পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২১১

From উইকিসংকলন
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


రిన8 গল্পের গুঞ্জন ধ্বনি, মুছমুহুঃ হান্ত ও খাম্পেনের কর্ক খুলিবার শব্দ, বাদ্যযন্ত্রধ্বনির সহিত মিলিয়া স্থানটিকে উৎসবময় করিয়া তুলিয়াছে । এদিকে ইহাদের পানাহার ও হাস্তামোদ চলিতে লাগিল, হলের অপর প্রান্তে, ইহাদের অদৃষ্ঠে দুইটি বর্ষায়ুসী মহিলা আসিয়া প্রবেশ করিলেন। ইহঁদের মধ্যে একজন মিস টেম্পল । তাহারা বসিয়া দুই পেয়াল কফি আনিতে হুকুম করলেন । কফি পান করিতে করিতে গল্প করিতে লাগিলেন। মিস টেম্পল তাহার সঙ্গিনীকে বলিলেন--"অদ্যকার এ কনুসার্টে আপনাদের অনাথাশ্রমের জন্য কত টাকা উঠিল ?” অন্ত মহিলাটি বলিলেন–“অনেকগুলি আসনই পূর্ণ হইয়াছিল। বোধ হয় দুই শত গিনির উপরে উঠিয়৷ থাকিবে - “সকল বন্ত্রিগণই বেশ সুন্দর বাজাইয়াছিলেন বিশেষত: ধিনি শোপেয়া ( Chopin ) হইতে কয়েকটি বজাইলেন, তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়াছেন। আবার বড় ভাল লাগিয়াছে।” "আপনি ত আসিতেন না,—আমিইত আপনাকে টানিয়া আনিলাম।” কফি পান করিতে করিতে মিস্ টেম্পল বলিলেন“আমি আপনাদের এ কনসার্টের জন্য টিকিট কিনিয়া রাখিয়াছিলাম বটে, কিন্তু আজ যে ইহা হইবে, তাহ মোটেই আমার স্মরণ ছিল না। আপনি না গেলে আমার আসা হইত না ।” কফি পান শেষ করিয়৷ ইহারা উঠিয় দাড়াইলেন । এমন সময় হলের অপর প্রান্তে মিস টেম্পলের দৃষ্টি পড়িল। কয়েক মুহূৰ্ত্ত বদ্ধদৃষ্টি হইয়া সেই দিকে চাহিয়া থাকিয়, শেষে তিনি পকেট হইতে নিজ চশমাথানি বাহির করিয়া চক্ষে লাগাইলেন। যাহা দেখিলেন, তাহাতে তাহার বাদ্ধক্যরেখাঙ্কিত মুথমণ্ডল, প্রলয়ের আকাশের মত গম্ভীর হইয়। উঠিল। সঙ্গিনীকে বলিলেন—“আমায় এক মিনিটের জন্য ক্ষম করিবেন, আমি আসিতেছি।” বলির, তিনি মৃদু মুছ পদক্ষেপে হলের অপর প্রান্তে প্রবাসী । - - ৫ম ভাগ । গিয়া, বারীদের অত্যন্ত নিকটে দাড়াইলেন। কিন্তু তাহ। নিমেষমাত্রকালের জন্ত । তাহাকে দেখিয়াই, বারীন্দ্র ক্রস্ত হইয়া,দাড়াইয়। বলিল— "Good evening"। তাহার সম্মুখে প্লেটে নিষিদ্ধ খাদ্য, পার্থে ফেণমণ্ডিত তরল স্বর্ণের ন্তায় মদিরা। “Good cvening. Don't let me interrupt you."—বলিয়াই মিস টেম্পল প্রত্যাবৰ্ত্তন করিলেন।

  • 零 * * সেই রাত্রে বারীন্দ্র যখন গৃহে ফিরিল, তাহার পুৰ্ব্বেই মিস টেম্পল শয়ন করিতে গিয়াছেন ।

সমস্ত রাত্রি সে অনিদ্রীয় কাটাইল । পরদিন প্রভাতে, প্রাতরাশের সময় শুনিল, মিস টেম্পল এখনও শয্যাত্যাগ করেন নাই,—তাহার শবার অস্বস্ত । বেলা দুইটা বাজিলে, লাঞ্চ খাইযায় জন্য ভোজন কক্ষে প্রবেশ করিয়া শুনিল, মিস টেম্পল তখনও শয্যাত্যাগ করেন नाँड़े । একাকী নীরবে সে লাঞ্চ খাইল । উঠিবার সময়, দ্বাণী একথানি পত্র আনিয়া বারীদ্রের হাতে দিল। মিস টেম্পলের হস্তাক্ষর । তাহাতে লেখা আছে — “কল রাত্রে যাহা দেখিলাম, তাহাতে মন্মাহত হইয়াছি। তোমার সঙ্গে আমার সুশ্বন্ধ অদ্য হইতে বিচ্ছিন্ন হইল । আমি আর তোমার মুখ দর্শন করিতে ইচ্ছা করি না। মদ্য তুমি এ বাড়ী পরিত্যাগ করিয়া যাইবে । তিন মাসে তোমার যে সময়ের গতি হইয়াছে, ভাহার পূরণ স্বরূপ এই পত্র মধ্যে তোমার এক শত পাউণ্ডের এক থানি চেক দিলাম । এজন টেম্পল ।” জিনিষ পত্র গোছাইয়া, ক্যাব ডাকিয়া, সন্ধার মধ্যে বারীন্দ্ৰ বেজওয়াটারে ফিরিয়া আসিল । ঐ প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। বিদ্যুৎ জিনিসটা কি ? প্রবন্ধ শীর্ষের প্রশ্নটি প্রায় চারিশত বৎসর পূৰ্ব্বে বৈজ্ঞানিকগণকে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল ; কিন্তু এই সুদীর্ঘ কালে র্তাহাদের মধ্যে কেহই উহার সত্ত্বর দিতে পারেন নাই। ৭ম সংখ্যা । ] Tটই প্রাচীনকাল হইতে অস্থাপি শিক্ষিতসাধারণ উৎকর্ণ হষ্টয় উত্তরের প্রতীক্ষা করিতেছে। ফ্রাঙ্কলিন একজন চিন্তাশীল বড় পণ্ডিত ছিখেন । তিনি দেখিলেল,—কাচদণ্ডে রেশমী রুমাল ঘধিলে, কাচ অবস্থবিশেষে লঘু জিনিসকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করে । তা' ছাড়া একগাছি লম্বা তারের একপ্রাস্তে ঐ কাঁচ সংযুক্ত রাধিলে, সেই তারেও আকর্ষণ বিকর্ষণ গুণ উৎপন্ন হয়। তিনি এই সকল ব্যাপারের কারণ অনুসন্ধানে লাগিয়া গেলেন। অমুসন্ধানে ফ্রাঙ্কলিনের মনে হটল রুমাল ঘধিলে সম্ভবতঃ কাচের কতকগুলি অণু বিচ্ছিন্ন হইয়া দ্রুতবেগে চলিতে আরম্ভ করে, এবং ইহাদেরই ধাক্কায় পার্শ্বস্থ লঘু বস্তুতে আকর্ষণ বিকর্ষণের কাজ দেখা যায়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি র্তাহার ভাল লাগিল না। অনেক চিন্তার পর ঠিক হইল,— বিদ্যুৎ নিশ্চয়ই তরল পদার্থের ছায় কোন একটা জিনিস। ইহার ভ্যর নাই এবং বস্তু মাত্রেই ইহা এক নির্দিষ্ট পরিমাণে বর্তমান। এই পরিমাণের সীমা লঙ্ঘন করিয়া কোন বস্তুতে অধিক বিদ্যুৎ সঞ্চিত হইলেই জিনিসটা ধনাত্মকবিদ্যুৎবিশিষ্ট { positively electrified ) on, got coso for বিছাতের পরিমাণ সেই সীমার নিয়ে আসিয়া পড়িলে তাহাতে ঋণাত্মক (Negative) তড়িতের লক্ষণ দেখা যায়। বিদ্যুৎ যখন তরল পদার্থ, তখন জলের মত উচুস্থান 1. হইতে নীচু দিকে ইহার একটা গতি থাক স্বাভাবিক। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক বিদ্যুতের ভিতর ঐ প্রকারের গতি বৈজ্ঞানিকগণেব অপরিচিত ছিল না। কাজেই বিদ্যুৎকে ভারহীন তরল পদার্থ ধরিয়া, ইহার পরিজ্ঞাত সকল ধৰ্ম্মেরই ব্যাখ্যান পাওয়া যাইতে লাগিল। বৈজ্ঞানিকগণ নিশ্চিন্ত হইলেন। ভল্টা কত্ত্বক বিদ্যুৎ-প্রবাহের আবিষ্কার পর্যন্ত, ফ্রাঙ্ক বি লিনের পূৰ্ব্বোক্ত সিদ্ধান্তে কাহারও সন্দেহ হয় নাই। কিন্তু ইহায় পর যখন ফারাডে (Faraday) দেখাইলেন, চুম্বকের সম্মুখে চুম্বক বা বলয়াকার তার ঘুরাইলে, কোথা হইতে ডারে আপনিই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তখন ফ্রাঙ্কলিনের সিদ্ধান্তে সন্দেহ আসিয়া দাড়াইল । তা’র পর আবার লৌহখণ্ডে তার জড়াইয়, তারের ভিতর ধিয়া বিদ্যুৎ চালাইলে যখন বিদ্যুৎ জিনিসটা কি ? రిసెt লৌহের চুম্বকপ্রাপ্তি প্রত্যক্ষ দেখা গেল, তখন ঐ সন্দেছ আরও দৃঢ়মূল হইয় পড়িল। বৈজ্ঞানিক মাত্রেই অবাকু হইয়া ভাবিতে লাগিলেন,—বলয়ে ত বিদ্যুৎ লক্ষণ দেথা যায় না এবং চুম্বকখণ্ডেও বিদ্যুৎ নাই অথচ চৌম্বকক্ষেত্রে বলয় আবৰ্ত্তিত হইতে থাকিলেই বিদ্যুৎ দেখা বাঁয়! এই বিদ্যুৎ কোপা হইতে আসে ? সকলেই কারণাস্তুর আবিষ্কারের আবগুকত বুঝিতে পারিলেন । বৈজ্ঞানিকগণ বুঝিয়াছিলেন, বিদ্যুতের উৎপত্তি সম্বন্ধে যে যাহাই বলুন না কেন, বিদ্যুৎ-চুম্বকের যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধের ব্যাপার ফ্যারাডে আবিষ্কার করিয়াছিলেন, সৰ্ব্বপ্রথমে তাহার একটা মীমাংসার দরকার। এই সময়ে আবার জানা গেল, বিদ্যুৎ ও আলোকের যেগ এক। কাজেই বিদ্যুৎ-চুম্বক ও আলোক এই তিনের মূলে ঐক্য আছে বলিয়া অনেকে অনুমান করিতে লাগিলেন। বিষয়টা জটিল হইয়া দাড়াইল । নিউটন্‌ সাহেব আলোকতন্ধের প্রথম গবেষণায় হস্তক্ষেপ করেন। অসাধারণ কল্পনা ও সুতীক্ষ্ম বুদ্ধিতে তখন কেহই তাহার সমকক্ষ ছিলেন না। বহু গবেষণার পর ইহার মনে হইল,—কোন জিনিসকে আঘাতাদি দ্বারা কম্পিত করাইলে, সেই কম্পন বায়ুতে চালিত হইয় যেমন পন্ধের উৎপত্তি করে, আলোকও বোধ হয় সেইপ্রকারে উৎপন্ন হয়। আরো মনে হইল, দহমান পদার্থ হইতে বহির্গত অতি সুক্ষ অতীন্দ্রিয় অণুর প্রবাহও আলোকোৎপত্তির কারণ হইতে পারে। শেষ কথাটাই নিউটনের মনে লাগিল । তিনি ঐ অতীন্দ্রিয় ক্ষুদ্র অণুগুলিকে করপস্কলুস (corpuscles) নাম দিয়া প্রচার করিলেন,–উজ্জ্বল পদার্থ মাত্রই স্বীয় দেহের অতি সূক্ষ্ম স্থঙ্ক অংশ অণুপ্রবাহাকারে চারিদিকে ছাড়িতে থাকে এবং এই প্রবাহেয় ধাক্কা খাইয়াই চক্ষু দৃষ্টিশক্তি লাভ কয়ে । আলোক অণুপ্রবাহ ব্যতীত আর কিছুই নয়। নিউটনের এই মতবাদ প্রতিষ্ঠালাভ করিয়াছিল বটে, , কিন্তু তাহ অধিক কাল স্থায়ী হর নাই। গত শতাব্দীর প্রথমেই ইয়ঞ্জ ও ফ্রেজনেল প্রমুখ বৈজ্ঞানিকগণ, ব্ৰহ্মাওব্যাপী ঈথর নামক এক অতীন্দ্রিয় লঘুতম পদার্থের অস্তিত্ব মানিয়া ইয়া আলোকসম্বন্ধীর টিনাটি সকলখু _