পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- দেওয়া গিয়াছে। কিন্তু কেম্বল কাৰ্য্যেন চিন্তা করিয়া ফল নাই। উপায় নির্ধারণ আবস্তক। সেই উপায়কে ಇತ: ಕಿ তাগে বিভক্ত করিতে পারা যায়। দ্রব্য উৎপাদন এবং উৎপন্ন দ্রব্যের ক্রয় বিক্রয়, এই হৃষ্ট তাগ। এগনে শেষোক্ত উপায় চিন্তা করা বাইতেছে। প্রথমে ক্রয় বিক্রয় চিন্তা বিলোম মনে হইতে পারে। কিন্তু বস্তুতঃ ইহা তাদৃশ নহে। দেশে কোন কলা নাই, এমন মহে ; আমরা নবজাত সমাজের মধ্যে আসিয়া উপস্থিত হুই নাই। দেশে বহু পূৰ্ব্বকাল হইতে নানাবিধ কলা প্রচলিত আছে, এবং আছে বলিয়াই সসীঞ্জ চলিতেছে। নূতন ধন উপার্জনের পূৰ্ব্বে সঞ্চিত ধন রক্ষার উপায় কথা উচিত। যাহা আছে, তাহাকে বিনষ্ট হইতে দিলে বুদ্ধিমানের কাজ হইবে না। কিন্তু একথা কে না জানে, উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয়ের মৃষিধা ন হইলে উৎপাদন হ্রাস পায়। কে ন জানে, সকল দ্রব্য সকল স্থানে উৎপন্ন হয় না ; হইলেও শেবে লাভ থাকে না। এইরূপ সকল দ্রব্যের ক্রেতাও সকল স্থানে থাকে না। উৎপন্ন দ্রব্য ক্রেতার নিকট উপস্থিত করা বিক্রেতার কার্য্য। আমাদের প্রায় অধিকাংশ নিত্য আবশ্যক ধ্রুবা এধেশে উৎপন্ন হইতেছে। কোন কোন দ্রব্য এত অধিক পরিমাণে উৎপন্ন হইতেছে যে, তাহদের কিয়দংশ বিদেশে প্রেরিত হইতেছে। এ সকল দ্রব্যের অধিকাংশ কাচা মাল, অর্থাৎ অসিদ্ধ পণ্য, কৃদি প্রভূতির দ্যায় স্বভাবতঃ প্রাপ্ত। তেমনই অপর কোন কোন দ্রব্য এত অল্প পরিমাণে উৎপন্ন হইতেছে যে, তাহদের অধিকাংশ বিদেশ ষ্টতে আনীত হইতেছে। যেমন লৌহাদি ধাতু দ্রব্য। কিন্তু এমন দ্রব্যও আছে, যাহার উৎপাদক এদেশে বিক্রয়ের সুবিধা করিতে পারে না বলিয়া আমাদিগকে বিদেশীয় বণিকের জাহাজের আগমন প্রতীক্ষা করিয়া থাকিতে হয়। ইহাদের অনেক গুলি নিতা যাবহার্য্য দ্রব্য, যেমন কাপড়, মুন, চিনি ইত্যাদি । ক্রেতাই, বিক্রেতাও উৎপাদকের উত্তেজক। এদেশের বহু বহু লোকের কেমন একটা মোহ জন্সিয়াছে যে, তাহার। বিদেশীয় পণ্যের চাক্‌চিকো অঙ্কীভূত হইয় তাহারই নিমিত্ত -লালায়িত হয়েন। দেশীয় দ্রবা না দেখিয়াই বিদেশর পণ্য ক্রয় করিয়া নিজের দেহ হইতে গুহ পর্যাস্ত শোভিত করিয়া প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । বসেন। তাহারা দুই প্রকারে দেশের অনিষ্ট করিতেছেন। অনেকে উৎকৃষ্ট শিল্প দ্রব্যেয় ক্রেতা। কিন্তু তাহাধের কাৰ্য্যে দেশীয় শিল্পী সাহায্য পাইল না । সমাজে তাহদের সন্ত্রম আছে বলিয়া তাহারা অষ্ঠেয় পথ প্রদর্শক হয়েন । যাহার দেশীয় দ্রব্যের গুণ দেখিতে পাইলেন না, যাহায় বিদেশীয় কিস্তৃত-কিমাকার গঠনে কিংবা কু-সন্নিবিষ্ট রঙ্গের ঔজ্জ্বল্যে রুচি পরিতৃপ্ত করেন, তাহীদের স্বারা কোন দেশের কোন শিল্পের উন্নতির আশা নাই । বস্তুতঃ স্বদেশের নিমিত্ত একটু গোড়ামি তাল । ইহা কেন কিনিতেছ ? কারণ দেশ, এই ভাব না থাকিলে দেশীয় দ্রব্যের সমাদর কারবে কে ? দ্রব্যটি দেশীয় বলিরাষ্ট ক্রয় করিতে হইবে, এমনও নহে । দেশীয় দ্রব্যটি উৎকৃষ্ট, এই জন্যই ক্রয় করিতেছি । দেশীয় কলার অবনতির দিলেও বিদেশীয় লোকেয়া এদেশের কলা জাত দ্রব্যে মুগ্ধ হয়েন ; আর আমরা প্রাচ্য সৌন্দর্য্যজ্ঞান হারাইয় অম্বন্দরের পক্ষপাতী হইতেছি। ভাৰতীয় সৌন্দৰ্য্য একটা স্বতন্ত্র ব্যাপার। এই সৌন্দৰ্য্য চীনেও নাই, জাপানেও নাই, পাশ্চাত্য যুরোপেত মাই-ই। পাশ্চাত্য সৌন্দর্য্য ভিন্ন প্রকার। ডাহার আলোচনায় প্রবেশ না করিয়া বলা যাইতে পারে যে, আমাদের অধিকাংশ লোকের সৌন্দর্যাজ্ঞান ক্রমশঃ হ্রাস পাইতেছে। বিদেশীয় সৌন্দর্যের আধশ সন্মুখ রাখিয়া আময়া আমাদের দেশীর সৌন্দৰ্য্যকে উপেক্ষা করিতেছি। বেশীর আদর্শ লোপের তুলা অনিষ্টকর ব্যাপার অল্পই আছে। ইহার ভূরে ভূয়ি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। যাহার ইংরাজিশিক্ষা প্রাপ্ত, তাহদের মধ্যে দৃষ্টান্ত অধিক দেখা যায়। তাহাঁদের অট্টালিকা, তাহাদের গৃহ সজ্জা, তাহদের বসন ভূষণে প্রাচা সৌন্দর্য্যের অত্যন্তাভাব। মুখের বিষয়, দেশীয় পুরাতন শিল্পীরা এখনও তাহীদের সৌন্দর্য্যজ্ঞান হারায় নাই। নিরক্ষর শিল্পীরাই প্রাচ্য সৌন্দৰ্য্য বৃক্ষ করির আসিতেছে। কেবল গঠনে নহে, বর্ণে সন্নিবেশে দেশ্য শিল্পীয় চক্ষু অদ্বিতীয়। বৎসামান্ত মূল্যের তুচ্ছ দ্রব্যেও তাহার স্বাভাবিক সৌন্দৰ্য্যজ্ঞানেয় পরিচয়ে চমৎকৃত হইতে হয়। SBBB BB BBB BB BBB BBBB BBBBBS BB DDS এই হেতু বিদেশে ভারতীয় শিল্প প্রব্যের এবং এদেশে বিদেশীয় শিল্পদ্রব্যের BBBB BBBS BBBBS BBSBBS BB BBBS BBBS BBB BBBS BBBS BYSK HHHS LLt BBSBB BBBSS BBB SBBBBS ৭ম সংখ্যা । ] - কিন্তু অধিক দিন এভাবে চলিবে কি না, সন্দেহ। বিদেশীয়কে অগ্নকরণ করিবার স্পৃহা ক্রমে ক্রমে সমাজের নিম্নস্তর পর্য্যন্ত প্রবেশ করিতেছে। এই উৎকট ব্যাধির বিশ্লেষণ করিলে পাওয়া যায়, দেশের প্রতি বিরাগ এবং মুর্থতাজনিত অভিমান । অধিকাংশ মানুষ এক এক কার্যোর সময় এক এক আদর্শ অনুকরণ করিয়া থাকে। কাহারও মনে সে আদর্শ স্পষ্ট থাকে, কাহারও মনে তাহ প্রচ্ছন্ন থাকে। ইহারই ফলে,যে যেমন মানুষ, সে তেমনটি দেখাইতে চায় না, তাহার অপেক্ষা তাহার বিবেচনার মে মানুষ উচ্চতর সে সেই উচ্চতর মানুষের রূপ দেখাষ্টতে চায় । ইহা মানুষের স্বাভাবিক ইচ্ছা ; সকলেই ভূমণ্ডলে দোগ্যতম বলিয়া ঘোষণা করিতে চায়। মানুষের যে আধখানা পশু, সেই আধখানার প্ররোচনায় এই ইচ্চার জন্ম। এই হেতু এই ইচ্ছা দোষাবছ । এই রোগের নিদান বলা যত সহজ, লক্ষণ বলা তত সঙ্কল্প নহে। এই বৃথা অনুকরণ গুহ নানা আকারে সমাজ মধ্যে বিচরণ করিতেছে । বাঙ্গালীর অনাবশুক সাহেবি সাঁজ হইতে গুহিণীর বিদেশীয় রুচিসঙ্গত অলঙ্কার ; এবং বাছরের বৈঠকখানার সজ্জা হইতে গৃহস্থালীর খুঁটিনাটিতেও এই বোগেব ফল প্রকাশিত । কেহ যেন ভুল না বুঝেন। ব্যবহার্য্য উত্তম দেশীয় দ্রব্য থাকিতেও ধিনি বিদেশীয় দ্রব্য সংগ্রহের কুঠক এড়াইতে পারেন না, তাহাকেই রোগী বল্লা যাইতেছে । যেমন গায়কাশ রোগীর লক্ষণে দেখা যায় তেমনই এই রোগেরও একটি বিশেষ লক্ষণ এই যে, রোগী বুঝিতে পারেন যে, সে রোগগ্ৰস্ত হইয়াছে। কোন কোন রোগীকে রোগ স্মরণ করাইয়া দিলে তিনি এক কল্পিত "আবশ্বক" শস্কের কুহকে আত্ম বিক্রয় করেন । এমন কথা শুনা গিয়াছে, কোন কোন বাঙ্গালী আপনাকে বাঙ্গালী বলিয়া জানাইতে লজ্জ বোধ করেন। নাম জিজ্ঞাসা করিলে ఇ বিলাতি নাম বলেন, আচারে ব্যবহারে কথাবার্তায় বিলাতি বলিয়া প্রকাশ করেন । স্বর্থের বিষয়, ইহাদের সংখ্যা অল্প। আরও হথের বিষয়, যে উৎকট ব্যাধির উল্লেখ করা যাইতেছে, তাহার প্রতিক্রিয় আরম্ভ হইয়াছে। কাহাকে ৪ সন্ন্যাসী বা তপস্বী বা ব্ৰহ্মচারী হইতে বলা হইতেছে না। বরং উৎকৃষ্ট শিল্পের আদর বৃদ্ধি পাইলে দেশে কলার বিস্তার । -- 8 3 3


-

দেশের মঙ্গল। যাহার যেমন বসন ভূষণে আসক্তি আছে, তাহায় তেমনই আসক্ত থাকিতে পারে, অথচ সেই আসক্তির জন্য দেশের কলার বিস্তার হইতে পারে, আশক্তি দ্বারা দেশহিতৈষিত চরিতাগ করা খাইতে পারে। দেশের মধ্যে দুই এক জন বলিতে পারেন, বিদেশীয় দ্রব্য ঘরে আনিব না। কিন্তু অর্থ-নীতি বলে সেরূপ প্রতিজ্ঞা-পালন সাধা হইলেও দেশের কল্যাণকর নহে। যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপন্ন হষ্টতেছে না, অথচ ন হইলেই নয়, তৎসমুদায় বিদেশীয় দ্রব্য ক্রয় করিতেই হইবে । কোন কোন সময়ে কোন কোন বিধয়ে উন্মত্ততায় সুফল প্রসব করে বটে, কিন্তু মাদক সেবন জনিত উন্মত্ততার স্থায় তাহ সমাজরূপ দেহের স্বাস্থ্যহানিকর। উন্মত্ততায় দৃঢ়চিত্ততার লোপ পায়। আযায় বলি, বিলাতি কোন দ্রবা ব্যবহার করিব না, এরূপ প্রতিজ্ঞা ঠিক নহে । আবশ্যক অথচ দেশীয় দ্ৰব্য ম! পাষ্টলে অগত্যা বিদেশীয় দ্রব্য ক্রয় করিতেই কইবে। গরঞ্জের তুল্য বালাই নাই। কিন্তু সে স্থলে ভাবিয়া দেখা কৰ্ত্তব, বাস্তবিক গরজ কি না, এবং অল্প ত্যাগে ( ) সে বালাই এড়াইতে পায়া যায় কি না। আরও একটু মনে করাইয়া দিতে পারা যায়। হিনি বসন ভূষণ দ্বারা নিজের সন্মান বৃদ্ধির আকাজ করেন, তিনি বাস্তবিক ভ্রান্ত নহেন কি ? মানুষ মামুষের সম্মান করে । যাহাকে বসন ভূষণের জন্য সন্মান করিতে হয়, তাহার প্রকৃত মূল সেই বসন ভূষণ অপেক্ষা নুন নহে কি? এখানে এক তর্ক উঠিতে পারে। সে সমাজে যে রীতি প্রচলিত, তাহার অন্তথা করিয়া নূতন রীতি প্ৰবৰ্ত্তন কয় ভাল কি ? স্থান বিশেষে এই তর্কের সারবত্তা স্বীকার করি, কিন্তু অধিকাংশস্থলে এই তর্ক আসার এবং দেশের প্রতি বিরাগের পরিচায়ক । যিনি মানবধৰ্ম্মপালনে রত, যিনি নিজের প্রত্যেক কাৰ্য্যে মনে করেন, তিনি এবং দেশ অভিন্ন, তাহার মুথে ঔচিত্যানেীচিতোয় তর্ক শোভা পায় না। এমন ক্রেতাও আছেন, যিনি দেশ জিলিসের নাম শুনিলেই ক্রয় করিতে অভিলাষী হন। এরূপ ক্রেত হই প্রকার। কেহ বা প্রয়োজল ন থাকিলেও ক্রয় করিয়া বসেন, কেহ বা প্রয়োজন থাকিলে ক্রয় করেন, কিন্তু অধিক মূল্যে ক্রয় করেন। প্রথমোক্ত ব্যক্তিকে ক্রেতা