পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাদেয় ভেরীনিনাদ ঘোষণা করে । নিভন্ত দীপশলাকার অগ্নি জলন্ত মশালে রূপান্তর গ্রহণ করিয়া থাকে । আমরা যদি কথার মত কথা শুনাইতে না পারি, তবে সে অক্ষমতার জন্য ধিক্কার দ্বিলে তাঁহা মুকদিগকেই অধিক স্পর্শ করিবে ! যেদিন লাটমজলিসে মহামতি গোলে বাজেটের যমলোচনা করিয়াছিলেন, মারাঠী ব্রাহ্মণের মুখে সেদিনকার আবেদন-নিবেদন নিশ্চয়ই বাজপুরুষদের কর্ণে সুধাবর্ষণ করে নাই ! ক্ষমতামদান্ধ দম্ভশীত কার্জনী তৰ্জ্জন ধে উৎসাহে পবিত্র বিদ্যামন্দিরকে কলঙ্কিত করিয়াছিল, যদি সমগ্র দেশের গৰ্জ্জন দ্বারা অবিলম্বে শাসিত না হইত, তবে কি সেই ধৃষ্ট অনধিকারচর্চা আমাদিগকে ঘমিত ও নমিত জ্ঞানে মুখে মুখে পুনরাবৃত্তির জন্ত মাতিয়া উঠিবার প্রশ্রয় পাইত না ? আমাদের পাচ বছরের তাড়াটে লাট যে মুখে আরও দুই বছরের ম্যাদ বাড়াইতে ছটিয়াছিলেন, এবারকার যাত্রায় যদি সে মুখ চুন হইয়া বার, তবে তাহ যেশব্যাপী টীংকারে বা ধিক্কারে। জানি, লাট বাসায় গির মরিয়া থাকিবেন না, কিন্তু বড় তবিয়াও যাইবেন না । অন্তত তাহার পরবর্তীকে একটু সাম্‌লাইয়া পা ফেলিতে হইবে । র্যাহারা বলেন, আমরা এখন পীড়নষ্ট চাই, তাহার ভারি ভুল করেন। আমাদের মত অধীনের উপর জুলুমের মাত্রা যে বহুদুর চড়িতে পারে, ঝোকের মাথায় তা ভাবিয়া দেখেন না । সে চাপে আমাদের কচি জাতীয়তা নিষ্পেষিত হইয়া যাইতে পারে! আত্মরক্ষার জন্য বিরোধ চাই। যখন কেহ উৎপাত করিবার ছিল সা, তথন শাস্তিমস্ত্ৰ শুনাইত ভালো! পরের পয়জার খাওয়াই যদি নিজের চৈতন্ত লাতের একমাত্র উপায় স্থির হটয়া থাকে, তবে ধিক্ সেই স্বদেশিকতাকে ! আন্দোলন শ্রান্ত বাঙ্গালী বহুবার ভষ্মমনোলথে ঘরে ফিরিয়া ঘুমাইয়াছে। তাই নৈরাশুপীড়িত রবীন্দ্রনাথ পরম বন্ধুর মত এবার আগেই সতর্ক করিতেছেন,—এখন আমাদের ঘরে ফিরিয়া কাজ করিবার সময় আসিয়াছে – তথাস্ত্র। কিন্তু যাহিরের সমস্ত আপদকে, রাজসভার সমস্ত ষড়যন্ত্রকে অবাধে পুষ্ট হইতে দিলে, ঘরের আয়োজন কোন অশরীরী স্বপ্নের সেবার লাগিবে ? গোরার দরবারে যখন প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । কালার কোন দিশ্যে অধিকার হয়ণের চক্রাস্তচক্ৰ চলিবে, আর তাঁহাতে সত্বদেশু আরোপিত করিয়া ফিরিঙ্গীর ক্যগঞ্জগুলা আমাদিগকে কৃতজ্ঞ ও রাজভক্তিমান হইবার জন্য ক্ষতে লবণনিষেক কলিবে, সেই পদ্ধা,সেই নিহিত ব্যঙ্গ স্বচ্ছনে গলাধঃকরণ করিয়া যদি আনয় স্থবোধের মত অবাক্স্থৈার্থ তাড়াতাড়ি স্বদেশী বায়ামাগারের ভিত্তি স্থাপন করিয়া তাহার প্রতিশোধ লই, ভাহাতে আওয়াজ যথেষ্ট হইবে, এবং তাং ফাঁকা নাও হইতে পারে; কিন্তু ঠিক লক্ষ্যট ভেদ হইবে না । বাহিরে গভীর গৰ্জ্জন করিলেই যে ঘরের নীরব অঙ্গলে বাধ হইবে, এরূপ আশঙ্কার কোন সঙ্গত কারণ নাই। দুই-ই চালাইতে হইযে। একের দ্বারা অন্সের সফলতার সম্পায় হইবে । ছায়ালোকের স্থায় একের অভাবে অপরের অস্তিত্ব হানির সম্ভাবনা আছে। রবীন্দ্রবাবুর আর এক প্রস্তাব, দলপতি বা নায়ক নিৰ্ব্বাচন। সমস্ত বঙ্গের একজন স্থায়ী অধিনায়ক খুজিয়া পাওয়া বার নাই, যাইবেও না । কেহ কেহ বলেন,—তিনি আসিবেন । আমন, আপত্তি লাই ; কিন্তু তাহার আগে আমরা শত শত সুসস্তানকে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে নেতার পথে বরণ করিয়া লইব । আসল কথা, নবসভ্যতাপ্ত নূতনআলোকপ্রাপ্ত সোণাল বাঙ্গলা কি কখনও একজনের হাতের ক্রীড়াপুত্তল হইতে পারে? একটা সমবেত নেতৃশক্তির চালনায় উহার শক্তির বিকাশ হুইবে । সেই সমবেত নেতুশক্তিকে একটা সার্থক আকার দিতে হুইযে, উহার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সচল ও সবল করিয়া তুলিতে হইবে। ইহার জন্ত চাই, কতকগুলি বাছা বাছা তাজ মন, যাহারা দেশকে কবির মত ভালবাসিবে ; কৰ্ম্মীর মত সেবা করিবে । তাহাদিগকে ত্যাগত্ৰতে দীক্ষা লইতে হইবে। এই ত্যাগের অতবেই আমরা মুত, নতুবা ভাগে আমাদের কি করিভ ? হাজাল কর, দেশের জন্য দশের জন্য স্বাৰ্থত্যাগের আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ের কারখানার বা স্বদেশীসভার কলে গড়া যাইবে না! ইহার জন্য চাই, গৃহশিক্ষার সংস্কার ; চাই মাতৃত্বের বিকাশ। তবেই একটা প্রকৃতসন্তানের দল গঠিত হইবে, যাহারা দ্বিগৃদিগন্ত প্রকম্পিত ফরিয়া ধ্বনিতে সক্ষম হইবেন,—“বন্দে মাতরম্ ! মাত তথলষ্ট যথার্থরূপে বন্দিত হইবেন। Í ৬ষ্ঠ সংখ্যা । ] এই যে স্বদেশী অভিযান, ইহা কেন প্রদেশে প্রদেশে, পল্লীতে পল্লীতে সবেগে শৃঙ্খলা তাথিয়া ছড়াইয়া পড়িতেছে না ? ইহার মূলে জাতীয় চরিত্রবলের অভাব। পেয়ালী বাঙ্গালীয় উদ্যমে অনিয়ন্ত্রিত কাৰ্য্যপ্রণালীর নিদর্শন সৰ্ব্বত্র মিদ্যমান । সেই পদ্ধতির শোধন করিয়া লইতে হইবে । বিলাতী বসন-ভূষণ স্পর্শ করিব না, কিন্তু মিলাতের নিকটেও আমরা শৃঙ্খলা শিখিব, স্বদেশহিতৈষী শিথিৰ, স্বঞ্জাতিধাৎসল্য শিক্ষা করিব এবং আত্মত্যাগের দীক্ষা লইব । এ সব বিধেশজাত আমদানীকে আদর্শ করিলে, বিলাতি সংস্পর্শের দোষ ঘটিবে না। জাতীয়তাল অমুশীলন, লব্ধ সিদ্ধিকে রক্ষা ও অপ্রাপ্ত বৃদ্ধিকে লাভ করিবার জন্য স্বদেশী সভা কি জাতীয় সন্মিলনাই বল, অথবা প্রাচীন বঙ্গের অমুকরণে পল্পীপঞ্চায়েৎ বা গ্রামাবৈঠকই যল, একটা সমবেত কার্যকরী সাধনাকে জাগাইয়া রাখিতে হইবে উচ্চার নামকরণ ধরণধারণ দেশীয় হেীকৃ, কিন্তু বিদেশীর নৈপুণ্য দ্বারা উহাকে পুর্ণতা অর্পণ করিতে হইবে। এই সব পঞ্চায়েৎকে আদালত করিয়া তুলিলে, ভারাক্রান্তই করা হইবে। গুরুদোষে দণ্ডদান, রাজশক্তির অঙ্গ ; ন্যায়বিদ্রোহীকে মিমাংসায় বাধা করা রাজশক্তিসাপেক্ষ । মামলা একটা প্রকাও জুয়াখেলা ! ফাকি দিয়া বা ফাকিতে পড়িয়া রাতারাতি লাল হইবার নেশার চিরদিন পূৰ্ব্ব ও পশ্চিম মাতোয়ারা। লোভ বা বিদ্বেষ যতদিন আছে, এই স্বার্থনাশা স্বার্থপরতা ততদিন চলিবে । ব্যক্তিগত কুট ফন্দি ও থল অভিসন্ধির স্বগী বাহির করিতে করিতে সভায় সভাণ্ড ঘুচিয়া যাইবে। সুবোধের গুপ্ত সালিশ সৰ্ব্বত্র হইতেই সংগ্ৰহ হইতে পারে। আপোষ বা সালিশী সভাগৃহ অপেক্ষ চণ্ডীমণ্ডপেই সাজে ভাল । পল্পীমণ্ডলী যেরূপে গঠিত হইযে এখন তাহাই আলোচ্য। পনর কুড়িট পল্লী মিলাইয়া একটা মণ্ডলী হইবে । জেলায় জেলায় মহকুমায় মহকুমার ত কথাই নাই, প্রত্যেক মণ্ডলীতেই একটী সভা বা সম্মিলনী থাকিবে । তাই হইলেই যাহার বহুকাল হইতে বাঙ্গলাকে শাসন করিয়া আদিতেছেন, সেই মুকুটবিহীন জ্ঞানবুদ্ধ কৰ্ম্মীগণের হস্তে বাঙ্গলাকে অধিকতর প্রত্যাশায় করা হইবে । নেতা বা সভাপতি আপনিই ছুটিবে; সেজন্ত আয়োজনের প্রয়োজন হইবে না। কোন সমপণ কথা বনাম কাজ । ○とむ সভায় মুসলমান কোন সম্মিলনীতে হিন্দ অধিনায়কের পদে বৃত ইষ্টবেন। এই সব শাখাসত নাগরিক মূলসভার কর্তৃত্বধীনে থাকিয় কাজের কৈফিয়ৎ দিবে। এইরূপেই বঙ্গের অঙ্গচ্ছেদকে আমরা নিষ্ফল ও অগ্রাহ করিতে পারিব । নচেৎ লাটসভার সদস্তপদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোসিপ, মিউনিসিপালিটীর মেম্বর হঠাৎ-কোকে ছাড়িলে, একটা প্ৰগলভ উন্মা দেখান হইবে, আর বিরূপসমালোচনাতপ্ত ইংরাঞ্জের শুনিদ্রারই ব্যবস্থা করা হইবে! আমাদের তিতরের টিস্থ শৃঙ্খলার এপ্লিনে না পুরিলে, উহা কেবল ফাঁকা ধোয়া আর বাম্পের মত উবিয়া উড়িয়া যাইবে —কবে আমাদের কারখানাঘরের পবিত্র ধূমে ও শত শত ধিচিত্র কলের জ্বল্পকলরবে পরমুখাপেক্ষ বাঙ্গল পবিপূর্ণ হইয় উঠবে। রবীন্দ্রবাবুর গল বলিবেন,—ত বেশ, কিন্তু আবার সভা? আবার সেই স্থাক-ডাক ? সেই হাততোলা আর হাততালি ? অ্যাজিটেসন আর রেজলিউসন ? নগরের দুষ্ট বায়ু সোণার পল্লীতে প্রবিষ্ট ও পরিব্যাপ্ত হইতে দিবার এ কি ধৃষ্ট আয়োজন । বাহ আড়ম্বরের মধ্যে কাৰ্য্যটা হইবে কি?— এক কথায় ইংর স্পষ্ট উত্তর চলে না । স্বাধীন দেশের হায় আমাদের কৰ্ম্মক্ষেত্র নিষ্কণ্টক নহে । যাহদের জাতিত্ব গঠিত হইয়া গিয়াছে, বাহদের জমি তৈরি হইয় তাহাতে ফসল ফলিতেছে, তাহদের সহিত আমাদের যোগ কোথায় ? আমাদের বর্তমান দশা অনেকটা আদর্শ কৃষিক্ষেত্রের মত, পরীক্ষার অবস্থা হইতে উত্তীর্ণ হইয়া পরীক্ষিত ব্যবস্থা দ্বার সাফল্যের পথ প্রাপ্ত হয় নাই। তবু কাজের আলোচনার লাভ আছে। কাজ কি ?–কথাও কাজ, কাজও কাজ। স্বাধীন দেশের পক্ষেও, অধীন দেশের পক্ষেও। কেবল পাত্রভেদে বক্তব্য ও কৰ্ত্তব্যের স্থান-কাল নিৰ্দ্ধারণ-নিৰ্ব্বাচনের সময় আমাদের আসিয়াছে। দেশে বিদেশে অনেক স্বামী ও নামা মস্তিম্ভ এই চিস্তার ঘুরিতেছে। বার্ষিক কংগ্রেসী বায় বাহুল্য হইলেও বর্তমানে অত্যাজ্য –এ সিদ্ধান্ত সেই চিন্তারই ফল। কাজের প্রকৃতি হইবে কি, পরিণতিষ্ঠাডাইবে কোথায়, প্রণালীপদ্ধতি কেমন হইবে, এখন তাহাই বুঝিতে ও বুঝাইতে হইবে। সেই মনন ও বীক্ষণ কবিতার হায় আভাসে না বুঝাইয়া কম্মিষ্ঠতার স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে