পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৯৪

From উইকিসংকলন
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


«bჯუჯ ওই কোলে মা পাই যদি ঠাষ্ট, জনম জনম কিছুই সা চাই, থাক না ওদের গৌরবরণ, মন্ত্ৰ বা আমরা কালে ! পরের পোষাক খুলে ফেলে ফিরলাম ঘরে ঘরের ছেলে, আঁথির নীরে মোদের শিরে আশীষধারা আজি ঢালে ! ঐপ্রমথনাথ রায়চৌধুরী। কথা বনাম কাজ ॥৫ কথা আর কাজ, সরল ভাষার এই দুটা অতি সহজ শব্দ ভিক্ষা ও আত্মচেষ্টার মুখোস পরিয়া জঁাকাল-উপাধিগ্রস্থ স্বাম্ভিক ধনীননানের মত সহসা পুরাতন ঐক্যবন্ধনের মধ্যে অনাবশ্বক আথাত দিয়া গিয়াছে। মুখের বিষয়, সে আঘাতে আমাদিগকে বিচ্ছিন্ন করিতে পারে নাই, বরং বন্ধনের দৃঢ়তাই পরীক্ষিত হইয়াছে। “আত্মচেষ্টা এই সংস্কৃত খণ্ডকে বিশ্লেষণ দ্বারা সংস্কৃত ও সঙ্কীর্ণ করিলে কাজ ইতি ভাষা হইয়া দাড়ায় । কাজ যে বাজে কিছু নহে, নিতান্ত খাট, তাহা যুগযুগান্তরের অভিজ্ঞতা আমাদিগকে খেলাঘর হইতে হাতেকলমে শিখাইয়া আসিতেছে, তাই রবীক্সবাৰু বিপক্ষের ইঙ্গিত লক্ষ্য বা কটাক্ষ আশঙ্কা করিয়া সবিনয়ে একাধিকবার স্বীকার করিয়াছেন,-আমি নূতন কিছু প্রচার করি নাই। ইহা শিষ্টতার অতিবাদ নহে ; বর্ণে বর্ণে সত্য উক্তি । কথায় চিড়া ভিজে না, তাহার জন্ত তরল পদার্থ আহরণ করিতে হয় —এই উপদেশ বিনি দেন, তিনি একটী চিরন্তন স্বাণীর প্রতিধ্বনি করেন। রবীন্দ্রবাবু এই দুঃসময়ে অথবা সুসময়ে সেই উপকারটা বাছিয়া লইয়া অগণ্য ধন্যবাদ লাভ করিয়াছেন ; আমরা সেই সব অভিনন্দনের অমুসরণ করির তাহাঁকে ভারাক্রান্ত করিব না । • ১৭ই জ্ঞাত্র রামমোহন লাইব্রেরীর বিশেষ অধিবেশনে জেনারেল অ্যাসেমূল্লির হলে লেখক ভর্তৃক পঠিত । প্রবাসী । ৫ম ভাগ । কথা না কাজ ? কঃ পন্থা ? এই সাদা প্রশ্নটকে সমস্তার মত জটিল ও অমিল করিয়া লইয়া রবীন্দ্রবাবু এবং প্তাহার প্রতিপক্ষের মধ্যে বেশ লেখালেখি, এমন কি, শেষ রোধাকৃথিও হুইয়া গিয়াছে । অনেক অবাস্তুর কথার মধ্য দিয়া ছিদ্রাম্বেষী দুই একটা সাহিত্যিক শর যেন লক্ষ্যভ্রষ্ট হইয়াই বিদ্ধ হষ্টয়াছে ও বিদ্ধ করিয়াছে। অসিহীন মসিসমরের এটা দস্তুর । সম্পূর্ণরূপে নিরীহ ও নিরাপদ হইলেও, ইহাকে স্তরযুদ্ধ যলিতে পারি না । সে সব অতীত আলোচনার সমালোচন করা আমার উন্ধেগু নহে। উভয় পক্ষই আহত হইয় একান্তে আত্মসংবরণ ও আত্মসংশোধন করিয়া লইয়াড়েন। এখন এমন একটা সন্ধিস্থলে দুইদল আসিয়া গড়াইয়াছেন, যেখান হইতে মিলনমগুপের স্নিগ্ধ ছায়া অতি নিকটবত্তী হইয়াছে। তর্ক উঠিয়ছিল,—যে কথা বা ব্যক্ত-মনোবাথার মূল্য এক কাণাকড়িও নহে, যে অক্ষম-চীৎকার বহুবর্য ধরিয়া আমাদের ভাগ্যবিধাতাগণের অবজ্ঞা প্রাপ্ত হইরা আসিতেছে, সেই নিদারুণ বিড়ম্বনীর পুনরাবৃতি বদ্ধ করা উচিত কি না ? রবীন্দ্রবাবু তীব্র ভাষায় এই কাঞ্ছনিকে ধিক্কার দিয়াছেন। রোধে ক্ষোতে গৰ্জ্জন করিয়া বলিয়াছেন,—আর না, যথেষ্ট কাদিয়াছ বাঙ্গালী, এথল কাজ কর ; উহাই সফলতার এ উত্তেজনা শুনিতে এতই সুন্দর এবং নিপুণ কণ্ঠের উন্মাধনায় এতই মৰ্ম্মস্পর্শী, যে উহা নিঃসংশয়ে মানিয়া লইবার প্রলোভন এড়ান সহজ হইয়া উঠে না । কিন্তু তলাইয়া দেখিলে দ্বিধা আসে। কাজ ত করিবই ; কথা কেন ছাড়িব ? অন্যায়ের প্রতিবাদ যন্ধ করিখ কেন ? অবিচারের সমালোচনা কেন ত্যাগ করিব ? রবীন্দ্র বাবু বলিতেছেন,—উহার নামান্তর ভিক্ষা। ‘ভিক্ষীয়াং নৈব নৈব চ'। তা হোঁক্‌ ; তাই বলিয়া প্রবলের কাছে আমাদের কণ্ঠরোধ হইয়া যাইবে! নিষ্ঠুর ঔদ্ধতের মৰ্ম্মস্থলে কোটিকণ্ঠের ক্ষুব্ধ ভাষা একট ক্ষুদ্র আঘাতও করিয়া আসিবে না ! তবে যখন সরকার আইন করিয়া কণ্ঠরোধের যাবস্থ করিলেন, তখন সেই অধিকারটাকে অব্যাহত রাখিতে যে লড়াই করিয়াছিলাম, তা কি এইরূপে হীরাইতে ? বহুবার কথায় বাজেখরচ হইয়া গিয়াছে, জানি ; মাঝে মাঝে কাজে আসে নাই, এ কথা মানি না । ভাষাবিভাগের সহপায় । T. ৬ষ্ঠ সংখ্যা । ] বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন কি পণ্ড হইয়াছে ? এক্ষেত্রে একেবারে নি:শব্দ হুইয়া গিয়া হঠাৎ একটা কো-অপারেটিভ স্বদেশী ষ্টের খুলিয়া ফেলিলে খাস হইত বটে, কিন্তু ভাষাকে অক্ষুণ্ণ রাখা যাইত কি না সন্দেহ । রবীন্দ্রবাবুর নিজের স্তষ্ট ভিক্ষা কথাটা তাহাকে নিরর্থক গোলে ফেলিয়াছে। ভিক্ষার মধ্যে যে একটা দৈন্ত নিহিত আছে তাহ রবীন্দ্রবাবুকে পীড়ন করিতেছে। করিবারই কথা। কিন্তু উপায় যে নাই ! যে স্পৰ্দ্ধায় জাপান রুষের সহিত দাবীদাওয়ার ভাষা চালনা করে, ঠিক সেই গুজনের দাবীই আমাদের মুণে ভিন্ন ভঙ্গীতে বাতির হইয় বার। ইহা পদলেহন নহে, ললাটলেখন। তবু দাবী, দাবীই ; উহ। ভিক্ষা নহে। সেই স্বাভাবিক স্বত্ব, সেই দ্যাধা অধিকার ত্যাগ করিলেই যে আমরা মানুষ হইব, তাঙ্গর কোন অকাট্য প্রমাণ নাই ; বরং তাহার বিরুদ্ধে যথেষ্ট যুক্তি আছে। একজন মারিবার মতলব আঁটিয়াছে, তপন তাঙ্গকে বুঝাইয়া প্রতিনিবৃত্ত করিতে যাওয়া দুৰ্ব্বলের কাপুরুষত নহে, মল্লযুত্বের ধৰ্ম্ম । আঘাত যখন উদ্যত, তখনই প্রত্যাঘাত আবখ্যক । তার আগে নয় । সেই ধৈর্য্য, সেই সংহত-বীৰ্য্য যখন অদ্যায়ের বার হইতে লাস্থিত হইয়া আসে, তখনই তাহা দেবতা ও মাঙ্গুষের নিকট প্রকৃত বল লাভ করিয়া সফল হয়। তার আগে নয় । বর্তমানে যে অগ্নি জলিরাছে, যদি উচ্চা দেশব্যাপী হুতশের নিরবচ্ছিন্ন ফুৎকার ও ব্যর্থ-ক্ৰন্দনের গুপ্ত-ইন্ধন না পাইত, যদি উহা রাজদ্বারে অকারণে অবমানিত হইয়া না ফিরিত, তবে কি এমন প্রবল হইয়া উঠিত ? সেই হোমানলে বিদেশী বসন-ভূষণের যে সৎকার চলিতেছে, সমস্ত ধাঙ্গলার উপেক্ষিত তপ্ত-অশ্রদ্ধার নিয়ত তাহাতে ঘৃতাহুতি যোগাইতেছে । আমরা যদি গোড়াতেই ইংরাজকে অবিশ্বাস করিয়া বদিতাম, ইংরাজের শাসনতন্ত্রকে পীড়নের যন্ত্রজ্ঞানে ঘুণ করিতে শিপিতাম, তবে আমাদের সেই চেষ্টারত অপরিণত বিতৃষ্ণার মধ্যে কাপট থাকিয়া যাইত; কিন্তু ধৈর্য্যশীল অভিজ্ঞতা আমাদিগকে এমন সুকঠিন বন্মে আবৃত করিয়া দিয়াছে, যেখান হইতে রাজভক্তি বারবার ধাধা পাইয়া ফিরিতেছে । কথা বনাম কাজ । ·ථII অপরপক্ষ বলেন,—রবীন্দ্রবাবুর কোন কোন প্রবন্ধ গঠনোন্মুখ সমাজে "ভাঙ্গন আনিয়াছে।–এ অভিযোগঅমৃযোগের কোন হেতু নাই। রবীন্দ্রবাবু এমন কোন অদ্ভুত কথা বলেন নাই, কি অপূৰ্ব্ব পন্থা আবিষ্কার করেন নাই, যাহা প্রবণ সমাজকে নবীনভাবে ভাঙ্গিতে গড়িতে পারে। রবীন্দ্রবাবুর তরফ হুইতে হয় ত কথা উঠিবে,— তা হলে ত চুকিয়াই গেল!—তবে বিরোধ ছিল কোথায় ? মতভেদ দাড়াইয়াছিল কিসে ? আসল কথা, দ্রুতসংশোধিত রবীন্দ্রনাখ সদলবলে এখন যে জায়গাটতে আসিয়া ঠাকু গাড়িয়াছেন, সেখান হইতে বিপক্ষের সীমা-ব্যবধান হ্রস্ব হইয়া আসিয়াছে। ছোট হেীকৃ, বড হোঁক্‌, ব্যবধান ত বটে। উঠায় ঔচিতামুচিতা আবশ্বকতা-অনাবশুকতার আলোচনা বাহুল্য নহে। আমরা রবীন্দ্রবাবুর বিরাগ বা বিরোধকে আকস্মিক কি অনাহূত বলিতে পারি না । অন্ধশতাব্দীর নৈরাশু দ্বারা উহা প্রবুদ্ধ ও প্রবৃদ্ধ । ইহাও অস্বীকার করিতে পারি না, স্বাধীন দেশের গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলন প্রথার অক্ষম অন্তকরণের দিকে এই পতিত জাতির একটা মারাত্মক ঝোক দাড়াইয়া গিয়াছিল । ভৰলপ্রোমোশনপ্রাপ্ত ছাত্রের হায় অমিয়া গোড়ায় কাচা থাকিয়া খুব চট্‌পট্‌ অগ্রসর হইতেছিলাম। ইহা নিন্দনীয়, সন্দেছ নাই ; কিন্তু ষে জাতি কেবল পায়ে ভর করা অভ্যাস করিতেছে, ভাঁহার পক্ষে স্থলন-পতন অনিবাৰ্য্য। ক্রটি ধর পড়িয়াছে, সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের উপায় ও উদ্ভাবিত হইতেছে। এই যে স্ববাতাস বহিতেছে, কোন ব্যক্তিবিশেষের ফুৎকারে ইহার উৎপত্তি নহে। সমগ্র দেশের বহুবর্ষসঞ্চাত নিস্ফলতার দীর্ঘশ্বাসে ইহার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হইয়াছে। জাতীয় মহাসমিতি যেদিন রুদ্ধ-শিল্পাগারের চাবি খুললেন, সেদিন আমাদের নাড়িতে কি এক ভিক্ষৰ ম্পাদনই অমুভূত হইল । রবীন্দ্রবাবু রাজদ্বারের দিকে অস্কুলীনির্দেশ করির দেখাইতেছেন,--ঐ পাষাণকপাট কিছুতেই যুক্ত হুইবার নহে –কসাইখানা কখনও সরাইখানা হইয়া উঠিতে পারে না, এ কথা ঠিক ; কিন্তু বাণী ত পাষাণী নন, তিনি নবনীকোমলাও মহেন । কাপুরুষের মুখে যে বাণী আবেদন-নিবেদনের মত শুনায়, বীরের কণ্ঠে তাছাই প্রতিকার বা প্রতি