পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


+ © & মোহাম্মদ মনুধমাত্র, তিনি নবধৰ্ম্ম প্রচার জন্য প্রেরিত হইয়াছিলেন। ইতঃপূৰ্ব্বেই পয়গম্বরগণ নশ্বরদেহ পরিত্যাগ করিয়াছেন। মোহাম্মদ মৃত্যুমুখে পতিত বা নিহত হইলেই কি তোমরা পৃষ্ঠভঙ্গ দিযে ? ( ১ ) কোরানে আরও লিপিত হইয়াছে, “মোহাম্মদ, তুমি নিশ্চয়ই মৃত্যুমুখে পতিত হইবে, এবং তাঙ্গদেরও মৃত্যু হইবে।” ( ) বৃদ্ধ আবুবকরেল সাস্বনাবাক্যে সমাগত নরনারীর হৃদয় শাস্তভাব ধারণ কলিল । অতঃপর মদিনার অধিবাসীবা মোহাম্মদের মৃতদেহ সমাহিত করিবার জন্য উদ্যোগ করিতে প্রবৃত্ত হইল। মোছাস্মদের পুত্রসস্তান ছিল না ; ইংলোক হইতে অপক্ষত হুইবার সময় তিনি কাহাকেও উত্তরাধিকারী মনেলীত করেন নাই। এই কারণ তাহার মৃতদেহ সমাহিত করিবার পূৰ্ব্বেই অরাজকতা নিবারণ জষ্ঠ ইসলামের অধিনেতা নিৰ্ব্বাচন প্রয়োজনীয় হইয়াছিল। যদিনাবাসী মোসলমানগণ তদৰ্থ সম্মিলিত হইয়া নিদ্ধারণ করিলেন যে, ইসলামের নেতৃত্ব বংশানুক্রমিক হইবে না, এবং প্রত্যেক অধিনেতাঁর মৃত্যুর পয় নিৰ্ব্বাচন প্রথানুসারে নুতন অধিনেতা নিযুক্ত হইবেন। এই নিৰ্দ্ধারণের পয় নেতৃত্বপদে লোক নিৰ্ব্বাচন সম্বন্ধে প্রশ্ন উথাপিত হইল। সমবেত মোসলমানগণ আবুবকর, ওমর, ওসমান, আলী (৩), এই চারি জনকে নেতৃত্বপদের যোগ্য বলিয়া অভিমত প্রকাশ করিলেন, কিন্তু ইহাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সৰ্ব্বাপেক্ষ যোগ্য, তাহ লইয়। বাগ্‌বিতণ্ড উপস্থিত হইল। মহাত্মা ওমর আত্মকলহের উপক্রম দেখিয়া তরিবারণ জন্য আবুবকরের হস্ত ধারণপূৰ্ব্বক তাহাকে উচ্চ কণ্ঠে ইসলামের অধিনেতা বলিয়া ঘোষণা করিলেন। সমবেত মোসলমানগণ ওমরের স্বর্থত্যাগ দর্শনে বিস্থিত হইলেন, এবং একে একে আবুবকরকে অধিনেতা বলিয়া স্বীকার কলিলেন । নিষ্কাম আবুবকর নেতৃত্বপদ লাভ কবিয়া আননে অধীর হইলেন না; তাহার স্বন্ধে যে গুরুভার গুপ্ত হইল, তাহ (১) কোরান, ৩য় স্বল্পী । (২) কোরান ৩•শ তুরা। (৩) আবুবকর মোহাম্মদের প্রিয়তমা পত্নী আয়েশার পিতা . ওমর উহর অন্যতম পত্নী হাফসার পিতা । ওসমান ঠাহীর দুইট ক্যাক বিবাহ করিয়াছিলেন, কিন্তু মোহাম্মদের জীবদ্দশাতেই উহাদের উভয়েরই BBBBBB BBBSSSBBBB BBBBB BB DBB BB BS DBB BBBBB TTBB BB BB BBBB KK BBBB BBS _ প্রবাসী । ৫ম ভাগ । -- ১ম সংখ্যা । ] v- ... . স্মৰণ করিয়া সমবেত মোসলমানদিগকে সম্বোধন করিা- Joੇਸ਼ਾਂ তিনি প্রচুর ধনসঞ্চয় করেন। মোহাম্মদ ইসলাম বিনয়নশবচনে বলিতে লাগিলেন, “আমি পয়গম্বরের অগুস্ত । নীতি অবলম্বন করিয়াই স্বকার্যা সম্পাদনা করিতে যত্নশীল হইব । করিব। আমি নে পরিমাণে ঈশ্বল ও পয়গম্বরের আদেশ মত কাজ করিব, তোমারা সেই পরিযাণে আমার আজ্ঞা প্রতিপালন করিও। যদি আমি ভ্ৰমে পতিত হই, তোমরা আমার ভ্ৰম প্রদর্শন কবি ও ; আমি সৰ্ব্বদাই আপন ভ্রম সংশোধন করিতে তৎপস থাকিব । আমি মহাপুরুষের প্রতিনিধি রূপেই সমস্ত কাৰ্য্য নিৰ্ব্বাহ করিব। অনেকে আমাকে খলিফা (উত্তরাধিকার ) বলিয়া অভিহিত করিবেন। আমি কোন রূপ ক্ষমতাস্বচক উপাধির আকাঙ্ক্ষী নহি ।” অতঃপয় আবলকর আসন পরিগ্রহ করিলে সভা ভঙ্গ হইল। পর দিবস প্রত্যুষে আবুবকর কতকগুলি কেীৰ্ত্তা লইয়া বাজার অভিমুগে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে ওমরের সহিত তাহান সাক্ষাৎ হর। ওমর তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহাশয়, কোথায় যাইতেছেন " আবুবকর উত্তর করিলেন, “বাজারে যাইতেছি।” ওমর কহিলেন, “আপনি কি ইসলামের অধিনেতা হইয়াও কেীৰ্ত্তাবিক্র করিবেন ." আবুবকর উত্তর করিলেন, “আমার পরিবার পরিজনের । ভরণপোষণ কিরূপে নির্বাহিত হইবে ?” ওমর প্রত্যুত্তরে কহিলেন, “চলুন, আময় ধনাধ্যক্ষ আবু ওবেদার নিকট গমন করি ; তিনি আপনার জীবিকানিৰ্ব্বাহোপযোগী বৃত্তি অঞ্চ ধারণ করিয়া দিবেন।” অতঃপর তাহারা উভয়ে ধনাধ্যক্ষের নিকট গমন করিলেন। ধন্যধ্যক্ষ বলিলেন, “গৃহত্যাগী ( মুহাঞ্জেরীন ) মোসলমানের জন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি নির্দিষ্ট আছে, আপনাকেও তাঁহাই মেওয়া যাইবে। আপনাকে গ্রীষ্মকালৌপলোগ এক প্রস্ত ও শীতকালোপযোগী আর এক প্রস্ত পরিচ্ছদ প্রদত্ত হইবে। এক প্রস্ত জীর্ণ হইলে তাহা প্রভাপণ করিয়া আর এক প্রস্ত লইয়া যাইবেন ।” আৰু বকর এই সামান্য বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়াই স্বব্যবসায় পরিত্যাগ' পুৰ্ব্বক সন্তুষ্টচিত্ত্বে শাসন সংরক্ষণ ও যুগ্মপ্রচারে আপনার সমস্ত সময় ও শক্তি নিয়োগ করিলেন। বস্তুতঃ, আবুবকবেল কিঞ্চিম্মাত্রও ধনপূহ ছিল না। তিনি মক্কানগরীর একজন বঙ্গব্যবসায়ী ছিলেন। এই আমি বিন্ধেব ও পক্ষপাত পরিত্যাগ করিতে যত্ন । l ধৰ্ম্মপ্রচারের জন্ত উত্থিত হইলে আবুবকর সে ধৰ্ম্ম গ্রহণ করেন। তৎকালে তাহাল হস্তে চল্লিশ সহস্র দিরহাম সঞ্চিত ছিল। আবুবকর নবধৰ্ম্মের জন্য মুক্তহস্তে ব্যয় করিতেন । আবুবকর মক্কায় নবধৰ্ম্ম প্রচারকল্পে পয়ত্রিশ হাজার রিখম বায় কবিয়াছিলেন । মক্কার অনেক ক্রীতদাস ইসলামধৰ্ম্মে বিশ্বাসস্থাপন করিয়াছিল , এক্ট কারণ তাহার স্ব স্ব প্রভুর হস্তে নিৰ্দ্দয়ভাবে নিগৃহীত হইত। আবুবকর ক্ষতিপূরণ প্রদান করিয়া তাদশ ধৰ্ম্মপ্রাণ সাতজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করেন। মোগম্মদ একদিন কথাপ্রসঙ্গে বলেন, “আবুবকরের ধনসম্পত্তি দ্বারাই আমি সৰ্ব্বাপেক্ষ অধিক উপকৃত হইয়াছি।” আবুবকর যাপরুদ্ধকণ্ঠে উত্তর করেন, "ছে প্রেরিত পুরুষ, আমি কি আপনার নহি ? আমার ধনসম্পত্তি কি আপনার নহে ।” আবুবকর লোকসেবার জন্যও সৰ্ব্বদা মুক্তহস্তে ধন বিতরণ করিতেন। একদা মহাপুরুষ মোহাম্মদ আবুবকর ও ওমরকে তাঙ্গাদের স্বেীপার্জিত অর্থের কিয়দংশ বিতরণ করিতে বলেন। তদনুসারে প্রথমে ওমর অর্থ লষ্টয়া উপস্থিত হইলেন। মোহাম্মদ তাঙ্গকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "হে ওমর, কি পরিমাণ অর্থ আনয়ন করিয়াছ ?” ওমর উত্তর করিলেন, “সঞ্চিত অর্থের অৰ্দ্ধাংশ।" অতঃপয় আবুবকর অর্থ লইয়া আগমন করেন। মোহাম্মদ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কি পরিমাণ অর্থ আনয়ন করিয়াছ " আবুবকর কহিলেন, “আমি এক কপদকও গৃহে রাখি নাই, সমস্তই আনয়ন করিয়াছি।” মহাপুরুধ বলিলেন, “হে আবুবকর, তোমার পরিযায় পরিজনের জন্য কি রাগিছ ?” আবুবকর উত্তর করিলেন, “श्रेषज्ञ यु তাহার প্রেরিত পুরুষই তাহদের সম্বল ।” নানা কাজে ধন বিতরণ বাতীত আবুবকরের আরও লোকসেবার বাসনার প্রমাণ দেখিতে পাওয়া যায়। তিনি পীড়িতের শুশ্ৰুষ ও অসমর্থের গৃহকাজ করিতে তৎপর ছিলেন। ইসলামের নেতৃত্ব পদলাভ করিবার পরেও তিনি প্রতিবাসিনী বালিকাদিগকে স্বহস্তে গভীদোহন করিয়া দিতেন। ইতিহাস-লেখক রবি আন আবুবকরকে জলধারার সহিত তুলনা কবি গিয়াছেন ; _* খোলফায় রাশেদিন । ఆ~~ 仓田 যে স্থানেই বারিপাত হউক না কেন, তাহাই কম্বিগ্ন । छठेशृ॥ ५itरक । تمیسر আবুবকর সেই অজ্ঞানতমসাচ্ছন্ন মৃগে জ্ঞানী বলিয়া প্রসিদ্ধ ছিলেন । মোহাম্মদের যে সকল প্রচারক বন্ধু ছিলেন, শহাদের কেহই বিষ্ঠাবুদ্ধিতে আবুবকরের সমকক্ষ ছিলেন না। মোহাম্মদ বলিতেন, “দেবদূত আমাকে আবুবকরের মন্ত্রণাগ্ৰহণ করিতে ঈশ্বরের আজ্ঞা জ্ঞাপন করিয়াছেন। আবুবকর কোন বিষয়ে লাস্ত হইবেন, ইহা ঈশ্বরের অভিপ্রেত নহে ।” - আবুবকরের বিশ্বাস সুগভীর ছিল। জ্ঞানের সহিত বিশ্বাস সম্মিলিত ইয়াই ষ্টাঙ্গকে তাদৃশ স্বার্থশূন্ত, নিম্পূs, পরোপকারী এবং জনষ্টিতৈষী করিয়া তুলিয়াছিল। তাহার বিশ্বাস কিরূপ সুগভীর ছিল, তাহা আমরা প্রদর্শন করিতেছি। একদা আবুবকরের প্রশংসা করা হইয়াছিল। টহাতে তিনি বলেন, “হে প্রভো । তাহলে আমার সম্বন্ধে যাহ জানে, আমি তাহ অপেক্ষা অধিক অবগত আছি। হে ঈশ্বর ! আমি আমার নিজের সম্বন্ধে যাহা জানি, তুমি তাহা অপেক্ষা অধিক পরিজ্ঞাত আছ । তাহারা আমাকে যতদুর সচ্চরিত্র বলিয়া প্রকাশ করিয়াছে, আমাকে তাগ অপেক্ষা সচ্চরিত্রকর। তাহারা যাহা পরিজ্ঞাত নহে, তাহার নিমিত্ত আমাকে ক্ষমা কর। তাহারা যাহা প্রকাশ করিয়াছে, তজন্ত আমাকে দোষী কবিও না ।” কেছ বিচারার্থী ইয়া উপস্থিত হইলে, আবুবকর বলিতেন, “আমি সাধ্যানুসারে স্থায়বিচার করিতে যত্ন করিব , ন্যায়ামমোদিত বিচার ঈশ্বরপ্রেরণা ব্যতীত অসম্ভব। বিচারে ভুল প্রমাদ হইলে সে ক্রট আমার নিক্সের । ঈশ্বর আমাকে মাঞ্জন করুন।” আবুবকর একদা কোন উষ্ঠানে প্রবেশ করিয়া দেখিতে পান যে, একট পাপী বৃক্ষচ্ছায়ায় উপবিষ্ট রহিয়াছে। তিনি পাখীটকে তদবস্থায় দেখিয়া দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগপূৰ্ব্বক বলেন, “হে পাখি, তুমিই স্বর্থী : তুমি যে বৃক্ষের ফলে উদরপূৰ্ত্তি কর, তালু ছায়াতলেই আশ্রয় অন্বেষণ করিয়া থাক। • • কথন তোমার হায় আবুবকরের অবস্থা হটবে ?" আবুবকর অসাধারণ স্বাৰ্থত্যাগ ও জলন্ত বিশ্বাসনিবন্ধন মোহাম্মদের সাতিশয় প্রিন্থপত্রে ছিলেন । মোহাম্মদের প্রতি