পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


86 o - -----بی.--م.م.. - শত জন চেষ্টা করে, একজন সফল হয় । বোম্যান নিৰ্ম্মাt সাফল্যের নিমিত্ত কত পাশ্চাত্য দেশে কত লোক চেষ্টা করিতেছে, কত অর্থবায় হইতেছে ! এই রূপই চাই, উদ্ভাবনা অকস্মাৎ হয় না, শিল্পী আকাশে জন্মে না। দেশীর কলার উন্নতি কল্পে, মধুবাবুর ভাষায়, ধন জন মন প্রয়োগ আবখ্যক । অর্থব্যয় ব্যতীত কোন কল৷ বিষয়ে পরীক্ষা হইতে পারে না । লোকবল অর্থাৎ কারুক না থাকিলে উদ্যম সফল হয় না। মন বা বুদ্ধি ও একাগ্রত না থাকিলে ধন ও জন বৃথা । দেশের শিক্ষিত জমাদার ও উকিলগণের উক্ত তিন বলই আছে । তথাপি দেশের ঐবৃদ্ধি হইতেছে না কেন ? দেশীয় কলা বিস্তারে দুইটি বিষয় লক্ষ্য করিবার আছে। যে কারণেই হউক, আমাদের পূর্ব রুচি পরিবৰ্ত্তিত হইয়াছে, কিন্তু কলাজীবীর সে পরিবর্তন মনোযোগের সহিত লক্ষ্য করে নাই, কিংবা করিলেও নূতন রুচি সঙ্গত প্ৰবা উৎপাদন করিতে পারিতেছে না। দেশর বছদ্রব্যের পরিকল্পনার কিঞ্চিৎ পরিবর্তন, এবং বিশেষত: পরিকৰ্ম্মে মনোযোগ করিলে সে সকল দ্রবোল ক্রেতার অভাব ঘটে না । পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় অবগু সবিশেষ সাবধান হইতে হুইবে । শিল্প দ্রব্যে যে ভারতীয় কল্পনা { art ) দ্রব্যটিকে এদেশীয় করিয়া রাখিয়াছে, তাহাতেই তাহা আদরণীয়। সেরূপ দ্রবো হাত দেওয়াতে, বিশেষতঃ ইংরাজি শিক্ষিত এবং পাশ্চাত্য রুচিগ্রস্ত লোকের হাত দেওয়াতে দেশীয় শিল্পের অধঃপতনের আশঙ্কা আছে। সে সকল শিল্প দ্রব্যকে দেশের পুণ্য দ্রবা ভাধিয়া, বক্ষের ধনের স্থায়, দেশহিতৈষী মাত্রেরই তাহার রক্ষা কৰ্ত্তব্য। কিন্তু কলাজাত জীবন সাধনের কোন কোন অঙ্গে পরিবর্তন আবশ্বক বিবেচিত হইতে পারে। পরিবর্তনের অল্প কারণ না থাকিলেও কেবল জীবনসংগ্রামে জয়লাভের নিমিত্ত আবখ্যক হইতে পারে। পরিকল্পনা অপেক্ষা পরিকৰ্ম্মের অত্যন্ত প্রয়োজন হুইয়াছে। দেশীয় কোন কোন কৰ্ম্মকার ছুরি ও কঁচির ইস্পাত,পাইন,ধার ইত্যাদি গুণের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ করে, কিন্তু বাহ সৌন্দৰ্য্যও যে একটা গুণ তাহার প্রতি উপেক্ষ করে। কেবল যহি সৌন্দর্য্যের গুণে বিদেশীয় অসংথ্য দ্রব্য হাটে বাজারে ধিক্রীত হইতেছে । মানব চিরকালই সৌন্দর্যের দান। একথা ভুলিয়া কেবল কাজে প্রবাসী । ৫ম ভাগ । SS MM M S M S M S M S M S M S M S ভাল ঘলিয়া ক্রেতাকে প্রলুব্ধ করা চলে না। চিন্তা করিলে বুঝা যায়, দেশীয় বহু দ্রব্য কেবল পরিকৰ্ম্মের অভাবে বিদেশীয় দ্রব্যের নিকট পরাভূত হইতেছে। অথচ এই কাজটি কঠিন মহে, অর্থ থাকিলে কারুক লিজেক্ট করিতে পারিত, পরিকন্মের নমিত্ত আবখ্যক উপকরণ পাইলে, প্রায় সকলেই পারে । পরিকল্ম করিতে ব্যয় হয় ; সুতরাং পরিকীকৃত দ্রব্যেয় মূল্যবৃদ্ধি হয়। মূল্যবৃদ্ধি হইলে ক্রেভার সংখ্যা হ্রাস পায়। মূল্যবৃদ্ধি না করিয়া বিক্রয় করিতে হইলে কলাতে কৰ্ম্মবিভাগ এবং যথেষ্ট ঘন্ত্র ব্যবহার আবশ্বক। আমাদের দেশের কারুকের কৰ্ম্মবিভাগের প্রায় বিরোধী। তাহার কারণ এই ষে,যে কারুক কোন দ্রব্যের একটি অঙ্গ নিৰ্ম্মাণ করিতে থাকে, সে সমুদয় দ্রব্যটি নিৰ্ম্মাণ করিতে শিথিবীর সুযোগ পায় না ; তাহাকে অন্তের সাহচর্য্যের উপর নির্ভর করিয়া থাকিতে হয়। সুতরাং সে কোনকালে স্বাধীন হষ্টতে পায়ে না। এই চিন্তায় সে বরং মোটা রকমে সমুদয় দ্রব্যটি গড়িতে শিখিবে, অন্তের সাহায্য বা দয়ার উপর নির্ভর করে না । কোন কোন কলার কৰ্ম্মবিভাগ আছে বটে, কিন্তু আরও অধিক হইলে সেই সেই কলাজাত দ্রব্য অপেক্ষাকৃত স্থলভ হইতে পারিত। ধনবান্‌ শিক্ষিত ধ্যক্তি কারুক নিযুক্ত করির কলার প্রতিষ্ঠা করিলে, অল্প চেষ্টায় কৰ্ম্মবিভাগ হইতে পারে। অর্থের অনটন না হওয়াতে পরিকল্পৰ্বত দ্রব্য রহিয়া বসিয়া উপযুক্ত সময়ে এবং উপযুক্ত হাটে বিক্রয় করা যাইতে পারিবে । স্বল্পধন কারুক দ্বারা একাজ হইতে পারে না। আর একটি যৎসামান্ত কাজের প্রতিও উৎপাদকের দৃষ্টিপাত আবশ্যক। সেটি উৎপন্ন দ্রবাকে যথাযোগা আবরণে আবৃত করা। কাপড়, কাগজ, বাক্স প্রভৃতি কোন রূপ আবরণ না দিলে কেবল যে দূরস্থানে পণ্য প্রেরণের অসুবিধা হয়, তাহী নহে ; দ্রব্যটি ক্রেতারও লোভনীয় চয় না । বস্তুতঃ যে উৎপাদক নিজের উৎপন্ন দ্রব্যের আদর করিল না, সে তৎপ্রতি অন্তের আদর আশা করিতে পারে ন। আবরণের মূল্য আছে সত্য, কিন্তু সে মূল্য পণ্য দ্রবোর মুল্যের অন্তর্গত মনে করা উচিত। অনেক স্থলে আবরণের গুণে পণ্য দ্রব্যের সৌন্দৰ্য্য বৃদ্ধি পায়, এবং দ্রব্যটি ভাল থাকে। কলিকাতার কোন কোন উৎপাদক ও বিক্রেতা একথাটি ---o ৮ম সংখ্যা । ] - - বুঝিতে আরম্ভ করিয়াছে। কেহ কেহ বাড়া বাড়ি’ করিয়া বিক্রেয় দ্রব্যের মূল্য বৃথা বাড়াইতেছে। সঙ্গতির জ্ঞান সুলভ নহে। তথাপি মনে রাখা উচিত, অসঙ্গত বিজ্ঞাপলের দ্যায়, অসঙ্গত সমৃদৃগক ক্রেতার নিকট দ্রব্যের অসারতাই ঘোষণা করে। অনেক বিজ্ঞাপনে যে চত্র প্রকাশিত হয়, তাহা দ্বারা দেশীয় উৎপাদক ও বিক্রেতা নিজের নিজের নিন্দাই প্রচায় করে। বস্তুতঃ অনেক বিষয়ের স্থায় পাশ্চাত্য বিজ্ঞাপনকৌশলও এদেশে এখন “খাপছাড়া’ অবস্থায় আছে। ধন, জন, ঘন,—কলার তিনটি আযায়-স্তম্ভ। ধনবান ও শিক্ষিত ব্যক্তিতে তিনটিই বৰ্ত্তমান । বৰ্ত্তমান না থাকিলে ধন ও মনের সম্মিলন আবশ্বক ৷ লক্ষ্মী ও সরস্বতীর বিবাদ এদেশে প্রসিদ্ধ ; কিন্তু কলাতে লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে একত্র স্থাপন করিতে হইবে। পাশ্চাত্য দেশে উভয়ের বিবাদের দিন গত হইয়াছে, এদেশেই বা না হইবে কেন ? গ্রীন বালে সাহেব সত্যই লিথিয়াছেন, ‘বদি এদেশীয় কেহ কোন কলার প্রবর্তন ও উন্নতি করেন, তাহ হইলে তদ্বারা তিনি নিজে যেমন ধনবান হইতে পারেন, তেমনই দেশেরও কল্যাণ সাধন করিতে পারেন। দেশের সেবা ও অর্থোপার্ক্সন এক সঙ্গে হইতে পায়ে । এদেশের অধিকাংশ লোকের নিকট অর্থোপার্জন ও দেশহিতসাধন পৃথক ব্যাপার। কিন্তু এই দুয়ের সামঞ্জস্ত আছে, কলার উন্নতি সাধনে।" - ঐযোগেশচন্দ্র রায় । দেশে কলার বিস্তার। - ( s ) - উপায় । কলাশিক্ষা । কোন পণ্য দ্রব্য উৎপাদনের পূৰ্ব্বে সে বিষয়ে অবশু জ্ঞান চাই। জৰ্ম্মানিতে কলাবিজ্ঞান যে উন্নত অবস্থায় উপনীত হইয়াছে, তাহ সে দেশের শিক্ষার ব্যবস্থার গুণেই হইয়াছে। সেদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার ব্যবস্থা আছে যে, তাহাতে দুরূহ কলাশিক্ষা বিষয়ে সাহায্য হয়। ছাত্ৰগণ পরীক্ষার পর এই সকল বিশ্ববিদ্যালয় হইতে প্রশংসাপত্র (ডিগ্রি ) পাইয়া থাকেন। কিন্তু এতদূব্যতীত সে দেশে উচ্চ কলাশিক্ষালয় (technical high schools) দেশে কলার বিস্তার । - - SS MMM S M S M S M S M S M S M S M S M S M S M S SS 8Q> নয় দশটি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান পদবীর অধ্যাপক এই সকল কলাশিক্ষালয়ে নিযুক্ত আছেন। তাহারা বাস্তকৰ্ম্ম (architecture), soft Azstafa (engineering), রসায়ন, এবং সাধারণ কলাবিজ্ঞান শিক্ষা দিয়া থাকেন। এই সকল শিক্ষাল৯ স্থল নামে পরিচিত বটে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কলাবিজ্ঞান যতদুর শিক্ষা দেওয়া হইয়া থাকে, এই সকল কলাশিক্ষালয়েও ততদূর দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কলাশিক্ষার ষে সীমা আছে, উক্ত কলাশিক্ষালয়ে তাহা অতিক্রান্ত হয় । এরূপ কলাশিক্ষালয় ইংলণ্ডে একটিও নাই। এজন্য আজকাল অনেকে কলাশিক্ষা কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত করিবার চেষ্টায় আছেন। জাপানের কলাশিক্ষার ব্যবস্থা কতকটা জৰ্ম্মানির অনুকরণে চলিতেছে। সে বিবরণ অনেকেই সংবাদপত্রে পাঠ করিয়াছেন। অবশু বিশ্ববিদ্যালয়কে কেহ বিশ্বকলালয়ে পরিণত করিতে ইচ্ছা করিবেন না। সকল সমাজেই উক্ত দ্বিবিধ আলম্বের প্রয়োজন আছে। উভয়ের উদেশ্ব এক নহে, শিক্ষাপ্রণালীও এক হইতে পারে না। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু বিশ্বকল্যলর নাই। ফলে, সমাজের একাঙ্গের "ঞ্জি হইতেছে, অন্ত অঙ্গের হইতেছে না। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সামান্ত চিন্তার বিষয় নহে। তথাপি এ কথা বুঝা কঠিন নহে যে, দেশের সকল লোক কথনও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অধিকারী হইতে পারে না। দেশের সকল লোক কেবল পণ্ডিত হইলেও সমাজ স্ববাবস্থিত হয় না। অনেক বিষয়ে এদেশের প্রাচীন ব্যবস্থার লোপ পাইয়াছে, বৰ্ত্তমান পাশ্চাত্য আদর্শ তাহার স্থান অধিকার করিতেছে। কিন্তু পাশ্চাত্য দেশের যাহা এদেশে পহুছিয়াছে, তাহাতে পুরাতন সমাজ ভাঙ্গাই পড়িতেছে, গড় হইতেছে না। এইটিই সকলের বিশেষ চিন্তার কারণ হইয়াছে। কোন পথে গেলে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মিলন হিতকর হইতে পায়ে, বোধ করি তাহ এদেশের ভবিষ্যদুবংশীয়ে স্থির করিবেন। তথাপি সমাজসাম্য যেমন বাহ কারণে পরিবৰ্ত্তিত হয়, তেমনই ভাহা সেই বাহ কারণের মধ্যে তিষ্ঠিয় থাকিবার যোগ্য হইতেও চেষ্টা করে। এই চেষ্টা বিদেশে গিয়া কলাশিক্ষায় পরিণত হইতেছে। জ্ঞানযোগ সাধনার নিমিত্ত সাগর সপ্তদ্বীপ পৃথিবীতে