পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


. - আমরা দেখিতে গেলাম। আমাদের মানার্থে বালকগণ ছুটি পাষ্টল। ধৰ্ম্মপাল ছিলেন না । একজন যুবক সিংহলী বৌদ্ধ ভিক্ষুর সঙ্গে অনেকক্ষণ নানা বিবয়ে কথোপকথন হইল। তিনি কুইন্স কলেজে ইংরাজি ও সংস্কৃত পড়িতেছেন। তিনি ভারত অপেক্ষ সিংহলের সুথ স্বচ্ছন্দতা বর্ণনা করিলেন; এখানকার মত সেখানে সাহেবভীতি নাই ; সাহেবরা উপদ্রব করিলে দেশীয়েরা তৎক্ষণাৎ প্রতিশোধ দেয়। সাহেরা যেমন ঘূণাসুচক "নেটিভ” শব্দ ব্যবহার করে,দেশীয়রা তেমনি ঘূণাসুচক “ফরেনারূ" শব্দ বাবহার করে। ভদ্রলোকটি অহিংসাত্ৰতে দীক্ষিত ভিক্ষুসন্ন্যাসী হইলেওপেথিলাম আমাদের অপেক্ষা কম হিংস্ৰক নহেন ৷ এইরূপ আনন্দে কালাতিপাত করিতেছি, এমন সময় কলিকাতা হইতে টেলিগ্রাম পাইলাম দিদিমার প্রাণসংশয় পীড়া উপস্থিত ! তাড়াতাড়ি পঞ্চাবমেলে যাত্রা করিলাম। বেনারস হইতে সাসারাম, ডিঙ্গিরি ও গয়া যাইবার ইচ্ছা ছিল । তাহা ঘটিল না । যখন কলিকাতায় পৌছিলাম তখন অসংখ্যলোকপালনী দয়াবতী দানব্ৰত! দিদিমা আর ইহলোকে নাই। গতকলা প্রাতে স্বর্গারোহণ করিয়াছেন । চিন্তাকাতর রুগ্ন দিদিমা আমার জন্তই এত শীঘ্র প্রাণত্যাগ করিলেন, সকলে ইহাই বলিল, আমিও বুঝিলাম। ভ্রমণের যে অনিৰ্ব্বচনীয় আনন্দ তাহার পশ্চাতে চিরজীবনের জন্য একটা ধিক্কার লাগিয়া রহিল। আমার কথাটি ফুরাল। আমার এ কাহিনীতে, শতবার প্রকাশিত বিবরণীতে কোন বৈচিত্র না থাকিবারই কথা । কিন্তু ইহা পাঠে যদি একজনেরও ভ্রমণসাধ জন্মে তবে আমার শ্রম সফল জ্ঞান করিব। education একথা আমরা এখনো কেন বুঝি নাই ? আমি আড়াই শত টাকা লইয়া যাত্রা করিয়াছিলাম। পশ্চিমের প্রায় লাইনে মধ্যয়শ্রেণী নাই, আমি দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভ্রমণ করিয়াছি। যেখানে মধ্যমশ্রেণী পাইয়াছিলাম, সেখানে তাহাষ্ট আশ্রয় করিয়াছিলাম। কুলিদিগকে এমন মজুরী দিয়াছি যাহাতে তাহার দ্বিরুক্তি করে নাই। দিল্লী ও লক্ষে ছাড়া সৰ্ব্বত্র আতিথ্যস্বীকৃত পরিবারের পরিচারকদিগকে পুরস্তুত করিয়াছি। এত স্বচ্ছল খরচ সত্ত্বেও ত্রিশ "I'ravel completes প্রবাসী । টাকা ফিরিয়াছিল । অল্প ট্যকায় এত সুখ আর কিছুতে নাই । যাহারা পারেন, আমার অনুরোধ রক্ষা করিয়া দেখিবেন । তবে কেহ একক বাইবেন না । দুই বন্ধু একত্র যাইবেন, আমি একক অনেক সৌন্দৰ্য্যস্থখ উপভোগ করিতে পারি লাই । যাহারা যাইবেন, একথালা The Imperial Guide to India, G. W. Forrest's Cities of India, azt gozofa A. B. C. Railway Guide সঙ্গে লইলে অনেক সাহায্য ও সুবিধা পাইবেন । ৪ঠা জুন, ১৯০৫ । ঐচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বতঃজনন । বিজ্ঞানের কথায় বিশ্বাস করিলে বলিতে হয়, আমাদের পৃথিবীর গঠনোপাদান অতি প্রাচীনকালে এক বিশাল জলন্ত নীহারিকার অঙ্গীভূত ছিল। পৃথিবীর পুরাবৃত্তের চরমসীমা এইখানে। ইহারে পূৰ্ব্বে পৃথিবীর মালমসলায় অবস্থা যে কি প্রকার ছিল, তাহ আমরা জানি না। তার পর সেই আবর্তনশীল নীহারিকায় খানিকট অংশ স্বলিত হইয়া, যখন ক্রমে শীতল হইয়া পড়িতে লাগিল, তখন এই জলস্থল গিরিগুহাময় স্বষ্টি দেখা দিল । কোন সময়ে কি প্রকারে ধরাতলে নদী সমুদ্র পাহাড় পৰ্ব্বত প্রভৃতির স্বষ্টি হইয়াছিল, বৈজ্ঞানিকগণ মোটামুটি বলিতে পারেন এবং কোন সময়ে প্রথম জীবের উৎপত্তি হইয়াছিল তাহাও বলা চলে, কিন্তু নির্জীব ধরিত্রী বে কিপ্রকারে হঠাৎ সঞ্জাব হইয়া দাড়াইয়াছিল, তাহ কেহই ঠিক্‌ বলিতে পারেন না । ডাকুইনের অভিব্যক্তিবাদের সহিত পাঠক অবগুই পরিচিত আছেন । এই সিদ্ধান্তে এখন আর অবিশ্বাস করা চলে না। প্রাথমিক জীব হইতে কি প্রকারে বৃক্ষ লতা পশুপক্ষী ও মমুখ্যাদির উৎপত্তি হইয়াছে, ডারইন শিষ্যগণ তাহা একে একে আমাদিগকে দেখাইয়াছেন। জীবরাজে জাতিতত্ত্বের বিকাশ ও ক্রমোন্নত্তির পর্যায় ডারইনের প্রসাদে আমরা আজ প্রত্যক্ষ দেখিতে পাইতেছি । কিন্তু মূল ব্যাপারটির আজও সম্পূর্ণ মীমাংসা হইল না। দে আমি জীবের অস্তিত্ব মানিয়া লইয়া, ডারই সাহেবজাতি-বৈচিত্র্যের শৃঙ্খলা দেখাইয়াছেন, সে জীবটি যে কোথায় ও কি প্রকারে { ৫ম ভাগ । | ৮ম সংখ্যা । ] জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, তাঁহা কেহই বলিতে পারিতেছেন না। বিষর যতই দুৰ্ব্বোধ হউক না কেন, আজ কাল তাহার বৈজ্ঞানিক ব্যাপানের বড় অভাব দেখা যার না । অনেক দিন হইতে বৈজ্ঞানিকগণ জীবোৎপত্তির প্রশ্নটি লক্টর আলোচনা করিতেছেন, কাজেই এখন তৎসম্বন্ধে নানা ভালমন্দ মতবাদের স্মৃষ্টি হুইয়া পড়িয়াছে । ইহাদের সকলগুলির আলোচনা নিম্প্রয়োজন। আমরা এখানে কেবল মাত্র দুইটি প্রধান মতবাদের উল্লেখ করিব। একদল পণ্ডিত বলেন – সৃষ্টির প্রথমে কোন প্রকারে হঠাৎ একটি জীবের উৎপত্তি হইয়া পড়িয়ছিল, এবং সেই আদিম জীবই হাজার হাজার বৎসর ধরিয়া নানা প্রকারে উন্নত হইয়া পশু, পক্ষী, কীট, পতঙ্গাদির উৎপত্তি করিয়াছে। এই মতবাদের প্রতিবাদ করিয়া আর একদল বৈজ্ঞানিক বলেন,-–জীবরাজ্যের প্রতিষ্ঠা কথনষ্ট একটা আকস্মিক ব্যাপারের ফল নয়। প্রকৃতির সকল কাজের ভিতরে যেমন সুশৃঙ্খলা দেখা যায়, জীবোৎপত্তির মূলে নিশ্চয়ই সেই প্রকার এক শৃঙ্খলা আছে। এতদ্ব্যতীত ইহঁ্যর আরো বলেন,--সৃষ্টির সময়ে আমাদের পৃথিবী যেসকল শক্তি লইর জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, এখনে সেই সকল শক্তিরই কাজ চলিতেছে, তখন আদিম জীব অতি পূর্কে বেপ্রকারে উৎপন্ন হইয়াছিল, আজও ঠিকৃ সেই প্রকারেই নানা জীবের স্বতঃজনন হওয়ারই সস্তাবনা। আমরা সন্ধান রীথি না, তাই স্বতঃজনন (spontaneous generation ) অসম্ভব বলিয়া মনে করিতেছি। এই মতবাদ দুইটির প্রত্যেকটিরই পোষক প্রমাণ প্রচুর আছে । কিন্তু একজননবাধিগণ ( Axiogenesis ) আদিম জীবের উৎপত্তির মূলে বে, পৃথিবীর এক বিশেষ অবস্থার ব্যাপার মানিয়া লইয়াছেন, সেট নিরপেক্ষ বাক্তিগণের নিকট বড় অসম্ভব বলিয়া বোধ হইতেছে । হঠাৎ একদিন ব্ৰহ্মাণ্ডব্যাপী শক্তিপুঞ্জ একত্রিত হইয়া জড়ের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করিল, এবং তা’র পর সেই সকল শক্তির তদনুরূপ সমাবেশ পৃথিবীর এই দীর্ঘজীবনের মধ্যে ঘটিয়া উঠিল না, এপ্রকার সিন্ধান্ত প্রকৃতই অদ্ভুত শুনায়। একজননবদিগণের উক্তিতে এই প্রকার নানা দোষ আবিষ্কৃত হওয়ায়, আঞ্জ কাল স্বতঃজননবাদের দলই প্রবল হইয়া ধাড়াইয়াছে। সম্প্রতি কেন্থিজের ক্যাভেণ্ডি পরীক্ষাগারে বটুলার বার্ক নামক স্বতঃজনন । জনৈক বৈজ্ঞানিক বে একটি বিস্মরকর ব্যাপারের আবিষ্কার 8ጳ » করিয়াছেন, তাহ দ্বারা স্বতঃজননবাদ আরো পুষ্ট হইয় পড়িবে বলিয়া আশী হয় । মাংস, লবণ ও কয়েকপ্রকার শাকসবজি দিয়া জেলির লত ধে এক প্রকার স্বপ ( Bouillon ) প্রস্তুত হয়, তাহাতে জীবাণু ছাড়িয়া দিয়া বৈজ্ঞানিকগণ পরীক্ষা করিয়া থাকেন। জীবাণুর ( Microbe ) খাদ্য স্বপেই প্রচুর পরিমাণে থাকে, কাজেই তাহাতে ডুবিয়া থাকিয় সেগুলি শীঘ্র শীঘ্র পরিপুষ্ট হইয়া বংশবিস্তারের স্থবিধা পার। বার্ক সাহেব পুৰ্ব্বোক্ত পকার স্বপ প্রস্তুত করিয়া তাহাতে কিঞ্চিৎ রেডিগ্ৰন্থ ডুবাইয়া রাখিয়াছিলেন। বলা বাহুল্য, যাহাতে স্বপে জীবাণু ধী অপর কোনও জৈব পদার্থের চিহ্ন মাহ ন} থাকে, তজ্জন্ত পরীক্ষক সেটিকে বার বীর উত্তপ্ত করিয়া ছকিয়া লইয়াছিলেন। তা" ছাড়া, যাহাতে বাহির হইতে কোনও জীবাণু তন্মধ্যে আশ্রয়গ্ৰহণ করিতে না পারে, সেজগুও নানা প্রকার সতর্কতা অবলম্বন করা হইয়াছিল। রেডিগ্নমের তেজ স্বপের অণুগুলির উপর পড়িয়া কি প্রকার কাজ করে, তাহ ধেখাই বার্ক মাহেবের এক মাত্র লক্ষ্য ছিল। রেডিয়মের সহিত স্বপ প্রায় একদিন রাখা হইল, কিন্তু তাহাতে কোন পরিবর্তনই দেখা গেল না । দ্বিতীয় দিনে স্বপের উপর জীবাণুর স্থায় কতকগুলি জিনিষের হঠাৎ উৎপড়ি দেখা গিয়াছিল, এবং সেগুলি কয়েকঘণ্টার মধ্যে পরিপুষ্ট হইয়া পাত্রের নীচে নামিতে আরম্ভ করিয়াছিল। জীবাণুচিস্তুহীন হুপে জীবাণুবৎ জিনিষের হঠাৎ উৎপত্তি দেখিয়া বার্ক বিঘ্নিত হইয়া পড়িয়াছিলেন। পাত্র হইতে স্বপ উঠাইয়া, অণুবীক্ষণ যন্ত্র সাহাষ্যে পরীক্ষা করার সেগুলিকে অবিকল জীবাণুর মতই দেখা গিয়াছিল, কিন্তু দুই একটা জীবাণু বাছিয়া লইয়। পাহান্তরে রাখিলে সেগুলি যেমন শীঘ্র শীঘ্ৰ সংখ্যা ও আকারে বাড়িয়া উঠে, এগুলিতে জীবাণুর সেই লক্ষণটি দেখা যায় নাই। ত’ ছাড়া উহাদের উপর আলোক ও তাপেরও একটা অদ্ভূত কাজ দেখা গিয়াছিল। জীবাণুর উপর তাপালোকের বিশেষ কোনও কাজ নাই, কিন্তু অতি অন্নকালের জন্ত ত্যপালোকে উন্মুক্ত রাখিব মাত্রই সেই স্বপস্থ পদার্থগুলিকে বার্ক সাহেব অদৃশ্ব হইতে দেখিয়াছিলেন। কিন্তু তার পর সেই স্বপকেই ঠাও।