পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- ు(tు ষ্টীয় উপবাসপটু নারী-জাতি পুথিবীর অষ্ঠ কোন স্থানে আছে কিনা সন্দেহ, সেই জন্তই কি তাহাদের উপগ্ন স্বকঠিন একাদশীর ভার অপিত হইয়াছে ? তীজ দুষ্টট, একটী শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষীয় তৃতীয়া, অপরটা ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষীয় তৃতীয়া। শ্রাবণ যাসাপেক্ষ ভাদ্র মাসের তীজ-ব্ৰতটার প্রচারই অধিক। ইহাকে ব্রত, পাৰ্ব্বণ, উৎসব, সবই বলা যাইতে পারে ; কারণ এই দিনে ইহঁরা উপবাস করিয়া রাত্রে হরগেীরীর পূজা করেন, ও নানাবিধ খাদ্য দ্রব্য প্রস্তুত করিয়া জ্ঞাতি, কুটুম্ব এবং পুত্র, কল্লার মধ্যে বিতরণ করেন। আবার উত্তম বস্ত্ৰালঙ্কারে সজ্জিত হইয় গীতবাস্থ্যাদিও করেন। ফল কথা হিন্দুস্থানী ললনীদের ইহা বডই আনন্দের দিন । আমাদের শারদীয় উৎসবের দ্যায়, কিছুদিন পূৰ্ব্ব হইতেই ইহায় আয়োজন হইয় থাকে। নুতন অলঙ্কার প্রস্তুত করান, নববস্ত্র ক্রয় করা, নববধূকে তত্ত্ব করিবার জন্য“গোটা ( জরী) বসাইয়া ঝুল, লঙ্গ, সাড়ী (জ্যাকেট, ঘাগর, সাট ) ইত্যাদি তৈয়ার করান হর। বকে তত্ত্ব করিবার ঘটাটাও অতিরিক্ত। যতদিন “গেীন” (দ্বিরাগমন ) হর না ততদিন পর্য্যন্তই তত্ত্ব করিবার নিয়ম। বধূর পিত্রালয়ের অবস্থা যদি স্বচ্ছল না হর, তাহা হইলে তাহার বিনয়পূৰ্ব্বক “সমধিয়ানে” ( বৈবাহিকালয়ে ) বলিয়া পাঠান যে যেন অধিক দ্রব্যাদি ন পাঠান হয়। ইহার কাল্পণ এই, যে সকল দ্রব্য কুটুম্ববাজী হইতে আইসে তাহার আনুমানিক মূল্যের দ্বিগুণ অর্থ কন্যাপক্ষীয়দিগকে পাত্রপক্ষীয়কে ফেরত দিতে হয়। তত্ত্বে নিম্নলিখিত দ্রব্যগুলি প্রেরিত হয় :-বধূর জন্য জাম, সাটা, স্বাগয়, ওড়না, কুটুশ্বিনীগণের সাড়ী, সকলের জন্য “লহঠি” (গালার চুড়ী) যেইদা, চমরী (চুলের ফিতা বা দণ্ডী) চারি পরসামূল্যের একখানি আরসী, কাঠের চিরুণী, বধুর জন্য “গুড়িয়া” ( পুতুল) ও অন্যান্য নামবিধ খেলনা, সিলুরকৌট, নানাবিধ মিষ্টান্ন, ফল মূল, যে বালিক উপবাস করিতে অক্ষম তাহার ফলাহারের জন্য “লিপড়ার আটা” ( পানিফলের ময়দা) চিনি, খি ইত্যাদি। উচ্চ শ্রেণীর গৃহস্থের ভূতা ও নাপিত তত্ত্ব লষ্টয়া যায়, নিয়শ্রেণীর মধ্যে বাড়ীর লোকেদেরই তত্ত্ব লইয়া যাইবার নিরম । ইহঁরা কুটুম্ববাটীতে তিন চারিদিন পর্যন্ত থাকিয়া আদর অভ্যর্থন প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । লাভ করিয়া, উপযুক্ত দক্ষিণ লইয়া বাট প্রত্যাগমন করেন। অন্তঃপু রকাগণ প্রায় এক সপ্তাহ পূৰ্ব্ব হইতে অলঙ্কার পরিষ্কার করাইতে ও নূতন স্বতীয় গাথাইতে, চুড়ী পরিতে, মাথা ঘসিতে লিপ্ত থাকেন। তীজের পূর্ব দিন অর্থাৎ দ্বিতীয়ার দিন দুগ্ধ প্রাপা। কারণ অপ্ত নিশশেষে গৃহলক্ষ্মীগণ, রাবড়ী, মালাই, ক্ষোয় ( ক্ষীর) এবং জ্বন্ধের সহিত থাজাভিজাইয়৷ আহার করিবেন। পরদিবস যে একবারেই “ভূখী" (ক্ষুধিতা) থাকিতে হুইবে সেই জন্য এত আয়োজন। বাটার কর্তা বেচারীদের ত আছন্তই সমূহ বিপদ । বস্ত্রীলঙ্কার হইতে লইয়া সামান্য “গৰ্বাচিরঞ্জীর “ অভাব হইলেই তাহাকে লালাহ্মপে লাঞ্ছিত হইতে হয়। যে গুহে অর্থের অনটন, সেই গৃহে টেকিবাহনের আগমন, কৰ্ত্ত গৃহিণীর মধ্যে তুমুল কেন্দল বাধিয়া যায়। প্রতিবাসিনীগণ মধ্যস্থত করেন বটে, কিন্তু প্রায় গৃহিণীর পক্ষ লইয়া। উীজের দিন এদেশীয়া ললাদিগের ষড়ই আমোদের দিন । তবে যে স্থানে সুখ, সেই স্থানে দুখ আছে, সেই জন্য বোধ হয় এমন মুথের দিনে জঠরানলের জ্বালা সহ্ করিতে হর। অনেকে আবার পানিফলের ময়দার “হালুয়া” (মোহনভোগ ) থাইয়া গোলে হরবোল দিয়া, মুথের সাপটে নিজের নিরন্তু উপবাস প্রমাণিত করিতে কুষ্ঠিত হয়েন না। কেন্থ কেহ বলেন “ভুকে” ( ক্ষুধায় ) আমার কোন কষ্টই হয় না, যা কষ্ট “পেয়াসের”। “কেহ কেহ বলেন- অামি “ভুক্‌” পেয়াস কিছুই গ্রাহ করি না, কেবল পান স্বর্তির ( দোক্তার) জন্য প্রাণটা আন চান করে”। তৃতীয়ার দিবস প্রাতঃকালে মৌনাবলম্বন করিয়া নদীতে বা পুষ্কৰিণীতে “মূঢ় মিজিয়া” মাথা খসিয়) স্বাম করিবার নিয়ম। গৃহিণী আত্মীয়া ও প্রতিবাসিনীদিগকে লইয়া “পকওরান” (গৃহপ্রস্তুত নালারূপ মিষ্টান্ন) তৈয়ার করিতে বসেন। প্রতিবাসিনীগণ সামান্য দ্রব্যের অভাব দেখিলে মহাগৃহিণী তখনই সে দোষটা কৰ্ত্তার দ্বাড়ে চাপাইয় শান্তি লাভ করেন। ইহঁদের মধ্যে ধিনি শিল্পকাৰ্যকুশল, তিনি “গোঝিয়া” ( পেরাগী ) “গুটিতে” (বিনাইতে ) বসেন । কেহু “খাখেড়িয়া পাপেড়িয়া” ( ময়দা ও বেসমের খুব পাতলা পাতলা লুচি) ডলিতে বসেন। কেই পুর কচৌরী তৈয়ার করেন, কেছ “গুলগুলা” ( গুড়পিঠা ) ज्रोप्छन देऊानिँ । ১০ম সংখ্যা । ] ব্রতধারিণীদিগের বৈকালিক স্বানটা খুব জমকাল রকমের, কিন্তু ইহাকে স্নান না বলিয়া গাত্র ধৌত কয় বলাই উচিত। কারণ এই স্বানের সহিত মস্তকের কোন সম্বন্ধ নাই। নিঞ্জ রুচি অনুসারে বেশভূষার ঘথাসাধা পারিপাট সাধন করিয়া করতল, পদতল, মেহদী দ্বাবা লাল টুকটুকে করিয়া স্ত্রীলোকের গঙ্গা বা তদভাবে পুকুরে স্নান করিতে যান। এই সময় পথপার্থে ভয়ানক জনতা হইয়া থাকে । কেহ যেন ইহ লা মনে করেন যে, এই জ্বলতা স্নানাথিনী রমণীগণের। এ জনঙ অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত পুরুষ দর্শকবৃন্দের, তাহদের মধ্যে হাস্ত-পরিহাসও চলিতে থাকে। এস্থলে বলা কর্তব্য যে, অবরোধবাসিনীগণ এসময় স্বানার্থে গমন করেন না, প্তাহারা হয় ত জনতা হ্রাস হইলে একটু অন্ধকার হটয়া আসিলে নিঃশব্দে গিয়া স্নান করিয়া আইসেন, বা বাটীতেই উক্ত কার্যা সমাপ্ত করেণ । ঘাট হুইতে বাট ফিরিবার সময় কাজলী গান গাহিতে গাহিতে আসিতে হয়। যে বস্তথানি পরিয়া স্বান করিতে যাওয়া হয় সেখানি প্রায় মলিন। সেই মলিন বঙ্গের উপর নানারঙ্গের “গোটা” ( জরী) বসান “ছপটা" (চাদর) গায় দিয়া অবস্থানুসারে একখানি উত্তম বস্ত্র সঙ্গে লইয়া স্বান করিতে গমন করেন। এই দিন কুম্ভকারের হরগৌরীব ক্ষুদ্র প্রতিমা ধিক্রর করে। ইহা কঁচা মৃত্তিকায় নিৰ্ম্মিত । উচ্চ জাতিয় ললনাগণ এই দেবমুষ্টি ক্রয় করিয়া রাত্রিকালে নানাধিধ ফল ফুল মিষ্টান্নাধি-উপচারে হরগেীরীর পূজা করেন। পণ্ডিতজী আসিয়া পুজা করাইয়া এবং ব্ৰতমাহাত্মা শ্রবণ করাইয়া যান। পর দিবস অর্থাৎ চতুর্থর দিবস অতি প্রভূযে গঙ্গাস্নান করিতে বাওয়া হয়। এই সময় স্নানার্থিনীগণ “সোহর” নামক মঙ্গলস্থচক গীত গাহিতে গাছিতে গমন করেন ৷ ঘাটে কোন কোন প্রবীণ স্ত্রীলোক "তাঁজে”ৱ কথা কহিয়া থাকেন। যাহার হরগোবর পুঞ্জ করেন না, তাহার এই কথা শুনিয়া পারণ করেম। স্বান করিয়া বাট আসিয়া প্রথমে ছোলা ভিজা মুখে দিয়া তপ্তঘ্নত মরিচের গুড় সহকারে পান করা থই । গৃহলক্ষ্মীদিগের পরিণার্থে প্রহরেক য়াত্রি থাকিতে থাকিতে ময়রাগণ জিলাপী প্রস্তুত করে। তদৃভিন্ন ফিরিওয়াগার পথ পার্থে চুল্লি করিয়া জিলাপী তৈয়ার করে এবং বেলা আটট নরটা পৰ্য্যস্ত ফিরি করিয়া বেড়ায় । ঘি, মরিচ তীজ-ব্ৰত । খাইবার পর জিলাগী বাইতে হয়, এবং তাহার কিছুক্ষণ Ꮼ☾Ꮔ পরেই ব্রতধারিণীগণ পূৰ্ব্ব দিবসে যে সকল থাঞ্চন্দ্রব্য গৃতে প্রস্তুত করিয়া রাখেন, সে সকল উদরপ্ত করেন । বেলা হইলে আবার যথাসাধ্য শীঘ্র শীঘ্ৰ তপ্ত তপ্ত খিচুড়ী খাষ্টয়া ব্ৰতের উপসংহার করেন। সাধুভাষায় এই তৃতীয়ার নাম "হরির্তালিকা তাজু”; কিন্তু ইহার একট রহস্তপূর্ণনাম আছে। সেট "ছলহা বেচওলীতীৰ্থ” অর্থাৎ পতিবিক্রয় করা তাঙ্গ, এই নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে একটা কৌতুককর - গল্প প্রচলিত আছে। সেট এইরূপ :– আমাদিগের দেবাধিদেব মহাদেব ত চিরকালই সঙ্গতিহন । দরিদ্রঘরণী উমা কোন বৎসর তঞ্জের সময় একখানি নুতন বস্ত্র পাইতেন, কোন বৎসর বা ছিন্ন পুরাতন বস্ত্র পরিধান করিরাই তাজব্রত পালন চরিতেন। একদা দ্বিতীয়ার দিন গৌরীয় প্রবল মনোভিমান সত্ত্বেও শঙ্কর একখানি নববস্ত্রের যোগাড় করিতে পারিলেন না। ইহা দেখিয়া নববস্ত্ৰালঙ্কারে সুসজ্জিত প্রতিবাসিনীগণ পাৰ্ব্বতীর উপর অজস্র বিদ্রুপবাণ বর্ষণ করতে লাগিলেন । সতী উপায়াস্তুর না দেখিয়া পতিকে বিক্রয় করিয়ু তাজব্রত সমাধা করেন। সেই হইতে ইহার নাম পতিবেচা তীর্জ হইয়াছে। তাজের ব্ৰতকথা বা উৎপত্তি বিবরণ নিয়ে উদ্ধৃত করিয়া দিলাম :–“একদা মুনিজনমনোহর পরম রমণীয় কৈলাসশিথরোপরে, পাৰ্ব্বতা কৃতাঞ্জলিপুটে মহাদেবকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে দেব! আমি কোন তপস্ত, কোন মহাদান, ব্য কোন শ্রেষ্ঠ ব্ৰতপালন-প্রভাবে ভবাণ অনাদি, অনন্ত জগৎস্বামী পতিলাভ করিয়াছি, কৃপা করিয়া বিস্তারিতরূপে তাহা দাসীকে বলুন।” মহাদেব কহিলেন, “হে দেবী ! তুমি যে ব্ৰত আচরণ করিয়া আমার অদ্ধাঙ্গিনী হইয়াছ তাহ তোমার কৌতুহল দমনাথে প্রকাশ করিতেছি। হে পাৰ্ব্বতী! যেমন নক্ষত্র মধ্যে চন্দ্র, গ্ৰহগণ মধ্যে স্বৰ্য্য, চতুবর্ণের মধ্যে দ্বিজ, দেবতাগণ মধ্যে বিষ্ণু, নদীগণের মধ্যে জাহ্নবী, পুরাণ মধ্যে ভারত, বেঙ্গ মধ্যে সামবেদ,এবং ইন্ত্রিয় মধ্যে মন সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ, সেইরূপ ব্ৰতমধ্যে উক্ত ব্ৰত সৰ্ব্বোপরি । হস্তানক্ষত্রযুক্ত ভাদ্রমাঙ্গীয় শুক্ল তৃতীয় তিথিতে উক্ত মহাত্ৰতের অনুষ্ঠান করিয়া তুমি আমার অৰ্দ্ধাঙ্গিনী হইয়াছ।” পাৰ্ব্বতী কাঁহ