পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৪২৬ --- ইহঁরা ছ'জনেই আগ্রাঘাত্রী। আমি কংগ্রেস ফেরত জানিতে পারিয়া ইহঁর আমাকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করিয়াছিলেন, আমি বুঝিয়ছিলাম সে সন্মান আমাকে নহে কংগ্রেসকেষ্ট প্রদত্ত হইয়াছিল। এবারে কি কি বিষয় আলোচিত হইল ; কোন্‌ কোন খ্যাতনাম লোক উপস্থিত ছিলেন , কটন সাহেব কি বলিলেন ; আগামী বীরে কংগ্রেস কোথায় বসিবে, ইত্যাদি প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন । হার । পণ্ডিত অযোধানাথের ভ্রাতা সংবাদপত্রেও কংগ্রেসের বস্তান্ত পাঠ করেনা না দেথিয়া বড় মৰ্ম্মাহত হইলাম। পণ্ডিতজী অপেক্ষ কলেক্টর সাহেবকে কংগ্রেস সম্বন্ধে অধিক মনোযোগী দেখিলাম। বঙ্গবিভাগ সম্বন্ধে অপকীরিত লষ্টয় তাহার সহিত আমার অনেকক্ষণ তর্ক হইল। পণ্ডিতজী আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কংগ্রেসে দেশের কোন উপকার হষ্টয়াছে।” এ প্রশ্নে অমাব বড় হাসি অমিয়াছিল। পণ্ডিতखैंक কিছু দস্তিক বলিয়া মনে হইয়াছিল ; কিন্তু কলেক্টর সাহেব একে অমায়িক, তাঁহাতে মুসলমান বলিয়া আমি বরাবর তাহারই সঙ্গে তালৈাপ করিয়াছিলাম । আমি দেশভ্রমণে বাহির হইরাচি জানিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি আলিগড় দেখিয়াছি কি না ? আমি দেখি নাই বলিলাম। তাহাতে তিনি আমাকে আলিগড় দেখিতে নিমন্ত্রণ করিলেন । তিনি পরদিনই অগি হইতে আলিগড় যাইবেল বলিলেন। আমি আবার উজান উঠিয়৷ আলিগড়ে যাইতে পারিব কি না তাঁহাই চিন্তা করিতে ছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে মুসলমানের আতিথ্যগহণে দ্বিধান্বিত মনে কলিয়া বলিলেন, “আমি আপনার জন্ত পৃথক বাঙী, হিন্দু পাচক ও পরিচালক নিযুক্ত করিয়া রাখিব, আপনার কোন ক্লেশ হইবে না।" আমি এরূপ মনে করাতে লজ্জিত হইয়া তাহলে ভ্রম সংশোধন করিতে চেষ্টা করিলাম । দুঃখের বিষয়, অগ্রায় আমার তাধিক বিলম্ব হওয়ায় আমি আলিগড়ে তাহাব সাদর আহবান রক্ষা করিতে পারি লই । আমার আবাল্যের সাধ আমার একটি মুসলমান তন্তরঙ্গ বন্ধু ছুটে, কিন্তু আমার জুটিয়াও জুটে না। আগ্রার পৌঁছিয়া তামার সহযাত্রীদের নিকট বিদায় লইয়৷ ডাক্তার ব্রজসুন্দর বাবুর বাড়ীর উদ্দেশে যাত্রা করিলাম। প্রবাণী । T [ ৫ম ভাগ । হোটেলওরালারা আমাকে বড় বিরক্ত করিয়াছিল। আমি ডাক্তাৰ বাবুর দোহাই দিয়া কোন রকমে লিঙ্কৃতিলাভ করিয়াছিলাম । কিন্তু গাড়োয়াল ও গাইড় কেহই ডাক্তার বাবুকে চিলিল না ; ডাক্তার বাগচী বাবুয় ( তাহারে নিকট আমার পরিচয় পত্র ছিল ) বাড়ী গিয়া ব্রজসুন্দয় বাবুর ঠিকানা জানিয়া লইল। ব্রজসুন্দর বাবু এখানকাল প্রসিদ্ধ ডাক্তার, তাহাকে না চিনিতে পারার মধ্যে একটু বহন্ত অfড়ে । তিনি যখন প্রথম এখানে ব্যবসায় করিতে আসেন, তখন তাহার কোন বন্দোপাধ্যায় বংশীয় বন্ধুল সৃষ্ঠিত একত্র হইয়া এখানে ও আর এক জায়গায় কোথায় দুইটি ঔষধালয় করেন । বন্দোপাধ্যার বন্ধুল ভট্টাচাৰ্য্য পদবী গ্রহণ করেন এবং ব্রজসুন্দর বাবু বন্ধুর বন্দোপাধ্যায় পদবী ধারণ করেন। সেই অবধি ব্রজসুন্দর বাবুর আগ্রার দোকান বানাঙ্গী কোম্পানির দোকান এবং তিনি বানাজীবাবু হইয়াছেন। ভট্টাচাৰ্য্য বলিয়া আমি মুস্কিলে পড়িরাছিলাম । ইহাদের এই বন্ধুপ্রতি বড় চমৎকার বোধ হয়। [ ক্রমশঃ। প্রবাসী বাঙ্গালীর কথা । লগ্নেীপ্রবাসী কুপ্রসিদ্ধ ডাক্তার নবীনচন্দ্র মিত্র মহাশয় অয়দিল হুইল ইহুধাম ত্যাগ করিয়াছেন । তিনি প্রকৃতষ্ট একজন প্রতিভাসম্পন্ন পুরুব ছিলেন এবং স্বয়ং রাঙ্গমহারাজা হইতে জনসাধারণেয় ভক্তি শ্রদ্ধা ও প্রতি অর্জন করা বাঙ্গালী জাতির প্রতি এতদ্দেশায়ের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা সংবদ্ধনের সহায়তা কয়িয়ছিলেন । নবীন বাৰু ১৪ পরগণার অন্তর্গত নৈহাটী গ্রামে ১৮৩৮ অক্ষেত্র ২৭শে আগষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। তাহায় পিতা বাৰু রাণনাথ মিত্র হুগলীর আদালতে ওকালত করিত্নে। নবীন *T3 oth ol Free Church Institute a শিক্ষাপ্রাপ্ত হন । তিনি বিদ্যালয়েয় শিক্ষক ডাক্তার ম্যালর ও ফাইফ সাহেবইয়ের প্রিয় ছাত্র ছিলেন । ইহঁদেয় নিকট সুশিক্ষাপ্রাপ্তিকালে তাহার হৃদরে পুরুষোচিত সদ্‌গুণাবলীর বীজ উপ্ত হয়। এথাল হইতে তিনি জুনিয়র T ৭ম সংখ্যা । ] বুত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হুইয়া বিদ্যালর পরিত্যাগ করেন । তাহার কলিকাতা মেডিকেল কলেজে প্রবেশ করিবার ইচ্ছা প্রথমাবধি অতিশয় বলবতী ছিল । ১৭ বৎসল্প বয়সে তিনি আত্মীয় স্বজন বন্ধুযান্ধবের অল্পবোৰ উপরোধ সমাজচ্যুতির ভয় ও ভৎসলা সত্বেও উক্ত কলেজে ভৰ্ত্তি হইতে যান : কিন্তু সেবার কলেজের কর্তৃপক্ষগণ অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের আবেদন অগ্রাহ করেন । এদিকে তাহার অভিভাবকগণ তাহাকে শিক্ষাবিভাগে প্রবেশ করিবার জন্য Teachers' Certificate পরীক্ষা দিতে বলিলেন। তিনি তদনুসারে যথাসময়ে ঐ পরীক্ষা দিয়া তাঁহাতে উত্তীর্ণ হন । কিন্তু পর বৎসর অর্থাৎ অষ্টাদশ বর্ষ বয়সে পুনরায় মেডিকেল কলেজে প্রবেশাধিকার পাইবার জন্য দরখাস্ত করেন। এবার তাহাক প্রার্থনা মঞ্জুর হয় এবং তিনি সোৎসাহে শিক্ষারম্ভ করেন। এখানে তিনি দুষ্টট প্রথন শ্রেণীর নিদর্শনপত্র, তিনট স্বর্ণপদক এবং উভয় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তিলাভ করিয়৷ ১৮৫৮ অব্দের পণীক্ষোৰ্ত্তীর্ণ ছাত্রগণের মধ্যে রসায়নে সৰ্ব্বোচ্চস্তান অধিকার করেন। স্বনামখ্যাত বিজ্ঞানাচাৰ্য্য পরলোকগত ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার লহাশয় তাহার সহপাঠী ছিলেন এবং রসায়নই তাহার প্রিয়তম বিষয় ছিল। সুতরাং উহাকে ডাক্তার রাজকৃষ্ণ বন্দোপাধ্যায় এবং লঙ্কেীএয়ভূতপূর্ব জেল-সুপারিন্টেণ্ডেণ্ট ডাক্তারম্যাক্রীডিএম, ডি, প্রমুখ বিশেষজ্ঞগণকে প্রতিযোগিতায় পরাস্ত করা তাহার পক্ষে অল্প গৌরবের কথা নহে। নবীন বাবু ডাক্তার সরকারকে “মাষ্টার মহাশয়" বলিয়া সম্বোধন করিতেন । এক পরীক্ষার পর একদিন পূৰ্ব্ববৎ সম্বোধিত হইয়া সরকার মহাশয় নবীনবাবুকে বলেন—“আর তোমার আমায় “মাষ্টার মহাশয়” বলা সাঁজে না । কারণ এখন প্রতিযোণী পরীক্ষায় পরাস্ত করিয়া তুমিই আমার মাষ্টার মহাশয় স্থানীয় श्रुंग्रांछ् ।” .অধিকাংশ প্রতিভাপালী ব্যক্তির ছায় তাহাকেও পাঠা বস্থায় অর্থাভাবে বিত্রত হইতে হুইয়াছিল । একবার তিনি এমনই সঙ্কটে পড়িয়াছিলেন যে, পাঠ্যগ্রন্থ ক্রয় করিবার জষ্ঠ তাহাল বহু পরিশ্রম ও যত্নলব্ধ একটা স্বর্ণপদক বিক্রম করিতে হইয়াছিল। অবশেষে তাহার শিক্ষক পরলোকগত ডাক্তার গুড়ীভ চক্রবর্তী তাহার প্রিয় শিষ্যের সাহায্যার্থে প্রবাসী বাঙ্গালীর কথা । স্বৰ্গীয় ডাক্তার নবীনচন্দ্র মিত্র। - দণ্ডায়মান না ইষ্টলে তাঙ্গর প্রতিভ স্ফর্টি পাইত কি না সন্দেহ স্থল । কলেজের বাবতীয় গৌরব অর্জন কৰিয়া ১৮৬১ অকে তিনি কৰ্ম্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইলেন । প্রথমেই বৰ্দ্ধমান জেলার অন্তর্গত কালনার ব্লাজচিকিৎসালরে সুবন্দোবস্ত করিয়া তাহার কার্যারম্ভ করিবার ভার তাহার উপর ন্যস্ত হয়। এই কার্য্যে তিনি এরূপ দক্ষতা এবং বিচক্ষণতা প্রকাশ করেন যে, অবিলম্বে তাহায় স্বনাম চতুৰ্দ্দিকে প্রচার হইয়া পড়ে। ইহার অব্যবহিত পরেই তিনি মহারাজা মহ্তাব চাদের প্রিয়পাত্র হন । মহারাজা বখন পশ্চিমোগুর প্রদেশ পঞ্জাব মধ্যপ্রদেশাদিতে ভ্ৰমণ করিতে যান, তখন ডাক্তার নবীনবাবুকে সঙ্গে লইয়া বান। কালনার তিনি ছয় বৎসর কাল মাত্র ছিলেন। এখানে তিনি বঙ্গের প্রথিতনামা কবিরাজ স্বগীয় চন্দ্রকিশোর সেন মহাশয়ের চিকিৎসা কলেন। প্রধান প্রধান ডাক্তার ও কবিরাজগণের চিকিৎসা