পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8৯২


শ্ৰীযুক্ত রামক্ষেয় চট্টোপাধ্যায় ।

এব5পরে কলিকতা তাসয় সংস্কৃত কলেজে ইংরাজী ও সংস্কৃত শিক্ষালাভ করেন। এখানে জুনিয়র ও সিনিয়র বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়। ১৮৫৭ অক্টে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের :প্রবেশিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ইহার পর দেড় বৎসর প্রেসিডেন্সী কলেজে তিনি সাহিত্য, আইন ওfতর্কশাস প্রভূতি এবং সংস্থত কলেজে ব্যাকরণ, সঙ্গিতা, অহঙ্কাল, ছায় ও স্মৃতিশাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়াছিলেন । এই সমর বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অধীনে চট্টোপাধ্যায় মহাশয় ডেপুটী ইনস্পেক্টর অব স্কুলস্ পদ প্রাপ্ত হইয়া বৰ্দ্ধমান ও নীয় জেলার মডেল স্কুলগুলির তত্ত্বাবধারণ করেন। অতঃপর তিনি পেট | ম্যাজিষ্ট্রেট হইয়া ত্রিপুরার অন্তর্গত কুমিল্লা ও বঙ্গ, বিহার এবং উড়িষ্যার অন্তর্গত নানা জেলায় কৰ্ম্ম করেন। আপো উড়িষ্যায় চর্ভিক্ষ হইলে ১৮৭৪ অঙ্গে বিহারে দুর্ভিক্ষ কালে অমঙ্গয় নরনারীর সাহায্যাগ অন্নবিতরণাদি কাৰ্য্যে তিনি প্যাতি লাভ করেন। ছোট লাট সার জর্জ ক্যাম্বেল, সীর বিচাড় tr&-b^ এবং প্রবাসী । - - ১৮৯২ অব্দে পেম্মলগ্রহণ কৰ্বেল । সার রিভার্স টমসন প্রমুখ উচ্চপদস্থ গণ্য মাষ্ঠ রাজকন্মচারগণ গ্ৰহাদের শাসনববরণীতে বঙ্গদেশের রশফ অফিসৰ্বদিগের মধ্যে রায় রাগাক্ষয় চট্টোপাধ্যায় বাহাছাকে সকলের অগ্রগণ্য বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি বহুকাল সুনামের সহিত কৰ্ম্ম করিয়া ইহার চারি বৎসল পরে অর্থাৎ ১৮৯৬ অব্দে গবর্ণমেণ্ট হইতে রায় বাহাদুর উপাধি প্রাপ্ত হয়েন । ১৮৯৭ অব্দে তিনি তাহার নিজ গ্রামে একটা দধিক্য সংস্করণ কায্যে বারে হাজার টাকার অধিক ব্যয় করিয়া গ্রামবাসগণেৰ কৃতজ্ঞতাভাজন হন এবং গবর্ণমেণ্ট হইতে ধন্তব্যধ প্রাপ্ত হন। এতদ্ধির তিন স্বগ্রামে একটা মানব ইস্কুল স্থাপিত কবেন। এই বিদ্যালয়ের সংরক্ষণ TT BBBGtBBB KBDD BBB BBS BB DD SLLg তাহা নিৰ্ব্বাহ করিয়া থাকেন। তিনি এই স্কুলগুহ ৪ স্থানীয় ডাকঘরের জন্য একটা স্বতন্ত্র গৃহ নিজ ব্যয়ে নিৰ্ম্মাণ কয়িয়া দিয়াছেন। এই সকল সনঙ্গুষ্ঠানে, ধৰ্ম্মালোচনায় এবং গ্ৰন্থরচনায় তাহার অবসবকাল অতিবাহিত হইতেছে। তিনি ১৮৯২ অব্দে তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাত ৮ প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশ মহাশয়ের জীবনচরিত ও কবিতাবলী প্রকাশ করেন এবং ঐ বৎসর “পুলিস ও লোকরক্ষা” প্রণয়ন কবেন। এতদ্ব্যতীত তিনি “আত্ম-চিন্তন” ও “আচার-চিন্তন” নামে দুইখানি সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা করেন। তাহার লিখিত র্তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার জীবনচল্পিত বাঙ্গালীর গৌরবের সামগ্ৰী। প্রেমচন্ত্র তর্কবাগীশ কলকাতা সংস্থত কলেজে যেমন অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যাপনা করিতেন, তিনি স্বয়ং তদ্রুপ কলেজের অলঙ্কার স্বরূপ ছিলেন । ঠাকরি অনন্যসাধারণ গুণগ্রামের কথা প্রবন্ধের আকারে লিখিয় শেব করিবার নহে।* অধ্যয়ন ও অধ্যাপনাই শুtহাল জীবনের মূলমন্ত্র ছিল। যে সময় কলিকাতা সংস্কৃত কলেজ নিমষ্টির্চাদ শিরোমণি, শম্ভুনাথ বাচস্পতি, নাগ্রাম শাস্ত্রী, এবং জয়গোপাল তর্কালঙ্কার প্রমুখ পণ্ডিতপুত্বে যিমণ্ডিত ছিল, সেই মহেন্দ্ৰ যোগে টোলের পীঠ বন্ধ কলিয় ২১২২ বৎসর বয়সে প্রেমচন্দ্র তথায় প্রবেশ করিলেন । মিষ্টার হোরেস হেম্যান উইলসন মগেদয় T. র্যাহারা ইহার বিস্তারিত গগনচতি পাঠ করিতে ইচ্ছুক তাহার রায় রামায় চট্টোপাধ্যায় বাহাদুর প্রণীত সরস ও সুখপাঠ্য গ্ৰন্থখনি পাঠ করিবেন। ---> ---- টেম্পল এবং เ.......... ৮ম সংখ্যা । ] W。

  • -

- ------ -- তৎকালে কলেজের সেক্রেটরী ছিলেন । তিনি প্রেমচন্দ্রের প্রশস্ত ললাট এবং মস্তকেয় আকার দেখিয়া এই বালক স্থিরচিত্ত ও কবিত্বশক্তি সম্পন্ন হইবে বলিয়া সিদ্ধান্ত করেন। কলেজে প্রবিষ্ট হইবার পর ছয় বৎসরের মধ্যে তিনি সাহিত্য, অলঙ্কার ও দ্যায়শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন । ১৮৩১ অব্দের জুলাই মাসে অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যাপক নাথুরাম শাস্ত্রী ৬ মাসের অবকাশগ্রহণ করেন। অনেক পণ্ডিতই এই পদের জন্য আবেদন কলিয়াছিলেন । কিন্তু ছাত্র প্রেমচন্দ্রেল অনন্তসাধারণ গুণে মুগ্ধ উইলসন সাহেব সমুদয় আবেদনপত্র উপেক্ষা করিয়া তাহাকেই সেই অযাচিত পদে বরণ করিলেন। প্রেমচন্দ্র তপন দ্যয়িশ্রেণীতে অধ্যয়ন কলিতে ছিলেন । ইহাতে ঘোঁর আন্দোলন উপস্থিত হইল। এক দিকে অধ্যাপক নিমাইচাঁদ শিরোমণির সঙ্কেতক্রমে রামগোবিন্দ শিরোমণি প্রমুখ কয়েকজন বালক প্রেমচন্দ্রকে ক্রোড়ে করিয়া অলঙ্কার শ্রেণীর অধ্যাপকের আসনে বসাইয়া দিলে তাছার সহপাঠীরা আনন্দকোলাহল করিয়া উঠিল এবং অন্যদিকে কয়েকজনের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে এই আপত্তি উঠিল যে রাঢ়দেশীয় শূদ্র্যাজী ব্রাহ্মণ প্রেমচন্দ্রের নিকট গঙ্গাতীয়বাগী সদূত্রাহ্মণগণ পাঠস্বীকার করিবেন না ! উইলসন সাহেব তদুত্তরে বলেন,"আম্বি প্রেমচন্দ্রকে কন্যাদান করিতেছি না, তাহার গুণের পুরস্কার করিয়াছি ; ঈর্যাকুল কয়েকজন অধ্যয়ন মা করিলে বিদ্যালয়ের কোন ক্ষতি হইবে ন।” কলত: নাথুরাম শাস্ত্রীয় মৃত্যুতে তর্কবাগীশ মহাশয়ই ঐ পদে স্থী হইলেন এবং আপত্তিকারিগণও তাহার নিকট পাঠস্বীকার করিলেন। প্রেমচন্দ্রের অলঙ্কারের অধ্যাপনা এবং স্থায়শ্রেণীতে অধ্যয়ন উভয়ই উৎসাহ সহকারে চলিতে থাকিল। তাহার ছাত্রজীবন যেমন গৌরবসমুজ্জ্বল ছিল, উত্তরকালে তিনি অধ্যাপনাতেও তদ্রুপ যশোলাভ করিয়াছিলেন। . সংস্কৃত কলেজে প্রবিষ্ট হইবার ২৩ বৎসর মধ্যে কবিবর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সহিত তাহার বস্তৃত্ব হয়। खेउटग्रडे नांङ्गভাষার উন্নতিকল্পে বদ্ধপরিকর হন । তাহাদের যত্নে ও উৎসাহে জয়গোপাল তর্কালঙ্কার, গৌরীশঙ্কয় তর্কবাগীশ প্রমুখ অনেক কৃতবিদ্য ব্যক্তি এই সঘপেষ্ঠের সহায় হন । প্রেমচন্দ্র বলতেন উপযুক্ত সম্পাদক প্রকৃত সমাজসংস্কারক এবং — প্রবাসী বাঙ্গালার কথা । 8న్సాలీ - ---- سم ۔ عیے-- নিপুণ উপদেশক অপেক্ষ সমধিক প্রতিষ্ঠাভাজন । এই লক্ষ্য স্থির রাথিরা তিনি প্রভাকর ও সমাচার চন্দ্রিক প্রভুতি পত্রে গুরুতর বিবয় সকল মৰ্ম্মস্পর্শ এবং ওজস্বিনী ভাষায় লিখিতেন। ১৮৯২ অব্দের জুলাই সংখ্যক কলিকাতা রিবিউ পত্রিক লেপেন – -

  • - His services for the improvement of Bengali literature are not to be slighted, as, in those early days of English education, sew were the men who thought it their worth while in bestow time on the cultivation of their much neglected mother-tongue * * *

অত:পর সংস্কৃতরচনার প্রতি তাঙ্গার দৃষ্টি পতিত হয়। তিনি রঘুবংশের শেষ কয়েক সর্গের টীকারচনা করিয়া রামগোবিন্দ পণ্ডিত ও নাথুয়াম শাস্ত্রীকৃত রঘুবংশের টীকা সমাপ্ত করেন এবং সমগ্র কাব্যথানি বিদ্যালয়ের পাঠোপযোগী করেন । ( তখন মল্লিনাথরুত টাকা বঙ্গদেশে প্রচলিত ছিল না)। ক্রমে ক্রমে তিনি পূৰ্ব্ব-নৈষধ ও রাঘবপাগুৰীয় মহাকাব্যদ্বয়ের এবং কুমারসম্ভব, চাটুপুষ্পাঞ্জলি, মুকুন্দযুক্তাবলী ও সপ্তশতী নামক গ্রন্থের টীকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করেন। এদেণে পূর্কে সংস্কৃত নাটকগুলি মুদ্রিত না হওয়ায় সাধারণের পাঠ ও পাঠলার নিতান্ত অসুবিধা ছিল। তর্কবাগীশ মহাশয়ষ্ট সৰ্ব্বপ্রথমে এই অভাব দূর করিতে যত্নশীল হন। তিনি ১৮৩৯-৪০ অব্দে অভিজ্ঞানশকুন্তল মুদ্রিত করেন ও পয়ে কাউএল সাহেবের অনুরোধে গৌড়দেশপ্রচলিত এবং দেশাস্তরে মুদ্রিত কয়েকধানি আদর্শ অবলম্বনে সংক্ষিপ্ত বাপ্য সহ উহার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রচার করেন । পরে লুয়াক্সিমিশ্র বিরচিত অনর্ঘরাঘব ও গৌড়দেশপ্রচলিত ভবভূতিবিরচিত উত্তৰ-রামচরিত, বারাণসী ও অন্ধ দেশ হইতে আনীত আদর্শপুস্তকের সহিত মিলাইয়া ব্যাখ্যা সহ সম্পাদন করেন । মহাকবি আচাৰ্য্য দণ্ডীরুত যে কাব্যদর্শ নামক স্বপ্রসিদ্ধ অলঙ্কারগ্রন্থ বঙ্গদেশে লুপ্তপ্রায় হইয়াছিল, পশ্চিমদেশ হইতে অনীেত কয়েকখানি আদর্শ অবলম্বনে তাহার উদ্ধার করিয়া বিশদ টাকা সহ ১৮৬৪ অন্ধে প্রকাশ করেন । এই কাৰ্য্যে ইহার যেরূপ প্রভূত পরিশ্রম হইয়াছে তদ্রুপ ইহা ছায়া তিনি সুকবি ও সুপণ্ডিত বলিয়া যশোলাভ করিয়াছেন। প্রাচীন সংস্কৃতগ্রন্থের উদ্ধার ও সম্পাদন বতাত তিনি মৃকয়েকখালি তন গ্ৰন্থও প্রণয়ন বtয়ন ।