পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| ৮ম সংখ্যা । ] হইয়া গিয়াছিল। আমি গাড় করিয়া প্রসিদ্ধ এড্‌ভোকেট (উকিল) ত্রীযুক্ত হামাচরণ বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ী আসিলাম। প্তাহার পুত্র বামাচরণ বাবুর নিকট আমার পরিচয়পত্র ছিল। তিনি তখনে আপিলে। অগতা থোদ কৰ্ত্তার সহিতই সাক্ষাৎ করিলাম তিনি অল্প একটু ইতস্ততঃ করিয়া আশ্রয়দানে স্বীকৃত হইলেন। বিনয়পূৰ্ব্বক বলিলেন, তাহার বাহিরে নীচে একটি ধর, সেই ধরে থাকিতে যদি কষ্ট বোধ না করি, তবে যে কর দিন ইচ্ছা থাকিতে পারি। আমি আনন্দিত হইলাম। উকিলবাবুর জামাতা ও ছোট পুত্ৰগণ আমাকে পরম যত্নে জলযোগ করাইলেন। জাম্যতা গোপাল বাৰু আমাকে সঙ্গে লক্টর ভ্রমণে বাহির হইলেন। পথে বামাচরণ বাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হইল। তিনি আমাকে দেখিয়া আন্দাঞ্জী চিনিলেন, কারণ আনি পূৰ্ব্বে আজমীর হইতে চিঠি লিখিয়াছিলাম ; আমাকে দেখিয়া খুব আনন্দ প্রকাশ করিলেন। বহুকাল লক্ষ্মেীপ্রবাসে উর্দু, ইছাদের মাতৃভাষা ও বাংলা পরকীয় ভাষা হইয়া গিয়াছে । ইহঁার বাংলা উচ্চারণ ও ভাঙ্গ ভঙ্গ উর্দু, মিশ্রিত বাংলা শুনির আমার বড় কৌতুক বোধ হইতেছিল । দেখিলাম, এখানকার ছেলেদের ইংরাজির মানে উর্দুতে কহিতে হর; সহপাঠীদের সঙ্গে উর্দু, কের খির সঙ্গে উর্দু, ; এরা যে বাংলা মোটেই বলিতে পারেন তাহাই আশ্চৰ্য্য। জয়পুরের সঞ্জীবন বাবুর কন্থ “নবীন ছলিতেছে" বুঝিতে পারে না, নবীন হিলছে” বলিয়৷ বুঝাইতে হইয়াছিল। ইহা খুব স্বাভাবিক হইলেও, বেশ l কৌতুককর । প্রথম দিন কৈসরবাগ, কলেজ ও কলেজের পশ্চাতে দুটি সমাধি, ছতর মনজিল, গোমতী নদী, লোহার পুল, আদালত ইত্যাদি দেখিয়া বাজারের মধ্য দিয়া সন্ধ্যার পর বাড়ী ফিরিলাম । আমার আহারের সমর বাড়ীর সকলে আমাকে ঘিরিয়া নানাবিধ গল্প অাদরে পরম আপ্যায়িত করিয়াছিলেন। গল্পের গ্ৰধান বিষয় কংগ্রেস। গবর্ণমেণ্ট চাকুরের কি করিয়া চুরি করিয়া আগামীবারে কংগ্রেস দেখিবেন তাহারো পরামর্শ হুইল । গবর্ণমেণ্ট কেন যে কংগ্রেসকে এত সংশয়ের চক্ষে দেখেন তাহা নিতাস্ত অবোধ । ভ্ৰমণ । 8 পরদিন আহারান্তে কৈসরপসন্দ নামক ভগ্ন অট্টালিকা, ইংফিল্ড পার্ক, সেকেন্দ্রাবাগ, লা মাটিনিয়র কলেজ, শা নজক প্রভৃতি দেখির বামাচরণ বাবুর আপিসে আসিলাম । উইংফিল্ড পার্কটি বেশ স্বকৃত সুসজ্জিত। লা মাটিনিয়র কলেজ নয়তলা বাড়ী ; ইগর নিৰ্ম্মাণে কাষ্ঠ ব্যবহৃত হয় নাই ; সমস্ত, ছাদ পৰ্য্যন্ত, খিলান, দরজা জানাল কাপড়ের পরদ ঢাকা ; এখন কাঠ ব্যবহৃত হইতেছে । ইহার পশ্চাতে একটা পুষ্করিণীর মধ্যে একটা প্রকাও উচ্চ স্তম্ভ আছে। শা নজফ সমাধিমন্দির ; এখানে কয়েকটি ভাল বড় বাতিদান আছে । বামাচরণ বাবুকে সঙ্গে করিয়া মিউজিয়ম, হোসেনাবাদ, ইমামবাড়া, কুরশিদ মনজিল, মচ্ছিভবন, বেলিগার্ড বা cafat'sson, picture gallery s 5* cofootn I মিউজিয়মটি ছোট থাটোর মব্যে বেশ। অনেক প্রাচীন প্রস্তরলিপি ও দেশীয় শিল্পের নমুনা রক্ষিত আছে। এখানকার প্রধান শিল্প ‘চিকণ'। যুরোপে এই চিকশের খুব আদর। কিন্তু একাৰ্য্য এখানকার কয়েকটি পরিবারে আবদ্ধ ; কোথার কিরূপে প্রস্তুত ও বিক্রয় করিতে হয় তাহী প্রকাশ করে না। মচ্চিভবন নবাবদের কৌলিক চিহ্ন মৎস্ত হইতে নাম প্রাপ্ত। ইমামবাড়া ও হোসেনাবাদ বড় স্বন্দর। মহরমের সময় খুব সমারোহ হয় ; আলোকমালায় বিভূষিত করা হয়। ইমামবাড়া পুণ্যশ্লোক আসফউদ্দৌলা নবাব দুর্ভিক্ষ বৎসরে সাহায্যপ্রার্থী লোকদের দ্বারা প্ৰস্তুত কয়াইয়াছিলেন । তাহার ধান প্রবাঙ্গবাক্যে পরিণত হইয়াছে। শযস্কো না দে মৌল, উস্কে দে আসফউদ্দৌলা”। তিনি কিন্তু অকৰ্ম্মাকে ধান করিতেন না। সাহায্যপ্রার্থী ভদ্রলোককে পৰ্য্যন্ত অস্তুত একথানি ইট বহন করিয়া তবে সাহায্য লইতে হইয়াছিল। ইমামবাড়ার প্রকাও হল ও ধর সমস্তই খিলান , ইহার দেউড়ির একাংশে দ্বিতলে একটা উচ্চশ্রেণীর ইংরাজি বিস্কালয় বসিয়াছে ; ইহা দ্বারা ইহার বিপুলত্ব উপলব্ধি হইবে। ষ্টুষ্টিগণ এই সকল বেশ স্ববন্দোবস্তে রাখিয়াছেন বোধ হইল। রেসিডেন্সি মিউটিনির ইতিহাসে প্রসন্ধ স্থান। ইহার জার্ণপঞ্জরে গোলাগুলির দাগ এথনো ভীতি উৎপাদন করে।