পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| - নূতন দৃষ্টিলাভ করিয়া পাল্লাকে দেখিয়া অমরকুমারও তেমনি চীৎকার করিয়া উঠিল, কহিল, “পাল্লা, তুমি ” পাল্লা কোন কথা না কহিয়া ঘাড় ষ্টেট করিয়া রহিল। অমরকুমার পুনরায় কহিল, “তুমি । বিবাহ হয় নাই ?” “লা ।--আপনার ?” “আমিও বিবাহ করি নাই, কিন্তু—” । “কিন্তু বলিরা থামিলেন যে ?” “কিন্তু আজ যদি তোমাকে পাই, বিবাহ করিয়া জীবন সার্থক করি । তোমার দয়া আমি জীবনে ভুলিতে পারিব না।—” পাল্ল উঠিয়া দাড়াইল,—তাহাব দেহযষ্টি সবেগে কাপিতে লাগিল । রুস্ক স্রোত বাতির হইবার পথ পাইয়া দুৰ্দ্ধমনীয় বেগে যেরূপ বহিতে থাকে, পাল্লারও অবস্থা সেইরূপ হইল—সে মনের আবেগ কোন মতেই থামাষ্টতে পারিল না, কম্পিত কণ্ঠে কহিতে লাগিল, “আজ আপনি আমার নিকটে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিয়া বিবাহের প্রস্তাব করিতেছেন, কিন্তু রাজপুতানী কুতজ্ঞতার জন্তু কখনও বিবাহ করে না। পাঁচ বৎসর পূৰ্ব্বেকার কথা একবার স্মরণ করুন। আমার সেই যৌবনের প্রথম আরম্ভ স্থণের সময়ে কত প্রেম কত না আশা জাগাইয়া আমার হৃদর মন কাড়িয়া লইয়া আপনি বিনা অপরাধে অামাকে কিরূপ ভাবে প্রত্যাগ্যান করিয়াছেন, একবার স্মরণ করুন । পিতার হঠাৎ দুরবস্তা দেপিয়া শত্রপক্ষ আমার নামে কলঙ্ক রটাইল---আপনার পিতা এবং অবশেষে আপনিও তাঙ্গ বিশ্বাস করিয়া আমাকে পরিত্যাগ করিলেন, —একবারও ভাবিলেন না আমার, আমার পিতামাতার কি দশা হইবে । যে দিন বিবাহ ভাঙ্গিরা গেল সেই দিন হইতেই পিতামাতা দশগুণ বুড়া হইয়া পডিয়াছেন। তখনই আমার মৃত্যু ভাল ছিল,—আমি মরিতাম,-রাজপুতানী মনিতে জানে,-কেবল মাত্র বুদ্ধ পিতামাতার মুখের দিকে চাহিয়া কাচিয়ারহিলাম। আপনি যদিও আমাকে পরিত্যাগ কবিয়াছেন, কিন্তু আমি আপনাকে ভুলি নাই।”—এই বলিয়া পাল্লা কটিদেশ হইতে একটি ক্ষুদ্র ছুরিক বাহির করিল—হস্তিদন্তনিৰ্ম্মিত সেই ছুরিকার অগ্রভাগে পাল্লায় স্বাস্তচিত্রিত অমরকুমারের ছবি ও তাহার নাম লেখা । অমরকুমার ক্ষিপ্তের স্থায় লাফাষ্টয়া উঠিল—ষ্টষ্ট হাত প্রবাসী । { ৫ম ভাগ । যুক্ত করিয়া কঠিল, “পাল্লা! পান্না! ক্ষমা কল, ক্ষমা কল! তথম তোমাকে চিনি নাই, চিনি নাই ! এখন আমার চোথ খুলিয়াছে,-বিবাহে সন্মত হও, নহিলে আমি বঁচিব না।” পাল্লার তবুও সেই এক কথা—“রাজপুতানী কৃতজ্ঞতার জন্ত কখনও বিবাহ করে না।” অমরকুমার আরও দুষ্ট চারি দিন রহিল। ক্রমে বিদায়ের কাল উপস্থিত হইল। পাল্লার জনকজননীর নিকট কৃতজ্ঞতার সহিত বিদায় লইয়া অমরকুমার যাইবার জন্ত প্রস্তুত হইল। পান্না বীরাঙ্গনাবেশে আপনাকে সজ্জিত করিয়৷ সেই প্রথম মিলনস্থান মেলা অবধি রাথিতে অমরকুমারের সঙ্গে চলিল । জনহীন শূন্ত প্রান্তর। পার্থীরা কলকণ্ঠে ভোরে সামাই বাজাইতেছে। মিলিত অথচ বিচ্ছেদকাতর দুই জনে নিঃশব্দে চলিয়াছে—কাহারও মুখে একটিও কথা নাই,—মিলনস্বধাসাগরের তীরে আসিয়া শুল্লকক্ষে আবার ফিরিতে হইবে! —হায় ! ক্রীড়াভূমির নিকটবৰ্ত্ত হইরা পায় থামিল। অমরকুমার কাতর দৃষ্টিতে পায়ার মুখের দিকে চাহিয়া কছিল, “পাল্লা, তবে চলিলাম—ঈশ্বর যদি দিন দেন তবে আবার দেখা হইবে । মনে রাথিও।” সেই মিলন-বিচ্ছেদের সন্ধিস্থলে দাড়াইয়া পাল্লা যতক্ষণ পাকিল অমরকুমারকে চাহিয়া দেখিল। ফিরিযায় সময় সেই রাজপুত বনকুসুমের গও বাহিয়া দুই ফোট শিশিরাত্ৰ ঋরিয়া পড়িল । শ্ৰীশুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতশিক্ষা সম্বন্ধে ফুলার সাহেবের মন্তব্য। গত চৈত্র মাসের প্রবাসীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক প্রবন্ধে আমাদের বর্তমান ছোটলাট মহোদয়ের একটি বস্তৃতার সমালোচনা প্রসঙ্গে বলিয়ছিলাম দে, তাহার এই কথা হইতে উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রপুরুষমহলের হাওরার গতিটা বেশ টের পাওয়া যায়। ৮ম সংখ্যা । ] ইহারা সংস্কৃত শিক্ষার উপর নারাজ, মনে এইরূপ একটা আশঙ্কা হয়। সম্প্রতি ফুলার সাহেবের মন্তব্যে আমাদের সেই আশঙ্কা দৃঢ়ীভূত হইল। উল্লিখিত প্রবন্ধে আমরা বিষয়টি তা তয় করিয়া বিচার করিয়াছি। তথাপি এক্ষণে ফুলার সাহেবের মত ও যুক্তি সমালোচনা করিব এবং এতৎ সম্বন্ধে আমাদের মত পরিষ্কার করিয়া প্রকাশ করিব । ফুলার সাহেবের মত, প্রবেশিক পরীক্ষায় এদেশী ছাত্রবর্গের পক্ষে মাতৃভাষা অবশুশিক্ষণীয় হওয়া উচিত । তাহারা ঐ পরীক্ষার মাতৃভাষার উপর হয় কোনও প্রাচীনভাবা (যথা সংস্কৃত) না হয় বিজ্ঞান শিক্ষা করিবে। এফ,এ পরীক্ষায় হয় কোনও প্রাচীন ভাষা না হয় বিজ্ঞান, ও বি, এ পরীক্ষায় হয় কোনও প্রাচীন ভাষা ন হয় গণিত শাস্ত্র অথবা ইতিহাস ও তর্ক শাস্ত্র অধ্যয়ন করিবে। ফল কথা, কোনও পরীক্ষায়ই সংস্কৃত ভাষা ( বা অপর কোনও প্রাচীন ভাষা) অবশুশিক্ষণীয় বলিয়া নির্দিষ্ট হইবে না। পক্ষাস্তরে, আমাদের বিবেচনা হয় যে সকল Arts পরীক্ষাতেই সংস্কৃত ভাষা (বা অপর কোনও প্রাচীন ভাষা) অবশুশিক্ষণীয় হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পরীক্ষাতেই সাক্ষাৎ সম্বন্ধে মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা প্রয়োজনীয় মনে করি না। আমরা প্রথমে ফুলার সাহেবের যুক্তিগুলি উল্লেথ করিয়া সেগুলির খণ্ডন করিব এবং পরিশেষে আমাদের পক্ষের কয়েকটি যুক্তির অবতারণা করিব। (১) প্রথমেই ফুলার সাহেব দেখাইয়াছেন যে, গত বৎসর ১৯এ মার্চ তারিখে ভারত গবৰ্ণমেন্ট শিক্ষানীতি সম্বন্ধে যে মন্তব্য প্রচার করিয়াছেন তাঁহাতে সংস্কৃত শিক্ষার কোনও উল্লেখ নাই, পরস্তু স্কুলের উচ্চশ্রেণীতেও মাতৃভাষার রীতিমত চর্চা হওয়া উচিত বিশেষভাবে এই কথার উল্লেখ আছে। ফুলার সাহেব এই কথাটার দোহাই দিয়া বলিয়াছেন যে ভারতীয় শিক্ষানীতি সম্বন্ধে যিনি সৰ্ব্বেসৰ্ব্ব, যাহার উপর আর কথা চলে না,র্তাগর যখন এই মত তখন তাহার ব্যবস্থা আহসারেই কাৰ্য্য হওয়া উচিত । তাহার উত্তরে আমরা বলি যে, উল্লিখিত মন্তব্যটি আমরা বিশেষ যত্নপূৰ্ব্বক পাঠ করিয়াছি এবং গত চৈত্র মাসের প্রবাসী’তে তাহার বিস্তারিত সমালোচনাও করিয়াছি। ভারত গবৰ্ণমেণ্ট মধ্যশিক্ষা (secondary বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতশিক্ষা সম্বন্ধে ফুলার সাহেবের মন্তব্য । 8b-& education) সম্বন্ধেই ঐ কথা বলিয়াছেন, উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়প্রদত্ত শিক্ষা মন্তব্যের সেই অংশে আলোচিত হয় নাই। প্রবেশিকা পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের দ্বার, পরীক্ষার নামকরণেই উহার প্রকৃতি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় ; বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্ত যে পরীক্ষা প্রচলিত আছে, তাঁহাতে প্রাচীন ভাষাশিক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। বাহারা মধ্যশিক্ষার পর্যায়েই শিক্ষা সমাপ্ত করিতে চাহে তাহাদিগের জন্ত school Final Examination fr#ffF5 złtą i crừ viāori; প্রাচীন ভাষার পরিবর্তে মাতৃভাষার প্রচলন করিলে বিশেদ ক্ষতি নাই। কিন্তু যাহারা উচ্চশিক্ষা লাভ করিতে ইচ্ছুক ও তন্ত্ৰষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের দ্বারস্বরূপ প্রবেশিক পরীক্ষার জন্ত প্রস্তুত হইতেছে তাহদের পক্ষে প্রাচীনভাষা অবগুশিক্ষণীয় হওয়াই সমীচীন ব্যবস্থা। এতদিন অবশু এক প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুই কাজ চলিত, ইহা মধ্যশিক্ষার চরম লক্ষ্য (final goal) এবং বিশ্ববিদ্যালরপ্রদত্ত উচ্চশিক্ষার HTH GĘ fgg, fr, School Final Examination প্রবর্ভূিত হইলে প্রবেশিক পরীক্ষা কেবল মাত্র ইহার নামের অনুরূপ কাৰ্য্য কৱিবে । (২) আমরা গত চৈত্র মাসে সংস্কৃতশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক প্রবন্ধের প্রারস্তে বলিয়াছিলাম –-এক শ্রেণীর শিক্ষকদিগের মুখে শুনিতে পাই যে পাক ইংরাজী জ্ঞানই দেশকাল বিবেচনায় ছাত্রবর্গের সর্বাপেক্ষ বেশ দরকার। সংস্কৃত যেরূপ দুরূহু ভাষা, তাহাতে তাছা শিক্ষা করিতে প্রভূত পরিমাণ সময় ও পরিশ্রম লাগে । এইরূপে সময় ও মানসিক শক্তির অযথা অপচয় ঘটে। এই বাজে খরচটা নিবারণ করিয়৷ সেটা ইংরাজীর তহবিলে জমা করিলে ছাত্রগণ ইংরাজীশিক্ষায় অধিক যন্ত্র ও মনোযোগ দিতে পারবে”। ফুলার সাহেবও ঠিক এই কথাগুলি না হউক, এই ধরণের কথা বলিয়াছেন। ‘ভারতবৰীয় ছাত্রবন্ধের পক্ষে বিদেশী ইংরাজীভাষা শিক্ষা এতই কঠিন ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার যে, তাহার উপর আমার সংস্কৃতভাষার দ্যায় একটা ছরহ এবং জটিল প্রাচীন ভাষাশিক্ষার ব্যবস্থা করা অতীব অঙ্গর; বিশেষতঃ যাহারা ভবিষ্যতে বিজ্ঞানশিক্ষা করিবে তাহদিগকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় এইরূপে জবরদস্তি করা অত্যন্ত