পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/২৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৫৯৪ ইংরাজী সাহিত্যের চর্চা করিয়া শরীরে বাঙ্গালী থাকিলেs মানসিক প্রকৃতিতে ফিরিঙ্গী হইয়াছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে খাটি জাতীয়তা দিতে হইলে একথা ভুলিলে চলিবে না । নানা কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু এখন দেশ চাই যে আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থার, আমাদের যেরূপ অৰ্থ বল আছে, যেরূপ চরিত্র বল আছে, তাহাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালর স্থাপিত হইতে পাবে কি না। এই আলোচনার প্রবৃত্ত হইবার পূৰ্ব্বে বিশ্ববিদ্যালর কাহাকে বলে তাহা বুঝা দরকার। মোটামুটি বলিতে গেলে যে সমিতি বারা বা যে শিক্ষালয় বা শিক্ষালয় সকলে বহুবিধ বিদ্যার উচ্চতম অঙ্গের চর্চা ও উন্নতি সাধিত হর, তাহার নাম বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু পৃথিবীর সমুদয় বিশ্ববিদ্যালরগুলি এক রকমের নয়। কতকগুলি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পরীক্ষা 'লইয়া উপাধি দের, শিক্ষাদান তাহদের অঙ্গীভূত কলেজ সকলে দেওয়া হয় ; যেমন ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি । কতকগুলি বিশ্ববিদ্যালর নিজেই শিক্ষা দের ও পরীক্ষানস্তর উপাধি দেয় ; যেমন স্কটল্যাণ্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাৰ্ম্মেণীর বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ । আরো কতকগুলি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বাহাঁদের নিজের অধ্যাপক আছেন কিন্তু অঙ্গীভূত কলেজ সমূহেও শিক্ষা দেওয়া হয়, যেমন বিলাতের অক্সফর্ড ও কেম্বি জু বিশ্ববিদ্যালয়। তা ছাড়া উপাধি দান সম্বন্ধেও প্রভেদ আছে। বিলাতের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা করিয়া বি, এ, উপাধি দেন, এম, এ, পরীক্ষা নাই, অন্য কোথাও কোথাও সমস্ত উপাধির জন্যই পরীক্ষণ অাছে। স্পেনে বি,এ,উপাধি ছাত্রেয়া উচ্চশ্রেণীর স্কুল হইতেই পায়, কেবল উচ্চতর উপাধি বিশ্ববিদ্যালর হইতে দেওর হর। আধুনিক কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ হইতে ভিন্ন। প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির লক্ষ্য উদার ( liberal ) শিক্ষাদান, শিল্পকলা, বাণিজ্য প্রভৃতি জীবিকার উপর বা বৃতি তথায় শিক্ষা দেওয়া হয় না। কিন্তু কোন কোন আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (যেমন বার্মিংহামের ) উদেশু মানবের উচ্চতম জ্ঞানকে আধুনিক বাণিজ্য শিল্প ও কলার শহর ও সহযোগী করা। মেসন কলেজ বিকাশ ও উন্নতি লাভ করিয়া বামিংহান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় । এই কলেজে প্রথমতঃ সাহিত, প্রবাসী । দর্শন, ধৰ্ম্মতত্ত্বাদি অর্ধত ইষ্টত না ; কেবল বৈজ্ঞানিক , ৫ম ভাগ । বিষয় শিগান হইত। পরে ঐ সকল বিষয় শিখাইবারওঁ বন্দোবস্ত হয়। কিন্তু এখনও বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাবহারিক জ্ঞানবিজ্ঞান শিক্ষারই প্রাধান্ত দেখা যায়। বিলাতে কেবল এই বিশ্ববিদ্যালয়েই বাণিঞ্জের ও মঞ্চ প্রস্তুত করিবার ( brewing ) পরীক্ষা ও উপাধি ( degree ) আছে । আময় যতদূর জানি, সম্পূর্ণরূপে গবর্ণমেণ্টের সাশ্রব রহিত কোন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও নাই। অল্প কোন সংশ্ৰব না থাকিলেও, শিক্ষা ও উপাধি দিবার ও পৰীক্ষা কবিধায় অধিকারের সনন্দ (charter) টা গবৰ্ণমেন্ট হইতে প্রাপ্ত । এখন আমাদের দেশে কিরূপ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালর হইতে পারে যেখা যাক। এখন কলিকতা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পরীক্ষা করিয়া উপাধি দেন। এরূপ বিশ্ববিদ্যালয় করা বেশী শক্ত নয়। কতকগুলি স্কুল কলেজ ইহার অঙ্গীভূত হইতে রাষ্ট্ৰী ইষ্টলেই পরীক্ষ ও উপাধি দেওয়ার বন্দোবস্ত হইতে পারে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এরূপ হওয়া উচিত নয় :এরূপ করিলে চলিবেও না। হওয়াও উচিত নর, এই জষ্ঠ যে, এরূপ হইলে আমাধের শিল্পকলাবিধয়ক দাসত্ব ঘুচিবে না। শিল্পকলা আধুনিক উৎকর্যের সহিত শিখাইবার মত অর্থবল বর্তমান কোন বেসরকারী কলেজের নাই । তম্ভিয় পুর্কেই আমরা যেখাষ্টয়াছি যে আমাদের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়কে মাটি জার্তায়ত্ব দিতে গেলে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত তাহাকে ইংল্পাঞ্জীসাহিত্যপ্রধান করা উচিত নয় । এরূপ করিলে চলিবে না কেন, তাহ বলিতেছি। আজকাল আমাদের ছাত্রেয়া কেন কলেজে পড়ে ? কেবল জ্ঞান লাভের জষ্ট কয় জন যায়, জানি না ; কিন্তু অধিকাংশই ভবিষ্মতে জীবিকা নিৰ্ব্বাহের সুবিধা হইবে বলিয়া যায়। এই জীবিকা চারি রকমের—নানাবিধ চাকরী, শুকালতী, ডাক্তারী ও এপ্রিনীয়ারী। জার্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের সরকারী চাকরী পাইবে না, বে-সরকারী চাকরীও (যেমন ইংল্পীজ সওদাগরদের আফিসে ) যেশ পাইবে না। স্বতরা জাতীয় এখানে ধৰ্ত্তমান সময়ে ৪ জন বাঙ্গালী, ১ জন পঞ্জাবী ও ১ জন মধ্য-ভারতের ছাত্র খনিeোত্তোলন (mining) বিস্তা ও ধাতুশি’ শিখিতেছেন। ৯ম সংখ্যা । ] তাহারা করিতে পারবে না, কারণ এই বৃত্তিতে সরকারের মধুরী চাই। সরকারী ডাক্তার ও এঞ্জিনীয়ারও তাহার ইষ্টতে পারবে না। সুতরাং যে সকল ছাত্র প্রাপ্তবয়স্ক হইয়া জীবিকার পূৰ্ব্বোল্লিখিত উপর সকল অবলম্বন করিতে চান, বা অনিচ্ছাসত্ত্বেও করিতে বাধ্য হইবেন, তাহাদিগকে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্রব রাপিতেই হইবে, তাহারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসিতে পরিবেন না। আমাদের ধারণা এই যে অধিকাংশ ছাত্রই এই শ্রেণীর। তবে বর্তমান নানাবিধ আন্দোলনের ফলে ও ক্রমাগত বিজ্ঞানশিল্পকলা শিক্ষার প্রভাবে এরূপ ছাত্রের সংখ্যা কমিয়া আসিতে পারে। বে-সরকারী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিপ্রাপ্ত ডাক্তারদের চিকিৎসা ব্যবসায় চলিতে পারে, সুতরাং চিকিৎসা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শিক্ষণীয় বিধয় কষ্টতে পারে। গবর্ণমেন্ট এবং রেলওয়েসকল এঞ্জিনীয়ার নিযুক্ত করিয়া থাকেন, স্বতরাং বে-সরকারী এঞ্জিনীয়ারিং স্কুল বা কলেজ চালাইবার চেষ্টা বৃথা। অনেকে উৎসাহেয় আতিশয্যে বলিতে পারেন, আমরা চাকরী করিব না, ওকালতীও করিতে চাই না ; আমরা কেবল জ্ঞানলাভার্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হইব। ইহা কাজের কথা নয়। সম্পূর্ণ স্বাধীনজীবিকাশালী ভদ্রলোক কয়জন আছেন বা ইষ্টতে পারেন ? কয়জন পৈত্রিক বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করিতে পারেন? শুধু উৎসাহে, শুধু জ্ঞানে পেট ভরে না। একটা জীবিক চাই, এবং একটা জাতির জীবিকার প্রধান প্রধান বিভাগগুলি একদিনে বদলাইয়া যায় না । বাণিজ্যশিল্পকলার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার নান উপায় বাহিয় হউক —তাহা হইলে অনেক লোকে আপনিই চাকরী ও ওকালতী ছাড়িবে। কেছ যেন মনে না করেন যে, আমরা জ্ঞানের গৌরব বা মধ্যাদাহানি করিতেছি । জ্ঞান শ্রেষ্ঠ বস্তু । কিন্তু জ্ঞানই জ্ঞানলাভের উন্তে নয় ; উদ্দেশু উন্নত জীবন। কিন্তু শরীর না টিকিলে এই উন্নত জীবন কেমন করিয়া সম্ভবে • মুতরাং অধিকাংশ লোকের পক্ষেই একটা বৃত্তির প্রয়োজন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে আরও কয়েকটি বিবেচ্য বিষয় আছে। ছাত্রদের সম্বন্ধে নিয়ম ও শাসন (discipline) ক্ষে একটি। ধরুন, আমাদের নেতা। সকলে মিলিয়া জাতীয় শিক্ষার ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন চাকরীর জন্য করা বৃথা। শুকালতীও &s& এই বিষয়ে কতকগুলি নিয়ম করলেন। ইহা কি জোর করিয়া বলা যায় যে সব বে-সরকারী কলেজে নিয়মগুলি প্রতিপালিত হইবে ? অনেকে যাহাই মনে করুন, এ বিষয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। কোন কোন ছাত্র মফস্বলে থাকিয়া গু কলিকাতার অষ্টিন বিদ্যালয়ের খাতঙ্গি "উপষ্ঠিত চিহ্নিত হইয়াছেন, ইঙ্গ অনেকেই জানেন। আমাদের যে-সরকারী কলেজগুলি ছাত্রদত্ত বেতনের দ্বারা চালিত হয়। এরূপ স্থলে বাহিরের একটা চাপ ( যেমন সরকারী বা অৰ্দ্ধ-সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মাবলী, অথবা গবর্ণমেণ্ট শিক্ষাবিভাগ ) লা পাকিলে নিয়ম পালন ও শাসন রক্ষা সম্পূর্ণরূপে হুইবার সম্ভাবনা খুব বেশী নয়। কিন্তু কেবল ছাত্রদত্ত বেতন হইতে প্রস্তাবিত শিক্ষালয় সকল চলিবার সম্ভাবনা নাই। কিছু সম্পত্তি চাই। তাছা হইলে নিয়ম ও শাসন রক্ষাৎ হইবে। দ্বিতীয় কথা, পরীক্ষার নিয়ম। বৰ্ত্তমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরীক্ষকগণ বা ছাত্রগণ অসাধু আচরণ করিলে দণ্ডিত হইতে পারেন, এমন কি আদালতে দণ্ডিত হইতে পারেন ; আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা এরূপ স্থলে কি করিব ? কথাটা সামান্ত ইষ্টলেও বিবেচ্য। তৃতীয় কথা, পাঠ্য পুস্তক ও ভাষা নিৰ্ব্বাচন। আমরা কি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সমস্ত বিষয় ইংরাজীতে শিখাইব, না বাংলায় শিথাইৰ, না মাঝামাঝি কোন পন্থা অবলম্বন করিব ? একথা সবাই বুঝেন যে নাস্তৃভাষার সাহায্যে যাহা শিক্ষাকরা যায়, তাঙ্গ যেমন মৰ্ম্মে মৰ্ম্মে বসে, বিদেশী ভাষার সাহায্যে শিক্ষিত বিধয়গুলি তেমন করিয়া আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে নিশ থাস্থ না । অথচ উচ্চ শিক্ষার জন্ত বাংলা বহি নাই। কিন্তু তাই বলিয়া চুপ করিয়া থাকিলেও ত চলিবে না। জাপানীরা এখনও উচ্চ উচ্চ বিষয় ইংরাজী, জাৰ্ম্মেন বা ফ্রেঞ্চ পুস্তকের সাহায্যে শিখিতেছেন ; কিন্তু তাহারা ইতিমধ্যেই অনেক উচ্চ বিষয়ের বহি জাপানী তাষীয় লিখিয়া ফেলিয়াছেন। আমাদেরও তাছাই করা উচিত। ইংরাজী একেবারে বান্ধ দিলে কোন মতেই চলিবে না। কারণ, জগতের নিস্থতবৰ্দ্ধনশীল জ্ঞানরাশির অংশ গ্রহণ করিতে হইলে কোন প্রধান ইউরো পীয় ভাষা জান চাই। ইংরাজ আমাদের শাসনকর্তী ।