পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- ৪০৬ - - - - অনেক বিদ্যাজীবী অপেক্ষ অনেক কলাঞ্জাবী সন্মানের সহিত অধিক অর্থোপাৰ্জ্জন করিতেছেন । ইহা দেশের মঙ্গলেন্থ পক্ষে অকিঞ্চিৎকর লহে । একটা চলিত কথায় চাকরির আকর্ষণের অর্থ পাওয়া যায়। যেমন তেমন চাকরি ঘরে বয়ে ধি-ভাত, অর্থাৎ চাকরির আয় নিশ্চিত। ইহার আরও এক অর্থ আছে। আমাদের চক্ষুর সন্মুখে ধাহা না পড়ে, তাহাকে আমরা অপ্ৰব বলিয়া যানি ; যে পণে পিতামহগণ চলিয়াছিলেন, আমর ঠিক সেই পথে চলতে ব্যস্ত। কিন্তু ভুলিয়াছি, তাহার যে কালে ছিলেন, সে কালে আমরা নাই। কালের গতি অব্যাহত আছে ; আমরা এতদিন দেথিয়াও দেখি নাই। মানুষ পুরাতনের পক্ষপাতী। যেহেতু নুশুনের দিকে চাষ্টিতে গেলে চিন্তা আবশ্বক, কষ্টও সম্ভাব্য। কিন্তু চিন্তা করি না করি, কালের ধৰ্ম্ম দেখি না দেখি, কালে বাহ ঘটায়, তাঙ্গ ঘটবেই। সেই কালের ধৰ্ম্ম আমরা কিছু কিছু বুঝিতেছি । নিজের দুরবস্থা হৃদয়ঙ্গম করিলে সে অবস্থার পরিবর্তন করিবার চেষ্টা হয়। ন বুঝিলে পরিবর্তন করিতে ভয় হয়, ধ্রুবাণি অধ্রুবাণি রূপে প্রতীয়মান হয়। যখন কোন সামাজিক ব্য দৈশিক পরিবর্তন দ্রুত বা অল্পকালে ঘটে, তখন তাহার অতীত ও বর্তমান দেখিয়া পরিবর্তনের কারণ নির্ণয় করা সহজ হয়। কিন্তু বহুকালে অল্পে অল্পে পরিবর্তন হইলে তাহার একঙ্গিমাত্র আমাদের প্রত্যঙ্গীভূত হয়। আমরা একাঙ্গ ধরিয়া সমগ্র পরিবর্তন বুঝিতে পারে না । প্রকৃতির নিয়মই এই, কোন জাতির পরিবর্তন হঠাৎ হয় না, অল্পে অল্পে বহুকালে হয় । বল্পকালে তাহীর অতীত ও বর্তমাম অবস্থার মধ্যে এত প্রভেদ আসিয়া পড়ে যে, নিরুপায় হইয়া বলতে হয়, কারণ শ দূষ্ট। যেহেতু জাতীয় অবনতি বা উন্নতির কারণ একটি নহে, বহু । ཝ༔ কারণ পরম্পরাল ক্রিয় প্রতিক্রিয়াল ফল জটিল হইয় উঠে। এক অতি তুচ্ছ যৎসামান্ত কারণে তুচ্ছ ধংসামান্ত ফল ঘটে ; কিন্তু সেই ফলে অন্ত ফলের উদ্ভব হয়। এইরূপে যে সকল কারণের কোন ফল পুকে প্রতাক্ষ যোগ থাকে না, শেষে সেই সকল কাবণ যেন একত্র হইয়া জাতীয় বা সামাজিক দেহে এক বিশাল পরিবর্তন সমুৎপাদন করে। আমরা প্রবাসী । - - [ ৫ম ভাগ । - বুঝিতেছি, আমদগকে সকল বিষয়েই উয়াতর বার্গ অনুসন্ধান করিতে হইবে । কথন কখন কেহ কেহ চাকরির উমেদারকে ব্যবসায় করিতে উপদেশ দিয়া থাকেন। কেহ বা দাসত্বজনিত সম্মানকে ঘৃণা করিয়া ওকালতির পথে অগ্রসর হইয় থাকেন। এইরূপ লক্ষণ দ্বার বুঝ বাইতেছে বে, যে মোহে জাতীয় জীবন আচ্ছন্ন ছিল, তাহার কিঞ্চিৎ ক্ষয় পাইতেছে। বাণিজ্যে লক্ষ্মী -এই পুরাতন সত্যকথার সমাদর দেখ যাইতেছে। সঙ্গে সঙ্গে অনেকে বুঝিতেছেন, ব্যবসায়ে নিজের অথোপাৰ্জ্জন হইতে পারে বটে; কিন্তু তস্থার দেশেয় উপকার ন হইতেও পারে। আমরা কি চাই, তাহা ভাবির স্কিপ করা আবশ্বক স্থির হইলে তাহ পাইবার নিমিত্ত ব্যাকুলত আবখক। হাতে টাকা না থাকিলে আময় কি করি? অন্তে নিকট ধার করি, কল করি, লা পাইলে শেবে চুরিও করি। সেইরূপ, আমরা যাং চাই, যেমন করিয়া হউক, তাহ পাষ্টতেই হইবে। এই একাগ্রত চাই, দৃঢ়সংকল্প চাই। কিন্তু কেবল আমি চাই, তুমি চাও বলিয়া চীৎকার করিলে ফললাভ হইবে না। আমার তোমার ঘরের কথা নহে, দেশের কথা। দেশ শুদ্ধ সকলকে বলিতে হইবে, আমরা চাই। যতদিন ভারতবাসী একাগমনে বলতে না শিখিবে, আমবা চাই তত দিন তাহাকে হা কষ্ট বলিতেই হইবে। লক্ষ্যসাধন নিনিওঁ কেবল তুনি আমি স্থার্থতা করিলে চলিবে না ; সকলকে কিছু কিছু করতে ইষ্টযে। জাপানের উন্নতির কারণ, জাপানের সকল লোকের স্বার্থ ত্যাগ। কেবল লেখা পড়া, জ্ঞান লিভান নহে, বিদেশে শিক্ষা দেশভ্রমণ লঙ্গে, জীববিদ্যায় প্রমাণ গ্রহণ কলিলে দেখা যায়, মালুদ্ধ স্বার্থচিন্তা ত্যাগ করিয়া বি বধ সদগুণের অধিকারী হইয়াছে। ঘেহু, দয়া, মায়া, দুৰ্ব্বলের প্রতি অনুকম্প, পরের হিতের নির্মিন্ত প্রাণবিসর্জন, প্রভৃতি সদগুণ মানুষের দেখা যায়, পশুর নহে। তাই আচার্য হঙ্কলী বলিয়াছলেন, স্বর্থত্যাগই মহাবিকাশের কাবণ, জীবনসংগ্রামে যোগ্যতমের জয় নহে । কিন্তু স্বাগত্যাগ অর্থে বৈবাণী সাজিয়া বলে বাস কিংবা উন্নতির মূলে সমগ্র জাতির স্বাৰ্থত্যাগ। ৭ম সংখ্যা । ] - ডিক্ষার ঝুলি কাধে করা মহে । স্বাগত্যাগ কথাটা খুব বড় বটে, কিন্তু স্বার্থতাগীকে অল্পষ্ট ত্যাগ কনিতে চইলে । “তোমার যাহা আছে, তাতা একা ভোগ করিয়ো না, ধশজনাকে কিছু কিছু ধাটিয়া ভোগ কর।” মাতৃ-আজ্ঞায় অৰ্জুন স্বীয় ভূঞ্জবলগন্ধ দ্রপদ কন্যাকে ভাতৃগণের সঠিত বাটিয়া লইয়াছিলেন । এইরূপ মাতৃকাতন্ত্রে দীক্ষিত করিতে পারেন, এমন সদগুরু চাই। শুরু বলেন, "মিথ্যা কথা বলিয়ে না ; শিষ্য বাঙনিষ্পত্তি না করিয়া শুরুর আজ্ঞা শিরোধা করেন। আমরা সকল কাজের প্রকৃত গৃঢ় উদ্দেশু বুঝি না, কিংবা বুঝিলেও যথাসময়ে সে কাজ যন্ত্রবৎ করিয়া থাকি। তেমনই, দেশের দশজনের মধ্যে বঁটা ভোগ করিতে হয়, ইহাই মানবধৰ্ম্ম । কেন মানবধৰ্ম্ম, সে বিচারে প্রয়োজন নাই। ইহাই মানবধৰ্ম্ম । যখন দিবাশেষে গ্রামপ্রান্তে শৃগাল চীৎকার করিতে থাকে, তখন সব শুগাল সমস্বরে ডাকিতে থাকে । কেবল শৃগালের যুক্তিতে কিছু হয় না, সব শিয়ালের এক য়া হওয়া চাই । আমরা যে কয়জন শিক্ষিত বলিতে লজ্জামোদ করি না, এবং সেই অসংখ্য জন যাহারা সে গৰ্ব্বে বঞ্চিত, - এই দুয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ চাই । ইহাকেই জাতীয়তা বলে । এক যোগে কৰ্ম্ম করিবায় প্রধান অন্তরার, অহঙ্কার । যশোলিপস ইষ্কার লামাস্তুর, স্বার্থপরতা চরম লক্ষ্য। র্য্যহাদের মনে অহঙ্কার বিদ্যমান, তাহীদের অতুষ্ঠিত কৰ্ম্ম দ্বারা তাঁদুশ ফললাভ হয় না। দিমি নিজের কর্তৃত্বের অভিমান চরিতার্থ করেন, তাতার কৰ্ম্মফল স্থায়ী হয় না । যিনি বলিতে পারেন, আমি আমার কৰ্ম্ম করিয়া যাই, ফল ভগবানে দ্যস্ত ; डिनि ক্ষুদ্র হইলেও ঠাহাল কৰ্ম্মফল ক্রমশঃ বর্ধিত হইতে থাকে । মানুষ জীব দিশেষ যাত্র । জীবের ধৰ্ম্ম আত্মরক্ষার চেষ্টা । দুৰ্ব্বল স্ত্রীব শঠতা, আত্মগোপন প্রভৃতি নানাবিধ উপায়ে আত্মরক্ষা কলিয়া থাকে। কিন্তু আত্মরক্ষার নিমিত্ত সমাজবন্ধন কত প্রয়োজনীয়, ইত্য সকলে বুঝেন না। যাহাদিগকে লষ্টয়া একত্র বাস করিতে হয়, যাহাঁদের ইষ্ঠানিষ্টর সহিত আপনার ইষ্টালিষ্ট জড়িত, তাছাদিগকে লইয়া সমাজ । পিপীলিক সমাজবন্ধ হইয়া ষাঁস করে । ফলে কোন একটি পিপীলিকা পীড়িত হইলে অব সকল পিপীলিকা গিয়া হাঙ্গাকে উদ্ধাব করে । দেশে কলার বিস্তার। 8०१ অতএব স্বদেশহিতৈধিতা শুনিতে যতই যৎসামান্ত হউক, ভিতরে জ্ঞানযোগ চাই। জ্ঞানযোগের পর কৰ্ম্মযোগ, দিনের পর রাত্রির ছার, স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত হয়। শাস্ত্রে আছে, স্বধৰ্ম্মে নিধনং শ্ৰেয়: । এই অমূল্য উপদেশ পালন না করতে আমরা অবনতির পথে চলিয়াছি । মানবধৰ্ম্ম যে পরিত্যাগ করে, সে কি পরে মানব থাকিতে পারে ? স্বধৰ্ম্মে নিধনং শ্রেয়, যদি মমুখ্যত্ব আকাঙ্কা করি। পরধৰ্ম্ম ভয়াবহ:, তাহাতে সন্দেহ কি ! তোমার ধৰ্ম্ম তুমি স্থির করিয়া লণ্ড, তার পর স্বধৰ্ম্ম পালনে মরণকেও শ্ৰেয়ঃপ্রান কর। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায়, ইহা যোগ্যের জয় মাত্র , চলিত ভাষায় কর্তব্যজ্ঞান । আমাদের প্রত্যেকের এক একটি নাম আছে। সে নামে আমরা বন্ধুবান্ধবদিগের নিকট পরিচিত । আময়া ভুলিয়া যাই, আমাদের সকলের একটি সাধারণ নাম আছে। সে নাম মাতৃদেশদত্ত নাম। আমি বাঙ্গালীএই কথা বলিলে দুইটি ভাব প্রকাশ পায় । আমি মানবরূপ জীব, এবং আমি বঙ্গদেশবাসীর একজন । আমি বঙ্গবাণী, আমি ভারতবাসী—অর্থাৎ আমি কেপকলমীর নই, ফিজি দ্বীপের নই ৷ আমি সেই বাঙ্গালী, যাহার কুল- ' গৌরব বিলক্ষণ ছিল, কিন্তু এখন নাই ; সেই বাঙ্গালী যাহার বুদ্ধির তীক্ষতা প্রসিদ্ধ, কিন্তু বে সে বৃদ্ধি কার্ঘ্যে প্রয়োগ করিতে জানে না ; ইত্যাদি। এই দৃষ্টাস্তে জীবরূপ আমি কতটুকু। কিন্তু আমার জাতীয় জীবন কত বিশাল । বিদেশে আমার মান অপমান আমার নিজের নহে, আযার জাতির। “তুমি কি এশিয়াবাসী –এদেশে তোমার স্থান নাই।”—এখানে জাতীয় জীবনের মূল প্রকাশ পাইতেছে। “ওয়াচটি ব্রিটিশ-মেড”—আমনই দাম চডিয়া গেল। কেহ খোজও করিল না, কে করিয়াছে । ইহা ফ্রান্সের নয়, জেনিবার নয়, ইহা ব্রিটেনের । যে চাকরীতে দেশীয় লোক পঞ্চাশ টাকা পায়, যুরোপীয় সেই চাকরির যেতন হয় ত পাঁচশত টাকা দাবী করিয়া বসে। কেহ কেহ জাতীয় জীবন ভুলিয়া যায়, এবং মনে করে যুরোপীয় যে পাঁচশত টাকা বেতল পায়, তাহ পক্ষপাতিতার ফল । এই বে অধিক বেতন, তাহ কি বাস্তবিক তাহার মূল্য ? সে তাহার দেশে হয় ত পঞ্চাশ টাকা সীয় পাইত, কারণ সেপানে সকলের কিন্তু -