পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


දාඤා ত্যাগ করিযেন বলিয়া ভয় প্রদর্শন করিলে কর্ণদেব মাতার নিবন্ধতিশরে ময়নপ্পদেবীল পাণওহণ করেন। প্রথমতঃ কর্ণদেব রাষ্ট্রীর প্রতি অত্যন্ত বিমুথ ছিলেন কিন্তু পরিশেবে মুঞ্জাল নানক মন্ত্রীর কৌশলে অনুরক্ত হন। কিয়ৎকালামন্তর মন্ত্রনল্পদেবী শুভলগ্নে এক পুত্র প্রসব করেন। এই বালকই উত্তরকালে "সিন্ধরাজ জয়সিংহ” নামে বিখ্যাত হন। সংবৎ ১১৫০ অব্দে পৌষ মাসীয় কৃষ্ণ তৃতীয় তিথিতে ইনি ত্রিবর্যমাত্র বয়ঃক্রমে পিতাকর্তৃক রাজ্যাভিষিক্ত হন। কর্ণদৈব পুত্রকে রাজ্যপ্রধান পূৰ্ব্বক স্বয়ং আশাপল্লী নিবাসী ষটুলক্ষাধিপতি জনৈক ভালরাজকে পরাস্ত করিয়া কর্ণাবতী ( যাহা অধুনা "আশাষী নামে কথিত হয় ) নারী নগরী স্থাপন করতঃ–পুত্রের শিশুত্ব নিবন্ধন স্বয়ং রাজকাৰ্য্য পরিচালন করিতে লাগিলেন। ইনি কর্ণাবতীপুবে জয়ন্ত্ৰীদেবী ও কৰ্ণেশ্বর দেবের মন্দির এবং কর্ণসাগর নামক তড়াগ ও পট্টনে কর্ণমেরু নামক সুউচ্চ প্রাসাদ নিৰ্ম্মাণ করাইয়াছিলেন । কিৎকালের পর কর্ণদেব মৃত্যুমুখে নিপতিত ইষ্টলেন। মহারাজ জয়সিংহদেব তখনও অপ্রাপ্তবয়স্কতাবশতঃ রাজকাৰ্য্য পরিচালনে অক্ষম হওয়ায় তদীয় মাতুল মদনপাল তাহার প্রতিনিধিরূপে রাজকাৰ্য্য নিৰ্ব্বাহ করিতে লাগিলেন। মদনপাল রাজ্যভারপ্রাপ্তে অত্যন্ত অহঙ্কার হওয়ায় ও বহু অন্যায় আচরণ এবং প্রজাপীড়ন করিতে আরম্ভ করায় “সান্ত নামক স্ত্রীর কৌশলে নিহত হয়েন। মদনপালের মৃত্যুব পর সান্ত মন্ত্রী রাজকাৰ্যা সম্পাদন করিতে লাগিলেন। ইনি উদয়ন নামক তীক্ষ-বুদ্ধি-শালী জনৈক বণিককে সহকারী মন্ত্রী করেন। ইহাব উভয়েই জৈনধৰ্ম্মাবলম্বী ছিলেন। উদয়ন মন্ত্রী কর্ণাবতী নগরীতে উদয়ন-বিতায় নামক প্রসিদ্ধ জিনমন্দির প্রস্তুত করান। জয়সিংহদেব প্রাপ্তবয়স্ক হইয় রাজ্যভার গ্রহণ করিলে মাতা ময়নম্নদেবীর অনুরোষে সোমেশ্বর যাত্ৰীগণের নিকট হইতে রাজকর সংগ্রহ স্থগিত করেন । একদা সিন্ধরাজ সোমেশ্বরতীর্থে গমন করিলে সুযোগ পাইয়া মালবার্ষিপতি যশোবর্ষদেব গুর্জরাক্রমণ করিতে আগমন করেন, কিন্তু প্রধান অমাত্য সাস্তুর স্বকৌশলে প্রত্যাবৃত্ত হন । সিন্ধরাজ তীর্থ হইতে প্রত্যাগমন করিয়া [ ৫ম ভাগ । যশোবন্মদেব কর্তৃক গুজরাক্রমণবাৰ্ত্তা শ্রবণে ক্রোধবশে বিপুল সমরায়োজন সংগ্রহপূর্বক মালবাত্রমণ করেন। দ্বাদশবর্ষব্যাপী ভীষণ সংগ্রামের পয় ধারানগরী অবয়োধ ও তাহায় দুঙ্গয় দুর্গ ভঙ্গ করতঃ যশোবন্মদেবকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত ও বন্দী করেন । মালবদেশে শুল্পরাধীশের জরপতাকা উড্ডীন হইল। এই প্রসঙ্গে কোন কষি কৌতুক করিয়া বলিয়াছিলেন যে "বেড়ায়াং সমুদ্রোমগ্নঃ”। হেমকোব প্রভৃতি বহুগ্ৰন্থরচয়িতা প্রখ্যাতঘণাঃ শ্ৰীহেমচন্দ্রাচাৰ্য্য এ সময়ে শনৈ: শনৈঃ কাঞ্জিসৌধে অধিয়োহণ করিতেছিলেন। ইনি স্বগুণে জয়সিংহদেধের প্রতি ও শ্রদ্ধ আকর্ষণ করিয়াছিলেন ও তাছার অনুরোধে “সিদ্ধ-হেম” নামক এক নূতন ব্যাকরণ প্রণয়ন করেন। হেমচন্দ্রাচার্যা সিদ্ধরাজের পরবর্তী ভূপতি কুমারপালের সময় বিশেষ বিখ্যাত হইয়াছিলেন। তৎসম্বন্ধ যথাস্থলে প্রকটিত হইবে । নবঘন নামক জনৈক আভাররাঞ্জ একাদশবার সন্ধরাজের সৈচকে পরাজিত করায় ক্ৰোধবশে স্বয়ং নৃপতি বছফুদ্ধসম্ভার একত্রিত ও বদ্ধমানপুরের (অধুনা বঢ়বান নামে পরিচিত) দুর্গ সংস্কার করিয়া নবঘনকে আক্রমণ করেন । নবঘনের ভাগনেয় রাবণুভ্রাতা-বভীষণের স্থায় জুনাগড়ের ( নবঘন বোধ হয় জুনাগড়ের রাজা ছিলেন) দুর্গের গুহ পথাদি জ্ঞাত করাইলে সিদ্ধরাজ দুর্গ জয় করিয়া নবঘনকে পরাভূত ও নিহত করেন। গুরসংহদেব “সজ্জন” নামক ব্যক্তিকে সৌরাষ্ট্রের দণ্ডাধিপতির পদে নিযুক্ত করিয়া প্রেরণ করিলে ইন তিন বৎসরের সংগৃহীত রাজকর ব্যয় করিয়া রৈবতাচলের স্থাবিংশতিতম তীর্থঙ্কর ঐনেমীনাথ স্বামীর কাঠমর চৈত্য সংস্কার করিয়া পাষাণময় সুদৃঢ় মন্দির নিৰ্ম্মাণ করাইয় দেন। তিন বৎসর পরে ভূপতি সজ্জন দণ্ডাধিপতিকে ডাকাইয়া বৰ্ষত্ৰয়ের সংগৃহীত রাজকর অনিয়ন করিতে অনুজ্ঞা করলে সজ্জন জৈন ধণিকূ সম্প্রদায়ের নিকট হইতে অর্থ সংগ্রহপূর্বক নৃপতির সম্মুখে স্থাপিত করিয়া বলিলেন, “প্রভো! সৌরাষ্ট্রের সংগৃহীত রাজকর দ্বারা আমি শ্ৰীনেমীনাথ স্বামীর চৈত্যসংস্কার করাইয়াছি কিন্তু ভবনীয় ক্রোধাশঙ্কায় সমস্ত অর্থ সংগ্ৰহ করির ভবৎসকাশে উপস্থিত করিয়াছি ; যদি জীর্ণোদ্ধারের পুণ্য লইতে অভিলাষী হন তবে সমস্ত অর্থ আমাকে প্রত্যপিত করুন নতুবা ইহা গ্ৰহণ করিতে মাত্ত হল্প ”, সজ্জনের এবহুপ্রকার বাকুচাতুয়ে ১০ম সংখ্যা । ] প্রত হইয়া তৎসমস্ত অর্থাদি সজ্জনকে প্রতাপিত করিলেন ও পুনরায় তাহাকে সৌরাষ্ট্রের দণ্ডাধিপতির পদ প্রদানপুৰ্ব্বক তথায় প্রেরণ করিলেন । সিদ্ধরাজ কাপটিক বেশে জৈনতীর্থ ঐ শত্ৰুঞ্জয়গিরিতে তীর্থযাত্রা করিয়া তৰ্ত্তীর্থ সন্নিহিত দ্বাদশ গ্রাম দেবপূজার জন্ত প্রদান করেন । সিন্ধরাজ জয়সিংহদেব তদানীন্তন অন্যান্য হিন্দু-নরপতির ন্যায় বিষ্ঠোৎসাহী ছিলেন । ইহঁার রাজসভা বহু পণ্ডিতের সম্মিলনে স্থশোতিত থাকিত ! ইষ্ঠার সভায় বহু পণ্ডিতের মধ্যস্থতায় তাৎকালীন সুবিখ্যাত দিগ্বিজয়ী পণ্ডিত দিগম্বরজৈনাচাৰ্য্য শ্ৰীকুমুদচন্দ্র মুনির সহিত শ্বেতাম্বর জৈনাচার্য্য বাণীপ্রবর প্রদেবস্তুরির কিয়দিবসব্যাপী তুমুল তর্কযুদ্ধ হয় ; তাঁহাতে দিগম্বরগুরু পরাজিত হইয়া ক্ষুন্ধান্তঃকরণে ও অবলাঞ্ছিত-মস্তকে গুজরাতভূমি পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন করেন । কোন এক সময়ে সিন্ধরাজের মালব হইতে প্রত্যাগমনের পথ তালগণ কর্তৃক অবরুদ্ধ হইলে সা. মন্ত্রী বহুসংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য একত্রিত করতঃ রাজার আমুকূলে আগমন করিলে ভালগণ ভীত হইয়া পলায়নপর হয়। ইহঁর স্লাজাকালে পট্টন (অনহিত্নপুর-পট্টন সংক্ষেপে পট্টন বা পাটন নামেই অভিহিত হইয় থাকে ) নগরনিবাসী “আভড় নামক জনৈক জৈন বণিক্‌ জৈনগণের অনেক তীর্থস্থলে বহুঅর্থব্যয়ে জীর্ণসংস্কার করাইয়াছিলেন। কথিত আছে ইনি প্রথমে অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন কিন্তু ভাগাক্রমে পরে প্রভূত অর্থ উপাৰ্জ্জন ও সৎকৰ্ম্মে ব্যয় করেন । ইনি তিন লক্ষের বেশী মুদ্র নিজে ক্লাথিতেন না ; বেশী হইলেই সদ্ব্যয়ে নিঃশেষ করিতেন । সংবৎ ১১৯৯ অন্ধে (১১৪৩ খৃঃ অঃ ) ৪৯ বর্ষ রাজ্যভোগ করিয়া সিদ্ধরাজ জয়সিংহদেব পরলোকগত হন। (ইতি সিদ্ধরাজ-প্রবন্ধ }। ঐপূরণটা সামমুখ । লালসার চিতায় প্রেমের জন্ম । ৬৫৩ --Info-farmerBot (আলাপ) ১৪:২৮, ২১ মে ২০১৬ (ইউটিসি) ------- লালসার চিতায় প্রেমের জন্ম । পতিতা রমণী । যশোহর জেলায় বেনাপোলের নিকট এক বনে কুটার বাধিয়া দিবানিশি হরিদাস নাম জপ করেন—ধিরাম নাই, বিশ্রাম নাই। তিনলঙ্ক হরিনাম জপ শেষ ন হইলে তিনি আহায় করিতেন না। তিনি হিন্দু নহেন, তথাপি হরি নাম জপ করেন ; এবং তাহার আচার ব্যবহারে শুদ্ধাচারী সাত্বিক পুরত্বদিগের মনেও বিস্ময় ও আননের সঞ্চার করিত। গ্রামের লোকের তাহাকে নিরতিশয় শ্রদ্ধা ভক্তি কল্পিত । রামচন্দ্ৰ খী গ্রামের একছন চরিত্রহীন ধনশালী ব্যক্তি । হরিদ্বাসের অসাধারণ প্রতিপত্তি তাহার নিতান্ত অসহ হইয়া উঠিল। এই মিনিস্তু সে তাহায় তপোধির জন্মাইতে কৃতসঙ্কল্প হইয়া এক পতিত রমণীর সাহায্য গ্রহণ করিল। পতিতানার প্রকৃত প্ৰগল্‌ভ রমণীর ছায় ফলিল, একবার হরিদাসকে পাইলেই হয় ; আমি তাহাকে একান্ত হতবীৰ্য্য ফণীর ছায় বশীভূত করিয়া ফেলিব। রামচন্দ্র থা তথাপি তাহাকে লোকসাহায্যদানে উষ্ঠত হইল, কিন্তু সে কাহাকেও সঙ্গে লইল না। একাকিনী, বেশভূষায় স্থসজ্জিত হইয় ছুরাশাগ্ৰস্ত হৃদয়ে মূৰ্ত্তিমতী ছম্প্রবৃত্তির স্তায় হরিদাসের কুটার দ্বারে সমুপস্থিত হইল এবং বিনয়মধুর বচনে তাহার নিকট আপনার প্রার্থনা জানাইয়া ভক্তর প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। তাহার আগমনেই হরিদাস কুটার ত্যাগ করিয়া প্রস্থান করিতেন ; কিন্তু তাহার ঘুণিত জীবন স্মরণ করিয়া তাহার করুণাময় হৃদয় তাহার উদ্ধারের জন্ত ব্যাকুল হইয়া উঠিল। তিনি তাহাকে আশ্বস্ত করিলেন এবং বলিলেন আমার নামৰূপ শেষ হইতে দাও, আনি তোমার মনোমা পূর্ণ করিব। তুমি ততক্ষণ দ্বারে প্রতীক্ষা কর। প্রহরের পর প্রহর শ্বত হইতে লাগিল, নিশা অবসানপ্রায় হইল, উষার মধুরালোকে আকাশ উদ্ভাসিত এবং বনভূমি হাস্যময়ী হইয়া উঠিল ; তবু যে হরিদাসের জপ শেষ হয় না । ভগ্নমনোরথ লইয়া অভাগিনী সেদিনকার মত ফিরিয়া আসিল। রামচন্দ্র খাঁ তাহার মুখে সমস্ত আছোপাস্ত শুনিলা আবার তাছাকে উৎসাহিত করিতে লাগিল । সদ্ধাসমাগমে