পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


. 8o之 হউক, এই বৎসর ভূতনাথ বাবু পাটের কাজে ৯৫ সহস্ৰ টাকা লাভ করেন। মাতুলের ঋণ লক্ষ টাকা ক্ষতির মধ্যে এই এক ষৎসরে ইনি ৯৫ সহস্র টাকা শোধ দেন । ইহা ১২৯৬ সালের কথা । এষ্ট বৎসর হইতে ভূতনাথ আৰু ব্যবসায়কার্যো পা'য়ের উপর ভর দিয়া দাড়াইলেন । ১২৯৭ সালের প্রারম্ভে স্বষ্টিদর বাবুর সহিত ভূতনাথ বাবুর এই বন্দোবস্ত হইল যে, পাটের কাজে লাভ তিন অংশ হইবে,–এক অংশ স্পষ্টধর বাৰু, এক অংশ ভূতনাথ বাবু এবং অপর অংশ রাসবিহায় বাৰু পাইবেন : ইহা ভিন্ন দশ হাজার টাকা লাভেয় উপর ভূতনাথ বাৰু কমি শন স্বরূপ হাজার টাকা পাইবেন। এ বৎসরও ভূতনাথ বাবু খুব জোরে কার্য চালাইলেন। ভাগ্যলক্ষ্মী ভূতনাথের উপর বড়ই সদয় । এই বৎসর মাতুলের পূর্ক্সের ক্ষতি যাহা ছিল, তাহার সমুদয় উঠিয়া গেল, এমনকি ভূতনাথ বাবু উহার বাজি পৰ্য্যন্ত সমুদয় শোধ দিয়া লাভ করিলেন ৬৪॥হাজার টাকা : এই ৬৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৪২ হাজার টাকা তহবিলে মজুত এবং ২২. হাজার টাকার বিল ছিল। ৪১ হাজার টাকা তিন অংশ হইলে ভূতনাথ বাবু পাইলেন ১৪ হাজার, এবং কমিশন ১০ হাজালে ১ হাজার হিসাবে ৪• হাজার টাকা লাভের কমিশন পাইলেন ৪ হাজার, ভূতনাথ বাবু মোট ১৮ হাজার টাকা পাইলেন । আর ১২৫০০ টাকার বিল আদায় হইলে অংশ হইবে বলিয়৷ তাহা ক্যাশে রহিল। এই বৎসর ভূতনাথ বাবুর এক সহোদর কোন কারণ বশত: মাতুল সংসার পরিত্যাগ করিয়া স্বতন্ত্র হইয় পড়েন। ভূতনাথ বাৰু দেখিলেন, এক ভ্রাতা সরিয়া দাড়াইল, তখন ষ্টহীদের ভায়ে ভায়ে অভিন্ন মিলন— এক আত্মা ছিল। থোপের একটা পায়লা উড়িল দেখিয়া আর একটাও উড়িল! ইহাকেই কি সহানুভূতি বলে? যাই। হউক, ভূতনাথ বাবু ঐ ১৮ হাজার টাকা লইয়া ভ্রাতার সহিত মিলিত হয়েন, এবং উভয়েই মাতুলেয় সহিত কাজের সংস্রব এই বৎসর হইতে পরিত্যাগ করেন। ২২ হাজার ৫ শত টাকার যে বিল ছিল, তাহ পরে আদায় করিয়া অংশ করা হইল । ভূতনাথ বাৰু ১২৯৮ সালে উক্ত ১৮ হাজার টাকা মুলধন লইয়া নিজে পাটের কাজ আরম্ভ করিলেন। ভূতনাথ বাবুর প্রবাসী । ৫ম ভাগ । ভাগালক্ষ্মী আবার বিপক্ষে দাড়াইলেন। কাৰ্য্যে হবিধ হইল না, মূলধন নষ্ট হইয় গেল, হতাশ হইয়া পড়িলেন। ম্যতার নিকট টাকা ছিল, তিনিও এ সময় অর্থসাহায্য করিলেন এবং ভ্রাতারাও ভূতনাথ বাবুকে এ সময়ে যথেষ্ট অর্থ সাহায্য এবংউৎসাহ দিয়া পুনরায় পাটের কাজে নামাইলেন। বোধ হয়, এই সময় বাবু গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায় মহাশয়ও কিছু অর্থ সাহায্য করিয়া ইহার সহিত পাটের কাজে যোগ দিয়াছিলেন । তিন চার বৎসর পরে ভূতনাথ বাবুর অদৃষ্ট পুনরায় প্রসর হইল। ভূতনাথ বাবু নিজেই বলতেন, “আমার অসময়ে যে যাহা দিয়াছিল, তাহার অনেক বেশ সকলেই লইয়াছেন ; কিন্তু মার ঋণ শোধ হয় নাই, তাহ এ জন্মে শোধ হইবে t” তৎপরে ইনি নিজে অনেকগুলি পাটের মোকাম করিয়া ছিলেন। স্বকৃত উপরে বেলার হইয়াছিলেন । ডাওঁতে বৎসর বৎসর ৭৫৮৪ হাজার টাকা কমিশন দিয়া তিনি নিজে এখান হুইতে পাটের বেল পাঠাইল্প বিক্রয় করিতেন । কলকাতায় পাটের বেল ধরিধ-বিক্রয় করিতেন। রামকৃষ্ণপুরে তাহার চাউলের সুবৃহৎ কল, লঞ্চ, বোট, ভড় ছিল। তিনি কটক, বালেশ্বর, গঞ্জাম বহরমপুর, গেsখাল, নিলফামার, শিলিগুড়ি, ফরিদপুর প্রভৃতি স্থানে মোকাম খুলিয়ছিলেন। প্রায় হাজার লোক প্রতিপালন করিতেন। এমন জিনিব নাই যে, ভূতনাথ বাৰু ইদানিং তাহার ব্যবসায় কয়েন নাই। অল্প দিতে কাতর ছিলেন না। প্রতিবৎসর ইহার সংসার খরচ হইত ৭২ হইতে ৭৫ হাজার টাকা। কলম্বে, মরিশসূ, মেটাল এবং ডাণ্ডিতে বাঙ্গালীর ছেলে পাঠাইয়া ঐ সকল স্থানে দোকান ঘুলিবেন, উদ্যোগ করিতেছিলেন, কয়েকট ছাত্রকে নিজের আপিশে রাখিয় তাহদের তৈয়ারা ফুরিতেছিলেন । ~ عبر কয়েকটি লোক মাত্র ইহার সংসার। ইনি কাৰ্য্যের লাভলোকসাল সহ করিতে আদর্শ ছিলেন,~ কোন বৎসর ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি ইহাতে অধৈযা নাই আবার পর বৎসর হয় ত ৮০ হাজার টাকা লাভ ইহাতেওঁ বিশেষ আনন্দ নাই। গত বৎসর ইনি বোরার কাজে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতি দিয়াছিলেল। টাকা উপার ঋরিতে এবং ব্যয় করিতে অদ্বিতীয় ছিলেন। ৭ম সংখ্যা । ] নৈতিক জীবন। বাল্যজীবনে ধৰ্ম্মের স্তর বাঙ্গ পড়িতেছিল, যদিও তাঁহা দৃঢ় এবং স্থল হয় নাই, কিন্তু ইহার ভিতরে সেই ভাবসৰ্ব্বদাই পরিস্ফুট দেখা গিয়াছে। ধৰ্ম্মের সঙ্গে ইহার জীবনীর সংস্রব অতি অল্প। কৰ্ম্মষ্ট ইস্থার জীবনের মূলমন্ত্র, এই জীবনটাই কৰ্ম্মজীবনী, দৰ্ম্মঞ্জীবনী নহে । কৰ্ম্মের উপদেশ ইহার নিকট শুনিতে বড়ই মধুর লাগিত। ধৰ্ম্মোপদেশ দিতেন কিন্তু তাহাতে সামঞ্জস্ত ভাব ছিল না। নিজে কখন মিথ্যা কথা বলেন নাই। ইহার শত শত দৃষ্টান্ত এবং বহু পরীক্ষার কথা আমরা জানি। কখন ধুমপান বা থিয়েটর, যাত্রা কিংবা নাচ তামাসা দেখা এ ষ্ট্ৰীবনের ভিতর ছিল না। বাড়ীতে বাস্কোপ হইতেছেইনি আপিস হইতে আসিয়া তখন উপরে নিদ্রা যাইতেছেন। কখন দুর্গাপূজা, কালীপূজা ইত্যাদি করেন নাই। ইনি বলিতেন "আমি জান্ত ঠাকুরের পূজা করি।” দরিদ্রেরা ইহার নিকট জ্যান্ত ঠাকুর ছিলেন। ইহার ফটো দিলাম । গত বৎসর আমরা ইহা এক প্রকার “জোরজবরদস্তা" করিয়া তুলিয়া ছিলাম। উক্ত ফটােয়ইহার পার্থে যে ছেলেট দেখিতেছেন, ঐটা ইহার জ্যেষ্ঠ পুত্র, উহাপেক্ষ আর একটি ছোট ছেলে আছে, স্ত্রী-বর্তমান। এই কিন্তু এই সংসারে প্রতি মাস ১১ মূল চাউল খরচ হইত। দুই বেলা শত শত অন্যান্ত লোকেরা আসিয়া ইহার বাড়ী আহার করিতেন । নিয়ম ছিল, নিজেও যাহা খাইবেন, অভ্যাগত এবং অতিথি আসিলেও সেও তাছাই পাইবে । ইনি যে পাড়ায় ছিলেন, সে পাড়ায় দরিদ্র কেহই ছিল না । পাড়ার লোকের কাজ না থাকিলে, নিজে চাকুর দিতেন। "কামাই” করিলে ভ্যানক রাগ করিতেন। কাজে কামাই করিলে, তাহার উন্নতিপথ রুদ্ধ হয়, ইহা সৰ্ব্বদা বলিতেন। নিজে জর গায়ে অপিস যাইতেন । শয্যাগত না হইলে ইনি আপিস খাওয়া বন্ধ করেন নাই। ইহার ৪খানি গাড়ী এটী ঘোড়া ছিল। নিজের একপানি গাড়া ১টা ঘোড়াতেই যথেষ্ট হইত। পাড়ার লোকের দরকারে এবং গোমস্তাদের দ্বীয় ঐ সকল গাড়ী ঘোড়া ব্যবহৃত হইত। ষ্টনি অনেক লোকের নিকট টাকা পাটতেন, কিন্তু জীবনে কখনও কাহারও নামে আদালতে মালিশ করেন নাই । হাইকোট ভিন্ন অন্যান্ত আদালতের স্বগীয় ভূতনাথ পাল । বিচারকে ইনি “কাঞ্জীর” বিচার - বলিতেন । নিজে কথন মোকৰ্দ্দাম করেন নাই বটে, কিন্তু দুৰ্ব্বলের পক্ষে টাকার সাহায্য করিয়া বলিতেন, "লড় ; অন্যায় ক’রে তোর বিষয় লইবে কেন ?” এই সংসার-দরিদ্র ছাত্রদের জ্বল্প অবরিত দ্বার ছিল । শয়ন এবং পাঠগৃহ, ভোজন এবং স্থলের ব্যয় দিয়া ইনি ছাত্রদিগকে যত্ন করিয়া রাখতেন। বি, এ, পৰ্য্যস্ত পাঠ-বায় দিতেন। বিলাসিতা ইহার আদেী ছিল না, কখনও এসেন্স আপেল নাই। চুল ফেরান ছেলে দেখিলে তিরস্কার করিতেন। জাতি মালিডেন না। “বাঙ্গালী" এক জাত এই ধারণাই ছিল। অমুককে “এক ঘরে” করিয়াছে, বলিলে ইনি তাহার বাট বিনা নিমন্ত্রণে গিয়া অন্নাহার করিতেন। পাল গোষ্ঠী বুহৎ ঘলিয়া, অস্তে কথা কহিতে পারিত না । ১৩০৯ সাল হইতে"তাগুলি সমাজ” করেন । এই সভা হইতে একপানি মাসিক পত্র প্রকাশিত হয় । অস্থাপিও সে পত্র জীবিত আছে। উক্ত পত্রের সম্পাদক ইনি ছিলেন এবং উক্ত সভারও সম্পাদক ছিলেন। সভা হইতে দরিদ্রদিগকে ৫০ ৷ টাকা মাসিক ধান করিতেন। ৮০ হাজার নিদ্রিত তাঙ্গুলিকে ইনি জাগ্ৰত করিয়া গিয়াছেন। ৮• গঙ্গার তালি ১৬১৮ থাকে বিভক্ত ছিল -থাক গুলি ভাঙ্গিয়া দিয়া গিয়াছেন । এখন, সকল “থাকেই” বিবাহ ও ভোজ্য-ভোজন চলিতেছে। কাজের লোক, যাহা বলে, তাই কবে। তাঙ্গুলিদের দল, হুগলী, বদ্ধমান হষ্টতে কটক পর্য্যন্ত বিস্তৃত। ইনি সভা হইতে ২৫৩৬ জন সভা লইয়া তাহীদের পাথেয় ইত্যাদি ব্যয় নিজে বহন করিয়া, স্থানে স্থানে গিয়া সভ কর, বক্ততা দেওয়া, চাদ তুলা, ইত্যাদি সভার কাজ গুলি করিতেন। পূজার বন্ধাদিতে এই সব কাজ হইত। থাকে থাকে বিবাহ দিতেও ইনি হয়ত বর পক্ষে থাকিয়া, নস্কৃত কন্যা পক্ষে গিয়া নিজ বায়ে অনেক গহনা ইত্যাদিও দিয়াছেন। বহু দুঃখী স্বজাতির কাজ করিয়া দিয়াছেন। উড়ে তাস্থলি হইতে ঢাকার বাঙ্গল তাঙ্গুলি পৰ্য্যন্ত একাকার করিয়া গিয়াছেন। এই কাজেও রীতিমত অর্থব্যয় করিয়া গিয়াছেন এজন্ত তাঙ্গুলি জাতিয় নিকট ইনি বহুদিন পর্যন্ত জীবিত থাকিবেন। ইনিই প্রকৃত পক্ষে এক মাত্র তাম্বুল সমাজের নেতা ছিলেন। এখন ইহার অভাবে তাঙ্গুলি সমাজের মাসিক দান বন্ধ হইতে চলিয়াছে। ভূতনাথ পালের অপেক্ষ তাঙ্গুলি জাতির ভিতর 89 ని - - - -