পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


--- ৪৪৬ প্রধাস । --- --- করেন নাই বলিয়া বোধ হয়। কোন কোন উৎসাহী যুবক সকলদিক্‌ না দেখিয়া রোগীকে গোট তাল গিলিতে’ পরামর্শ দেন। কেইবা বৃথা কৌতুহল চরিতার্থ করিবার অতিপ্রায়ে কলঞ্জীবীকে কলা সম্বন্ধে বৃথা প্রশ্ন করেন। যখন সম্পূর্ণ কিংবা অকপট উত্তর না পান, তখন মনে করেন, কলাজীবী নিজের কলার উন্নত করিতে চায় না। বস্বত: সে যাহা পরিবে না, বাহা তাম্বার সামর্থের অতীত, ভাঙ্গ করিতে বলিয়। শেষে রক্ষণশীলতার দোষ নেওয়া অদ্যায় । আমাদেয় অভিজ্ঞতা অন্তরূপ। বস্তুতঃ এমন কে আছে যে, নিজের কলার বা ব্যবসায়ের উন্নতি করিতে চায় না ? বাস্তবিক কলাঞ্জাবীর মঙ্গল কামনা করি, এরূপ বুঝিলে সে আসঙ্কোচে সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়, এমন কি শিখিতে চাহিলে তাহার কলা শিখাইয়া দেয়। অবশু সে সদৃশ কলাজীবীকে তাহার ক্রম ঘলিবে না। ইহা স্বাভাবিক, আত্মরক্ষার চেষ্ট৷ মাত্র । দ্বিষিধ বিষরে দেশীর প্রচলিত কলার উন্নতির সম্ভাবনা আছে। (১) প্রচলিত ঘন্ত্রের উন্নতি এবং নুতন যন্ত্রের ব্যবহার, (২) ক্রমের উন্নতি এবং নুতন ক্রম প্রবর্তন। আমাদের দেশে কারাকেয়া যে যৎসামান্ত ঘঞ্জ সাহায্যে যে দ্রব্য নিৰ্ম্মাণ করে,তাহ দেখিয়া পাশ্চাভা কারকেয়া ধিস্থিত হর। স্বর্ণ ও রৌপোয় অলঙ্কারে দেখা গিয়ছে, দেশীয় স্বর্ণকার এমন শিল্প কৌশল প্রদর্শন করিয়াছে, যাহা কলিকাতার বড় বড় সাহেব স্বর্ণকারের অতুমানও করিতে পারে নাই। স্থল যন্ত্র সাহায্যে স্বশ্ন কৰ্ম্ম করিতে পারা যায় না, এমন নহে; কিন্তু উৎকৃষ্ট যন্ত্রে সে কৰ্ম্মটি অল্প সমরে করিতে পারা যায়। উহা দ্বারা ঘষিয়া লৌহ কিংবা পিত্তল দণ্ডে স্কপ কাটিতে পারা যায় ঘটে, কিন্তু স্তুপ কাটিবার যন্ত্র পাইলেঞ্জ সময়ে অক্লেশে কাটিতে পারা যায়। এক পাশ্চাত্য কুমান যন্ত্রে কত অভাবনীর রূপ নিৰ্ম্মাণ করিতে পারা যায়। শ্ৰেণীয় পুরাতম তাত অপেক্ষ শ্রীরামপুরের ঠকঠাক তাতে অধিক কাজ হয়। এইরূপ সকল বিষয়েই দেখা যায়, আমদের কলাজীবীর উৎক্লষ্ট ঘঙ্গ পাইলে বহু কাজ অল্প সময়ে কারভে পারিত, ফলে উৎপন্ন দ্রব্য স্কলভ হইতে পারিত। বর্তমান কলজীবীর দারিদ্র্য এবং শিক্ষাভাব সকল ৫ম ভাগ । উন্নতির অন্তরায়হুরূপ ইষ্টা বহিয়াছে। দাবিদ্র্যহেতু উৎকৃষ্ট ঘন্ত্র ক্রয় করিবার, এবং দারিদ্র্য ও শিক্ষাভাবহেতু ভবিষ্যৎ উন্নতির চেষ্টায় পরীক্ষা করিয়া দেখিবার উপায় নাই। আমাদের দেশের কারুকের স্ব স্ব প্রধান, কোন মূলধনীর অধীনে কৰ্ম্ম করে না । তাতি নিজের পুরাতম তাত খানি লইয়। খাহা পারে, ভাহা করিতেছে ; চৰ্ম্মকার একথালি চৰ্ম্ম কষায়িত করিয়া একটু একটু করিয়া জুতা সেলাই করিতেছে; কৃষক এ মাঠের সে মাঠেয় টুক্র টুকর জমি চাষ করিয়া ধান্ত সংগ্ৰহ করিতেছে । যাহার “অষ্ঠভক্ষ্যোধমুগুণs,” যাহার উৎকৃষ্ট ঘন্ত্র নাই, যাহার কৰ্ম্মবিভাগের উপায় নাই, যাহার বিদেশীয় কলাজ্ঞান নাই, তাহীকে যে জীবনসংগ্রামে পরাভব স্বীকার করিতে হইবে, তাহাতে আশ্চর্যা কি ? বিলাতে ইহার সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে অধিকাংশ কলার পশ্চাতে ধনশালী মহাজন আছে, কৰ্ম্মশালার কারুকের স্ব স্ব নির্দিষ্ট কৰ্ম্মে নিযুক্ত আছে, উৎকৃষ্ট বহুমূল্য যন্ত্ৰ চলিতেছে, পরীক্ষাগারে বিচক্ষণ শিক্ষিত ব্যক্তি শ্রমলাঘবের এবং উৎকৃষ্ট ক্রমের উদ্ভাবনায় নিযুক্ত আছে। এই কলার এই খানেই শেং, এ কথা সে দেশে নাই, উন্নতি অসীম সে দেশের লোকের ধারণা ৷ যে ব্রিটেনের বিজ্ঞান কলাবিদ্যা বাণিজ্য প্রভৃতি আমরা লোভনীর মনে করি, সেই ব্রিটেন অন্ত উন্নততর দেশের সহিত প্রতিদ্বস্থিতায় পারিয়া উঠিতেছে না। খ্ৰীষ্টাপে “ব্রিটিশ আসোসিয়েশন” নামক বৈজ্ঞানিক সভার ষার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি সার নরমান লকিয়ায় ব্রিটেনের কলার উন্নতিকল্পে বিজ্ঞানচর্চার নিমিত্ত শ্রোতৃবর্গকে উত্তেজিত করিয়াছিলেন । হুঙ্কলি বলিয়ছিলেন, “বর্তমান কালের জীবনসংগ্রাম পূৰ্ব্বকালের মত নহে। এখন প্রতিস্বস্থিত। এ ব্যক্তির সহিত সে ব্যক্তির নছে, এ জাতির সহিত সে জাতির। আমাদের (ব্রিটেনের ) কলা অন্ত জাতির সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হইতেছে ; কারণ এখন বাণিজ্য বিজয়পতাকার অনুগমন না করিয়া বুদ্ধির অমুর্গমন করিতেছে । জৰ্ম্মনির একটি রাসায়নিক দ্রব্যকরণশালায় বিজ্ঞানে ডাক্তার পরীক্ষাৰ্ত্তীর্ণ চাল্লিশত ব্যক্তি কয়েক বৎ সরের মধ্যে সময়ে সমরে নিযুক্ত হইয়াছিলেন । আমেরিকার যুক্তরাজ্যে কলাঞ্জাবীর উৎকৃষ্ট ছাত্রগণের শিক্ষা সমাপ্তিমাত্র --- গত ১৯৭৩ ৮ম সংখ্যা । ] - তাহাদিগকে টানিয়া লইয়া গিয়া স্ব স্ব কল্যস্থানে নিযুক্ত কয়ে ”w ব্রিটেনে ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু আমেরিকার যুক্তরাজ্যে ১৩৪টি, জার্মানিভে ২২টি। এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়, কলাবিদ্যালয় নহে। জৰ্ম্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুল্য শ্রেণীর ৯টি কলাশিক্ষালয় আছে। গ্রেট ব্রিটেনের সমুদয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের নির্মিত্ত বৎসরে যভ অর্থব্যয় হয়, জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিমিত্ত তত ব্যয় হয়। এক বালিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিমিত্ত বৎসরে ১৯০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয় । কয়েক বৎসর মাত্র আমেরিকার যুক্তরাজ্য কলাবিষয়ে মনোনিবেশ করিয়াছে। এই হেতু যুক্তরাজ্যের কলাজাত দ্রব্যের বিস্তার এখনও অধিক হয় নাই। তথাপি সে দেশে দ্রব্য নিৰ্ম্মাণের উন্নতক্রম লক্ষ্য করিয়া ইংলও চিন্তিত হইয়াছে। ১৯৮২ খ্ৰীষ্টাব্দে ইংলণ্ডের সম্বাশয় মোসলি সাহেবের উদ্যোগে ইংলণ্ডের ২২টি কলাসমিতির প্রতিনিধিগণ যুক্তরাজ্যে কলাস্থানে কাজ দেখিতে গিয়াছিলেন। তাহাদের বিবরণী হইতে জানা যায় যে, আমেরিকার কারুকের স্বশিক্ষিত, এজন্য তাহারা জীবনসংগ্রামে জয়ী হইয়াছে। ইহারই ফলে তথায় উৎকৃষ্ট নব্য প্রকারে পণ্যদ্রব্য নিৰ্ম্মিত হইতেছে। কোন নূতন যন্ত্র কোথাও উদ্ভাবিত হইলে, তাহার মূল্যের কথা না ভাবিয়া কলাস্বামীরা কলাস্থানে আনয়ন করিতেছে। শ্রম দেশে কলার বিস্তার। -- - - - -

  • “It is a struggle between organised species— nations—not between individuals or any class of individuals. It is, moreover, a struggle in which science and brain take the place of swords, and sinews. on which depended the result of those conflicts which, up to the present, have determind the history and fate of nations. * * We are suffering, because trade no longer follows the slag as in the old days, but because trade follows the brains, and out manufacturers are to apt to be careless in securing them. In one chemical establishment im Germany 4Do doctors of science, the best the universities then can turn out, have been comployed at different times in late years. In the United States the most successful students in the higher teaching centres are snapped up the moment they have sinished their course of training, allel put into charge of large concerns, so that the idea has got abroad that youth is the password of success in American industry."

_দ্ধ। 88ፃ --- --- লাঘবকর যন্ত্রের বছল প্রচলনে কারুকের বহু সময় বাচিয়া যায়, তাহার বেতনবৃদ্ধি হয়, জীবনযাত্রার স্বৰ্থস্বচ্ছন্দতা বৃদ্ধি হয়, বিশেষতঃ কারুকের সংখ্যা হ্রাস না পাইয় বৃদ্ধি পায়। ইংলণ্ডে প্রত্যেক কারুকের বেতনের এক একটা সীমা নির্দিষ্ট আছে । ইহার ফলে, কারুক ঘন্ত্র দ্রুত চালনা করিতে কিংবা অধিক পরিশ্রম করিতে চায় না । কিন্তু যুক্তরাজ্যে ইহার বিপরীত। তথায় কলাস্বামী তাহার নিয়োজিত কারুকগণকে অধিক অর্থ উপার্জন করিতে দেখিলে আনন্দিত হয়েন, তিনি নিজের লভ্যাংশ পাইলেই সস্তুষ্ট হয়েন। নুতন যন্ত্রের জন্ত অধিক কাজ, স্বতরাং অধিক লfত হইতেছে, অতএব কারুক অধিক বেতন পাইতে পারে না,—এরূপ বিতর্ক আমেরিকায় নাই। কারুকার্য্যস্বামী বেশ বুঝেন, প্রত্যেক কারুক অর্থে মুলধন বুঝায় ; সুতরাং যতই উৎপাদন হইবে, ততই তাহার লভ্যাংশ বাড়িবে। তথায় মূলধনী ও কারুকের স্বার্থ এক, বিভিন্ন নহে । উৎপাদন বৃদ্ধি হইলেই কারুকেয় যেতনবৃদ্ধি হয় । যে কারুক দিনের মধ্যে ১১ বারের পরিবর্তে ১২ বার লৌহাদি ধাতু ঢালাই করে, তাহার যেতন দ্বিগুণ হয়। ইংলণ্ডের তুলনায় আমেরিকার কারুকের বেতন দেড়গুণ দুইগুণ অধিক ; অথচ কারুস্বামী লাভ করিতেছেন, অন্ত দেশের সহিত বাণিজ্যে প্রতিদ্বম্বিত৷ করিতেছেন। ইহার কারণ এই যে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে মিতবায়িতার দিকে তাহার বিশেষ দৃষ্টি আছে। তিনি বুঝেন, ১১ বার ঢালাই করিলেই যথেষ্ট লাভ থাকে ; যদি ১২ বার ঢালাই হয়, তাছা হইলে কেধল অসিদ্ধ বস্তুর মূলাই ব্যয় হয়, অন্ত ব্যয় হয় না । তিনি বুঝিয়াছেন, কলাশালার যিনি হিসাবপত্র দেখেন কিংবা কৰ্ম্ম পরিশন করেন, কোন যন্ত্রে কোন বিষয়ে কিরূপে উন্নভি হইতে পারে তাহা সেই যন্ত্ৰচালক যেমন বুঝেন, তেমন অন্তে বুঝিতে পারে না । এজষ্ঠ প্রত্যেক কারুককেই উন্নতি উদৃভাবন করিতে উৎসাহিত করা হয়। যে কারুক কোন বিষয়ে কিছু উন্নতির পথ প্রদর্শন করিতে পারে, তাহার বেতন বৃদ্ধি হয়, সে প্রচুর পুরস্কার পায়, কিংবা সেই উদ্ভাবনে যে লাভ হয় তাহার যথোচিত অংশ পার। অর্থাৎ প্রত্যেক কারুক জানে যে, হস্তচালনার মূল্যের স্তায় বুদ্ধিচালনার মূল্য আছে। ইহার শেষ ফল এই যে, দেশে উদভাবনাশক্তি বৃদ্ধি হইতেছে।