পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 সহমরণ । যাহারা যুদ্ধক্ষেত্রে পররাষ্ট্রলোভ নীতির সমর্থনা করিতে যাইয়া প্রাণত্যাগ করেন, তাহারা “মার্টার”,–নিজের ধৰ্ম্মবিশ্বাস প্রচার করিতে যাইয় প্রাণত্যাগ করাও “মটারে”র কার্য বলিয়া গৃহীত হইয়া থাকে, অথচ দাম্পত্য-সম্বন্ধ, যাহ। স্বাভাবিক এবং যাঙ্গর উপলক্ষে স্বাখ ও প্রাণ ত্যাগ, ঠিক প্রাকৃতিক নিয়মেষ্ট ঘটতে পারে -সহমরণপথাব নিন্দাবাদের সময় শাময় তাহ বিস্তৃত হুইয়। যাই –এই দেশে অনেক সতী স্বামীব প্রতি জলস্ত আহবাগের বশবৰ্ত্তী হইয়া অপূৰ্ব্বভাবে প্রাণত্যাগ করিয়াছেন। প্রতি পল্লীতে কত চিত রচিয়াছে যেখানকার ধূলিকণী—অত্যন্ত্রত অথচ নীরব প্রেমলীলায় পবিত্র হইয়া আছে। যাহেবের পর্যন্ত অনেকে সেই সকল উপাগান লিগিয়া গিয়াছেন। অথচ পাদীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিশাইয়া আমরা শুধু সহমরণের নিক করিয়াচ আসিয়াছি—সেই মোল-স্থপবিত্র প্রেম-কণাগুলির একখানি ইতিহাস এপর্য্যন্ত রচিত হইল না। আমাদের কবিগণ, সেই স্বৰ্গীয় আত্ম-ত্যাগ সম্বন্ধে একবাবে নীরব। অষ্ঠ দেশভূলভ আমাদের শ্রেষ্ঠত্বগুলি আমরা বুঝি নাই – ইহা দ্বারা আমি বলিতে চাহি ন সহমরণ প্রথা সমাজে পুনরায় প্রবর্কিত হউক ইঙ্গই আমার প্রাগন, কিন্তু যে প্রণায় আশ্চর্য প্রকার ত্যাগের বৃত্তি জাগ্রত হইয়াছিল– তাহ আমাদের অবিশ্ব শার বিষয় নহে। স্বামীর মৃত্যুতে ীির প্রাণত্যাগ-ঠিকৃ স্বাভাবিক নিয়ম দিয়া ব্যাপা কলা যায় না,—উহ একটা আশ্চর্য বকম বাঙ্গাত্রী। কিন্তু কোন বিশেষরূপ উৎকৃষ্ট ফসল জন্মাষ্টতে হটলে সেই গেরে নানারূপ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া করিতে হয়,- ঠিক স্বভাবে কুলায় না। হিন্দুস্থানে সতীক ধে আদশ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল, তাঙ্গ এই দেশে প্রচলিত নানারূপ সামাজিক অবস্থা ও শিক্ষাদীগণর মধ্যে সম্ভবপর হইয়াছিল। রামায়ণের পূর্কের সময় ইষ্টতে গার্হস্থ ধৰ্ম্মকে যে স্তরে উন্নীত কর হইয়াছিল—তৎফলে দাম্পত্য-প্রেমের এই অস্তৃত বিকাশ এদেশে সহজসাধ্য হইয়াছিল। প্রথমত যখন এই সঙ্গীত প্রথার প্রবর্তন হয়, তখন খুব সম্ভব ইহা পুরুষের খেয়াল বা সামাজিক নেতাদের কল্পনায় হুঃ হর নাই। রামায়ণে প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । ১ম সংথ্যা । ] S DBBgg gBB BB ttBB Bttt Btttttt SSSSSS BBB BBB BBS BBBB BB BBB BBB BBBB “ইদং শরীরমালিঙ্গ প্রবিখ্যাদি হুতাশনমূ” এবং বালীর মৃত দেহের সঙ্গে ভঙ্গীভূত হইযাল জঙ্গ তারাও পুম:পুন: কামন কবিতেছেন। ভালস্তবর্যের গৃহস্থালী দে সতীত্বের আদশে পেছিবার পন্থা নির্দেশ করিয়া দিয়াছিল, সেই পথে অগ্রসর হইয় সঙ্গীগণ স্বাভাবিকভাবে এই লক্ষো উপনীত হইয়াছিলেন। সুতরা দেখা যাইতেছে বিধবার পক্ষে সহমরণ একটি পন্থা ছিল, তাঙ্গ যেখানে স্বাভাবিক অতুবাগের বশবৰ্ত্তী হইয়া সঘটিত হইত, সেখানে সমস্ত পরিবারবর্গের চক্ষে গর্তা চিরন্তন মূৰ্বি অঙ্কিত হইয়া যাইত এই আত্মত্যাগে সেই পরিবারের সমস্ত লোক উজ্জল গৌরবে আপনাথিকে কৃতাৰ্থ মনে করিতেন । - দ্বিতীয় পন্থা বৈধব্য বা ব্ৰহ্মচৰ্যা। - ব্রহ্মচর্য্য । গৃহস্থালীর মধ্যে বিধবার একটি স্থান ছিল, সেটি অতি পবিত্র স্থান যাহাতে শরীব ও মন শুচি থাকিতে পারে বৈধব্যত্ৰত সেই সকল অহুষ্ঠানে উত্থাপিত হইত। বিধবা পাবিবরিক কর্তৃত্ব গ্রহণ করিতেন। সুতরা তিনি সংসবের কিছু নহেন, এই ভাব উঠিার মনে উদয় হটবার অবকাশ প্রাপ্ত হইত না । দেবপূজা, লৌকিকত। প্রভৃতি নানা ব্যাপারে তিনিই সূঙ্গে অগ্রগণ্য। বিধবার শুদ্ধাচার সমাজ প্রশংসার চক্ষে দেপিতেন। সুতরাং তিনি সংসাধে বাঙ্গলে গিয়৷ পড়িলেন এই ভাব তাহাব মনে আসিত না। সংসারের সকলেই বিধবার প্রতি বিশেষ যত্ন ও প্রতি প্ৰদৰ্শন করিতেন। বিধবা পরিবারে যে স্থানটি জুডিয়া থাকিতেন, তাঙ্গ একদিকে ধৰ্ম্মেল পবিত্রতায়, মন্ত দিকে সংসারের কৰ্ম্মবাহুল্যে আদৃত ও বিচিত্র ছিল। বিধবা-বিবাহ । তৃতীর পন্থা বিধবার পুনৰায় পৰিণয় , পূর্ক্সেষ্ট উক্ত হঠয়াছে -একান্নভূক্ত পরিবারের প্রাণস্বরূপ রমণী ভিন্ন গৃহে যাইয়া প্রতিষ্ঠিত হইতে পারেন না। যে গুচে তিনি প্রবেশ কলিয়াছেন, অচলা পাষাণ-প্রতিমার স্থার সেই গৃঙ্গেই র্তাগর চিরকালের জন্য প্রতিষ্ঠ হইয়া যায়। কিন্তু একটি স্থলে দ্বিতীয়বার পরিণত হইলেও এই গৃহস্থাগ পারিবারিক সম্পর্কগুলি অনেকটা যথাযথ থাকে । কোন কোন স্থলে হিন্দুসমাজে দেবরবিবাহ প্রচলিত ছিল। রামায়ণ পাঠ করিলে মনে হয় মাৰ্যা-সমাজেও এক সময় দেবর-বিবাহ হইত। দশরথেয় কাছে রাম বলিয়ছিলেন, আমি স্বেচ্ছার ভরতকে সীতা-দান করিতে পারি। এখন আমাদের সমাজে কোন জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা এরূপ কথা বলিলে তাহা কুৎসিৎ বলিয়া বোধ হইবে । সীতা রামকে বলিয়াছিলেন, তুমি শৈলুবের ছায় ভরতের হস্তে আমাকে দিয়া যাইতে চাহিতেছ। রাম মায়া-যুগের সন্ধানে গেলে তদীয় কাতরস্বল শুনিয়া সীতা লক্ষ্মণকে পঞ্চবটী ত্যাগ করিয়া খাওয়ার গুপ্ত--যেরূপ অসঙ্গত গঞ্জনা করিয়াছিলেন, তাহা রামের অভাবে তৎকনিষ্ঠের হস্তে পড়িবার আশঙ্কাল উত্তেজনায় মুখ হইতে বাহির হইয়াছিল। লক্ষাবিজয়ের পর সীতা রামের নিকট উপস্থিত হইলে রাম ঠাহীকে “লক্ষ্মণ বা ভরতে” মনোনিবেশ কর, এরূপ কথা বলিয়াছিলেন। এই প্রকার লান্যদিক হইতে যে সকল আভাস পাওয়া যাইতেছে—তাহাতে মনে হয় কনিষ্ঠকে বিবাহ করিবার রীতি প্রাচীনকালে আর্য্য-সমাজেও প্রচলিত ছিল। যে সমাজে তদ্রুপ রীতি নাই, তথাকার আদর্শ পুরুষ কিম্বা আদর্শ রমণীর মুখে উক্তরূপ বাক্য নিতান্ত অশোভন ও বিসদৃশ মনে হইবে উড়িয়ায় সেই প্রথার বিলয়োমুখ নিদর্শন এখনও প্রাপ্ত হওয়া যাইতে পারে। লেবর-বিবাহে রমণীর অভ্যস্থ স্নেহ তুৰ্থ হুঃখ ও চির-আচরিত ক্রিয়াকলাপের কোনরূপ বিপৰ্য্যয় হয় না,-–এজন্তই বোধ হয় হিন্দুসমাজ এক সময় তাহ অমুমোদন করিয়া থাকিবেন । কিন্তু সতীত্বের আদশ যখন ক্রমশ: লোকের শ্রদ্ধা অধিকতর আকর্ষণ করিল,— তখন এই প্রথা ক্রমশঃ ক্ষীণতর হইয়া লোপ পাইল । ত্যাগস্বীকার । যাহার উপর রন্ধনশালার ভাব, যিনি অন্নদাত্রী,— *াহার নিক্সের ক্ষুধা তৃষ্ণা অনেকট পরাজয় কবিতে হয়। এই কাৰ্য্য মাতার –সমস্ত পরিবারবর্গের মাতৃরূপিণী রমণী নিজের ভোগে স্থপঞ্জিলি প্রদান করেন। গৃহকর্তা গুষ্টতে আয়ত্ত করিয়া সমস্ত আশ্রিতবর্গ, অতিথি অভাগত প্রভৃতি হিন্দুরমণীর সামাজিক অবস্থা। }) সকলের তৃপ্তিসাধন করিয়া ভক্ষাশেষ যাহা কিছু থাকে, তাহাঁই ঠাহ্যর প্রাপ্য। এই ভাগ্যস্বীকারে যিনি যতদূর অগ্রসর, সেই পরিমাণে তিনি উৎকৃষ্ট গৃহিণী পদবাচ্য। এই আদর্শ হিন্দুর গৃহাশ্রমে যেরূপ বিকাশ পাইয়াছিল, অষ্ট কোথায়ও তাহা দেখা যায় না। বালাৰিবা, সহমরণ, ব্রহ্মচর্য ও বিলাসীন কৰ্ম্ম ও পরসেবা-সকলই এক অম্লচ্ছত্রের অন্তর্ভুক্ত পারিবাবিক জীবনকে সার্থক করিবার জন্ত আচরিত হইয়াছিল। সামাজিক প্রাচীন রীতিগুলি সমর্থন করিবার জন্তু আমরা কৃতসংকল্প হই লাই-য়ে আদর্শে প্রাচীন সমাজ গঠিত ছিল, তাহারষ্ট আভাস দিতে চেষ্টা করিয়াছি । কেহ কেহ বলিতে পারেন যে সকল আদর্শের কথা বলা হইয়াছে, প্রকৃতপক্ষে তাঁহায় কিছুই ছিল না, ধরিয়া বাধির নিষ্ঠুরভাবে বিধব্যগুলিকে পোড়াইয় ফেলা হষ্টত, জোর করিয়৷ দুখপোস্থ্য বালিকাকে ব্ৰহ্মচৰ্য্য পালন করান হইত এবং গৃহিণীগুলিকে লাঞ্জিত করিয়া দাসীর মৃত খাটাইয়া লগুয়া হইত। এরূপ কথা যে একান্ত অসত্য তাহা আমরা শপথ কল্লিরা বলিতে পালি না। হয় ত অনেক স্থলে বা অধিকাংশস্থলে অভিযোগকারীর কথা সত্য বলিয়া প্রমাণিত হইতে পারে। কিন্তু আমার বক্তব্য এই যে, একটা উচ্চ আদর্শ ছিল, তাহা কাঞ্চনজঙ্ক। যেরূপ হিমাচলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করে, সেই ভাবে সমাজকে উয়ত আধ্যাত্মিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত রাখিয়াছিল। কিন্তু সেই আদশের বিচ্যুতি ও স্বলন ঘটে নাই, এরূপ অঙ্গীকার কব যায় না। যে যুদ্ধে নেলসন অস্তুত বীরত্ব দেখাইয়াছিলেন, সেই যুদ্ধ ক্ষেত্র হইতে যে কোন ইংরেজ পুঙ্গব পুষ্টভঙ্গ দেন নাই--তাঙ্ক বলা যায় না । যে দেশে নিউটনের মত বিচক্ষণ পণ্ডিত জন্সিয়াছেন, সে দেশে কোন মূথ জন্মিতে পারে না— ইহ প্রমাণ করিতে যাওয়া বৃথা । হয় ত তথায় মুখের সংখ্যাই অধিক। আশশব সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব দেখিতে হইলে খুব উচ্চ স্তরই লক্ষ্য করিতে হয়, কাঞ্চনজঙ্খ দিয়াই হিমালয়ের পরিচয় । সেইরূপ যে সকল রমণী পূৰ্ব্বোক্ত গুণের জীবন্ত প্রমাণ দেখাইয়াছেন--সংখ্যায় অল্প হইলেও তাহারাই আমাদের গৃহস্থালীর আদশ ঘোষণা করিবেন। হিমালয় দেখিতে হুইলে যেরূপ নিম্নতম মুছবরানির প্রতি লক্ষ্য না করিয়া কোণায় গিরিরাজ স্বৰ্গ স্পশ করিতেছেন, তাঁহাই উদ্ধমুখে