পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| &b-b এখানে কালকূপ নামে একটি প্রসিদ্ধ কূপও আছে। এই কুপের গৃহের একটা দেওয়ালে একটি চৌকোণ ছিদ্র এরূপ ভারে অবস্থিত আছে, যে ছপর ১২টার সময় সূর্যোর কিলণ এই ছিদ্ৰ দিয়া কুয়ার জলের উপর পড়ে। এই সময়ে নিজ নিজ জীবনের ভবিষ্যৎ ঘটন; সম্বন্ধে কৌতুহলী অনেক লোক এখানে আসে। এই সময়ে যদি কেহ কুপের জলে নিজের প্রতিবিম্ব দেণিতে না পায় তাহা হইলে ছয় মাসের মধ্যে সে নিশ্চয় মরিবে;-ইহাই লোকের ধারণা। এখানে মহাকালের মূৰ্ত্তি এবং পঞ্চপাওবের মূৰ্ত্তিও আছে। ভৈরোনাথের মন্দির কিঞ্চিৎ পশ্চিমদিকে অবস্থিত। হিন্দু জনসাধারণের বিশ্বাস এই যে এই মন্দিরের দেবতা ভৈরোনাথ কাশীর পঞ্চক্রোশী রাস্তার সীমা পর্যাস্ত ও শহরতলীর কোতোয়াল। তিনি র্তাহার প্রভু বিশ্বেশ্বরের হুকুমে এই অঞ্চলের দেবমানবগণের উপর প্রভুত্ব করেন। তিনি নগরকে অপদেবতা ও ছত্তি লোক হইতে মুক্ত রাখিতে, এবং এরূপ কেহ সহরে উপস্থিত হইলে তাহাকে তাড়াই দিতে বাধ্য। এই কাৰ্য্য করিবার জন্য তঁহার একটা মঞ্জের দরকার। সুতরাং তঁহার একটা প্রকাও পাথরের লগুড় আছে । ইহা কিন্তু ঠাহীর মন্দিরে অবস্থিত নহে । দণ্ডপাল নাসধারী এই ডাওীও এক দেবতাবিশেষ । ইহঁীর এক স্বতন্ত্র মন্দির আছে । তথায় এই লগুড়-দেবতা প্রত্যেক মঙ্গল ও রবিবারে বহুলোকের দ্বারা পূজিত হল। ইনি প্রায় ৩ হাত লম্ব, খাড়াভাবে অবস্থিত। ইহঁর উপরে কখন কখন একটা রূপার মুখস লাগাইয়া দেওয়া হয়। কাশীর দেব-কোতোস্বাল ভৈরো তাহার এই ডাণ্ডাটিকে ছৰ্বত্ত লোকদিগকে প্রহার করিবার ছকুম দিয়া নিজে বিশ্রামস্থখ ভোগ করিতেছেন। এই দও-দেবতার পুরোহিত ময়ূরপুচ্ছ-নিৰ্ম্মিত একটি ঘষ্টিদ্বারা পূজকদিগকে আস্তে আস্তে আঘাত করেন ; তাহাতেই তাহদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়। বাস্তবিক ভৈরোনাথের কোতোয়ালীঘটিত বিশ্বাসের মধ্যে একটু বেশ অনভিপ্রেত পরিহাস-রস মিশ্রিত অাছে। কারণ, ইহা একটা জানা কথা যে কাশীতে যত জ্বরাচার নরনারী আছে, আর কোন ভারতীয় সহরে, অন্তত: তীর্থস্থানে, তত নাই। সংস্কৃতে, যেখাম্ নাস্তি গতিরন্তা তেষামূ ধারাণসী গতি: (যাদের অন্ত কোন গতি নাই, বারাণসী তাদের গতি), প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । এবম্বিধ একটা প্রবাদবাক্যও আছে। এমন স্থানে দুষ্টের দমন ও দুষ্টমানৰ বিতাড়নের জন্য দেব-কোতোয়াল ভৈরোনাথের অবস্থিতি উপযুক্ত বটে। পুলিশের দেবতা দুষ্ট ধমন কাৰ্য্যটা বোধ হয় পুলিসের মত সাধুতা ও কর্তব্যপরায়ণতার সহিতষ্ট করিয়া থাকেন!—প্রমাণ, কাশীর গুও, ও কাশীর হাজার হাজাৰ দ্বরাচার নরনারী ! ভৈরোনাথের মন্দির ছাড়িয়া দর্শক চৌখাম্বা নামক সঙ্কীর্ণ রাস্তায় গিয়া উপস্থিত হইবেন । এই খানেই সহরের প্রধান প্রধান মহাজন, সওদাগর ও দোকানদারের বাস করেন। এখানে নানাপ্রকার পিতল ও তামীর বাসন বিক্ৰী হয়। অতঃপর পুরান ীেক অতিক্রম করিয়া দর্শক একেবারে বিশ্বেশ্বরের মন্দির বা স্বর্ণমন্দিরে উপস্থিত হইবেন । সহরের মধ্যে এই মন্দিরই সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক সন্মান পাইয়া থাকে। বিশ্বেশ্বর মহাদেব কাশীর প্রধান দেবতা। পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি, ভৈবোনাথ ঠাহীর কোতোয়াল। পঞ্চকোণী রাস্তায় ধারে অবস্থিত সমুদয় দেবতা চৌকীদার স্বরূপ। বিশ্বেশ্বরের সন্দিরের কারুকাৰ্য্য চমৎকারজনক নহে, কিন্তু মন্দিরের গুম্বজ ও চড়া স্বৰ্য্যকিরণ-দীপ্ত হইয়া মার্জিত স্বর্ণগুপের ন্যায় প্রতীয়মান হয়। এই গুম্বজ ও চূড়া পাথরের উপর তামার পুর পাত ও তাহলে উপর পাতলা সোনার পাত দিয়া মোড় । পঞ্জীবের মহারাজা রণজিৎসিংহ সোনার পাত দিয়া মুড়িবার বায় নিৰ্ব্বাহ করেন । বিশ্বেশ্বরের মন্দির চূড়া সমেত ৫১ ফুট বা ৩৪ হাত উচ্চ। বিশ্বেশ্বরের মন্দিরের পারে মহাদেবের মন্দির অবস্থিত। উভয়েব মধ্যস্থিত গৃহে নয়টি ঘণ্টা কুলান আছে। একটির শিল্পনৈপুণ্য চমৎকার। ইহা নেপালের রাজার প্রদত্ত। বিশ্বনাথের মন্দির ইন্দোরের প্রাতঃস্মরণীয়া পুণাবতী রাণী অহল্যাবাঈর ব্যয়ে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। মন্দিরের ঘেরার বাহিবে উত্তরদিকে অনেক গুলি দেবমূৰ্ত্তি আছে। লোকে এইগুলিকে মহাদেবের দরবার বলে । বর্তমান বিশ্বেশ্বরের মন্দিরের উত্তর-পশ্চিমে পুরাতন বিশ্বেশ্বর মন্দির ছিল । সপ্তদশ শতাব্দীতে যখন উহ। আওরঙ্গজেব কর্তৃক বিধ্বস্ত হয়, সম্ভবতঃ তখন এই দেবমূৰ্ত্তিগুলি সরাইয়া পূৰ্ব্বোক্ত স্থানে রাখা হয়। এই মন্দিরের হবিস্তৃত ধ্বংসাবশেষ এখনও দৃষ্ট হয়। ইহার জায়গায় আওরঙ্গজেব যে মসজিদ নিৰ্ম্মাণ করেন, তাহার