পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


I ৯ম সংখ্যা । ] | l দুর্গামন্দিরেন্স পর দশাশ্বমেধ ঘাট। কথিত আছে যে এখানে ব্ৰহ্মা দশটি অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করেন । ইহার নিকটে মানমন্দির ও মানমন্দির ঘাট। জয়পুরের মহারাজ এই মহল্লার অধিকারী। মানমন্দির রাজা জয়সিংহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল । তিনি ১৭৫০ সংবতে ( ১৬৯৩ খৃষ্টাব্দে ) জয়পুরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি নানা বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন ; কিন্তু গণিত শাস্ত্ৰেই সৰ্ব্বাপেক্ষা মনোনিবেশ করিরাছিলেন। তিনি জ্যোতিষ শাঙ্গে এরূপ খ্যাতিলাভ করিয়াছিলেন যে বাদশাহ মোহাম্মদ শাহ র্তাহাকে পঞ্জিকা সংস্কারের জন্য মনোনীত করেন ; কারণ তৎকালপ্রচলিত পঞ্জিকাগুলিতে দগ্‌গণিতৈক্য ছিল না। জয়সিংহ এই সংস্কারকার্য্য সমাধান করেন। পঞ্জিকায় গণনা সম্পাদন এবং জ্যোতির্ষিক পর্যবেক্ষণের জন্ত তিনি দিল্লী, কাশ, মথুরা, উজ্জয়িনী, ও জয়পুরে পাঁচটি মানমন্দির স্থাপন করেন । কাশীর মানমন্দিরে ভ্রষ্টবা অনেক যন্ত্র আছে, যথা, ভিত্তি বস্ত্র, যন্ত্রসম্রাট, চক্র যন্ত্র, দিগংশ যন্ত্র ইত্যাদি। র্যাহারা জ্যোতিষ জানেন, র্ত্যহাদের নিকট এই মন্দির অতিশয় চিত্তাকর্যক, তাহাতে সন্দেহ নাই । মানমন্দির ঘাটের অদূরে নেপালী মন্দির। এই মন্দির অন্তান্ত হিন্দুমন্দির হইতে দেখিতে স্বতন্ত্র; এই জন্য সকলেরই ইহার উপর চোখ পড়ে। ইহাঁর পর নৌকা করিয়া শ্মশান ঘাট অতিক্রম করিয়া তৎপরে মণিকর্ণিকা ঘাট দ্রষ্টব্য। শ্মশানঘাটে অনেকগুলি ছোট ছোট পাথর প্রোথিত আছে। এ গুলি সহমৃতা সতীগণের স্মৃতিচিহ্ন। মণিকণিকা সম্বন্ধে নিয়লিখিত কাহিনী কাশীখণ্ডে বর্ণিত আছে। বিষ্ণু নিজের চক্রদ্বারা এই কূপ খনন করিয়াছিলেন। জলের পরিবর্তে তিনি ইহা নিজ শরীরের ঘৰ্ম্ম দ্বারা পূর্ণ করেন, এবং ইহাকে চক্ৰপুষ্করিণী নাম দেন। তৎপরে তুিলি ইহার উত্তরদিকে গিয়া তপস্তায় প্রবৃত্ত হন। ইতিমধ্যে মহাদেব তথায় উপস্থিত হইয়া কুপের তলায় দৃষ্টি নিক্ষেপ পূর্বক তথার শতকোটা স্বৰ্য্যের সৌন্দর্য্য দেখিয়া মোহিত হন, এবং উচ্চৈঃস্বরে বিষ্ণুর স্তব করিতে আরম্ভ করেন। শিব আনন্দে আরও বলেন যে বিষ্ণু যাহা বর চাহিবেন, তাঁহাই প্রদত্ত্ব হইবে। ইহাতে বিষ্ণু আনন্দিত হইয়া বলেন, আমি কাশী । dفمرا এই বর চাই যে মহাদেব সৰ্ব্বন্ধ আমার সহিত বাস করিবেন। মহাদেব ইহা শুনিয়া অতিশয় প্রীত হন এবং আনন্দে তাহার সৰ্ব্বশরীর শনিীত হইতে থাকে স্পন্দন বা কম্পলের আতিশয্যে তাহাব কাণের একটি অলঙ্কার (মণিকর্ণিকা ) কুপে পতিত হয়। এই জন্ত মহাদেব কুপটিকে মণিকণিকা নাম দেন। মণিকর্ণিকা মুক্তিক্ষেত্র ও পুর্ণশুভকরণ নামেও অতিহিত হইয়া থাকে। এই কূপের জল গভীর নহে। মণিকর্ণিকা ঘাটের নিকট সিন্ধিয়া ঘাট। এই ঘাটের বিশেষত্ব এই বে ইহা নিৰ্ম্মিত হইবার পর ক্রমশঃ মাটীতে বগিয়া বাইতেছে ; ইতিমধ্যেই কয়েক হাত বসিয়া গিয়াছে। ইহার পর দর্শকের পঞ্চগঙ্গা ঘাট দেখিতে পারেন । কথিত আছে যে এখানে পাচটি নদী মিলিয়াছে ; কিন্তু কেবল একটিই চোখে দেখা যার । পঞ্চগঙ্গা ঘাট হইতে উঠিয়াই আওরঙ্গজেবের উচ্চ মসজিদের নিকট পৌছান যায়। ইহা মাধোদাস কা ডেওহর নামে পরিচিত। এই ইমারংটি নিৰ্ম্মিত হইবার পর ১৫০ বৎসর অতীত হইয়াছে, কিন্তু এখনও ইহ মজবুত আছে, একটি পাথরও খসিয়া পড়ে নাই। মসজিদটি দেখিতে সাদাসিধে, সুন্দর নয়; তবে ইহার চুড়াগুলি খুব উচ্চ বলিয়া সহ্য হইতে অনেক মাইল দূরেও দেখা যায়। চূড়াগুলি মেঙ্গে হইতে ১৪৭ ফুট উচ্চ, মেঙ্গে গঙ্গার শ্রেত হইতে ১৫১৬ ফুট উচ্চ পাড়ের উপর স্থিত। সুতরাং এই চূড়াগুলি নিকটবর্তী খুব উচু মন্দিরগুলির উপর মাথা তুলির ধাড়াইয়৷ আছে । এইরূপ শুনা যায় যে প্রাতঃকালে আকাশ নিৰ্ম্মল থাকিলে চূড়াগুলির উপর হইতে হিমালয় দেখা যার। এই মসজিদ যে পাড়ায় অবস্থিত তাহার প্রায় সমুদয় অধিবাসীই হিন্দু। স্বতরাং এমন বায়গায় মসজিদ নিৰ্ম্মাণ আওয়াঙ্গজেবের হিন্দুবিদ্বেষের একটি প্রমাণ বলিয়া ইংরাজের মনে করেন । এইরূপ জনশ্রুতি আছে যে মসজিদটি এখন যেখানে স্থিত, পূৰ্ব্বে তথায় একটি হিন্দু-মন্দির ছিল। ট্যাভার্ণিয়ের কথাতেও ইহা প্রমাণ হয়। তিনি বলেন যে বিষ্ণুর পূজার্থ উৎসর্গীকৃত একটি মন্দির অনেকখানা জায়গা যুড়িয়া এখানে অবস্থিত ছিল। " মসজিদ ছাড়িয়া কয়েকটি গলি পার হইয়া ভৈরোনাথের মন্দির সংস্পষ্ট দণ্ডপাণির মন্দিরে উপস্থিত হওয়া যায়।