজিক ও অন্তবিধ প্রকাশ সভাসমিতিতে স্ত্রীলোকদের অবাধে পুরুষদের সঙ্গে মিলা মশা. শিশুবিদ্যালয়, ছাত্রদের সাহিত্যিক ৪ বৈজ্ঞানিক সভা, দেশভাষায় হিতকর জ্ঞান বিস্তারার্থ সভাসমূহ, পার্সিধের মধ্যে সংস্কার, বাল্যবিবাহের উচ্ছেদসাধন, হিন্দুযিধবাদের পুনবিবাহ, পার্সি ধৰ্ম্মসংস্কার সদিতি ,প্রভৃতি নানা কাৰ্য্য, সমিতি ও প্রতিষ্ঠান (institution) আমরা সম্পন্ন বা স্থাপিত করিয়াছিলাম । “আমার অতীত জীবনের এই অংশের দিকে আমি গৌরব ও আনন্দের সহিত, জনসাধারণের প্রতি কর্তব্য সংসাধনজনিত সন্তোষের সহিত ফিরিয়! তাকাইতে পারি। আমার ীেবনের এই দিনগুলি আমার বড়ই প্রিয়, নিত্য ও আনন্দদায়ক । “আমার শিক্ষার স্থল এলফিনষ্টোন কলেঞ্জে গণিত ও পদার্থ-বিদ্যার অধ্যাপকত। লাত, আমার প্রাথমিক জীবনের গুরুতম ঘটনা । ভারতবর্ষে আমিই প্রথমে এই পদলাভ করি। অধ্যাপক পদবী আমার প্রিযুতম পদবী, এই সন্মানই সৰ্ব্বোচ্চ সম্মান । ইহা আমাকে বড় আনন্দ দেয়। এখনও আমার অনেক সতীর্থ ও ছাত্র আমাকে দাদাভাই অধ্যাপক বলিয়া ডাকে। “বোধ হয় আমাকে এখানেই থামিতে হইবে। কিন্তু, এই কাহিনীতে সকলের শেধে উল্লিখিত হইলেও, একজন আছেন, বিনি পৰ্ব্বদাই আমার কাছে সকলের বড়, সকলের আগে ;–তিনি আমার না। আমি তাহার এক মাত্র লস্তান, যখন শিশু, তখন তিনি মিধৰ হইয়া সমস্ত জীবন স্বেচ্ছায় বৈধব্যে কাটাইয়াছেন, তাহ্যর সর্বস্বধন আমাতে তন্ময় হইয় কাটাইয়াছেন । - “তিনি তাহার ছেলেকে মাহুষ করিবার জন্তু গতর থাটাইতেন, একটি ভাইয়েরও সাহায্য পাইতেন । “যদিও তিনি নিরক্ষর ছিলেন ও আমার প্রতি মেছে ঠাঙ্গার হৃদয় পূর্ণ ছিল, তথাপি তিনি বিবেচনাশালিনী জননী ছিলেন। আমার গতিবিধি তিনি দৃঢ়তার সহিত নিয়মিত করিতেন, এবং চারিদিকের অনিষ্টকর প্রভাব হইতে আমাকে রক্ষা করিতেন। “তিনি পাড়ার লোকদের দিচক্ষণ পরামর্শদাতা ছিলেন ।