পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


J&8 সম্পাদনে প্রবৃত্ত হইল। ধীরে ধীরে আবার সাধুপুরুষের কুটার দ্বারে আসিয়া উপস্থিত ইষ্টল । হরিদাস মধুর বাক্যবিন্যাসে আবার তাহাকে আশ্বাস প্রদান করিলেন। সে দ্বারে বসিয়া কৌতুহলপূর্ণ চিত্তে প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। হরিদাস নাম-রসে নিমগ্ন হষ্টয়া গেলেন। কি তাহার জীবনের জলন্ত প্রভাব । তাহার অমৃতনিঝরিণী বসনীয় পতিতপাবন হরিনামের তরঙ্গ থেলিতে লাগিল। গুহ পবিত্র, অরণ্যানী পবিত্র, আকাশমণ্ডল পবিত্র হইয়া গেল । অভাগিনী মন্ত্ৰমুগ্ধীর ন্যায় দ্বারদেশে বসিয়া সমস্ত রাত্রি এ অভূতপূৰ্ব্ব দৃশু দর্শন করিল ; প্রভাতে আপন গৃহে প্রস্থান করিল। আজি তাহার তৃতীয় নিশা । সে রামচন্দ্র খায়ের নিকট প্রতিজ্ঞা করিয়াছিল, সে হরিদাসকে বশীভূত করিবে । কিন্তু মহাচক্র পতিত-পাবন ভগবানের এ কি থেলা! রমণী হরিনাসের কুটার দ্বারে উপস্থিত হইল। হরিদাস নামে মত্ত ; রজনীব গাঢ়তার সঙ্গে সঙ্গে নামের প্রগাঢ়তা অধিকতর ঘনীভূত হইয়া উঠিল। হবিদাসের স্বভাব-সুন্দর-মৃথঐ হরিনামমাহাঝে দ্বিগুণতর স্বন্দর হইয়া উঠিল। ঐবদনমণ্ডলে স্বর্গের স্নিগ্ধ জ্যোতিঃ অবতীর্ণ হইল ; নেত্রযুগল হরিপ্রেমোচ্ছ্বাসে নয়নাভিরাম হইয়া উঠিল। হায়রে, যে মুখ দেখিয়া দেবতাজনেরও মন মুগ্ধ হইয়া যায়, তাহাতে রমণীহৃদয় যে বিগলিত হইবে বিচিত্র কি ! হরিদাসের সর্বাঙ্গে অশ্রুপুলক স্বেদকম্প প্রভৃতি সাত্বিকভাব সকল নিরবধি প্রকাশ পাইতে লাগিল, পতিতার কঠিন প্রাণ একেবারে বিগলিত হইয়া গেল ; অন্তরাত্মায় সহস্র ধিক্কার উঠিতে লাগিল; এই মহাপুরুষকে সে কলুষিত করিতে আসিয়াছিল! যখন নাম জপ শেষ করিয়া হরিদাস উঠিলেন, তখন অভাগিনী সজল নয়নে রামচন্দ্র র্যায়ের সমস্ত কথা নিবেদন করিল এবং সকাতরে বলিধ. প্রভু, এই মহা পাতকিনীর গতি করিতে হইবে । হরিদাস বলিলেন, তামি প্রথম হইতেই সমস্ত জানি - এবং প্রথম দিনেই এখান হইতে প্রস্থান করিতাম ; কেবল তোমায় উদ্ধারের জন্য অীজ তিন দিন অপেক্ষা করিয়া বৃহিয়াছি। তোমার যাহা কিছু আছে, যাও সমস্ত দীন দুঃখীদিগকে বিতরণ করিয়া এস । তাহার পর আমি তোমাকে প্রবাসী। BBBBB BBBB DD DBBBB BB BBBB BBBBB BBBB BBBS BBB BBBBB BBB { ৫ম ভাগ । তাহার সমস্ত সম্পত্তি বিতরণ করিয়া ফেলিল ; এবং মস্তক মুণ্ডিত করিয়া একবস্থা হইয়া হরিদাসের নিকট উপস্থিত হইল । হরিদাস তাঁহাকে হরিনাম মহামঙ্গু দান করিলেন এবং দিবানিশি এই মন্ত্র জপ করিতে আদেশ করিলেন। সেও একান্ত চিত্তে নাম সাধন আরম্ভ করিল এব: উপবাসাদি দ্বারা নানা প্রকার কৃচ্ছ্বসাধনায় প্রবৃত্ত হইল। নামমাহাত্ম্য প্রকাশিত হইল ; ভাগবতীরূপ অবতীর্ণ হইল, পতিত মুক্তি লাভ করিয়া তবযন্ত্রণা এড়াইল । পাপীর বন্ধু হরিদাস তাহাকে সেই কুটীরে থাকিয়াই সাধন করিবার আদেশ দিয়া স্বয় ভাগীরথীতীরবর্তী শাস্তিপুরধামে যাইয়া বাস করিতে লাগিলেন । মানবসমাজে পতিতা, ধেবজনের অস্পৃষ্ঠা সেই অমুতাপকারিণী কঠোর সাধনা আরম্ভ করিলেন এবং সাধুহৃদয়ের আশীৰ্ব্বাদ ও দেবপ্রসাদ লাভ করিয়া সৰ্ব্বলোকবরণীয়া সিদ্ধযোগিনী হইলেন । তখন তাহার আশ্রম তাপত আত্মাগণের বিশ্রামভূধি হইয়া শান্তি ও আনন্দ বিতরণ করিতে লাগিল । ( R ) পাপের অপূৰ্ব্ব প্রায়শ্চিত্ত । এক দিন যুবক আংবীনগরের পথে ভ্রমণ করিতেছিলেন, সহসা এক সাধী রমণীর লাবণ্যমণ্ডিত মুখমণ্ডল দর্শন করিয়া মুগ্ধ হইয় গেলেন। ঐ মুখে কি আকর্ষণ ছিল যাহা তাহাকে পাগল করিয়া তুলিল । তিনি তাহাকে পাইবার জন্য ব্যাকুল হইয়া উঠিলেন ও তাহার নিকট আপনার অতিপ্রায় জ্ঞাপন করিয়া পাঠাইলেন। বিস্মিতা সঙ্কল্প স্থির করিয়া জিজ্ঞাসা করিয়া পাঠাইলেন, “আমার কোন অঙ্গ বিশেষ করিয়া তোমার মনোহরণ করিয়াছে । ” আংবা প্রত্যুত্তরে জানাইলেন, “তোমাম নয়নযুগল।” সেই মহীয়সী রমণী যখন জানিতে পারলেন, তাহার ননযুগল এ বিষম উৎপাতের মূল, তখন আর তিনি দ্বিরুক্তি না করিয়া তৎক্ষণাৎ তাহা উৎপাটিত করিলেন এবং এক মনোহব কাচাধারে স্থাপিত করির এই বলিয়া আত্যায় নিকট পাঠাইয়া দিলেন যে "তুমি যাহা দর্শনে মুগ্ধ হইয়াছ, তাই দশন করিতে থাক।” ১০ম সংখ্যা । ] আর কি বলিব ? সেই মনস্বিনী দেবীর অতুলনীয় আত্মোৎসর্গে অংিবার মহাপীপের প্রায়শ্চিত্ত হইয়া গেল। গভীর অনুতাপের তীব্র আগুনে তাহার অন্তরাত্মা দগ্ধ ইষ্টতে লাগিল। তাঁহারই পাপদৃষ্টি সেট কর্মকান্ত মুখমণ্ডলে পতিত হইয়াছিল, তাই তাহা শ্মশামাগ্নিতে যেন মূহূৰ্ত্তমধ্যে দগ্ধ হইয়া গেল। এ আত্মবলিদান কেমন করিয়া বিফল হইতে পারে ? সেট মনোমোহন রূপরাশির চিতাভষ্মে ভগবানের প্রসাদ অবতীর্ণ হইল এবং তাহা হইতে অমতাপের পবিত্র অশ্রুজলে পাপীর নব জীবন সঞ্চারিত হইল। হৃদয়ে অশান্তি ও প্রাণে ব্যাকুলতা লইয়া অংবা মহর্ষি হোসেন বসোরীর শরণাপন্ন হইলেন। মহৰ্ষির প্রাণপ্রদ উপদেশে তাহার প্রাণে অমৃত সিঞ্চিত হইল । তিনি কঠোর তপস্তা ও গভীর সাধনায় প্রবৃত্ত হইলেন । যে পাপজীবনে তিনি বৰ্দ্ধিত হইয়াছিলেন, তাহা তিনি জন্মের মত বিসর্জন করিলেন । যে অতৃপ্ত বাসনা তাহার হৃদয়ে প্রভুত্ব করিতেছিল, তাহা তিনি চিল্পদিনের মত বিদায় করিয়া দিলেন। এজীবনে আর কখন মুখের গরলময় পানভেঞ্জন করেন নাই। তাহার বৈরাগ্য বিন দিন গাঢ়তর, তীব্রতর হইয়া উঠিল। নিজের আহারের জন্য আপনার হাতে কর্ষণ, বপন, কৰ্ত্তন এবং পেষণ করিতেন এবং স্বয়ং রুটিকা প্রস্তুত করিয়া স্বৰ্য্যোক্তাপে শুকাইয়া লইতেন । কথিত আছে, তাহারই এক একখানি সপ্তাহান্তে আহার করিয়া জীবনধারণ করিতেন । নবজীবন লাভের পর তাৎযায় চিত্ত একান্ত পরিশুদ্ধ ও নিৰ্ম্মল হইয় গেল। একদিন তিনি স্বপ্নে দেখিলেন, যেন একটা দিব্য লাবণাময়ী কামিনীপ্তাহারনিকট আবিভূত হইয়া বলিলেন, আতব আমি তোমার প্রতি একান্ত অনুরাগিণী হইয়াছি। তোমার ও আমার মৃধ্যে বিচ্ছেদ উপস্থিত হয় এমন কিছুই করিও না। অাৎবা তাহাকে প্রত্যাখ্যান কুরিয়া বললেন, আমি সংসারের প্রতি উন্মুখ হইলাম না, তাহাকেই পরিত্যাগ করিলাম। এখন আবার তোমার প্রতি দৃষ্টপাত করিব ? সাধনায় অমৃতফল ফলিল আৎবা প্রেমাম্পদের প্রেমে বিহ্বল হইয়া একেবারে উম্মত্তের ন্যায় হইলেন। বাজারের ভিতর দিয়া চলিয়া যাইতেন, কিন্তু প্রেমাম্পদের ঐরদন তাঁজ-ব্ৰত। - - やQむ ভিন্ন আর কিছুষ্ট দেপিতে পাইতেন না। তাহার চক্ষু কৰ্ণ প্রাণময়, এবং তাহার প্রাণ প্রেমাম্পদময় হইয়া গেল। অীর কি কিছু বাকি থাকিল । সেই প্রেমাম্পদই বলিতে পারেন। একদিন প্রেমবিছবল তাৎযা নববস্ত্র পরিধান করিয়া বিলাসবিভ্রান্ত গমনে দেব প্রকৃতি রাবেল্লায় নিকট উপস্থিত হইলেন। সেখানে তেজস্ব জোলম্বন ও মহম্মদ সম্মাক উপস্থিত ছিলেন । মহম্মদ সন্মাক তাহার গতি লক্ষ্য করিয়া কিছু উক্তি করিলেন। সেই উক্তির প্রত্যুত্তরে প্রেমাম্পদের গৌরব ঘোষণা করিতে করিতে মন্ধোন্মত্ত আতব সংজ্ঞাশুন্য হইয়া, অবনীতলে শয়ন করিলেন এবং তাছাই উহার অস্তিমশ্য হইল। প্রেমের দ্বীপ প্রেমাধারের চরণরেণু চুম্বন করিয়া নিৰ্ব্বাণ প্রাপ্ত হইল। সংসারের ধাতাসে আর তাহা জাগিয়া উঠিল না। উপসংহারে সেই বরণীয়া রমণীর অপূৰ্ব্ব আত্মোৎসর্গের কথা চিন্তা করিয়া তাহাঁর পবিত্রমূৰ্ত্তি ধ্যান করি এবং তাহাতে প্রেমাম্পদের প্রকটরূপের প্রকাশচ্ছটা দর্শন করিয়া শাস্তিনীরে মিমগ্ন হইয়া যাই । তীজ-ব্ৰত। আমাদের সমাজে স্ত্রীলোকের যেমন নানাবিধ ব্ৰতাচরণ করেন ও নানারূপ কথা অর্থাৎ মেয়েলী গল্প, লক্ষ্মীষষ্ঠীর কথা, বা ব্ৰতকথা, পূজা ও ব্রত সমাপ্তিকালে শুনিয়া বা কহিয়া থাকেন, এদেশবাসিনী হিন্দুস্থানী ললনাগণও সেইরূপ করিয়া থাকেন; তবে কিন৷ বিভিন্নরূপে (তাহ হওয়াই সম্ভব)। ভাদ্র মাসে যেমন আমাদের “তাল নবমী”, “দুৰ্ব্বাষ্টমী", “অনন্ত চতুর্দশ” ইত্যাদি কয়েকট প্রধান প্রধান ব্ৰত অনুষ্ঠিত হয়, সেইরূপ এ অঞ্চল বাসিনীদিগের কয়েকট ব্ৰত এবং সৰ্ব্ব প্রধান তীক্স ব্ৰত এই মাসেই হইয়া থাকে। তীজকে সৰ্ব্ব প্রধান বলিবার স্কুইট কারণ আছে। প্রথম ইহা ভারতের অধিকাংশ স্থলে এবং উচ্চ নীচ সৰ্ব্বশ্রেণীর হিন্দু ললনা (অবশ্ব বঙ্গহিদুললন ব্যতীত )-দ্বিগের মধ্যে প্রচলিত। দ্বিতীয় প্রাধান্তের কারণীটিও ক্ষুদ্র নহে। খৎসরের মধ্যে এই দিনই ইহঁরা নিরন্থ উপবাস করিয়া থাকেন। ইছাদিগের মধ্যে নির্জল উপবাস আর একটিও নাই । . বঙ্গলুলনাদিগের