পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


না বলিয়া দাতা বলা সঙ্গত। ইহার কথা স্বতন্ত্র । যে দাতা দেশীয় কলার সাহায্য হইবে ভাবিয়া ক্রয় করেন, সকল স্থলে সে দান সমীচিন না হইবার সম্ভাবনা আছে। অর্থনীতিশাস্ত্রে এই প্রকার দ্বান বা ক্রয়ের কূটসমালোচনা থাকিতে পারে। সে সমালোচনায় প্রবেশ না করিয়া একটা ক্ষুদ্র বাগলীতির উল্লেখ করা যাইতে পারে। তাছা এই যে, যে ক্ষতি বৃদ্ধি আনয়ন করে না, তাহ বাস্তবিকই ক্ষতি ; কিন্তু যে ক্ষতি বৃদ্ধি আনয়ন করে, তাহা ক্ষতি নহে, পুনরাবৰ্ত্তক ধন । এই নিকষে কষিয়া দ্রব্য ক্রয় কর কঠিন বটে, কিন্তু তাই ক্রেতার ক্রটি, পরীক্ষার নহে। র্যাহারা অধিক মূল্য দিয়াও দেশীয় দ্রব্য ক্রয় করেন, তাহদেরও ভাবিবার বিষয় আছে। এরূপ ক্রেতা অধিক নহে ; তথাপি তাহীদের উদ্দেশু চিন্তা করা কৰ্ত্তব্য। অধিক মূল্য দিলে যদি সে কলার উন্নতি সম্ভাবিত হয়, তাহা হইলে অধিক মূল্য দেওয়া অবহু কৰ্ত্তব্য। এখানে বাস্তবিক সেই কলার স্বপ্রতিষ্ঠার আশায় অর্থদান করা হয়। কিন্তু কয়েক বৎসর দীন পাইয়াও যদি কলাজীবী কলার ( নিজের বনের নহে ) উন্নতির লক্ষণ দেথাইতে না পারে, তাহ হইলে সে দীনে দেশেয় উপকার হইবে না, পরন্তু অপকার হইবে। কারণ তদ্বারা ভবিষ্যৎ যোগ্যতর উৎপাদকের উন্নতির পথে কণ্টক দেওয়া হইবে । বিদেশীয় দ্রব্যের ক্রেতাগণকে তিন ভাগ করা যাইতে পারে। (১) যাহারা দেশীয় বিদেশীয় বিচার করে না, আবগুক দ্রবাটি সম্মুখে পাইলেই ক্রয় করিয়া বযে। ক্রয় কালেও যে দেশের হিতসাধন করা যাইতে পারে, তাহ তাহারা ভাবে না বা ভাবিতে পারে না। (২) যাহার জানিয়া শুনিয়া কিন্তু সস্তী বলিয়) বিলাতি জিনিস ক্রয় করে। (৩) যাহারা জানিয়া শুনিয়া বিলাতি বলিয়াই বিলাতি জিনিস ক্রয় করে । এই তিল শ্রেণীর ক্রেতার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর কার্যা অজ্ঞানতা । কিংবা দেশীয় দ্রব্যের অপ্রাপ্তি মূলক, সুতরাং ক্ষমা । তৃতীয় শ্রেণীৰ কাৰ্য্য বিশ্লেষণ করা গিয়াছে, পুনবলেপ নিম্প্রয়োজন । দ্বিতীয় শ্রেণীর নিকট আশা আছে। সুতরাং স্বল্পমূল্যতার ব্যপদেশ বিবেচনা করিয়া দেখা যাউক । স্বীকার করা গেল, এবং অনেক স্থলে ঠিকও বটে, যে, প্রবাসী । ৫ম ভাগ । - --- দেশীয় দ্রব্য অপেক্ষ বিদেশীয় দ্রব্য হুলভ। কিন্তু তথাপি ক্রেতা দৃেশয় কলার মূলে গধুৰ জল সেচল করিতে পারেন না কি ? দুষ্ট একটা দৃষ্টান্ত গ্ৰহণ করা যাউক । দেশ ও বিলাতি কাপড়ের দামে প্রভেদ আছে। স্থূলতঃ দেখিতে গেলে এক জোড় বিলাতি ধুতির অপেক্ষা সেইরূপ স্বতার দেশী ধুতির দাম বেশি। এখানে হাতের তাতের কাপড়ই ধরি, আর দেশী কলের কাপডই ধরি, কথাটা যেন ঠিকই মনে করা গেল। কিন্তু যে দ্বামে একজোড় বিলাতি ধুতি পাই, সেই দামে কি একজোড় দেশী ধুতি পাওয়া বায় না ? নিশ্চয়ই পাওরা যায়, তবে যে ধুতি কিছু মোটা, কিংবা ছোট হইতে পারে। অতএব স্বল্পমূলাত ছলমার, দেশপ্রেবিকের কথা নহে। সন্দিগ্নমনা পাঠককে স্মরণ করাইয়া দেওয়া ভাল যে, আমাদেরই দেশে এমন ক্রেতাও আছেন যিনি দেশের মোট কাপড় পরিয়াও আত্মপ্রসাদ ভোগ করেন। লেখকের কোন বন্ধু বলিতেছেন, তিনি দেশ মোটা কাপড় পরিয়া যে গৰ্ব্ব ও সন্তোব বোধ করেন, তাহা মূল্যবান বিদেশীয় বস্থ পরিধান করিলে করিতেন না। দেশী কাপড় পরিলে তাহার আত্মসম্মান রক্ষিত হয় । কেবল ক্রেতা লছে, বিক্রেতাও স্বদেশ প্রেমিক হইতে পারেন, এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজের জীবিকা উপার্জন করিতে পারেন। তিনি বিভিন্ন প্রদেশে উৎপন্ন উৎকৃষ্ট ও সুলভ দ্রব্য ক্রেতায় সম্মুখে উপস্থিত করিবেন, এবং ক্রেত যাহ পাইত না, এমন স্বদেশীয় দ্রব্য ক্ররে ক্রেতার সুযোগ করিয়া দিবেন। কিন্তু যে বিক্রেতা নিকৃষ্ট দ্রবা কেবল দেশীয় বলিয়া ক্রয় করিতে ক্রেতাকে প্রলুব্ধ করে, তাহাকে হিতৈষী বলিতে পাৱা যায় না। কারণ সে তাহলে কাৰ্য্য দ্বারা গুণবান কলাজীবীর অনিষ্ট করে, ভবিষ্যৎ উদ্যমশীল উৎ পদকেয় পথে বিপ্ন জন্মায় । সেইরূপ, হুলভ বিদেশীয় দ্রব্য দেশীয় নামে, কিংবা উৎকৃষ্ট দেশীয় দ্রব্য বিদেশীয় বলিয়া বিক্রয় করা দেশের পক্ষে একই প্রকার অহিতকর। কোন কোন পাপিষ্ঠ বিক্রেতা বিদেশীয় দ্রব্যে নিজের নাম যোজিত করিয়া দেশীয় বলিরা বিক্রয় কয়ে। অনেক ক্রেতা প্রবাটি দেশীয় কি বিদেশীয়, তাহা চিনিতে পারে না। কিন্তু স্বদেশশত্র বিক্রেতা ক্রেতার রুচি বৃথিয় একই ৭ম সংখ্যা । ] না। পশমী কাপড়, শাল, আলবান ইত্যাদি ক্রয় করিবার সময় অনেক অসাবধান ক্রেতা প্রতারিত হইয়া থাকে। আয় এক প্রকার স্বদেশ শত্র বিক্রেতা আছে। ইহারা অত্যধিক লাভ করিতে গিয়া উৎপাদকের অলিষ্ট করে। কোন শিল্পী ব্যবহারোপযোগী কোন নূতন বঙ্গ নিৰ্ম্মাণ করিয়াছে। বিক্রেতা সেই দ্রব্যটি অল্প মূলো ক্রয় করিয়া তাহার ক্রেতাকে বহুমূল্যে বিক্রয় করিতে আরম্ভ করিল। ইহার ফলে বিক্রেতা লাভবান হয়, কিন্তু উৎপাদকের অনিষ্ট হয়। হয় ত ক্রেতার সংখ্যা হ্রাস হয়, হয় ত লভ্যাংশ অন্ন হওয়াতে উৎপাদক সে দ্রবোর যথেষ্ট উন্নতি সাধন করিতে পারে না । এইরূপে বিক্রেত দেশীয় দ্রব্য প্রচলনের বিঘ্ন করে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিদেশীয় দ্রব্য ব্যবহারের সাহায্য করে । - বস্তুতঃ আমাদের দেশে দেশহিতৈষী বিক্রেতার অত্যন্ত অভাব লক্ষিত হয়। ক্রেতা, বিক্রেতা ও উৎপাদক, এই তিনের মধ্যে মিত্রভাব থাকা আবখক। কিন্তু কে ন৷ জানে, ইহাদের মধ্যে অহি নকুলেয় সম্বন্ধ চলিত আছে। কে কত প্রতারণা করিতে পারে, ক্রয় বিক্রয়েল সময় তাহার পরীক্ষা চলিতে থাকে। এমন দেখা গিয়াছে, ক্রেতা দেশীয় বিক্রেতার প্রতারণার ভয়ে বিদেশীয় বিক্রেতাকে অধিক মুলা দিয়াও আবখ্যক দ্রব্য ক্রয় কলিয়া থাকেন। কোন বিক্রেতা যেন ভূল না বুঝেন। আপনি আপনার দ্রব্যের যে কোন মূল স্থির করিতে পারেন । আপনার দ্রবাটিই ক্রেতার প্রয়োজন হইলে ক্রেতা আপনার নির্দিষ্ট মূল্য দিয়াই সে দ্রব্যটি ক্রয় করিতে বাধ্য। যদি আপনি ইচ্ছানুসারে সেই দ্রব্যের মূলা হ্রাসবুদ্ধি করিতে থাকেন, তাহাতেও আপত্তি ভক্টতে পারে না। আপত্তি এই, ক্রেতা দেখিয়া মূলোর হ্রাস বুদ্ধি করিলে আপনি দেশীয় উৎপাদকের অনিষ্ট করেন, এবং ক্রেতাকে প্রতারণা করেন । কপট বাক্যে অল্পকালে অধিক লাভ হইতে পারে বটে, কিন্তু পরিণাম কখনও তাল হয় না। কপটতার বাবসায় স্থায়ী ইইতে পারে না । কোন কোন উৎপাদক, নিজেই বিক্রেতা। অর্থাৎ উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে অন্ত বিক্রেতা নষ্ট। আমাদের দেশে কলার বিস্তার । দ্রব্যকে দেশীয় কিংবা বিদেশীয় বলিঙে সঙ্কোচ বোধ করে - - - - - 8×5 - দেশের অনেক কলাঙ্গীবীর এই অবস্থা। ধামের যেমন মহাজন থাকে, উৎপন্ন দ্রব্যের তেমন কোন মহাজন না থাকাতে উৎপাদককেই মহাজন হষ্টতে হয়। ধনবান উৎপাদকের পক্ষে ইহা ভাল । কারণ, নধ্যবৰ্ত্ত বিক্রেতা না থাকতে দ্রবাটির মূল্যের উপয় বিক্রেতার লভ্যাংশ যোগ করিতে হইল না। কাজেই ক্রেতা সে প্রবাটি অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যে পাইল, বিক্রয় ও বাড়িয়া গেল। কিন্তু যে উৎপাদক ধনহীন, তাহার পক্ষে মহাজন না থাকিলে উৎপাদনে অসুবিধা হয় । কোন কৰ্ম্মকার একটি সুন্দর চাবি নিৰ্ম্মাণ করিয়া বিক্রয় করিতে বাহির হইল। চাবিটিতে এমন শিল্প-কৌশল প্রয়োগ করিয়াছে যে, তাহার প্রকৃত মূল্য সাত টাকা । কিন্তু অর্থের অনাটনে কৰ্ম্মকারকে চাবিটি কোন শঠ ক্রেতাকে তিন টাকা মূল্যে বিক্রয় করতে হইল। ইহার কি ফল, তাহ পাঠক সহজেই বুঝিতে পরিবেন। কৰ্ম্মকারের উদ্যম হ্রাস পাইল, সেরূপ চাবি আয় উৎপন্নই হইল না। কিন্তু যদি কোন হিতৈষী মহাজন থাকিত, তাছা হইলে সেই কৰ্ম্মকার সেইরূপ চাবি পরে সুলত মূল্যে বিক্রয় করিতে পারিত। এরূপ ঘটনা বিরল নহে। এদেশে কলাবিস্তারের এমন অন্তরায় আর কি হইতে পারে ? - সংবাদপত্রে দেথা যায়, স্থানে স্থানে “স্বদেশীয় ভাণ্ডার” স্থাপিত হইতেছে। ইচ্ছা করিলে এই সকল ভাণ্ডার ঐক্লপ গুণী কলাজীবীর সংবাদ লইয়া এবং তাহর যথাসাধা সাহায্য করিয়া দেশে কলার বিস্তারের পথ উন্মুক্ত করিতে পারেন। বিক্রয়ের সুবিধা করিতে পারে মা বলিয়া আমাদের দেশের প্রকৃত কলাবানের সংখ্যাবৃদ্ধি পাইতেছে না। “স্বদেশীয় ভাণ্ডার” - গুলির দুইটি উদ্দেশ্য থাকা উচিত। বিভিন্ন প্রদেশজাত । দ্রব্য দ্বারা স্থানীয় ক্রেতার অবিহুক দ্রব্যের অভাবমোচন, এবং স্থানীয় কলাজাত দ্রব্য সংগ্ৰহ করিয়া অন্তর প্রেরণ,- | এই দুষ্ট উন্ধেত। শেষোক্ত কৰ্ম্মটির আবখ্যকতা উপলব্ধি করা প্রত্যেক দেশহিতৈষী “ভাওরের” কৰ্ত্তব্য। এই কার্যের নিমিত্ত মূলধনের কিয়দংশ পৃথক বাথা উচিত। আর এক কাজ করা যাইতে পারে। এমন নিয়ম করা যাইতে পারে দে, ব্যয় বাদে “ভাণ্ডারের” যত লাভ হইবে তাহ এক নির্দিষ্ট পরিমাণের অধিক হইলেই সেই অতিরিক্ত লভ্যাংশ দেশীয় কলার উন্নতিকল্পে বান্ধিত হইবে । ব্যয় বাদে মূলধনের উপর