পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- .8Ꮌb> -നു.--.ജ. -- - বিদেশীয় বীভৎস সম্বোধন গুলি আসিয়া সময়ে অসময়ে আমাদের কাণের উপর বেত মারিতেছে। এ গুলি অনেকে মনে করিতে পারেল অতি সামাছ কথা ; কিন্তু সীমান্ত হইতে কত কত বৃহৎ অনিষ্ট সংসারে ঘটনা হইয়া থাকে, তাহ বোধ করি বুঝিতে বিশেষ বিলম্ব না হইতেও পারে। | অনেকে বলিতে পারেন ঘটনাধীন আমাদিগকে আধুনিক সময়ের সহিত চলিতে হইতেছে ; স্বীকার করি এ কথা পরম সত্য ; কিন্তু সময়ের সহিত চলা এক কথা এবং সময়ের আগে আগে চলা আর এক কথা । সময়ের সহিত চলিতে হইবে বলিয়া শত শত শতাব্দীন ইতিহাস, কিম্বদন্তী, লৌকিক আচার সকলকে পদতলে দলিত করিতে হইবে, ইছ আমার ক্ষুদ্ৰ বুদ্ধির অতীত। আর এক কথা, আমরা যে কয়ট লোক এবং স্ট্রীলোক নবশিক্ষা লাভ করিয়াছি, সেই কয় জন মাত্র কোন দিকে না তীকাষ্টয়া অসময়ে অপথ দিয়৷ গেলে আমাদিগকে আমাদের বৃহৎ হিন্দু সম্প্রদায়ের সহিত সমস্ত সংশ্রব ত্যাগ করিতে হইবে, ইহা বাঞ্ছনীয় কিনা, তাহা বিশেষ বিবেচনার বিষয় । এঞ্জিনেল ক্ষমতা আছে টেন টানিয়া লইয়া যায় ; কিন্তু সেই এঞ্জিন অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করিয়া যদি শিকল ছিড়িয়া নিজেই চলে, তবে টেন পিছনে পড়িয়া থাকিবে, নির্দিষ্ট স্থানে তাহাকে লইয়া যাওয় হইবে না, এবং এঞ্জিনের লঘুভার হইয়া উৎপথে গমন বিচিত্র নহে। দেশীয় শিল্পজাত দ্রব্য সমূহের উন্নতিকল্পে যদি আমরা বিদেশীয় দ্রব্য ব্যবস্থায় পরিত্যাগ করি তাহ বহু পরিমাণে উপকারী হইবে একথা কেই অস্বীকার করে না ; কিন্তু তাহার সঙ্গে দেশীয় ভাব, জাতীয়তার তাব নিজেদের অস্থি মজ্জার সহিত বিশাইতে না পারিলে স্থায়ী বৃহৎ ফলের আশা করা দুরাশা মাত্র হইবে। আমাদের দৈনিক জীবনে আচার ব্যবহারে এতই অধঃপতন হইয়াছে—নিজেরা ধুঝিতে পারি বা না পারি—দেশান্তর হইতে কেহ আসিলে, র্ত্যতাদের বুঝিতে এক মূহূৰ্ত্ত কালও লাগে না । গত বৎসর এই সময় যখন মহা মাননীয় প্রমতী বরোদার মহারাণী কিছুদিনের জন্ত এখানে আসিয়াছিলেন ; আমরা এক দিনেয় জন্য অনেক পরামর্শ করিয়া বহু চেষ্টায় ৪ যত্নে সকলে মিলিত হুইয়া সিঙ্গুরের টপ পরিয়া, বস্ত্রাঞ্চলে মস্তক আবরিত _

  • প্রবাসী ।

--- র্তাহার চোখে ধূলা দিতে পারি নাই। আমার সঙ্গে আলোচনা কালে তিনি বলিয়াছেন, “ তোমাদের এত অবনতি কিসে হইল ”; আমি বলিলাম “আমাদের ও দেশের দুর্ভাগ্য? তার কিছু বলিবার ছিল না। ঠাহার শিক্ষা আমাদিগের অপেক্ষা কম নয়, বিদেশীদিগের সহিত যোগাযোগ আমাদিগের অপেক্ষ অনেক বেশী, কিন্তু দেখিয়৷ শুনিয়া এত আনন্দ হইল যে তিনি নিতান্ত অবিশ্বক নী হুইলে বিদেশীয় ভাষা পৰ্য্যন্ত ব্যবহার করেন না। এমন কি তাহার ইংরাজ পরিচারিকার সঙ্গে সৰ্ব্বদা মহারাষ্ট্রীয় ভাষার কথা বলিয়! থাকেন। অপর পক্ষে অমিয়া বিদেশিনীগণকে গৃহে আনিৱা তাহীদের যত্ন ও সেবা করিতে দিনের পর দিন স্বচ্ছন্দুে কাটাইয়া দি, স্বদেশের কথা একবার তবিয়া দেখি মা। - দোর্দণ্ড প্রতাপ পুথিবীর অদ্বিতীয় সম্রাট রুয জাপের সহিত যুদ্ধ করিয়া, ক্ষুদ্র জাপান যে জয়লাভ করিতেছে, Shimose powder wor: Es#ž za Heizā . wfērā কারণ নহে, জাতীয়তাল ভাব তাহদের মধ্যে অতি মাত্রীয় জাগ্রত, তাই তাহারা সহস্র বিপদ তুচ্ছ করিয়া, প্রাণ উপেক্ষ করিয়া, রণচণ্ডিকার অভয় বরে, প্রতিপদে বিজয় বৈজয়ন্তী উড়াইয়া মাঞ্চুরিয়ার গগনমণ্ডল উজ্জল ও শোভাসম্পন্ন করিয়া তুলিতে পারিয়াছে। রাজনৈতিক একতায় জন্ত আমরা সভা সমিতি বস্তৃতা কত কি করিতেছি ; কিন্তু কত শত শতাব্দীর চিরপ্রচলিত প্রথা অম্বুসারে পল্লিতে পাল্লতে, পল্লিবাসিতে পল্লবাসিতে, পরিবারস্থ সকলের মধ্যে যে ঐক্যবন্ধন ছিল, তাহা হারাইয় বসিরা আছি । আজ তাছার দিকে ফিরিয়া তাকাইলে দুই চক্ষু জলে ভরিয়া আসে ; কিন্তু সন্দেহ কায় অতি কমসংখ্যক লোকেরই সে দিকে দৃষ্টিপাত করিবায় অবসর হয়। গুস্ত্র গুড় বিষরে একতা হারাইয়। আজ বৃহৎ ব্যাপার ঘটাইবার জষ্ঠ একত) খুজিয়া যেভূাইতেছি, বিধাতাই জানেন কেন তিনি এ প্রহসন আমাদের দ্বারা অভিনয় করাইতেছেন। মহারাষ্ট্রীয় স্ট্রীলোকদিগের আচার ব্যবহার কতক পরিমাণে আদর্শ করা হুইবে, এরূপ এক প্রস্তাব শুনিয়াছিলাম। প্রস্তাব মন্দ নন্তে, কিন্তু মহারাষ্ট্র দেশের যে দুই { ৫ম ভাগ । ৭ম সংখ্যা । ] S S S S S S S S S S S S S S S S S S S S S S SMSSSS করিয়া ত্যহাকে অভ্যর্থনা করিতে গিয়াছিলাম সত্য, কিন্তু । একটা শিক্ষাপ্রাপ্ত বড় ঘবের গৃহিণী দেপিয়াছি, তাহার কেহই জাতীয়তা ত্যাগ করেন নাই ; প্রয়োজন হইলে তাহারা যোড়ায় চড়িয়া থাকেন কিন্তু সীমস্তের সিম্পূররেখা ছাড়েন নাই । সে কথা যেন আমরা না ভুলি। প্রসঙ্গাধীন অনেক কথাই বলিয়া আপনাদের ধৈৰ্যোর উপর আক্রমণ করিলাম, সে জন্ত ক্ষমা প্রার্থনা কবি । কোন বাক্তি বিশেষ বা সম্প্রদায় বিশেষকে কটাক্ষ করা আমার উদেহু লাহ, আমরা যে মহৎ ব্যাপারের অঙ্গুষ্ঠান লইয়া বসিয়াছি, তাঁহাতে সব কথা সকল দিক হইতে আলোচিত হওয়া উচিত বলিয়া আপনাদের বিবেচনীৰ জন্য কথাগুলি বলিলাম। ভৃঙ্গ, ভাস্তি, স্বলন, পতন, ত্রটির জন্য সৰ্ব্বাস্তঃকরণে সকলের নিকট মীর্জন ভিক্ষণ চাহিতেছি । যে কল্পবৃক্ষের অমৃতময় ফল প্রত্যাশা কবিয়া, আজ আমরা কয়টি ক্ষুদ্র নারী বীজ বপন করিতে বসিয়াছি, তাহার অঙ্কুরোদগম হইতে বহু বিলম্ব হইবায়' কথা, ইহাতে প্রতিদিন জলসেক করিতে হইবে, নবীন স্বর্যালোক পান করাষ্টয়া দিনে দিনে সবল ও সতেজ করাষ্টতে হষ্টবে : ইহার তলায় প্রতিদিন নিজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থগুলি বলি দিতে হইবে । তাহ হইলে যে বিশাল বনস্পতি শীপ প্রশাখা লষ্টয়া উৰ্দ্ধে মস্তক তুলিয়া উঠিবে, ভাঙ্গর শীতল ছায়ায় সন্তপ্ত ভারতবাসী একদিন জুড়াইবার স্থান পাইবে। ভবিষ্যতে যথল আমাদের পুত্র পৌত্রগণ এই বৃক্ষের সৰ্ব্বসন্তাপহাণী অমৃতময় ফল আস্বাদ করিবে, তখন তাহদের পরলোকগত এই মুষ্টিমেয় পিতামহীদিগের কথা স্মরণ করিয়া তাহারা যোড়হস্তে, সজল নয়নে, মীর বার উদ্ধ পালে তাকাইবে ; আমাদের শ্রম ও স্বার্থত্যাগেয় তাহ নিতান্ত অযোগ্য পুরস্কার হইবে না। ত্রৈমণ । অম্বরের পথে বহু সাহেব মেম দেখিলাম, তাহারা অম্বর দেখিয়া ফিরিতেছেন । অম্বর রাজা মানসিংহের পুরাতন রাজধানী। ১৬০০ খৃষ্টকে প্রতিষ্ঠিত। হ্রদপরিধা বেষ্টিত পৰ্ব্বতের উপরে রাজপ্রাসাদ । মহারাজা জয়সিং অম্বর - পরিত্যাগ করিয়া জয়পুরে তাহার রাজধানী স্থানান্তরিত ! ভ্রমণ । -


- ممممممممم مہم--

8 సి. করেন। অম্বর হইতে জয়পর ৭ মাইল। জয়পুর বিদ্যাধর ভট্টাচাৰ্য্য নামক একজন বাঙ্গালীর কীৰ্ত্তি । তিনিই প্রথমে এই সহরের স্থান স্থির করিয়া উচ্চ প্রাচীয় স্বারা বেষ্টিত করেন। খুব বড় বড় দৃঢ় কবাটযুক্ত সাতটি তোরণ নগরের প্রবেশ পথ। রাত্রি ৯ টার সময় সহর বন্ধ হইয়া ধায়, তথন আগম নির্গম একেবারে বন্ধ। কোন কোন ভাগ্যবানের অসময়েও আগম নিগমের অনুমতিপত্র আছে। অল্পমতিপত্র লা দেখাইতে পারিলে কেহই প্রবেশাধিকার পায় না। দ্বারবানদিগের সতর্কতা পরীক্ষার জন্ত মহারাজা রামসিং নাকি একবার রাত্রি ৯টার পরও বাহিরে ছিলেন। কপাট বন্ধ হইয়া গেলে তিনি প্রবেশ করিতে চাহেন। দ্বারবান কিছুতেই ঢুকিতে দিবে না। তাহায় কাকুতি মিনতিতে বিয়ন্ত হইয় তাহাকে ধাক্কা দিয়া সরাইয়া দিল। তখন তিনি অনেকগুলি টাকা তাঁহাকে স্বীকার করিয়া ও নিতান্ত ত্বর জানাইয়া ধারবানকে অনুনয় করিলেন। তথল দ্বারবান প্রহারের আয়োজন করিতেছে দেখিয়া তিনি প্রস্থান করেন। চলিয়া যাইবার সময় দ্বারবান প্তাহাকে মহারাজ বলিয়া চিনিতে পারে এবং সে আপনার আসন্ন মৃত্যু ভাবিয়া দ্বার ছাড়িয়া পলায়ন করে। পরদিন অনেক অনুসন্ধানের পর সেই দ্বারবানকে ধরিয়া দরবারে হাজির করা হয়। সে বেচারা ত’ মৃত্যুর জন্ত প্রস্তুত হইয়া আসিয়াছিল। কিন্তু সে প্রত মহারাঙ্গর নিকট যথেষ্ট পুরস্কারলাভ করিয়া গৃহে ফিরিয়া গেল। বিদ্যাধর ভট্টাচার্যা প্রথমে সহরের রাস্তাগুলি প্রশস্ত ও সরলভাবে প্রস্তুত করিয়া পরে রাজপ্রাসাদ নিৰ্ম্মাণ করাইয়াছিলেন ও জনসাধারণকে বাস করিতে দিয়াছিলেন। জয়পুরের প্রধান রাস্তাগুলি ৮০ হাত চওড়া এবং জ্যামিতিক সরল রেখার মত সরল। ছোট ছোট গলিগুলিও সরল, বড় রাস্তার সন্ধিত সমকোণ করিয়া চলিয়া গিয়াছে। বঁকি চুরা, ধোরা ফেয়া গলি জয়পুয়ে নাই। যেখানে যেখানে দুইটি বড় রাস্ত সমকোণে কাটা গিয়াছে, সেখানে সেখানেই এক একটা ফোয়ারা ও তাহার চারিদিকে বাজার । রাস্তার দোধারা সমস্ত বাড়ীগুলির নিৰ্ম্মাণ-ধারা প্রায় একরূপ ও লালবর্ণেরঞ্জিত। সন্থরথানি যেন ছবিখানি। সন্ধ্যার সময় ভকুলীবাজারেয় রাস্তায় যখন সারি সারি গ্যাসালোকমাল