পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২১৫

From উইকিসংকলন
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 o o - হইতেছেন, ইহা ভাল। আমার ইচ্ছা ঐন্ধপভাবে ইংরাজী বিদ্যা শিথিয়া সকলে ব্যবসায়ী হউন । আমি তোমাদিগকে IR. A. পাস করা দোকানদার করিব” । “তবে আমাদের কাজ দিউন” বলিয়া ভূতনাথ বাব এবং রাসবিহাৰী বাবু মামাকে ধরিয়া বসেন। দয়ারসাগর মাতুল উহাদের রামগোপাল পালের নিকট বইতে আদেশ করেন এবং বলেন, “তোমরাত কোন কাজ স্থান না, স্বামগোপাল পাটের কাজ জানেন, উল্টাড়িঙ্গির স্ববিখ্যাত মহাজন স্বৰ্গীয় হরিশ্চন্দ দত্তের সহিত গত বৎসর রামগোপাল বাৰু মাসিক ১০০২ বেতনে পাটের কাজ করিয়া প্রায় সওয়া লক্ষ টাকা লাভ কলিয়াছিলেন । হরিশ বাৰু যপন একাজে নামেন, তখন তিনি বলেন, রামগোপাল, তুমি এখন মাসে একশত টাকা বেতনে থাক, যদি লাভ করাইতে পার, তোমাকে অংশ দিব । এখন লাভ হইয়াছে। তিনি রামগোপালকে অংশ দেন নাই বলিয়া, রামগোপাল মনের দুঃখে বাড়ী বসিয়া আছে। এই সুযোগে তোমরা গিয়া তাহাকে কলাই ধরিয়া আমার নিকট আন। আমি পাটের কাজের অবস্থাট বুঝিব।” ইষ্ঠার ৮ রামগোপাল বাবুকে পরদিনই মাতুলের নিকট উপস্থিত করিলেন। রামগোপাল বাবুর সহিত হরিশ বাবুর যনান্তর হইতেছিল। হরিশ বাবুর গোষ্ঠ বৃহৎ , তাহাদের মতামত বৃহৎ ; অতএব আমাদের বংশে অন্ত কাহাকেও অংশীদার করা অভিপ্রেত নহে, আপনি বরং বেতন অধিক লইয়া কাজ করুন, এইরূপ ভাবে হলিশ বাবু, রামগোপাল বাবুকে পত্রও দিয়াছিলেন। অতএব রামগোপাল বাবু স্পষ্টধর বাবুকে পাটের কাজের জন্য প্রবল উৎসাহ দিলেন, এবং পরদিন হইতে ক্রমাগত তিনি স্ব-ইচ্ছার স্বষ্টিধর বাবুর নিকট যাতায়াত আরম্ভ করিলেন। স্মৃষ্টিধর র্কোচ মহাশয় খুব বিজ্ঞ ধনী ছিলেন, এবং এদেশ ভাল ব্যবসায়ী মাত্রেরই এই সংস্কার যে, যে কোন কাজ করিয়া উই উঠাইয়া দিলেই উহার পদারের ক্ষতি হয়। বাস্তবক এ সংস্কারের মূলে সত্য নিহিত আছে। "অমুকেব বিয়া কলিয়াছে, নচেৎ সে একাজ তুলিয়া দিল কেন” - এই বদনাম বাজারে প্রকাশ হইলে, তাহার ঋণ পাওয়া ছদ্ধর হয়। তিনি যত বড় ব্যবসায়ী হউন, অপরের নিকট প্রায় প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । -- কল্প লষ্টতেই হয়। স্বষ্টিধয় বাবু সাত পাচ ভাবিয়া প - বামগোপাল বাবুকে কহিলেন, “হরিশ বাবু যদি বলেন, তবে আমি পাটের কাজ করব । রামগোপাল বাবু অনিচ্ছাসত্ত্বেও হরিশ বাবুর নিকট গিয়া এই সকল কণ৷ বললেন। সদাশয় হরিশ বাবুও সরগমনে সৃষ্টিধর বাবুকে পাটের কাজ করিতে উপদেশ দিলেন। কেবল উপদেশ নহে, ইনি নিজের কাজ ধাচাইর স্বহস্তে ভূতনাথ ঘাৰু এবং রাসবিহাৰী বাবুকে পাটের কাজে অভ্যাস কয়াইতে লাগিলেন । ইহার ফলে, ১২৮৯ সালে “চেল এণ্ড পাল" নামে স্মৃষ্টিদর বাবু পাটের কাজ আরম্ভ কবিলেন । ফ্রিস্তি কাগজে প্রকাশ রহিল, “চেল” অর্থাৎ রাসবিহার চেল এবং "পাল" অর্থাৎ ভূতনাথ পাল এবং রামগোপাল বাৰু বহিলেন। রামগোপাল দ্বাবুও খাটুরার পাল বংশের স্বসন্তান। ইনিও স্বায় প্রতিভায় অনেক বড় বড় কাজ করিয়া আসিয়াছেন ; প্রতিভা খুলিলেও ইহার অদৃষ্ট খুলে নাই। ১২৮৯ সালে ভূতনাথ আৰু কৰ্ম্মক্ষেত্রে প্রবেণ করিলে, সেই সঙ্গে আর একজনও প্রবেশ করলেন রাসবিহারী বাৰু! উভয়ের এক বিদ্য, এক কৰ্ম্মক্ষেত্র, উভয়ে এক অংশীদার। তবু ইহার ভিতর হইতে ভূতনাথের দীপ্তি চুটিয়া চলিল। বে বালক বিদ্যালয় হইতেই সকল বালকের উপরে নম্বর রাখিয়াছে, যে প্রতিভায় তিনি প্রত্যেক পাসের পর বৃত্তি পাইয়াছেন, সে স্বভাবের সঙ্গে রাসবিহাণী বাবুর স্বভাব মিলিবে কেন ? ভূতনাথ সকলের হাতের কাজ কাড়িয়া লইয়া সব সে একা করিবে, এই ইচ্ছা প্রকাশ করল। রাসবিহারী বাবুকে আপিসের শীতল ছায়ায় টানাপাথার বাতাসে বসাইয়। রাখিয়া, নিজে রৌদ্রে রৌদ্রে ঘুরিয়া সব কাজ তিনি করিতেন। প্রাতে উঠিয়া হাটখোলা পাট ক্রয় করা, দশটার সময় আহার করিয়া আপিশে গিয়া তাহা বিক্রয় করা এবং সন্ধার পর বাড়ী আসিয়া উহার জমখরচ করা, এই সব কাজ ভূতনাথের একচেটিয়া হইলা-৮ রাসবিহাৰী বাৰু নে পশ্চাতে পড়িলেন, হায় দৌড়ের নিকট পরাস্ত হইলেন, তাছা তিনি বোধ হয় শেষে বুঝিয়াছিলেন। কিন্তু এত পরিশ্রম করিয়া ও ভূতনাগ যশস্বী হঠলেন না, প্রতিবৎসর একাজে ক্ষতি হইতে লাগিল। মাতুল অতুল সম্পত্তিশালী, তাই ক্ষতি দিয়াও কাজ রাখিয়া { ৭ম সংখ্যা । ] -- ছিলেন। আশা ছিল, এ বৎসরে হইল না, আগামী বৎসর লাভ হইবে । আগামী বৎসরেও ক্ষতি হইল, আচ্ছা কর, এই বার হইবে ; এই আশায় তাশায় সাত বৎসর ক্ষতি হইল। ১২৯৫ সালে দেখা চইল, এই সাত বৎসরে পাটের কাজে প্রায় লক্ষ টাকা ক্ষতি হইয়াছে। ৬ রামগোপাল পাল এখনও ছিলেন। ভূতনাথ বাৰু এই বীর বলিলেন, আমি আর কাজ করিব না । আমরা গরীব লোক, লাভ হইলে থাইতে পারি, কিন্তু ক্ষতি হুইলে কোথা হইতে এত টাকা দিব।” স্মৃষ্টিধর বাবু বলিলেন, “এই সাত বৎসরে তোমাদের পাটের কাজ শিক্ষার খরচ লক্ষ টাকা হইল। ইহা আমি মনে ভাবিতেছি, যে, যে বিদ্যা শিক্ষা করিতে লক্ষ টাকা ব্যয় হয়, সে বিদ্যায় নিশ্চিত তদপেক্ষ আরও বেশী অ্যয় হইবে । তোমাদের আর একটা কথা বলি ; যাহারা ইহা মনে করিয়া কাজ করে যে, হয় একশত টাকা পাইব, না হয় একশত টাকা ক্ষতি দিব, তাহদের জীবন ঠিক ঐ ১০০ টাকার মধ্যে থাকিয়া যায়, ইহারা মুদীখানার বাবসায়ী । আর এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর বলেন, হয় হাজার টাকা পাইব, ন৷ হয় হাজার টাকা দিব, ইহানের জীবন হাজার টাকার মধ্যে থাকিয়া যায়। তোমরা এই শ্রেণীর মহাজন। সাত যৎসর কাজ করিয়া ক্রমে ক্রমে তোমাদের লক্ষ টাকা ক্ষতি হইয়াছে : এই বার তোমরা উহ্য অপেক্ষ বড় কাজ কর । মনে সংকল্প কল্প, ছয় লক্ষ টাকা পাইব, ন হয় লক্ষ টাকা ক্ষতি দিব। কোমর বাধ! প্রবল ঘর্ভাবনা মস্তিষ্কের ভিতর প্রবেশ করা ৪। বড়লোক সহজে হওয়া যায় না, লক্ষ ভাবন ভাব ! লক্ষ লইয়া থেলা কর, লক্ষ লাভ হইবে , হতাশ হইও না, এখনও আমি তোমাদের পশ্চাতে রহিয়াছি। আমার মানসম তোমাদের পশ্চাতে রছিয়াছে। লক্ষ লক্ষ টাকাকে দুষ্ট চারি টাকা বোদে খটুঠতে থাক। তোমাদের স্বভাব অতি স্বলয় দেখিয়া আমি একথা বলিতেছি। মদ্য, বেশ্ব প্রভৃতি অনাচার তোমাদের ভিতর নাই, অতএব তগবান কেন তোমাদের অর্থ দিবেন না ? তাহার নিকট দিবারাত্রি কেবল কৰ্ম্ম ও অর্থ চাও, নিশ্চিত তিনি তাহা দিবেন।” এই সকল উপদেশ এবং উৎসাহ পাইয়াও ভূতনাথ বাবু বলিলেন, “আমি আর স্বৰ্গীয় ভূতনাথ পাল । - 8w > -- পাটের কাজ করিব সা। বা বলিয়াছেন, “রামগোপাল বাবুর অদৃষ্ট ভাল নয়, উহাবের অনেক বিবর ছিল, কিন্তু উহাদের অদৃষ্টক্রমে তাহা নাই। তোমাদের অদৃষ্ট অনেক পয়সা আছে ; আছে কিম আছে, তাহ জানিতে পারিতেছি মা—ঐ রামগোপাগের জষ্ঠ ! উনি থাকূলে তুই আর । কাজ করিসূ নে’ ?” ভূতনাথ বাবু ইংরাজী বিদ্যায় সাহেব হইলেও তিনি ঘোর অদৃষ্টবাদী ছিলেন। ব্যবসায়ী-বীর স্বষ্টিধর বাৰু কিছুতেই ভূতনাথের সন হইতে এই কথা দূর করিতে পারেন নাই। ভূতনাথের “গে” বড় সৰ্ব্বনাশের ছিল, শেষজীবন পর্যন্ত আমরা এই স্বভাব তাহাতে দেখিয়াছি। "গোয়ে” সময়ে সময়ে খুব উপকারs হইয়াছে, আবার সময়ে সমরে যথেষ্ট অপকারও ইয়াছে। অগত্য সৃষ্টিধর বাবু রামগোপাল পালকে সরাইলেন। রামগোপাল একেবারে অংশচু্যত হইয় গেলেন, কি থাকিলেন, তাছাও এখন অপ্রকাশ রছিল, কিন্তু রাসবিহার বাবুর অংশ রছিল । এইবার ভূতনাথ বাবু অতি বড়ে, খুব সন্তৰ্পণে থরচ কমাইয়া, কাজ করিতে লাগিলেন ; এমন কি এই বৎসর । ইনি পাট পাট করিয়া সহর-ছাড়া হইয়া শিলিগুড়ি হইতে ১২ ক্রোশ দূরে কালিয়াগপ্প নামক স্থানে পাটের মোকাম খুলিয়া নিজে তথায় থিয়া বাস করিলেন। মোকামে গোমস্ত হইলেন। তথা হইতে কেবল পত্র দ্বারা কলিকাতার আফিসের কাজ চালাইতে লাগিলেন। এই কঠিন পরিশ্রমে ভূতনাথ তথায় মরণাপন্ন রোগাক্রাস্ত হইয়া শয্যাগত হইলেন, কিন্তু রোগের সংবাদ কলিকাতায় দ্বিলেন না। পত্রাদি আন বন্ধ হইল দেখিয়া স্থাষ্টধর বাবু তথার লোক পাঠাইলেন। সেই লোক গিয়া ভূতনাথ মাধুর কঠিল য়োগের সংবাদ দিল। র্যর ধলপথ সিং বাহাদুর তথাকার জমাদার ছিলেন, তাহার তথনকার নারেব ছিলেন শ্ৰীযুক্ত বাৰু গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায় মহাশয় । ইহার সেবা-সুশ্রুষায় সে বাত্র ভূতনাথ বাবু জীবনপ্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কৃতঞ্জতার চিহ্নস্বরূপ শেষ জীবন পর্যন্ত গোপাল বাবুর সহিত ইহার অভিন্ন আস্থা ছিল। গোপাল বাবু৪ সায়েৰী কৰ্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া বহুদিন পর্যন্ত ইহার সহিত পাটের কাজ কলিয়াছিলেন। এখন পুনরায় নায়েবী করিতেছেন। যাহা