পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


به جهاني একখানি মুন্দর মুখ মনে পড়িয়া হৃদয় চঞ্চল হইয়া উঠিতেছিল। সেই সুন্দর সরল মুখ থানির অধিকারিণী, আমার বালাসঙ্গিলী ও তাৰী পত্নী, মুক্তাবষ্টি । ব্যবসায়ে পদার করিতে পারিলেই মুক্তাবাই আমার ক্ষুদ্র গৃহ আলোকিত করিতে আসিবে । মুক্তার মুখ খানি তাবিতে ভাবিতে আমার নিদ্রাকর্ষণ হইল ; আমি চেয়ারে বসিয়া বসিয়াই ঘুমাইয়া পড়িলাম। হঠাৎ আমার স্কন্ধদেশে কে হস্তাপণ করিল ; আমি চমকিয়া উঠিলাম। চাহিয়া দেখি, আমার গুজরাটি বালকভুতাটি, আমার জ্বাগরিত করবার চেষ্টা করিতেছে । আমি তাহার দিকে দৃষ্টি করিতেই সে বলিল, “একটি স্ত্রীলোক হুজুর - একটি স্ত্রীলোক ! আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “একটি স্ত্রীলোক ? কে ? কোথায়” ? পে অঙ্গুলি নির্দেশপুৰ্ব্বক আমার কন্সটি রুম্ দেপাইয়া দিল। আমার এই ক্ষুদ্র গৃহেও একটি কন্যাণং রুম্ ছিল ; যদিও তাঁহাতে প্রবেশ করিবার বিশেষ আবখক আমার প্রায়ই হুইত না । আমি বালকের নির্দেশ মত সেই গৃহে প্রবেশ করিলাম। আপাদ মস্তক কৃষ্ণ বর্ণ পরিচ্ছদে আবৃত একটি রমণী মুঞ্জি, দ্বারের দিকে মুখ করিয়া জানালার নিকট দাড়াইয়াছিল। তাহার মুখমণ্ডল দীর্ঘ অবগুণ্ঠনে তাবৃত। আমি প্রবেশ করিয়া অনুভব করিলাম, তাহার চকু ফুটি আমারই উপস্থ দ্যস্ত রহিয়াছে। কিন্তু আমি প্রবেশ করিয়া, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিবার পন্থও, সে আমার সহিত কোন বাক্যালাপ করিল না : স্থির হইয়া দাড়াইয়। রহিল। আমি একটু ইতস্তত: করিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনি কি আমার পরামর্শ চান” ? রমণী মস্তক ঈষৎ হেলাইয়া সন্মতি জ্ঞাপন করিল। আমি ত্যহাকে একটি চেয়ার দেখাইয়া বলিলাম, “আপনি এই খানে আসিয়া বমন ৷” রমণী একপদ অগ্রসর হইল ; কিন্তু আমার বালকভূতাটির প্রতি দৃষ্টি করিয়াই থমকিয় দাড়াইল। আমি আমার ভূত্যকে গৃহ পরিত্যাগ করিতে আদেখ কল্পিলাম। সে চলিয়া গেলে রমণী ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া, আমার প্রদত্ত চেয়ারে উপবেশন করিল। দেখিলাম তাহার পরিধেয় বদন বৃষ্টিজলে আর্দ্র ও কর্দমাক্ত। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,“আপনি আসিতে আসিতে বৃষ্টিঞ্জলে তিঞ্জিয়াছেন” ? - تمامیت است. প্রবাসী । “ই মহাশয়”—রমণীর কণ্ঠস্বর বেদনাযুক্ত। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলাম,“আপনি কি পীড়িত" ? “ই মহাশয়",–রমণী বলিতে লাগিলেন, “আমি পীড়িত, কিন্তু আমার পীড়া শারীরিক নয়, মানসিক ! অ্যাম, আমার নিঞ্জের কোন বাবস্থার জ্বল্প আপনার লিকট আসি নাই । আমার নিজের কোন শারীরিক পীড়া হুইঙ্কে, এত ররিতে এই ঝড় বৃষ্টিতে আপনার নিকট আসিতাম না । ধাস্তবিক যদি আমার কোন সঙ্কটজনক পীড়া ইষ্টত, আমি কৃতজ্ঞচিত্ত্বে ভগবানকে ধন্সবাদ দিতাম। মহাশয়, আমি অল্প একজনের জন্য আপনার নিকট আসিয়াছি। দিব রাত্রি আমার অন্স কোন চিন্তা নাই ; কোনও রকম সাহায্য ব্যতীত কি করিয়া তাহাকে বিধায় দিব” ? রমণ দুই হস্তে মুখ আবৃত করিয়া কাধিতে লাগিল । তাহার এইরূপ বিচলিত অবস্থা দেখিয়া, আমি তাহাকে সাত্বন ধিবার জ্বল্প ব্যস্ত হইলাম । “আপনার কথাতে মনে হইতেছে, আর এক মুহূৰ্ত্ত9 দেরী করা উচিত নয় । আপনি কি ইহার পূৰ্ব্বে, আর কোনও ডাক্তার শ্বেখান নাই” ? “ল মহাশয় । ডাক্তার দেখাইয় কোল ও ফল হইত ল', এখনও হুইবে না ।” আমি আশ্চর্য হইয় তাহার মুখের দিকে চাহিলাম ; কিন্তু দীর্ঘ অবগুণ্ঠনের জন্ত কিছুই দেখিতে পাইলাম না । আমি এক গ্লাস শ্ৰল তাহার হস্তে দিয়া বলিলাম, "আপনি অমুস্থ। এই শীতল জল পান করিয়া একটু বিশ্রাম করুন। তার পর রোগীর অবস্থা আনুপুৰ্ব্বিক আমায় বলিলে, আমি আপনার সহিত যাইতে প্রস্তুত হইয”। রমণী জলের মাস মুখের কাছে তুলিল , কিন্তু তখনই আমার তাঁহা লামাইয়া রাখিয়া, উচ্চৈঃস্বরে কান্ধিয়া উঠিল । কাদিতে কাদিতে রমণী বলিতে লাগিল, “আমি জানি আমার কথা শুনিয়া, আমার পাগল ভিন্ন আর কিছুই মনে করিবেন না। অনেকেই এরূপ মনে করিয়াছে ও বলিয়াছে। আমি অল্পবয়স্ক মহি। লোকে বলে মৃত্যু যতই বনাইয়া আসে, জীবনের অবশিষ্ট অংশ টুকু, তাহার সহিত অনেক দুঃখস্মৃতি বিজড়িত থাকিলেও মামুষের নিকট ততই প্রিয়তর হয় । আমার জীবনের সীমা বেশী দূর নয়। আমারও তাঁহাই হওয়া [ ৫ম ভাগ । - ৬ষ্ঠ সংখ্যা । | উচিত। কিন্তু ভগবান জানেন, মৃত্যু এখন আমার নিকট কত স্বাগত । আজ যাহার জন্ত আপনার নিকট আসিয়াছি, কাল সে মনুষ্যের ক্ষমতার বহির্ভূত হইবে । কিন্তু তবু আমি । আপনাকে আঞ্জ তাহার নিকট লইয়া যাইতে পারিতেছি ন" । আমি বিন্মিত হইলাম ! রমণী কি সত্যই উন্মাদ ? কিন্তু উন্মত্ততার কোনই লক্ষণ দেখিলাম না । ধীরে ধীরে বলিলাম, “আপনি যাহা গোপন করিতে চাহিতেছেন, সে সম্বন্ধে অনুচিত প্রশ্ন করিয়া, আপনার যাতনাবুদ্ধি করিতে চাই না ; কিন্তু আপনার কথা শুনিয়া আশ্চর্য হইতেছি । আপনি যে ব্যক্তির কথা বলিতেছেন, সে মৃত্যুশয্যায় শয়ান ; হয় তো আজ চেষ্টা করিলে কিছু করিতে পারিব। কিন্তু আজ তাঁহাকে দেখিতে পাইল না । কাল,—আপনি নিজেই বলিতেছেন সে মনুষ্যের সাহায্য ও ক্ষমতার অতীত হইবে ; অথচ কাল আমায় লইয়া যাইতে চাহিতেছেন । যদি সে বাস্তবিক আপনার কোন প্রিয় ব্যক্তি হয়, তবে আজই তাহাল সাহায্যের চেষ্টা করিতেছেন না কেন” ? "ভগবান আমার জল দাও!” রমণী কাতর স্বরে বলিলেন, “যে কথা নিজেই এক এক সময় বিশ্বাস করিতে পারিতেছি না, সে কথা আপনাকে বিশ্বাস করিতে বলিব কি করিয়া ?” এই বলিয়া রমণী উঠিয়া দাড়াইয়া, আমার জিজ্ঞাসা করিলেন । “তবে আপনি কাল তাহাকে দেখিতে যাইবেন না ?” “আমি যাইব না একথা বলি নাই । কিন্তু আপনাকে বলিয়া রাখিতেছি, যে এরূপ অদ্ভূত বিলম্ব করিতে জেদ করিলে, এ ভয়ানক বুকি আপনাকেই বহন কল্লিতে হইবে।” রমণী দৃঢ় স্বরে বলিল, “কুকি কাহাকেও বহন করিতে হইবেই ; যে টুকু আমার উপর পড়িবে, সে টুকু বহন করিতে আমি প্রস্তৃত আছি।” “আপনার ইচ্ছামত কাৰ্য্য করিতে আমি বাধা হইতেছি। আমি স্বীকার করিলাম, কল্য রোগী দেপিতে যাইব । আপনার ঠিকানা বলিয়া যান । আর কাল কথন গেলে সুধিব হুইবে ?” রমণী উত্তর করিল নয়ট” । অবগুণ্ঠনবতী । ‹}ፃ » “আমি বলিলাম, একটা প্রশ্ন করিতেছি, ক্ষম কপ্লিবেন ; সেট ব্যক্তি কি এক্ষণে আপনার তত্ত্বাবধানে আছে ?” -না মহাশয়” “আমি তাহার চিকিৎসা সম্বন্ধে কোনরূপ বাৰস্থা করিলে কি আপনি আজ রাত্রে তাহার সাহায্য করিতে পারেন না প রমণী আকুল স্বরে কাদিতে কাদিতে মাত্র লা ৷” আমি তাঙ্গাকে আর কোন প্রশ্ন করা বৃথা মনে কল্পিলাম । তাহার ব্যাকুলত, সে কতক পরিমাণে দমন করিয়াছিল ; কিন্তু এক্ষণে আবাপ তাহা বৃদ্ধিপ্রাপ হইল। তাহার ক্ৰন্দন আমার মৰ্ম্ম স্পর্শ করিল । আমি প্রভাতে যাইব অঙ্গীকার করিয়া, তাঁহাকে বিদায় দিলাম । সে চলিয়া গেলে, বসিয়া বসিয়া, তাহার বিষয় চিন্ত৷ করিতে লাগিলাম। এই অদ্ভূত অভ্যাগমন সম্বন্ধে কি করিব বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না। একবার গুনিয়াছিলাম কোন বাক্তির বিশ্বাস হইয়াছিল, কোন নির্দিষ্ট দিনে এবং সময়ে তাহার মৃত্যু হইবে। ইহাও সেইরূপ কিছু নয় তো ? আবার মনে হইল, ইহার ভিতর কোন হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্ৰ নাই তো ? হয় তো এই রমণী, প্রথমে তাঁহাতে লিপ্ত থাকিতে সন্মত হইয়া, পরে অমুস্তপ্ত হইয়াছে ; এবং সেই বাক্তিকে রক্ষা করিবার জন্তু, আমার সাহায্যপ্রার্থনা করিয়াছে। কিন্তু সহক্সের এভ নিকটে এরূপ হত্যাকাণ্ড সম্ভব নর মনে হইল। তখন মনে মনে স্থির করিলাম, রমণী নিশ্চয়ই উন্মাদ ! পরদিন প্রভাতে রমণীর গৃহে যাইবার জন্তু গৃহপরিত্যাগ করিলাম। রমণী যে স্থানের কথা বলিয়াছিল, তাহা সহর হইতে প্রায় দুই নাইল দূরে অবস্থিত। আমি সহরের বড় রাস্তা ছাড়িয়া, অপেক্ষাকৃত অপরিসর রাস্ত ধরিয়া চলিলাম। যাইতে যাইতে, মাকে মাঝে ২১টি মুহের ভগ্নাবশেষ দেখিতে ২।৩টি বৃষ্টিজলে পূর্ণ বাধ, ও তৎপাশ্বে ২১টি বৃক্ষ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত রহিয়াছে। স্থানটি প্রায় জনশৃষ্ঠ, কয়েক খানি কুটার ও ৩/৪ খানি ইষ্টকনিৰ্ম্মিত গৃহমাত্র আছে । স্থানটি বড় জঘন্য ; স্থানবাসী সকলেই প্রায় ধরিদ্র ও অধিকাংশই অত্যন্ত সন্দিগ্ধ চরিত্রের লোক। স্থানটির নির্জনতা যেন স্থানবাসীদের পক্ষে বলিল, “কিছু