পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఆJ8 প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । - - S M S M S M S M S M S M S M S M S M S M S M S M S M S SS - sBBB BBBBS BB BBBB BBBB BBB BBB BBB BBBBBB BBBB BBBBBB BB DD বিষয় আমূল অনুসন্ধান করিয়া দেখিলেন। তিনি কুফারবিশিষ্ট অধিবাণীদিগকে হোসেনের অত্যন্ত অনুরাগী দেখিয় তাহাকে কুফার আগমন করিতে লিখিলেন। কুফীবাদীরা অতি গোপনে এজিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিয়াছিল। কিন্তু তিনি গুপ্তচর মুখে তদ্বিষয় পরিজ্ঞাত হইলেন, এবং অঙ্কুরেই তাহদের ষড়যন্ত্র নষ্ট করিয়া দিবার অভিপ্রায়ে সেনাপতি ওবয়দোল্যাকে প্রেরণ করিলেন । কুফার অধিবাসীদের চিত্ত অতি চঞ্চল ছিল ; তাহাদের কর্তব্যাকৰ্ত্তব্যের বিন্দুমাত্র স্বৈর্য্য ছিল না ; সাময়িক উত্তেজনা বশেই তাহারা অনেক সমর পরিচালিত হইত। কুটিলতা ও বিশ্বাসঘাতকতা তাহদের চরিত্রের বিশেষত্ব ছিল । (১) ওবয়পোল্যা সহজেই তাঁহাদের ষড়যন্ত্র ভঙ্গ করিয়া দিতে সমর্থ হইলেন। - এদিকে হোসেন মোসলেমের অমুকুললিপি প্রাপ্ত হইয়া পরিবার পরিজন এবং কতিপয় অনুচরসহ কুফার অভিমুখে যাত্রা করিলেন । ওবয়দৌল্য এই সংবাদ অবগত হইয়া তাহাকে বন্দী করিবার জন্ত সেনানায়ক হারের অধীনে - এক সহস্র সৈন্ত পাঠাইলেন। তাহার কারবালা নামক স্থানে হোসেনের সম্মুখীন হইল। সেনানায়ক হারো অগ্রসর হইয়া হোসেনকে সেনাপতি ওবয়দৌলার আদেশ জ্ঞাপন করিলেন । শত্রসৈন্তের আগমনে ও বিত্রসৈন্তের আদর্শনে হোসেন কুফাবাসীদের বিশ্বাসঘাতকতার বিষয় হৃদয়ঙ্গম করিয়া কিংকৰ্ত্তব্যবিমূঢ় চষ্টয়া পড়িলেন। অবিলখে সেনাপতি ওমর হারোর সহায়তার জন্ত চতুঃসহস্ৰ সৈন্তসহ উপনীত হইলেন । হোসেন মক্কায় প্রতিগমন করিবার প্রস্তাব করিলেন। ওমর এই প্রস্তাব সম্বন্ধে ওবয়দোলার অতিপ্রায় জ্ঞাত হইবার জষ্ঠ দূত পাঠাইলেন। ওবয়দৌল্য প্রত্যুত্তর লিখিলেন, “ইউফ্রেটিস নদীর তীরে সৈন্যস্থাপন করিয়া হোসেনের জলসংগ্রহের পথ বৃদ্ধ কর, এজিদেয় বঙ্গত অঙ্গীকার করিবার জনা তাহাকে বাধা কর, তার পর সন্ধির প্রস্তাব বিবেচিত হইবে।” ওমর ওবয় (১) আরব জাতির বিশ্বাস যে, ইভকে প্রলুদ্ধ করার অপরাধে শয়তন প্রেরিত সর্প কুফার নির্বালিত হইয়াছিল। ইহাই কুফীবাসীদের অসচ্চরিত্রের কারণ বলিয়া নির্দেশিত হইয়াছে। করিয়া দিলেন । হোসেনের শিবিরে অচিরে জলকষ্ট উপস্থিত হইল। কিন্তু তিনি এজিদের বস্তৃত অঙ্গীকার করিলেন না। ইহাতে ওবয়পোল্যা উত্তেজিত হইয় শেমর নামক একজন পাষাণহৃদয় দুৰ্বত্তের সঙ্গে ওমরের নিকট নুতন আদেশলিপি প্রেরণ করিলেন । এই আদেশলিপিতে লিখিত ছিল, “যদি হোসেন ও তাহার আত্মীয়স্বজন এজিদের বস্তৃত অঙ্গীকার করেন, তবে তাহদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করিও। নতুবা তাহদিগকে বধ করিয়ার্তাহাধের শবদেহ অশ্বপদতলে মৰ্দ্ধিত করিও।” ওমর এই সংবাদ হোসেনকে যথাসময়ে জানাইলেন। কিন্তু “মহাত্মা হোসেন এজিদের দ্যার সুরাপায়ী বাড়িচারী ও দুখ্রিয়াশীল দ্বরাচারকে থলিফা বলিয়া স্বীকার করিতে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকৃত হইলেন ; এবং প্রকৃত ধৰ্ম্মবারের ষ্ঠায় সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন করাই শ্রেয়ংকল্প কবিলেন। তদনু. সারে পরিবারবর্গকে সাস্বনাপ্রদান ও ঈশ্বরের নিকট সমর্পণ করিয়া ৭২ জন মাত্র আত্মীয় স্বজন ও অনুচর লইয়া যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইলেন । পাপিষ্ঠগণ ইউফ্রেটিস নদীর জল বন্ধ করিয়া দিয়াছিল । সুতরাং তাহারা ধারণ পিশাসরি উন্মত্তবৎ হইয়া উঠিলেন। নদী হইতে জল আনয়নার্থ এক একজন বীরপুরুষ বীরদপে অগ্রসর হইয়া অসংখ্য শত্রসৈন্তের বিনাশ সাধনপুৰ্ব্বক মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিলেন। ক্রমশ: মহাত্মা হোসেনের ভ্রাতা,ভ্রাতুষ্পত্ৰ,ভাগিনেয় ও দাসগণ ঘোরতর যুদ্ধে সমরশায়ী হইলেন । তৃষ্ণাৰ্ত্ত কোমলপ্রাণ বালকবালিকাগণের করুণরোদন ও মৃদ্ধিলাগণের বিলাপধ্বনিতে কারবালা ভূমি প্রকম্পিত হইতে লাগিল। আজ মহাপুরুষের পরিবার বর্গের উপর যে ভয়ানক অত্যাচারের অনুষ্ঠান হইল, সমগ্র জগতে তাঙ্গার উপমা নাই । যখন তাহার পক্ষীয় পুরুষ মাত্রেই এই অঙ্গর কালসমরে জীবন বিসর্জন করিয়া আত্মোৎসর্গের জলস্ত উদাহরণ প্রদর্শন করিলেন, তথন পুরুষসিংহ মহাত্মা হাসেন স্বয়ং যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইলেন এবং অসংখা শত্রশবে রণস্থল সমাঙ্গন্ন করিয়া ঈশ্বরের নামে জীবনোৎসর্গ করিলেন । ৬১ কিঞ্জিয়ার ১০ই মহুরম এই শোকাবহ ঘটনা বটিয়াছিল । ( ১ ) পাপিষ্ঠ শেমন্ত্র তাহার মস্তকচ্ছেদন - - - (১) মহরম মানে সংঘটিত হয় খুলিয়৷ এই ঘটনা মহরম নামে খ্যাত হইয়াছে। s | ১১শ সংখ্যা । ] করিয়া ওবয়ধোলার নিকট প্রেরণ করিল, এবং তাহার মহরম । SNxt -- - দূরে নিক্ষেপ করিলেন। তিনি উপবেশন করিলে আর BBBBBBB BBB BBBBBB BBBB BBBBBB BBBB BBBBB BBBB BB BBBBSBBBB দলিত কৰিল ।” ( ১ ) মহাত্মা তোসেনের একমাত্র অবশিষ্ট পুত্রঞ্জয়নাল আবেদিন এবং তাহার পরিবারস্থ রমণীগণ কুফার এবয়পোল্যার নিকট প্রেরিত হইলেন। হোসেনের রিয়শির ওবয়দোল্যার নিকট নীত হইলে তিনি যষ্টিদ্বারা তাঙ্গার যুগে আঘাত করিলেন। এই দুশ্বে ব্যথিত হইয়া পাশ্ববৰ্ত্তী একজন শুভ্রশ্নশ্রী মোসলমান বলিয়া উঠিলেন, “আহা ! আমি এই ওষ্ঠের উপর পয়গম্বরকে ওষ্ঠ সংস্থাপন করিয়া চুম্বন করিতে দেখিয়াছি।” অতঃপর ওবয়দৌল্য জয়নালকে বধ করিতে আদেশ কল্পিলেন। এই আদেশ প্রচারিত হইলে হোসেনের ভগিনী জয়নাব হোসেনের একমাত্র বংশধরের বিনাশের সঙ্গে সঙ্গে আত্মহত্যা করিতে প্রস্তুত হইলেন । তাহার সকরুণ অথচ স্থিরসঙ্কল্পব্যঞ্জক দৃষ্টির সম্মুখে ওবযুদোল্যার নিৰ্ম্মম হৃদয় নত হইয়া পণ্ডিল ; তিনি আপন আদেশ প্রত্যাহার করিয়া বন্দিরমণীগণসহ জয়নালকে রাজকীয় বন্দীরূপে দামস্কাসে প্রেরণ করিলেন । তদীয় প্রভু এজিদ শত্রর বংশধরের সহিত সদ্ব্যবহার করিলেন । তিনি জয়নাল আবেদীন এবং হোসেনের পরিবারস্থ রমণীগণকে সসম্মানে গ্রহণ করিয়া ঠাহদের আহার বিহারের সুবন্দোবস্ত করিয়া দিলেন । ইহার শর কিয়বিধ অতিবাহিত হইলে তাহাদিগকে উপযুক্ত রক্ষী সমভিব্যাহারে মদিনায় প্রেরণ করিলেন। (২) হোসেনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বিপ্লবের অবসান হয় নাই। হোসেন ও তাছার অন্তরঙ্গগণের শোচনীয় হত্যকাণ্ডের সংবাদ মদিনার পৌছিলে তত্যে অধিবাসীরা ক্ষোভে, রোধে উন্মত্তপ্রায় হইয়া উঠিল, এবং তাড়ণ হুঙ্কৰ্ম্মের প্রতিশোধ লইবার উপায় নিৰ্দ্ধারণ জন্ত মসজিদে সমবেত হইল। সভ্যস্থলে একজন মোসলমান দণ্ডায়মান হইয়৷ বলিলেন, “এজিদকে এই পাগড়ীর ন্যায় পরিত্যাগ করিলাম।” তার পর তিনি স্বীর মস্তক হইতে পাগড় উত্তোলন করিয়া - (s) प्गेशि আন্ধল করিম কৃত মোসলমান রাজত্বের ইতিবৃত্ত। (২) গিবন সাহেব মহরমের ইতিবৃত্ব আলোচনা করিয়া লিখিয়ছেনঃ In a distant age and climate the tragic scene of the death of Hossein will awaken the sympathy of the coldest reader এই জুতার স্থায় পরিত্যাগ করিলাম। তার পর তিনি স্বীয় পদ হইতে জুতা উন্মোচন করিয়া দূরে নিক্ষেপ করিলেন। এইরূপে ক্রমে ক্রমে গৃহতল পাগড়ী, ছুতা এবং অঙ্গরাখায় সমাচ্ছন্ন হইয়া উঠিল। অত:পর উন্মত্ত নগরবাসীর মদিনার শাসনকর্তাকে বহিষ্কৃত করিয়া দিল। ওস্মিয়াবংশীয় স্ত্রীপুরুষ বালক বালিকামাত্রই প্রাণভয়ে মদিনা পরিত্যাগ করিল। মদিনার পর মক্কায় আগুন জ্বলিয়া উঠিল। জ্যেবয়রের পুত্র আবদুল্য এজিদের বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হইলেন । এজিদ এই সকল সংবাদ অবগত হইয় অবিলম্বে মদিনা ও মক্কাবাসীদের বিরুদ্ধে সৈন্ত প্রেরণ করিলেন । তাহারা প্রথমতঃ মনি আক্রমণ করিল। তাহাদের প্রবল আক্রমণে বিরোধীদল পরাভূত হইল । এজিদের সৈন্য পবিত্র-নগরীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া তিন দ্বিন পৰ্য্যন্ত লুণ্ঠনকার্য্যে ব্যাপুত রহিল। তাহদের অমামুষিক নিপীড়নে শত শত গৃহে হাহাকারধ্বনি উঠিল, সমগ্র নগরী শ্মশান-ভূখ্য ধারণ করিল। অনেকে জীবন রক্ষার জন্ত এজিদের বগুত। স্বীকার করিতে বাধ্য হইল - অতঃপর এজিদের সৈন্ত মক্কা আক্রমণ করিল। কিন্তু মক্কা অধিকৃত হইবার পূৰ্ব্বেষ্ট এজিদ হঠাৎ কালগ্রাসে পতিত হইলেন ; (১) এবং তাঙ্গার মৃত্যুসংবাদ প্রচারিত হইবামাত্র আক্রমণকারী সৈন্তগণ মক্কার অবরোধ পরিত্যাগ করিয়া দামস্কাসের অভিমুখে প্রস্থান করিল । (৬৮৩ খুঃ} এজদের মৃত্যুর পর তদীয় পুত্র মবিয়া খলিফার পদ গ্ৰহণ করিলেন । মবিয়া সৎগুণালঙ্কত ছিলেন। তিনি চিরকুল্প ছিলেন। তিনি কখনও গুহের বাহির হইয়া রাজকার্য বা সামাঞ্জিক উপাসনা সম্পন্ন করেন নাই। দিবালোক তাহায় স্বাস্থ্যের পক্ষে অপকারী ছিল, তিনি সৰ্ব্বদা রুদ্ধকক্ষে বাস করতেন। এই কারণে লোকে উহাকে আৰু লেইলা নামে অভিহিত করিত। আকুলইলা শব্দের অর্থ "রঞ্জলীর জন্মদাতা । মবিয়ার আধিপত্য অতি অল্প (১) মোহাম্মদ বলিয়াছেন, “যে ব্যক্তি মদিনায় অত্যাচার কৱিৰে, সে জলস্পর্শে লবণের মত বিনষ্ট হইবে।” এজগু মোসলমানদের বিশ্বাস যে, মদিনীয় অত্যাচার করাতেই এজিদের আকস্মিক স্বত্ব খটগছিল। .