পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রবাসী। با موا4 উৎপত্তি যে তাহার আরও কয়েক শতাব্দী পূৰ্ব্বে হইয়াছিল, এরূপ অনুমান করা অসঙ্গত লহে । যাঁহাই হউক, কাশীর প্রাচীনতা বড় সামান্ত নয় । অন্ততঃ পাচশ শতাব্দী পুৰ্ব্বে ইহা বিখ্যাত ছিল। যখন বাবিলন প্রভুত্বের জন্য নিনেভের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতেছিল, যখন টায়ার তাঁহার উপনিবেশসমূহ স্থাপন করিতেছিল, যখন এথেন্সেল্প ক্ষমতা বাড়িয়া চলিতেছিল, যখন রোম পরিজ্ঞাত হয় নাই, যখন গ্রীস পারস্তের সহিত যুদ্ধ করে নাই, বা সাইরা পারস্ত সাম্রাজ্যকে গৌরবজ্জটায় মণ্ডিত করেন নাই, যখন নেবুকছ্‌নেজর জেরুসালেম অধিকার করিয়া জুডিয়ার অধিবাসীদিগকে বন্দী করিয়া লইয়া যান নাই, সেই স্মরণাতীত প্রাচীন কালে বারাণসী মহত্বলাভ করিয়াছিল । কিন্তু প্রাচীনত্বই কাশীর একমাত্র গৌরব নহে। কাশী চিরনূতন, চিরযৌবনসম্পন্ন। কত নগরের, কত সাম্রাজ্যের অত্যুথান ও পতন হইয়াছে, কিন্তু কাশীর গৌরবপ্নবি কখনও অস্তমিত হয় নাই। কাশীকে নানা পর্যাটক নানা নামে বিভূষিত করিয়াছেন। মন্দিরের নগরী, দলিত পুষ্পের নগরী, এইরূপ নানাজনে কাশীর নানা নাম দিয়াছেন । গঙ্গাগৰ্ভ হইতে কাশীর দৃশ্বখানি ছবির মত, এই দৃপ্ত জগতে অপরাজিত। এক শতাব্দী পূৰ্ব্বে মেকলে কাশীর যে কৰ্ণনা করিয়া গিয়াছেন,তাহা এখনও খাটে। সেই সন্ন্যাসীর, ভীর্থযাত্রীল, বৃষের ভিড়, সেই দেবমন্দিরের সংখ্যাবাহুল্য, সেই সংকীর্ণ গলির দুই পাশ্বে উচ্চ সৌধমালা, সেই বহুসোপানাবলীশোভিত আবালবৃদ্ধবনিতার অসংখ্যপদচিহ্নলাঞ্ছিত গঙ্গাতট, সেই ভারতেৰ নানা প্রদেশ হইতে আগত বিদ্যার্থবি পাঠাবৃত্তিমুখরিত বহু বিস্তামন্দির, সেই বহু মুমুক্ষু মুমুলুর সমাগম,—সকলই পূৰ্ব্ববৎ আছে। কেবল একটি বিষয়ে বিশেষ পরিবর্তন হইয়াছে বলিয়া সন্দেহ হয়। মেকলে লিথিয়াছেন যে এখানে ধৰ্ম্মার্থীর সংখ্যা যত ছিল, বাণিজ্যৰ্থীর সংখ্যা তদপেক্ষা কম ছিল না। নানা মূল্যবান্‌ পণ্যদ্রব্যে পুর্ণ বহুসংখ্যক বৃহৎ পণ্যতরী গঙ্গার ভক্তিপূত স্রোতের কুলে ভাসমান থাকিত। ইংলণ্ডের ও ফ্রান্সের অধীশ্বরদিগের প্রাসাদসমুহ নৃত্যোৎসব সময়ে বারাণসীর স্বল্প কৌষেয় বাসে সৌন্দৰ্য্যবিমণ্ডিত হইয়া উঠিত। বারাণসীর [ ৫ম ভাগ । বাজারে বঙ্গের মসলিন ও অযোধার তরবারি, কাশ্মীরেরশাল । ও গোলকণ্ডার রক্সবাজিব একত্র সমাবেশ লক্ষিত হইত। কোথায় সে বিভব ! ইংরজি ভারতবর্ষের আর যাহা ইঃনিষ্ট করিয়া থাকুন বা না থাকুন, ভারতীয় শিল্পের যে বিনাশসাধন করিয়াছেন, কোন কোন শিল্পের ইচ্ছাপূৰ্ব্বক, জ্ঞাতসারে, বিলোপসাধন করিয়াছেন, তাঁহাতে সন্দেহ নাই। মূৰ্ত্তিপূজা এবং যাগযজ্ঞাদি বাহুক্ৰিয়াকলাপ দ্বারা মোক্ষলাভ হয়, ইহা হিন্দুশাস্ত্রেব শ্রেষ্ঠ উপদেশ নহে, শাস্ত্রে এ সকল দুৰ্ব্বল অধিকারীর জন্য ব্যবস্থিত হইয়াছে। কিন্তু মানুষ সৰ্ব্বত্রই সোজাপথের ভক্ত। ছাত্রের মানের বহি পাইলে অভিধান খুলিতে চায় না। এবম্বিধ ও অন্তান্ত কারণে হিন্দুঞ্জাতি মূৰ্ধিপূজক বলিয়া অভিহিত হইয়াছেন। তাই আমরা প্রধান প্রধান হিন্দুতীর্থে বহুসংখ্যক দেবমন্দির দেখিতে পাই । কাশীর এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী নাই। ছোটখাট মন্দির চড়িয়া দিলেও কাশীতে দেড় হাজারের উপর মন্দির আছে। কাশী হিন্দুত্বের প্রধান দুর্গ বটে, কিন্তু এখানে মুসলমান শাসনকালে মুসলমান ধৰ্ম্মবিস্তারের চেষ্টারও ক্রটি হয় নাই। তাছার পরিচয় পরে দেওয়া যাইবে। আপাততঃ ইহা বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে, কাশীতে প্রায় ৩০০ মসজিদ আছে। কাশীর প্রধান প্রধান মন্দির এবং ঘাটগুলির পরিচয় দিতে গেলেও একখানি পুস্তক লিখিতে হয় । সুতরাং আমরা এই প্রবন্ধে কয়েকটি মাত্র দ্রষ্টব্য স্থানের উল্লেখ করিব । ছৰ্গাকুণ্ডের দুর্গামন্দিরে প্রতি মঙ্গলবারে বিস্তর বলিদান হয়। অন্তান্ত বারেও হয়। এই মন্দিরের নিকটবর্তী সমুদয় রাস্ত, বাজার, গৃহ হনুমানের দলে পূর্ণ। তাহার সুযোগ পাইলে অধিবাসী ও তীর্থযাত্ৰাদিগকে জ্বালাতন করিতে ছাড়ে না ; কিন্তু তাছার অবধ্য বলিয়া কোন প্রতিকারের চেষ্ট হয় নাই। কয়েক বৎসর পূৰ্ব্বে কাশীর একজন ম্যাজিষ্ট্রেটু অনেক যানর ধরিয়া জঙ্গলে ছাড়িয়া দিয়া আসিয়াছিলেন, কিন্তু তাহাতে তাহদের সংখ্যা বিশেব কিছু কমে নাই। এখনও চারিদিকে হাজার হাজার বানর মেধা যায়। দুই চারি পরসার ছোলা কিনিয়া দিলে মুহূর্ত মধ্যে বিস্তয় হনুমান আসিয়া উপস্থিত হয়।