পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| 88b আমাদের দেশে উল্লিখিত উপদেশের প্রয়োগক্ষেত্র অল্পই আছে। তথাপি কি উপায়ে অন্য দেশে অল্প ব্যয়ে পণ্যদ্রব্য উৎপন্ন হইতেছে, তাহার আলোচনার ফল আছে। আমাদের দেশে কোন কোন কলার মূলধনী আছেন, এবং কোন কোন স্থানে এক এক দ্রব্য যথেষ্ট উৎপন্ন হইতেছে। কোন কোন কার্যস্থানে দেখা গিয়াছে, কাক কারুস্বামীর মধ্যে ঈর্ষ বিদ্যমান ; কোন কারিকর অধিক অর্থ উপার্জন করিতে না পারে, তাহার চেষ্টা করা হয় । অল্প মূলধনের কাৰ্য্যে ভবন, পাছে কারু উপার্জিত অর্থ সঞ্চর করিয়া পরে স্বাধীন হয় এবং স্বয়ং কারুস্বামী হইয়া উঠে। কিন্তু মূলধনে কি হইবে, যদি কারিকর না থাকে, যদি কৰ্ম্মে সে উৎসাহ না পাইয়া বাধা পাইতে থাকে ? আমরা জানি, বায় কমাইয়া আয় বাড়াইতে ; জানি না উৎপাদন বাড়াইয়া জায় বড়িাইতে । আমাদের দেশে বড় বড় কারুস্থান অত্যয়ই আছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কলাজীবীর সংখ্যাই অধিক, মহাজননিযুক্ত কলাজীবীর সংখ্যা অল্প। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কলাজীবী দ্বারা এক এক গ্রাম নিকটবৰ্ত্তী গ্রাম বা দূরবর্তী নগর হইতে স্বাধীন হইয়া রহিয়াছে। নিত্য আবশ্বক প্রায় সমুদয় দ্রব্য গ্রামে উৎপন্ন হইয় থাকে। কোন কোন স্থানে অবস্থান্তর ঘটিয়াছে বটে, তথাপি গ্রাম্য ক্ষুদ্র কলা আমাদেরদেশের সাধারণ লক্ষণ। কিন্তু বর্তমানকালে ইহাদের দ্বারা দেশের কলার উন্নতি ও বিস্তারের সম্ভাবনা অল্প । বোধ হয়, কালক্রমে এদেশেও বড় বড় কারুস্থান হইবে। তখন ক্রমশঃ গ্রাম্য কারুর উপার্জন হ্রাস পাইবে, এবং বড় বড় কারুস্থানে উৎপন্ন দ্রব দ্বারা লোকের অভাব মোচন হুইবে । এই অবস্থান্তর প্রাপ্তিদ্বার দেশের মঙ্গল কি অমঙ্গল হইবে, তাহা নিরূপণ করা কঠিন। কোন কৰ্ম্ম বা ব্যবস্থা দ্বারা পরে মঙ্গল কি অমঙ্গল হইবে, ইহা ভাবিয়া দেশের সাধারণ লোক সে কৰ্ম্ম বা ব্যবস্থা কয়ে না। বিভিন্ন শক্তির ক্রিয় প্রতিক্রিয়ার ফলে সমাজ-ব্যবস্থায় পরিবর্তন হয়। যে পথে মাথা অল্প, সেই পথে সমাজ-ব্যবস্থ চালিত হয় । হে ভৰিয়তের জটিল প্রশ্ন তবিয়াতের গর্ভে নিহিত হৰিল বর্তমানের চিন্তা করা যাউক । দেখা যাইতেছে, স্কলার উন্নতি অর্থাৎ স্বল্পব্যয়ে দ্রব্যের উৎকৰ্ষসাধন এবং প্রবাসী । { ৫ম ভাগ । প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করিতে হইলে শিক্ষিত লোকের অর্থ ও বুদ্ধি প্রয়োগ আবখক । প্রত্যেক অর্থ ও বুদ্ধিশালী ব্যক্তিই এই কার্য্যে কিয়ৎ পরিমাণেও সফলতালাভ করিতে পারেন। তিনি যে কলঞ্জাত দ্রব্যের উন্নতি আকাজা করিবেন, তদবিষয়ে তিনি প্রথমে অজ্ঞ থাকিবেন, সন্দেহ নাই। এই অজ্ঞতা ভাবিয়া নিরুৎসাহ হইলে চলিবে না । মনে রাঁথিতে হইবে, মাতৃগর্ভ হইতে আমরা জ্ঞান লইয়া জন্মগ্রহণ করি না । শিশু দ্রব সকল দেখিয়া, লাড়িয়া চাড়িয়া, তাঙ্গিয়া, গড়িয়া, লোকের মুখে শুনিয়া, তৎসম্বন্ধে জ্ঞানসঞ্চর করে। ইহাই প্রকৃতির নিরম; সৰ্ব্বকালে, সৰ্ব্বদেশে এই নিয়ম। আন্তরিক আগ্রহ থাকিলে যে কোন শিক্ষিত ব্যক্তি অভীপিত কলার দ্রবা গুণ কৰ্ম্ম দেখিতে দেখিতে সে কলার মূলতত্ত্ব কিছু কিছু বুঝিতে পরিবেন। এখন হয় ত অনেকগুলি ছোট ছোট পরীক্ষা মনে হইবে। একাগ্রতার ফলে হয় ত কতকগুলি অনুমান মিথ্যা বলিয়া বোধ হইবে । হয় ত সেই কলাবিষয়ে অনেক ইংরাজি পুস্তক পাওয়া যাইযে। উদ্যোগী ব্যক্তি সেই সমুদয় পুস্তক মনোযোগপূর্বক পাঠ করবেন, এবং প্রত্যেক ছোট ছোট ক্রিয়াগুলির উদ্দেশু বুদ্ধিতে চেষ্ট কবিবেন। যান্ত্রিক কিংবা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব স্বয়ং বুঝিতে না পারিলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য লইবেন। তার পর পরীক্ষার বিষয় স্থির হইলে অর্থব্যয় করিয়া তাহার পরীক্ষা করিবেন । হয় ত দুই চারিট আশা বৃথা হইবে। কিন্তু সেই বিফলতার সফলতার পথ স্পষ্ট দেথা যাইবে । না ঠেকিয়া কিছুই শিথিতে পারা যায় না। সে কলাবিষয়ে দক্ষ কারিকর অল্প প্রদেশে থাকিলে তাহাকে আমাইয় কিংবা সে প্রদেশে গিয়া কাজ দেখিতে হইবে । হয় ত এ প্রদেশের কারুর ক্রটি অল্প প্রদেশের কার দূর কয়িভে পারিয়াছে। বুদ্ধিমান হইলে সেই কারু দুই প্রদেশের অবলম্বিত ক্রম মিলাইয়া হয় ত অভিনব ক্রম উর্দুভাবন করিতে পরিবে। কারিকরের স্থায় নিজে কাজটি করিবায় চেষ্টা কয় শিক্ষিত ব্যক্তির পক্ষে বৃথা। কারিকরের হাত, হাতের আকুল, পেশী ইত্যাদি পিতৃপিতামহ হইতে প্রাপ্ত। বাল্যকাল হইতে তাহার হাতের যে অভ্যাস জন্মিয়াছে, তাহা দুই দশ দিনের চেষ্ট্রীয় কখনও লাভ করিতে পারা যায় না। আমাদের বিশ্বাস, যে কোন বুদ্ধিমান অমৃয়াগী শিক্ষিত ব্যক্তি ৮ম সংখ্যা । ) পারেন । যদি কেহ মনে করেন, বর্ণিত উপায় দ্বারা বাস্তবিক কিছু হইতে পারে না, তাহার ভ্রমশোধন এবং উৎসাহ উৎপাদন নিমিত্ত এদেশেরই একটি জলস্ত দৃষ্টান্ত দেওয়া বাইতেছে। ইনি কটকের শ্ৰীযুক্ত মধুসুদন দাস, এম এ বি এল, সি আই ই। ব্যবসায়ে ইনি উকিল যাত্র । উকিল হইয়া, এবং এ দেশের পক্ষে বৃদ্ধাবস্থায়, ইনি ষে সদৃষ্টান্ত প্রদর্শন * করিয়াছেন, তাহাতে আমাদের সকলেরই উৎসাহিত হইবার কথা। আজ পাচ ছয় যৎসর হইল দেশীয় কোন কোন কলার প্রতি ইহার মনোযোগ আকৃষ্ট হয় । আরম্ভকালে ইনি একদিন বলিয়াছিলেন যে, তাহার অট্টালিকার প্রত্যেক ইটখানি দেশের লোক নিৰ্ম্মাণ করিয়া দিয়াছে, তিনি তাহাদের কি উপকার করিয়াছেন ? এই ভাব মনের মধ্যে উদিত হইলে কেহ নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না । মধু বাবুও নিশ্চিন্ত থাকিতে পারিলেন না। একটির পর একটি করিয়া ইনি এতগুলি কলার তত্ত্ব আয়ত্ত্ব করিয়াছেন যে, শুনিলে সকলেই আশ্চৰ্য্য বোধ করবেন। ইনি আধুনিক বিজ্ঞান জানেন না, কিন্তু ইষ্ঠার চিত্ত চিরজিজ্ঞাস্থ হইয়া আছে। কোথাও কিছু নুতন দেখিলে, ইনি তদবিষয়ে চিন্তা করিতে অভ্যস্ত, এবং তত্ত্বারা ইহঁর অমুষ্ঠিত কলাবিষয়ে কোন সাহায্য পাওয়৷ বাল্প কিন্তু না, তাহা মনে জাগিয়া থাকে। ইষ্ঠার বাড়ীতে দেখিবেন, দুই এক খানি বাকান কাঠের চেয়ার ( bentwood chair ) কুহিয়াছে ; এই চেয়ার ওড়িশার কাঠে ইষ্ঠার আদেশক্রমে বাড়ীতেই নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। দেখিবেন, বেতের অবিকল বিলাতির মত এবং কোন কোন বিষয়ে উৎকৃষ্ট পোর্টমাণ্টে প্রস্তুভহইয়াছে, এবং সম্প্রতি অন্য উপকরণেসেরূপ বাল্প নিৰ্ম্মিত হইতেছে ; দেখিবেন মহিষের হরিণের শৃঙ্গ, গজদন্ত, এবং নানাবিধ উৎকৃষ্ট কাঠের দ্রব্য নিৰ্ম্মিত হইতেছে ; আলুমিনি ধাতুর "আলুমিনি গোল্ডের”, রেপোয়, স্বর্ণের, নানাবিধ কলাকৌশলসম্পন্ন উত্তম উত্তম দ্রব্য নিৰ্ম্মিত হইতেছে ; সম্প্রতি বঙ্গদেশে কলমের নিব নিৰ্ম্মাণ হইতেছে। কিন্তু হুই বৎসর পুৰ্ব্বে মধুবাবু নিব করাষ্টয়াছেন ; তিন চারি যৎসর পূর্কে ষ্টাইলে পেন করিবার আধার প্রস্তুত হইয়া এখন স্ত,পীকৃত হইয় পড়িয়া আছে। কারুস্থানে দেশে কলার বিস্তার। তাহার আকাঙ্ক্ষিভ কলাসম্বন্ধে কিছু-না-কিছু করিতে এমন 88ఫి উৎকৃষ্ট কুন্দনযাদি আছে, ষে বোধ হয় তত্ত্ব, ধন্ত্র আমাদের দেশের অন্য স্থানে কদাচিৎ আছে। এই সকল যন্ত্রচালনার নিমিত্ত ষ্টিম এন্ত্রিন স্থাপিত হইয়াছিল । সেই এপ্লিনের নির্বাণোন্মুখ অগ্নি বৃথা নষ্ট হইতে না দিয়া তদ্ধার উৎকৃষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রণালীতে গোড়া লেমেনেড ইত্যাদি পানীয় প্রস্তুত হইত দেখিবেন, চৰ্ম্ম ক্যায়িত করিবার আয়োজন চলিতেছে। মধু বাৰু এখানকার কলেজের একটি ছাত্রকে মাদ্রাজের আটকুলে বহু অর্থ ব্যয়ে ক্রোম-কষায়করণ শিথাইয়া আনাইয়াছেন। কানপুরের গভর্ণমেন্ট টানারিতে নিজে সেই যুবকে লইয়া গিয়া তিনি দেশীয় কষায়ের উৎকৃষ্ট প্রয়োগ অবগত হইয়া আসিয়াছেন । তাহার কারুস্থানে দেশীয় তাত, শ্রীরামপুরের তাত, জাপানি তাত, পঞ্জাবের মহম্মদ সুকীয় তাত, বিলাতি হাতের { Canterbury ) তাত, বিলাতি ও এঞ্জিন দ্বারা চালনীয় তাত প্রভৃতির পরীক্ষা চলিতেছে । ইতিমধ্যে কোন কোন বিষয়ে উন্নতি হুইয়াছে। জাপানি তাত পায়ে চালাইবার উপায় ইয়াছে। কৃষিক্ষেত্রে নূতন শস্যের ও নুতন সারের পরীক্ষা চলিতেছে। এইরূপ ও অদ্যান্ত বহুবিধ দেশহিতকর কৰ্ম্মে মধুবাবু দিবারাত্র ব্যাপৃত থাকেন। কলার কোন কোন অঙ্গে প্রচুর উন্নতি করিয়াছেন। প্রত্যেক কলাজাত otom of stal ( designing ), ofrerí ( finish ), উৎকর্ষ উদ্‌ভাবনা প্রভৃতি বুদ্ধিচালনার ব্যাপার তিনি নিজে করেন। তাহার কারুস্থানে প্রায় শত ব্যক্তি নিযুক্ত আছে। বস্তুতঃ তাহার দ্যায় পরিশ্রমশীল ব্যক্তি অতাল্পই দেখা যায়। অথচ তাহার স্বাস্থ্য প্রায়ই ভাল থাকে না, অধিকাংশ দিবল রোগীর পথ্যে তাহাকে জীবনধারণ করিতে হয় । সকল স্বদেশহিতৈষী দ্বারা এত কাজ হুইবার সম্ভাবনা নাই। কোন এক জনের এতগুলি বিভিন্ন কলায় হস্তক্ষেপ করাও উচিত হইবে না। এইখানে আত্মসংযম বাঞ্ছনীয় বটে ; কিন্তু ইহা মুখে বলা কিংবা কাগজে লেখা যত সহজ মনে হয়, কাজে করা তত সহজ লহে । যিনি কোন একটি বিষয়ে সাফল্যলাভ করেন, অল্প পচিশটি বিধয় তাহার অন অধিকার করিয়া বসে। যদি দেশের পঞ্চাশ জন উঙ্কিয়৷ মধুবাবুর স্থায় এক এক কলায় ফেঁাকে থাকিতেন, তাছ। হইলে দশটি কলারও কি ঐবৃদ্ধি হইতে পারিত না ?