পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬৭২ S SMS MSMSMSMSMSMSMSMM S AMMMMMMS বিষয় অবগত আছেন, তাহারা সকলেই একথার সাক্ষা প্রদান করিবেন। - এযুগে আহাৰ্য্য এতই স্থপ্রোপ্য ছিল যে,একজন স্বাৰ্থত্যাগ করিয়া যে অপরকে সাহায্য করিবে এ স্বযোগ ছিল না। পশু পক্ষী যেমন কেবল নিজের জন্তই আহার সংগ্ৰহ করিয়া থাকে, আদিম যুগের মানুষের মধ্যেও তেমনি সেই রীতি প্রচলিত ছিল । প্রত্যেককেই নিজের জন্ত সৰ্ব্বদা ব্যস্ত থাকিতে হইত। বর্তমানযুগে আমরা মাতৃস্নেহেরউচ্ছ্বাসদেখিয় কতই ন মুগ্ধ হইতেছি। কিন্তু ক্ষুধার নিকট মাতৃহেও পরাজিত। দুর্ভিক্ষের সময় এই ভারতবর্ষেষ্ট কত মাত৷ অর্থের জন্য নিজের সস্তানকে বিক্রয় করিয়াছে এবং অনেক স্থলে সন্তানকে পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন করিতেও সমুচিত হয় নাই। মানুষ নিজ জীবনের জন্ত কণ্ড ব্যস্ত, চতুর্থশ শতাব্দীতে তাহার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। ইউরোপ ভূমি যখন মহামারীতে উৎসন্ন যাইতেছিল, তখন কি পিতা মাতা সন্তানগণকেও পরিত্যাগ করিয়া দূরদেশে পলায়ন করে নাই ? স্বসভ্য সমাজেই যখন লোকে আত্মরক্ষার জন্য এত ব্যস্ত, আদিম যুগের মনুষ্য যে অধিকতর স্বার্থপর হইবে ইহা আর বিচিত্র কি ? যে সময়ে জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত কঠিন সে সময়ে স্নেহ ভালবাসা কিছুই আশানুরূপ বৰ্দ্ধিত হইতে পারে না। এ যুগে স্নেহবাৎসল্য ছিল না, ইহা আমর কখনই স্বীকার করি না। স্নেহমমতাহীন দে বাঘিনী, সেও শিশুসন্তানকে স্নেহ করিয়া থাকে। কিন্তু এ স্নেহ ইহার প্রকৃতিগত ধৰ্ম্ম নহে। এ স্নেহের উপরে কোন প্রাণীর কোন প্রকার হাত নাই। এ স্থলে বিধাতাপুরুষ স্বয়ং প্রতক্ষভাবে জননীর হৃদয়ে অবতীর্ণ হইয়া কাৰ্য্য করিতে থাকেন। যতদিন সস্তান অসহার থাকে তত দিন এই স্নেহ হিংস্র জন্তুর প্রাণে থাকিয়াও অসহায় সস্তানকে প্রতিপালন করিয়া থাকে। সস্তান কৰ্ম্মক্ষম হইলেই জননী আবার স্বীয় মূৰ্ত্তি ধারণ করে। এ সময়ে সস্তান স্তন্তপান করিতে গেলেই জননী তাহাকে আক্রমণ করিয়া থাকে। এই স্নেহ বিষয়ে আমি যমুখ ও পশুতে যে বিশেষ কোন পার্থক্য ছিল তাহী নহে। তবে যানবের স্নেহ অধিককাল স্থায়ী হইয়াছিল ইহাই সম্ভবপর বলিয়া মনে হয়। আদিম যুগে যখন অপত্যয়েই আশাম্বরূপ বৰ্দ্ধিত হর না তখন প্রবাপ । --- [ ৫ম ভাগ । অপরাপর সম্বদ্ধ যে সংস্থাপিত হইবে ইহা অাশা করা যায় না। স্বতরাং পরিবার ও সমাজ এযুগে সংগঠিত হর মাই। এ যুগে বৃক্ষপত্র কিম্বা বন্ধলই ময়ূধের শীত নিবারণ করিত। আর পরিচ্ছদের যে বিশেষ আবশ্যকতা ছিল তাহা নহে । উষ্ণ প্রদেশই মানবের আদিম জন্মভূমি এরূপ অনুমান করাই যুক্তিসিদ্ধ। উত্তপ্ত পৃথিবী বখন অপেক্ষারত শীতল হইয়া প্রথম বাসের উপযুক্ত হইয়াছিল, তখন শৈত্যের স্থান ছিল না । ফলমূল যে যুগের একমাত্র আহার, বৃক্ষপত্রে যে যুগে শত নিবারণ হয়, বখন পরিবার বা সমাজ গঠিত হয় নাই, সে সময়ে কৰ্ম্মবিভাগের কোন আবশ্যকতা ছিল না। মৃতরা নিঃসন্দেহে বলা যাইতে পারে যে, এ যুগে জাতিভেদের চিহ্নাত্ত ছিল না। ২। মৃগয়ার যুগে জাতিভেদ । সভ্যতার দ্বিতীয় স্তরে মৃগয়ার যুগ। ফলমূলের যুগ কখন স্থায়ী হইতে পারে না । একদিকে লোকসংখ্যা ক্রমশ: বৰ্দ্ধিত হইতে থাকে, অপর দিকে প্রকৃতির স্বাভাবিক উৎপাদিকাশক্তি সে পরিমাণে বৰ্দ্ধিত হর না । সুতরাং মানুষকে বাধ্য হুইয়া জীবনধারণের জন্য অন্ত ব্যবস্থা করিতে হইয়াছিল। প্রস্তরখণ্ড ও তা বৃক্ষশাখা মানবের প্রথম আত্মরক্ষার উপার। বুদ্ধির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ধতুৰ্ব্বাণ প্রস্তুত করিতে শিথিয়ছিল। প্রথমে আত্মরক্ষার জল্পষ্ট প্রস্তর, বৃক্ষশাখা কিম্বা ধনুৰ্ব্বাণ দ্বারা পশুবধ করা হুইত ; কিন্তু অভাবে পড়িয়া লোকে বুঝিতে পারিল পণ্ডমাস দ্বারাও ক্ষুধার ভাল নিবারণ করা যাইতে পারে। অগ্নি আবিষ্কৃত হইবার পূৰ্ব্বে সকলে আমমাংসই ভোজন করিত । বৰ্ত্তমান সময়েও কতজাতি এই উপায়েই জীবনধারণ কৰিতেছে এবং আমাদিগের পূর্বপুরুষগণও এক সময়ে এই অমিমাংসই ভেঞ্জিন করিতেন । কোন সময়ে পারিবারিক সম্বন্ধ স্বপ্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল তাহা নিশ্চয় করিয়া বলা অসম্ভব। উপনিষদ ও মহাভারতের সময়েও স্বামী স্ত্রীর সম্বন্ধ অনেকট শিথিল ছিল, স্বতরাং ইং অপেক্ষা প্রচীনতর কালে যে পরিধার সুগঠিত হইয়াছিল ইহা বিশ্বাস করা বায় না । পুরুষ ও রমণীর মধ্যে একটা স্বাভাবিক আকর্ষণ আছে। পশু পক্ষীর মধ্যেও এই ভাব অত্যন্ত - - പ~~-- | ১১শ সংখ্যা । ] S S M S M S M S M S M S M S M S M S M S M S প্রবল। আদিম যুগেও যে পুরুষ রমণী উভয়ে উভয়ের দ্বারা আকৃষ্ট হইত ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু জীবনসংগ্রামের কঠোলতার জন্য এই আকর্ষণ প্রণয়ে পরিণত হইতে পারে নাই। সম্ভবতঃ ইহার ক্ষণকালের জঙ্গ একত্র অবস্থান করিয়া জীবনচেষ্টার জন্য আবার বিচ্ছিন্ন হষ্টয়া পড়িত। মৃগয়ার যুগে খাদ্য দ্রব্য অপেক্ষাকৃত সুলভ হইয়াছিল এবং যদি কল্পনা করা যায় পুরুষ প্লীজাতি অপেক্ষ, মৃগবধকার্যে দক্ষতালাভ করিয়াছিল তাহা হইলে স্বীকার করিতে ইষ্টবে যে, এই যুগেষ্ট পরিবারগঠনের প্রথম সুযোগ উপস্থিত হইয়াছিল। প্রথমতঃ, খাদ্যের জন্য পাঞ্জাতি পুরুষের উপর নির্ভর করিত ; দ্বিতীয়তঃখাদ্যদ্রব্য অপেক্ষাকৃত সচ্ছল হওয়ায় উভয়ের স্বাভাবিক আকর্ষণ ক্রমশ: পঢ় হইতে লাগিল। তৃতীয়তঃ কাজ কৰ্ম্মও কিঞ্চিৎ বঙ্কিত হওয়ায় মাতুম্বেল একাকী বাসকয়া কষ্টকর হইয়াছিল। এই সমৃদয় কারণে মনে হয় মৃগয়ার যুগে পরিবারের প্রথম চিত্তি স্থাপিত হয়। এ যুণেও সমাজ গঠিত হয় মাই। ভিন্ন ভিন্ন পরিবার বিচ্ছিন্ন ইষ্টয়া ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বাস কলিত। পূৰ্ব্বাপেক্ষ কৰ্ম্মের কিঞ্চিৎ বাঁচলা হইয়াছিল সত্য, কিন্তু প্রত্যেক পরিবারের লোকই নিজেরা নিজেদের অভাব পূর্ণ করিতে পারিত। যাহা কিছু গুরুতর কার্য তাহা পরিবারের কর্তৃষ্টি সম্পন্ন করিতেন। যাহা কিছু ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম ছিল তাহাও করিতেন তিনি, আর আত্মরক্ষা বা খাদ্যসংগ্রহের জন্ত সংগ্রামও উহাকেই করিতে হইত। সুতরাং এ যুগে পুরোষ্ঠিত বা ক্ষ ত্রয় বলিয়া বিশেষ কোন জাতি ছিল না। যিনি গৃহস্বামী, তিনিই পুরোহিত, তিনিই যোদ্ধা। আর যে সময়ে মুগয়াই প্রধান কাৰ্য্য, সে সময়ে আবার জাতিভেদ কি? এ যুগে সকলেষ্ট ব্যাধ। ৩ । পশুপালন ও জাতিভেদ । যাহারা বহু ফল মূল ও পশুমাংসের উপর নির্ভর করিয়া প্লাকে তাহদের জীবন ও কষ্টকর। কত দিন হয় ত এমনও ধীয় যে আহার যুটিল না। এরূপ অনিশ্চিত ভাবে মাম্বষ কত দিন বাস করিতে পারে ; পূৰ্ব্বে লোকে পশুহত্য করিয়া জীবনধারণ করিত, অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে কিতে পারিল যে, পশুহত্যা অপেক্ষা পশুপালন অধিকতর কল্যাণ জাতিভেদ ও প্রাচীন সভ্যতা । -- ---, تيا ea نان


---

কর । গো মহিষাদি যে কেবল হুগ্ধ প্রদান করে তাহী নহে, আবগুক হইলে ইহাদিগকে হত্যা করিয়া মাংস ও গ্রহণ করা বাইতে পারে। এই জন্তই মান্থব বস্ত পশু বশীভূত করিবায় চেষ্টা করিতে লাগিল । কেবল বশীভূত করিবার চেষ্টাই যথেষ্ট নহে, সিংহ ব্যাঘ্ৰ বুক বাহাতে প্রতিপালিত পশু বধ করতে না পারে, শক্ৰগণ বাহাতে ইহাদিগকে অপহরণ করিবার সুযোগ না পায়, এজন্যও অশেষ উপায় উদ্ভাবন করা আবশ্যক হইয়াছিল । লোকে একাকী ফল মূল আহরণ করিতে পারে, মৃগয়াও একাকী সম্ভব ; কিন্তু বন্ত গো মহিষাদি ধরিয়া বশভূত করা এবং ইহাদিগকে রক্ষা করা সমবেত চেষ্ট ভিন্ন অসম্ভব। এই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন পরিবার মিলিত হইয়াছিল এবং ইচাই গোত্রের আরম্ভ। গো শব্দ হইতেই গোত্র, গোষ্ঠী ইত্যাদি শন্স রচিত হইয়াছিল। হিংস্ৰ জন্তু ও শক্রর আক্রমণ হইতে রক্ষা করিবার জন্ত খোসমূহকে রাত্রিতে একটী স্বন্দু স্থলে আবদ্ধ করিয়া রাখা ইষ্টত । এই স্থলের নাম গোত্র=( গো +ত্রৈ+ড )। এক এক দলের এক এক গোত্র। প্রত্যেক গোত্রেরই অবগু এক একজন নেতা ছিল। এই গোত্র স্বারাই প্রাচীনকালে বংশের পরিচয় দেওয়া হইত এবং বর্তমান যুগেও ভারতবর্ষে এই গোত্র দ্বারাই বংশের পরিচয় দেওয়া হইতেছে। এই সময়ে গোত্রস্ত কোন লোক পশুচারণে নিযুক্ত থাকিত এবং পশুরক্ষার জন্য কেহ কেহ দলবদ্ধ হইয়া শত্রর সহিত সংগ্রাম করিত। সাধারণতঃ বালিকাগণের হস্তেই দুগ্ধদোহনকাৰ্য্য দ্যস্ত থাকিত । এই জন্যই ইহুদিগের নাম দুহিতা=(ছত+তুচ্ )। - গোধনই এ যুগের প্রধান ধন এবং পশুপালমই এ সময়ের প্রধান ধৰ্ম্ম স্বভাবজাত ফল মূল, মৃগয়ালৰ মাংস এবং পালিত পশুর মাংস ও হুয়াদিই এ যুগের থাগু। পশুচৰ্ম্ম এ যুগে বস্ত্রের কার্য্য করিত এবং দুগ্ধ ও গুলাদি রাখিবার জন্ত চৰ্ম্মময় পার ( দৃতি) ব্যবহৃত হইত। বর্তমান সময়ে আময়া গো-চৰ্ম্মকে যে প্রকার অপবিত্র মনে করিয়া থাকি, প্রাচীনতম কালে কেহ সে প্রকার মনে কল্পিত লা। ঋগ্বেদের সময়ে, এমন কি, মনুসংহিতার সময়েও ইহার বহুল ব্যবহার ছিল। - এ যুগে যে কার্যবিভাগ হইয়াছিল, তাহাতে কোন