পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- 8६० - ---- - - - জগিয়া উঠে তখন কি শোভা ! ইহা বাঙালীর অপূৰ্ব্ব কীৰ্ত্তি । বিষ্ঠাধরের যে পলিচয় পাওয়া যায় তাহাতে তাহার বাড়ী নদে শান্তিপুর লিপিত আছে। কেহ কেহ বলেন, মানসিংহ যখন যশোর জয় করেন তখন ইহাদিগকে বাংলা হইতে সে দেশে লইয়া যান। এখনো অনেক ভট্টাচার্যাংশ জয়পুরে আছেন : তাঁহাদের সপ্তপুরুষ বাংলার মুখ দেখেন নাই ও বাংলাভাষার একটি কথাও তাহীদের আয়ত্ব মাই। তাহারা সেই দেশী ব্রাহ্মণবংশে বিবাহদি করিয়া একেবারে পাগড়ী কোর্তাধারী মাড়োজালী হইয়া গিয়াছেন । সঞ্জীবন বাবুর বাড়ীতে এইরূপ ভট্টাচাৰ্য্যবংশীয় একজনকে পাচককৰ্ম্মে নিযুক্ত দেখিয়াছি। যঞ্জীবন বাবু বিদ্যাধরের ছবি ও বংশাবলী সংগ্ৰহ করিয়াছেন। মেঘনাদ বাবু একটি প্রবন্ধ লিথিয়া সাহিত্য পরিষদ পত্রিকায় প্রকাশিত করিয়াছেন । জয়পুরে রাজধানী স্থানান্তবিত হওয়াতে অম্বরেয় অবস্থা শোচনীয় হইয়াছে। অম্বর এখন একটি ক্ষুদ্র পাৰ্ব্বত্য গ্রামে পরিণত হইয়াছে। প্রাসাদ জনশূন্ত ভগ্নস্থপে পরিণত হইতেছে। এপানাকার দ্রষ্টব্য এই পুরাতন রাজধানীর পুরাতন প্রাসাদ । - পৰ্ব্বতের সাহুদেশে এক্কা থামিল। পৰ্ব্বতের চড়াই উঠিবার উপায় পদব্রজে, হস্তিপুষ্ঠে, বা বইতে। নামিয় দেখি সীবন বাবুর স্নেহ-সতর্ক বন্দোবস্তে একপানি বইলু ( গরুর গাউী রথের আকার ) ও একজন সরকারী চাপরাসী ঢাল খাড়া ও পাশ লষ্টয়া আমার অপেক্ষা করিতেছে। আমি বইলুতে চড়িয়৷ অম্বরের পাঙ্গড়ে চড়িতে লাগিলাম। এক সাহেব গজপুষ্ঠে চলিলেন। কতকদুর গিয়া বইলু নিরস্ত হইল, তখন একটা বিশৃঙ্খল বাগানের মধ্য দিয়া হ্রদে বাধের উপর দিয়া পাথর হইতে পাপরে লম্ফ দিয়া পাহাড়ের উপরে উঠিলাম। প্রকাও এক তোরণ অতিক্রম করিয়া প্রাসাদ-প্রাঙ্গণে উপস্থিত হইলাম। এই প্রাঙ্গণে দশহরার সময় বাৎসরিক মেলা হইয়া থাকে এবং তখন হয় মহারাজ স্বয়ং ময় তাহলে আত্মীয়গণ আসিয়া সকলের আনন্দ ও উৎসাহ বৰ্দ্ধন করেন । এই প্রাঙ্গথ হইতে দীর্ঘ উচ্চ সোপানাবলী অতিক্রম প্রবাসী । - [ ৫ম ভাগ । - কলিয়া প্রাসাদাভ্যন্তরে উপস্থিত হওয়া গেল । প্রথমে মুসলমান প্রথা মত দেওয়ানই-আম ও দেওয়ানই-খাস ( যশমন্দির ) নামক দরবার গুহ ; প্রাচীন স্থাপত্য ও কলচর্চার উৎকৃষ্ট নিদর্শন । তাহার পর কত ঘর, অন্দরের মধ্যে কত গলি ঘুঙ্গি রাস্তা, এতদিন পরে সকলগুলি যথাযথ স্মৃতি হইতে বর্ণনা করা অসম্ভব। রাণ ও মহারাণীদিগের স্বালাগার, স্বর্ণমন্দির, বিলাসভবন, মানকক্ষ, সিসম্বর প্রভৃতি এথনো বেশ অবিরুত অবস্থায় রছিয়াছে। তন্দরের পশ্চাতে যেখানে দাসদাসীর মহল ছিল, সেই অংশটাই বড় শোচনীয় অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছে । এই দেশীয় প্রাসাদের প্রধান সৌন্দৰ্য্য জাফরাঢাকা বাতায়লগবাক্ষের শ্রীসৌষ্ঠব। অম্বরের প্রাসাদেও দেওয়ানই-খাসের উপরে মহারাণীদিগের দরবার দেখিবার জন্ত যে অলিন্দ নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল, তাহার কারুকার্য ও সৌন্দর্য্য আমাকে মুগ্ধ করিয়াছিল। একদিন এই সকল কক্ষে কত মধুর হাস্ত, কত করুণ ক্ৰন্দন, কত বীরত্ৰতে প্রোৎসাহ বাক্য ধ্বনিত হইয়াছে, ইহার ইষ্টক পরের অন্তরে অস্তরে কত৭ত গুপ্ত কাহিনী অব্যক্ত রহিয়া গিয়াছে, আজ আমি অতীতের দীন হীন উপাসক সয়ম নমিত মস্তকে সেই সকল কক্ষে বৃথাই তাহদের অন্বেষণ করিতেছিলাম। কত মহোৎসবের আনন, কত শোকের ছাৱা এই প্রাসাদ বহুল কলিয়াছে, আজ সে পবিত্যক্ত, লিঙ্কাক, নিস্তব্ধ। আজ ক্ষরিয়েব সে বাপুত্বের অবসর নাই, বাজপুতানার সে প্রাণ নাই, অম্ববচুম্বী অম্বর প্রাসাদ আজ যে জনশূন্ত হইয়া আছে, তাহা আমার নিকট অশোভন বোধ হয় নাই। বাবস্তুেল ও খ্যাতির এই শ্মশানের উপর উদ্যাল রচনা করিলে অতীত মহত্বকে বিদ্রুপ করা হইত। থাকিয়া থাকিয়া রবি বাবুর "পোডো বাড়ী" নামক কবিতাটি মনে হইতেছিলঃ– “মনে পড়ে সেই সব হামি আর গান, মনে পড়ে কোথা তারা, কোথা অবসান " প্রাসাদ দেখিয়া আবার প্রাঙ্গণে মামলাম। গ্রাঙ্গণের পশ্চাতে জগতস্বরণমন্দির। মহারাজা মানের পুত্ৰ জগতসিংহ বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনীর নায়করূপে আমাদের নিকট সমধিক পরিচিত। তিনি বাস্তবিকই পাঠান বিদ্রোহ দমনের জন্য বঙ্গে আসিয়া গড়মান্দালণে বিবাহ করেন এবং মেদিনীপুরের নিকট কোল স্থানে মৃত্যুমুধে গতিত হল। -- T o ৭ম সংখ্যা । ] - পুত্রবৎসল পিতা পুত্রেব স্মরণচিহ্ন স্বরূপ স্বীয় প্রাসাদসংলগ্ন এই স্বন্দর সন্দিরটি গঠন করাইয়াছিলেন । ইহা যুগযুগান্ত বহিয়া কতশত দর্শকের চক্ষের যথে জঘাট, অক্ষয়, অব্যয় পিতৃস্নেহৰূপে প্রকাশ পাইতেছে। এই মন্দির দেখিয়া অশ্বরের বস্তি একবার দেথিয় আবার প্রাসাদ প্রাঙ্গণে ফিরিলাম। যশোহরেশ্বরী কালী দেখিব বলিয়া । এই কাল আমাদেয় বঙ্গের গৌরব প্রতাপাদিত্যের ইষ্টদেবী ও বিজয়দাত্রী ছিলেন। দু'প্রহরকালে মন্দির বন্ধ ছিল। দুইটার লধ্যে আমার সব দেখা শেব হইয়া গেল । চারিটার সময় মন্দিয় খুলিবে। আমি বাঙ্গালীয় বিজয়দাত্রী দেবীকে দেখিলার লোভ সংবরণ করিতে পারিলাম না ; প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়া তাহাকে দেখিলাম। ঘূর্তিটি যাহ দেখিলাম, তাহাতে আমার তৃপ্তি হইল না। মুখটুকু বাঠিরে বৃথিয়া সমস্ত শরীরটা শীতবস্ত্রে আবৃত ছিল, আমি মূৰ্ত্তির কিছুই দেখিতে পাইলাম না। আন্দাঙ্গে বুঝিলাম, মূর্তিটি দুই হস্তের অধিক উচ্চ হুইবে না। শুনিলাম ইহা না, অষ্টভূজ মূৰ্ত্তি, পদতলে শিব আছেন। এখানকার লোকের বিশ্বাস, ইনি প্রত্যহ নরবলি পাইবার তাঙ্গীকার করাষ্টয়া লইয়। তবে বঙ্গ পরিত্যাগ করিয়াছিলেন। বুভুক্ত জননী অtঞ্জ কত বৎসর হুষ্টতে নরবণীর অপেক্ষা করিতেছেন, কোন সন্তাল কতদিনে জননীর তৃপ্তিয় জন্ত, জননীর কল্যাণের জঙ্ক আপনাকে বলি দিতে প্রস্তুত হইবে, তাহ শুধু জলনীই বলিতে পারেন। সন্ধ্যাপ সময় জয়পুবে ফিরিয়া আসিলাম । রাত্রের গাড়ীতে জয়পুরত্যাগের প্রস্তাব করিলাম, কিন্তু শ্রমকাতর অতিথিকে আতিথ্যে সঞ্জীবনবাবু কিছুতেই বিদায় দিতে স্বীকৃত হুইলেন না । অগত্য অীয়ে একদিন ঠাহার অন্ম ধ্বংস করিলাম । পরদিন পাতে উঠিয়াই কাস্তিবাবুর বান্দ, সহরের জলের কল, Transport corps ও কাস্তিবাবুর পত্নীর চী দেখিতে গেলাম। কাস্তিবাবুর বাদ একটি স্বন্দর দর্শনীয় স্থান। জয়পুরের বাহিরে একটি নদী ছিল, এপল তাঙ্কার প্রবাহ বন্ধ, প্রায় শুদ্ধ । তাহারি একাংশে একটা স্বাধ দিয়া থানিকট জল আটকাষ্টয়া রাখা হইয়াছে, সেট স্বলটুকু জয়পুরবাসীর জীবনোপায়। এই জল বত শুকাইতে ভ্ৰমণ । - - 8Հ b SS MMM SS ം.---- থাকে, লোকেয় প্রখও তত শুকাইতে থাকে। মরু প্রদেশে জুলের কি আদর! - নদীগর্ভের বহু বিস্তৃতাংশ উদ্যানে পরিণত হইয়াছে । এই উদ্যান তল বিভক্ত উপলে উদ্যান, নীচে উষ্ঠান, উত্থানের মধো বাংলা, গ্রীন হাউস : উদ্যানের পাশে মরা নদীর জল কুমুদকলার কমলদলে পূর্ণ। এই উদ্যানের নামই কাস্তি বাবুর বান্দ । ইহা দেখিয়া আমার পাঠকল্পিত কাশ্মীরের দৃষ্ঠা ননে পড়িতেছিল। সেই শুভদিনের আগমন কামনা করিতেছিলাব, যেদিন স্বচক্ষে কাশ্মীরের অপূৰ্ব্ব শোভা নিরীক্ষণ করিয়া তৃপ্ত হইব । মহারাজকে ত্রিটিশরাজের সন্ধিপুত্রে কতকগুলি রসদবাহী গাড়ী ঘোড়ারূপ আবৰ্জ্জুন প্রভিপালন করিতে হয়। তাছাই Transported corps ofä & so of বৈকালে হরিণশিকারী চিতাবাঘ দেখিলাম। চোথে ঠুলি দেওয়া বাঘকে শিকারে লইয়া বাওয়া হয় । হরিণ বাহ্য়ি হইলে ঠুলি খুলিয়া বাব ছাড়িয়া দেওয়া হয়। বাঘ ভরিশ বধ করিব মাত্র তাহাকে একটা পাত্রে করিয়া থানিকট রক্তপান করিতে দেওয়া হয় ও সেই অবসরে চোথে আবার ঠুলি পরাইয় দেওরা হয় । সন্ধ্যার সময় সঞ্জাবল বাবুর নিকট বিদায় প্রার্থনা করিলাম । তিনি ‘লাহেনেয়ায়', গলতা ও সস্তরস্তুদ দেখার প্রলোভন উপস্থিত করিলেন। সাঙ্গেনেয়ার শুরপুক্স হইতে ৭ মাইল দুরে ; সেখানে প্রাচীন জৈনমন্দিব দ্রষ্টব্য স্থান। সে মন্দিরাধিষ্ঠাত্রা দেবতা বোধ হয় সংঘদেব এবং তাহারই নাম হইতে সাঙ্গেনেয়ারের নামকরণ হইয়া থাকা সম্ভব। গলত প্রাক্কতিক সৌন্দৰ্য্যে বিশেষ সমৃদ্ধ পাৰ্ব্বতীয় এক অধিতাকা । এথানে জলাশয় মধ্যে নিৰ্ম্মিত প্রাসাদ উদয়পুরের উপগ্রাসাদের লত সুন্দর না হইলেও দর্শনীয় বটে। সস্তরহুদে ফুলের ষ্টেসন হষ্টতে যাইতে হয়। সেখানে সঞ্জীবন বাবুর অধীনস্থ স্কুল পাঠশালা আছে ; সেখানকার গুরুমহাশয়দের লিখিয়া আমার আতিথা আয়োজন করিয়া দিবেন। এ সকল প্রলোভল বড় গুর প্রলোভন, কিন্তু এপর্য্যন্ত বাড়ীর কোন খবর না পাইরা রুগ্ন ঘূত্না-আপেক্ষিতা দিদিমার জন্ত বড় চিস্তিত হইয়ছিলাম ; আয় বিলম্ব করিতে পারিলাম না। রাত্রের গাড়ীতে দিল্লী উদ্দেশে যাত্রা করিলাম। সঙ্গীবন বাবুর