পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


سرارا8x अथानकार গাইডদের ਦਿੱੇ ইতিহাস একেবারে “ঠোটস্থ", অনর্গল স্বচ্ছদে নাম তারিখ ঘটনা বলিয়া যায়। Picture galleryতে অযোধ্যার নবাববংশের সকলের চিত্র আছে। যাহার একদিন স্বাধীন বলিয়। ইংরাজকত্ত্বক স্বীকৃত ও সন্মানিত হইয়াছিলেন, এখন শুধু তাহাদের স্বকীৰ্ত্তি কুকীৰ্ত্তি বর্তমান, আর কিছু নাই। "নীচৈৰ্গচ্ছত্যুপরি চ দশ চক্রনেমিক্রমেণ ।” ওয়াজিদ আলি শার তৈলচিত্ৰখানা বস্ত্রাবৃত রহিয়াছে। কুলাঙ্গারের মুথাবরণই উপযুক্ত ! কারণ সন্ধানে জানিলাম, চিত্রে চাপকানের ফঁাকে বুকের কিয়দংশ অনাবৃত দেখা যায়, ইহাতে নাকি ইঙ্গাঙ্গনাগণ মূচ্ছিত হন, সেই জন্ত হতভাগ্য গৃহতাড়িত নবাবকে বস্ত্রাবৃত রাখা হইয়াছে। শুনিলাম, কতকগুলি নীচ স্বার্থপর অমাত্যের কুচক্রে নবাব লম্পট ও অকৰ্ম্মণ্য হষ্টয় পড়েন । আমাদের দেশ চিরকাল স্বার্থকবলিত, পরপদদলিত । চকে যথন গেলাম তখন সেখানে বড় ভিড়। সঙ্কীর্ণ গলির দুধারি দোকান, দোকানের উপরে চ্যারি বেখ্যা । দিল্লীতেও ঠিক এইরূপ দেগিয়াছিলাম। সৌধীন যুবকগণ এইবায়কীর দারুণ শীতের সন্ধ্যাকালেও পাতলা ফুরফুরে রেশমী চাপকানে অতির মাখিয়া, মাথার সযত্নবিদ্যগু বাবরি চুলের উপর কাত করিয়া বাহারে টুপি বসাইয়া পয়সা খিলি পানে অধর রঞ্জিত করিয়া, হাতে রেশমী রুমৗলের সুবাস ছড়াইয়া ইতস্ততঃ হেলিয়াছলিয়া পাদচারণা করিতেছেন। সন্ধ্যা কালে এ পথে গাড়ীচলাচল বন্ধ থাকে। চারিদিকে এসরাজ ও কণ্ঠসঙ্গীতের মধুপ্লাবন ; বেশ একটু ভাবময় পরীরাজ্যের মত। এখানে সেই সুদূর নবাবী অমলের ক্ষীণ আমেজ এখনো একটু পাওয়া যায়, বেশ কৌতুক ও আনন্দ বোধ হয়। বিখ্যাত লক্ষে ইংরি শুনিতে বড় সাধ হইয়াছিল। বামাচরণ বাবু তাহার সুবিধাও করিয়াছিলেন, কিন্তু গান শুনিতে ও বারবনিতালয়ে যাইতে কেমন ঘৃণা ও লজ্জা বোধ হইতে লাগিল। আমি যষ্টিতে পারিলাম না। লক্ষেীসহর লোকসংখ্যায় ভারতের চতুর্থ শহর ; আয়তন মিস্তৃতিতে বোধ হয় প্রথম । সহরের একটা মজা দেখিলাম, ইহা লগ্নতাহীন । খানিকট বস্তি, তার পর মাঠ, ফসলের ক্ষেত্র ; তার পর আবার বস্তি, আবার ক্ষেত্র। সহরের বস্তির মধ্যে মধ্যেও কত তামাক প্রভূতির t দেখিলাম i প্রবাসী । মোটের উপর সংরটি বেশ ইংরেজ পাড়াট বেশ প্রশস্তপথসমষ্ঠিত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, বহু স্বন্দর বিপনিসজ্জিত। লক্ষে সহবের নাম City oflavns। বাস্তবিক হরিৎশপাস্তৃত এত সুন্দর মাঠ ( lawn ) আমি কোথাও দেখি নাই ; কানপুরে কিছু দেখিয়াছি, কিন্তু এত বেশ সংখ্যক কোথাও নাই। কলিকাতার গড়ের মাঠ এখানকার মাঠের তুলনায় কি কদৰ্য্য ও কুপ্রী বোধ হইয়াছিল। এই সকল স্থান দেখিয়া কলিকাতার প্রতি আমার কিছু মাত্র শ্রদ্ধা ছিল ন । পরদিন প্রাতে অযোধ্য যাত্র করলাম। বৈকালে অযোধ্যার পৌঁছিয়া একথান এক্কা করিয়া রাজবৈষ্ঠ শ্ৰীযুক্ত ঈশানচন্দ্র সেন মহাশরের উদ্দেশে চলিলাম। হইতে ফিশ কিশ করিয়া জ্বল হইতেছিল, এখন খুব জোরে আসিল। পথের মাঝে আবার চুঙ্গীর আড্ডাওলার আমার বাক্স খুলিয়া হোমিওপ্যাথি ঔষধকটার জন্ত তিন আন চুঙ্গি মাশুল আদায় করিয়া লইল। আমার এই উপদ্রবে বড় রাগ হইয়াছিল, সঙ্গে কেহ থাকিলে আমি মাশুল আদায়কারী অভদ্র লোকটাকে শিক্ষা দিতাম। “শিরদি আহত ভোগীইব শুধু মিফল য়াগে গর্জন করিয়াছিলাম। অনেক অনুসন্ধানেও বাজবৈদ্যের গৃহের সন্ধান পাইলাম না। কোন বাঙ্গালীরও নাম সংগ্ৰহ করিতে পারিলাম না। তথন অগত্য এক আশ্রয়েই অন্যহারে সমস্ত দ্রষ্টব্য দেখিতে লাগিলাম। রাজবাড়ীটি বেশ সুন্দর। একজন সাহেবের নামে রাজবাড়ীর তোরণের নাম দেখিয়া বড় ঘুণ বোধ হইয়াছিল। রাজবাড়ীর ভিতর উদ্যান, তোষাখানা ও ভাণ্ডার ইত্যাষ্টি দর্শনীয়। রাজবাড়ীর উদ্যানটি বেশ কবিত্বযর । রাজবাড়ী দেখিয়া সরযু দেখিতে গেলাম। এই নদীর সঙ্গে যাহাদের স্মৃতি জড়িত স্তাহাদের চরণে প্রণাম করিয়া ফিরিলাম। পথে হনুমানগড়া বা হনুমানের মন্দির, কনকভবন, রামের জন্মস্থান ও সীতার পাকশাল দেখিলাম। হনুমানগড় খুব উচ্চস্থানে নিৰ্ম্মিত মন্দির। অযোধ্যায় মাঝে মাঝে অনেক টিপি আছে ; সেগুলির নাম গড় । রামচন্দ্রের প্রধান অমাতোর নামে নাম । ইহা ভিন্ন রাম চন্দ্রের প্রাসাদের কোন চিহ্ন দেখা যায় না। কুপ ইনার খননকালে খুব মাটির নীচে মাঝে মাঝে খুব চৌড় এটি ( ತಃ । প্রাতঃকাল | " ৮ম সংখ্যা । ] বাহির হয়। নদীর ভাঙ্গনেও অনেক ইষ্টক গ্রথিত প্রাচীরাংশ কৃপ ইত্যাদি মাঝে মাঝে প্রকাশ পায়। কনকভবনের খুব নাম শুনিয়াছিলাম । শ্বেত প্রস্তরে নিৰ্ম্মিত মন্দির ; কিন্তু তেমন পরিষ্কার পবিচ্ছন্নভাবে রক্ষিত নহে। বৃন্দাবনের সাহাজীর মন্দির এতদপেক্ষা ঢের ভাল। রামচন্দ্রের জন্মস্থানে ধৰ্ম্মান্ধ ঔরঙ্গজেবের মসজিদ বৰ্ব্বর গৰ্ব্বে মাথা তুলিয়াছে। তাহার পাশে ক্ষুদ্র উটজ আশ্রয়ে রামচন্দ্রের মূৰ্ত্তি রক্ষিত । অঙ্গনে মুরগী চরিতেছে, দেখিয়া আমি বড় বাথ পাইয়াছিলাম । আমি পীতার পাতালপ্রবেশ স্থান দেখিতে চাহিলাম। আমায় লইয়া গেল সীতার পাকশাল দেখাইতে, মৃত্তিকা নিয়ে একটা ধবে সীতা দেবীর শ্বেত প্রস্তরের মূৰ্ত্তি আর দুইটা চুল্লী অধুনাকালে স্পষ্ট, শুধু পয়সা লইবার ফিকির। সাঁতার পাতালপ্রবেশ কাও পাণ্ডার কেহ জ্ঞানে না দেখিলাম । কনক ভবনের পাশে আর একটা ভাঙ্গা মন্দিরে কি প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান দেখিরছিলাম মনে পড়িতেছে না। ’ ষ্টেশনে চলিয়া গেলাম। সেখানে একটা দোকানে কিঞ্চিৎ জলযোগ করিয়া একটা থাটিয়াতে রাত্রির গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিলাম। ষ্টেশনে বিশ্রামকক্ষ নাই; ষ্টেশন মাষ্টারটিও অতি অভদ্র । এখানে বেমন কষ্ট পাইয়া ছিলাম, দেবতা মানুষ অবস্থায় যেরূপ কষ্ট দিয়াছিল, এমন আর কোথাও হয় নাই। টিকিট করিতে গেলাম, ষ্টেশন মাষ্ট্রর পাঁচ টাকার নোট লইল না। ভাগ্যে আমার সঙ্গে গিনিও ছিল তাই রক্ষা। এখানে সকল দিকেই বিপদ । গাড়ীর জন্ত অপেক্ষা করিতেছি, একটি সহযাত্রীকে এক একবীর মাঙালী মনে হইতেছিল, আবার পশ্চিমী মুসলমান পুলিশ সব-ইন্সপেকটার কি এমনি একটা কিছু মনে হইতে ছিল । আমারো আধাপীশচমা পোষাক। উভয়েই উভয়ের নিকট প্রহেলিকার মত । আমি আলাপ করিবার প্রলোভন সংবরণ করিতে ন পারিয়া কাছ ঘেঁসিয়া একটু ছোট সেলাম করিয়া কহিলাম — "আপ কঁহি তস্রিফ লেতে হেঁ।” ইত্যাদি যথাক্রমে "দৌলত থান গরীবখানা” যথারীতি পরম্পরে সব হইল । আমি ত বাঙ্গালী ধরা পড়িলাম, তাহার আর কোন সন্ধান ভ্ৰমণ । ჭ&ჯა পাই না । আমি যখন বলিলাম আমার বাড়ী বাংলায়, তখন তিনি জিজ্ঞাসিলেন-“বাংলায় কোথায় ?” আমি বিদেশার নিকট সহজবোধ করিবার জন্য বলিলাম “কলিকাতায় I’” প্রশ্ন—“থাস্ কলকাত্তা ?” আমি—নেহি, দেহাতমে। হুগলি জিলামে প্রশ্ন—“গাও ?” আমি—“আগর কর্হে তো সম্ঝেঙ্গে ?” উত্তর—“আখের ত’ ফরমাইয়ে।” আমি যেই গ্রামের নাম বলিলাম, অমনি সেই ভদ্রলোক খাসা বাংলায় বলিলেন “আমারো বাড়ী শান্তিপুর।" তিনি বিস্তুতনামা পরামাণিক, ফয়জাবাদের উকিল। তিনি বলিলেন, আমার উর্দু উচ্চারণে প্রথমে আমাকে পশ্চিম মনে করিয়াছিলেন । ইহাতে আবাল্য মধ্যবয়স পৰ্য্যস্ত বঙ্গের গণ্ডীবদ্ধ আনি বে একটু fattered cztą FfF staffs হইয়াছিলাম, তাহা এখন অকপটে স্বীকার করিতেছি। তিনি অযোধ্য ফয়জাবাদ সম্বন্ধে অনেক গল্প করিলেন। চিতোর প্রভৃতি স্থান সম্বন্ধে অনেক কথা হইল। তাহার সহিত ইহার পূৰ্ব্বে পরিচয় হয় নাই বলিয়া দুঃখপ্রকাশ করিলেন। আমি তাহার কোন আত্মীয়ের বাড়ী একদিন অপেক্ষা করিলে আমায় ভাল করিয়া অযোধ্যা ফৈজাবাদ দেখাইল্প দিবেন তাহাও বলিলেন। আমি ধন্যবাদ করিলাম। ভোর রাত্রে কাণী পৌছিলাম। কৃষ্ণপক্ষে অন্ধকার কোয়াসা মেঘ বৃষ্টির মধ্যে হাতড়াইতে হাতড়াইতে দ্বিগুণ গাড়ীভাড়া দিয়া আমার দিদিমার বাড়ীতে গিয়া উঠিলাম। সেখানে আমার বন্ধু, পরিচিত, আত্মীয় ঢের । আনন্দে কাশী দর্শন করিতে লাগিলাম । আমি বেশাস্তের কলেজ, কুইন্স কলেজ, চৈতসিংহের সহিত ইংরাজের যুদ্ধক্ষেত্র ও সারনাথ দেখিলাম। সারনাথে বৌদ্ধস্তুপ দর্শনীয়। সমস্ত প্রাচীন relics সংগ্ৰহ করিয়া মিউজিয়ম করা হইতেছে। লর্ড কার্জন এই বলোৰশু করিয়া গিয়াছেন। এই স্থানে বুদ্ধদেব প্রথম প্রচারে ব্ৰতী হয়েন। ইহা ভারতের ইতিহাসে পুণ্যক্ষেত্র। খ্ৰীযুক্ত ধৰ্ম্মপাল এখানে আশ্রম করিয়াছেন। কৃষক শিশুদের পাঠশালাও হইয়াছে।