পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○ケ8 পূৰ্ব্বেই বলিয়ছি, ফুলার সাহেবের মস্তবো তাহার স্বঙ্গ বিবেচনাশক্তির যথেষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি যে এদেশেল প্রকৃত অবস্থাভিজ্ঞ, এদেশে প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতিতে কোথায় কোন দেব আছে তাহা বেশ হৃদয়ঙ্গম করিয়াছেন, ও আমাদের কল্যাণার্থ এই সুদীর্ঘ মন্তব্য লিথিয়াছেন, তাহা বেশ বুঝিতে পারা যায়। বিদেশীর পক্ষে ইংরাজী ভাষাশিক্ষা কিরূপ কষ্টসাধা ব্যাপার তাহা তিনি স্পষ্টরূপে উপলব্ধি কবিয়াছেন ; এফ এ পরীক্ষায় অধিকসংখ্যক বিষয় নিৰ্দ্ধারিত থাকাতে সুশিক্ষাব কিরূপ ব্যাঘাত হয় তাহা তিনি বিশদভাবে বুঝাইয়াছেন; বি এ পরীক্ষায় যুরোপীয় মনোবিজ্ঞানশাঙ্গে অধিকাংশ ছাত্রই বা বৃঞ্চিয় মুখস্থ করিয়া কাজ চালাইয়া লয় তাহাও তিনি বলিতে ছাড়েন নাই, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থার দোষে সহস্ৰ সহস্ৰ ছাত্র মুখস্থং ব্ৰহ্মাস্ত্ৰং প্রয়োগ করিয়া উচ্চ নীচ সকল পরীক্ষায় অবাধে উৰ্ত্তীর্ণ হয় ইহাও তাহার অবিদিত নাই। প্রবেশিকাপরীক্ষার উদ্ভিদবিদ্যাশিক্ষার সপক্ষে তিনি যে সমস্ত বুক্তিতর্ক প্রয়োগ করিয়াছেন,তাহ পাঠ করিয়া আপশেষ হয় যে শিক্ষাব্যবসায়িগণের মধ্যেও অনেকের এরূপ স্বক্ষ বিবেচনা ও দেশের প্রকৃত অবস্থাঞ্জান নাই। যদিও আমর সকল স্থলেই তাহার নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় সায় দিতে পারি না, তথাপি মুক্তকণ্ঠে তাহার সদ্বিবেচনা ও বিচাবশক্তির প্রশংসা না করিয়া থাকিতে পারি না । তবে আজকাল কতকগুলি রাজনৈতিক কারণে এদেশে ইংরেজ ও ভারতবর্ষীয়গণের মধ্যে এমন একটা মনকষাকষি হইয়া পড়িয়াছে যে, ইংরেজ রাজপুরুষগণ আমাদের মঙ্গলের জন্ত সরলভাবে একটা কথা বলিলেও অনেক সময়ে আমাদের অন্তর্নাহ উপস্থিত হয়। গত কন্‌ভোকেশান উপলক্ষে আমাদের চ্যাসেলার মহাশয়ের বক্তৃতার পর হইতে এবিষয়ে আমাদের মনটা নিতান্ত অসহিষ্ণু হইয়া পড়িয়ছে। এরূপ অবস্থায় ভারতবর্ষীয়গণকে অযথা মনঃকষ্ট দিযায় ইচ্ছা না থাকিলে ইংরাজ রাজপুরুষগণের একটু সাববানভার সহিত তারতবর্ষার প্রকৃতি সম্বন্ধুে কথাবার্তা কহ উচিত। ফুলার সাহেবের দুই একটি কথায় এই হিসাবে আপত্তি উঠিতে পারে । (১) মনোবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান এতদুভয়ের মধ্যে প্রবাসী । { ৫ম ভাগ । কোটি ভারতবর্ষায়গণের শিক্ষার পক্ষে উপকারী, এই প্রশ্নের বিচার করিতে গিয়া ফুলার সাহেব বলিয়াছেন যে, ভারতবর্ষায়গণের অগুণষ্টি যেরূপ প্রবল, বহির্দষ্টি সেরূপ নহে ; তাহাদেব প্রকৃতির এই দোষ সংশোধনের জন্ত, বিজ্ঞানের উপর, বিশেষতঃ উদ্ভিদবিজ্ঞানের উপর, বেশী ঝোক দেওয়া দরকার। তারতবর্ষরগণের প্রকৃতি সম্বন্ধে এইরূপ মন্তব্য অনেক দিন হইতেই শুনা যাইতেছে। কথাটা যে আজকালকান ভারতবর্ষীয়দিগের সম্বন্ধে সম্পূর্ণ থাটে, তাঁহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু এই দোষট কি আমাদের প্রকৃতির মজ্জাগত ? - আবহমানকাল হইতেই আছে : প্রাচীন হিন্দুরা অস্ত্রবিদ্যায় ও চিকিৎসাশাস্ত্রে যেরূপ উন্নতিলাভ করিয়াছিলেন, ক্লাৱনশাঙ্গে (observation) *sjos & (experimen) of cool পরিচয় দিয়াছেন, তাহাতে কি এরূপ বোধ হয় না যে প্রাচীনকালে হিন্দুদিগের বহির্দৃষ্টি ধথেষ্ট প্রবল ছিল ? যুরোপের তামসযুগে হিন্দু ও আরবীয়গণ বিজ্ঞানশাস্ত্রে যুরোপের জ্ঞানগুরু ছিলেন, ইহা ত ইতিহাসেট লেখে। অতএব ভারতবর্বরগণের চিরকালই বহির্দৃষ্টির অভাব, এদোষ ইহাদের মজ্জাগত বা বংশপরম্পরাগত একথা বোধ হয় প্রকৃত নহে। সম্ভবতঃ হিন্দুরা জ্ঞানচর্চার ফলে আধাত্মিক জীবনের প্রতি এতই আস্থাবান হইয়া পড়িয়াছিলেন যে বহিজগতের দিকে আর তত মনোযোগ দেন নাই । সেই জন্ত ক্রমে তাহদের বংশধরদিগের বহিদৃষ্টি দুৰ্ব্বল হইয় পড়িবাছে । আবার এমনও হইতে পারে যে হিন্দুরা যখন স্বাধীনতা হারাষ্টয়া কোনও দিকেই মাথা তুলিতে পাইলেন না, স্বাধীনশক্তির প্রয়োগে স্থবেগ ও সুবিধা পাইলেন না, তখন হইতেই ধীরে ধীরে তাহারা বহিজগতের সঙ্গে সম্বন্ধ রহিত করিয়া অন্তজগতের আনন্দরস পানে উন্মুখ হইলেন এবং মায়াবাদ ও বৈরাগ্যের চর্চায় চিত্তশান্তিলাভে প্রদত্বশীল হক্টলেন। তাহার ফলে বহুযুগ ধরিয়া বৈষয়িক উন্নতি প্রভৃতিতে আমাদের অধঃপতন ঘটিয়াছে। এখন অtধার ধীরে ধীরে মতিগতি এইদিকে ফিরান কর্তব্য, সে সম্বন্ধে ফুলার সাহেবের পরামর্শ শিরোধার্যা । কিন্তু ভারতীর প্রকৃতির দোষগ্যাপন না করিয়া আধুনিক ভারতীয় প্রকৃতির উল্লেখ করিলেই অথও সত্য প্রচার করা হইত। ৭ম সংখ্যা । । (২) ফুলার সাহেবের দৃঢ় বিশ্বাস যে মুখস্থবিদ্যা এ দেশে একটা সংক্রমিক ব্যাধি হইয়া দাড়াইয়াছে এবং সৰ্ব্ব প্রকারে এই অনর্থ নিবারণের জন্য তিনি বদ্ধপরিকর। আমরা তাহার মত ও ইচ্ছা সৰ্ব্বাস্তঃকরণে অমুমোদন করি; কিন্তু এই সঙ্গে তাহাকে একথাও স্মরণ করাইয়া দিতে চাহি যে মুখস্থবিদ্যা কেবলমাত্র এদেশের নিজস্ব নহে । একথাটা গত বৎসর বৈশাখেব “প্রবাসীতে ‘ভারতগবর্ণমেণ্টের শিক্ষানীতি’ শীর্ষক প্রবন্ধেবিশদভাবে দেখাইয়াছি। এস্থলে সংক্ষেপে দুইচারিট কথা বলিব। পরীক্ষাদ্বারা গুণবিচারের নিয়ম প্রচলিত থাকিলে মুখস্থবিদ্যা কতক পৰিমাণে অনিবার্য। ফুলার সাহেব যে প্রতিযোগিতা পরীক্ষায় কৃতকাৰ্য্য কষ্টয়া দেশশাসনের গুরুভার পাইয়াছেন, সে পরীক্ষায় এই প্রথার কতটা প্রকোপ আছে তাহা অবগু ফুলাব সাহেবের অগোচর নাই । প্রভূতি কথা বিলাতী, কথা ও প্রপা বিলাত হইতেই এদেশে আমদানী। বিলাতেও এ প্রথার বিরুদ্ধে যথেষ্ট আন্দোলন হয়। পরীক্ষাপ্রণালী এমন ভাবে সংশোধিত হওয়া উচিত যে মুখস্থবিদ্যায় উত্তীর্ণ হওয়া এক প্রকার অসম্ভব হইয়া পড়ে। পক্ষান্তরে, ফুলার সাহেব উৎকট উৎসাহে উত্তেজিত হইরা যে অদ্ভূত ব্যবস্থার প্রবর্তন করিয়াছেন, তাহা আমাদের কাছে বাড়াবাড়ি বলিয়া বোদ হয় । তিনি আসাম প্রদেশের স্কুলসমূহে বাৎসরিক পরীক্ষার পূৰ্ব্বে ছাত্রদিগকে পরীক্ষার জষ্ঠ প্রস্তুত হইবার জন্য ছুটি দেওয়ার নিয়ম রদ করিয়াছেন । এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার অব্যবহিত পুৰ্ব্ব পর্য্যন্ত শিক্ষাদানকার্যা চলা উচিত ও পরীক্ষার পুৰ্ব্বেও ছুটী দেওয়া গহিতকাৰ্য্য এরূপ পরামর্শওদিয়াছেন। কেননা তাহারবিশ্বাস, ছাত্রগণ দুই তিন মাস ছুটিতে পরীক্ষার বিষয়গুলি না বুঝিয়া মুখস্থ কবিয়া ফেলে এবং প্রকৃত শিক্ষা না পাইয়াও অনায়াসে উত্তীর্ণ হয়। পরীক্ষার পূৰ্ব্বে মুখস্থর বিধার জন্যই ছুটি দেওয়া হয় তাহার এইরূপ সংস্কার। আমাদের কিন্তু ধারণ অন্তরূপ। ছাত্রের সমস্ত বৎসর ধরিয়া প্রতিদিন পাঠগৃহে (ক্ল্যাশে ) যে বিষয়গুলিতে শিক্ষালাভ করিল, তাহ রীতিমত কায়দা করিতে হইলে তাহাদের কিছুদিনের জন্ত অপও মনোযোগের আবখ্যক, শিক্ষক মহাশয়ের দৈনন্দিন শিক্ষায় সে মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হইলে বিষয়টি সম্যকৃরূপে আয়ত্ত Cram, coach পুনমূষিক । ©boዕሉ করা যার না, ইহা সকল শিক্ষকই জানেন। যদি সেই অবসরে ছাত্রেরা প্রকৃতরূপে বুঝিবার চেষ্টা না করিয়া মুখস্থ করিয়া সময়ের অসদ্ব্যবহার করে, সেটা পূৰ্ব্বশিক্ষার ও পরীক্ষাপ্রণালীর দোষে ঘটে, চুটি দেওয়ার নিয়ম তাহার জন্ত দায়ী নহে। এরূপ অবসর পাইলে আবার, আমাদের দেশে শিক্ষকের অতিরিক্ত পরিমাণ শিক্ষা দিয়া ছাত্রগণকে আত্মনির্ভরে নিতান্ত অক্ষম করিয়া তুলেন, এরূপ একটা নিন্দাবাদও শুনা যায়। একথা যদি ঠিক হয়, তাহা হইলে ছাত্রদিগকে স্বাধীনভাবে পাঠালোচনার অবসর দেওয়াই প্রকৃত শিক্ষানীতি । তবে যদি ফুলার সাহেব বলেন, ছাত্রেরা অনেক জিনিস তখনকার মত গুছাইরা লয় ও পরীক্ষা সমাধা হইলে সেগুলি ভুলিয়া যায়, তাহাদের প্রকৃত সংস্কার জন্মিতে পায় না, তাহার উত্তরে আমরা বলি যতদিন পরীক্ষাপ্রথা পৃথিবীতে থাকিবে, ততদিন এরূপ ঘটিবেই ঘটবে। ফুলার সাহেবের মত যাহারা প্রতিযোগিতা পরীক্ষায় উৰ্ত্তীর্ণ হইয়া উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত আছেন, এবং পরীক্ষাকালে উপার্জিত বিদ্যার জন্য প্রশংসালাভ করিয়াছিলেন, তাঙ্গারাই কি যখন তখন পরীক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রের যথাযথ উত্তর লিখিতে পারেন ? ফুলার সাহেব একটা অবশুপালনীয় প্রথার অসদ্ব্যবহার আশঙ্কা করিয়া এমন একটা আস্তুত ব্যবস্থা করিতেছেন যাহাতে প্রকৃতরূপে শিক্ষিত ছাত্রেরও বিদ্যার পরিচয় দিতে বিশেধ প্রতিবন্ধক হইবে। আমরা আসাম প্রদেশের স্কুলসমূহের ছাত্রবর্গের দুর্ভাগ্যের কথা ভাবিয়া বড়ই কষ্ট অনুভব করিতেছি। বীর্যন্তরে সংস্কৃতশিক্ষা সম্বন্ধে ফুলার সাহেবের মন্তব্যের বিস্তারিত আলোচনা করিবার ইচ্ছা রহিল। শ্ৰীললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। পুনমুষিক । প্রথম পরিচ্ছেদ । গ্রীষ্মকাল । বারীন্দ্রনাথের সান্ধাভোজন শেষ হইয়। গিয়াছে—আটটা বাজিয়াছে—কিন্তু এখনও লওনে মুস্পষ্ট দিবালোক। জুনমাসে রাত্রি নয়টার পূৰ্ব্বে অন্ধকার হয় না। বারীন্দ্রনাথ বেজুওয়াটারে থাকিত, আইন পড়িত