পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬৯৮ দেখিয়া চমৎকৃত হইয়া বলিলাম ‘মুশীলা' ! সুশীলাও আমাকে . চিনিল। সে বিস্ময় মা দেখাইয়া তাহার চিরসুন্দর রসিকতায় বলিল, “বিরূপ বাৰু, আজ তগবান আপনি ' আমি বলিলাম, সুশীল, ভগবান আজি বিরূপ নহেন, বড়ই সদয়, একদিনের জন্তেও উভয়ের ভাগ্যফল একত্র aাবিত হইয়া রহিল। সুশীলা মাধা দিয়া বলিল, “তাশ প্রণয়ের বস্তৃতা দিবার স্থান ও কাল এ নয়, এটা কি ভুলে গেলেন ? আমি তাঁহার বিদ্রুপ ওহি সী করিয়া বলিতে লাগিলাম, তুমি আমার প্রাণভর প্রেম প্রত্যাখ্যান করেছিলে, আজ মরণে আমাদের বে মিলন ঘটাইয়া দিবে, তাহার গ্রন্থি তোমার শত চেষ্টাতেও খুলিবে না। কুশল বলিল, মৃত্যু কি আজ নিশ্চিত ? •নিশ্চিত । চরের মুসলমানের সমস্ত দিন নৌকা লইয়া বিপন্নকে উদ্ধার করিয়া ফিরিয়াছে, রাত্রের অন্ধকারে তাছার আমাদের আর দেখিতে পাইবে না। কুল এথান হইতে বহু দূরে , রাত্রি প্রভাতের পূৰ্ব্বেই শ্রাস্তিতে বা কুম্ভীরের গ্রামে আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত ' স্বশীল ছমিনিট চুপ করিয়া রহিল। জোয়ারের স্রোতে গুর ভর করিয়া ভাসিয়া চলিলাম। স্বশীল কহিল, তবে আপনার মাসিকের পৃষ্ঠায় লেখনী-কও ন নিবারণের আর কোনই সম্ভাবনা নাই ? আমি বলিলাম, কিছু না । সুশীলা বলিল, তবে আঞ্জ আমি আপনাকে বিবাহ করিতে য়াঞ্জি ।” রজি সুশীল রাজি বলিয়া আমি ভাঁহার হাত চাপিয়া ধরিলাম । কুশল হাত ছাড়াইয়া লইয়া বলিল, হাত ধরিলে বিবাহের আগেই যে সলিল-সমাধি হইবে।” আমি বলিলাম, কুশীলা, মরণকালেও কি লঘুত বর্জন করিবে না ?” - ‘কেন করিব ? মরণ যে দেবতার স্নিগ্ধ কোল, তিনি কি গুরুমশায়ের মত অনাবশ্বক তয়ঙ্কর? দেশী হাকিমের মত অনাবশুক গম্ভীর ? w - ‘কুশল, বল বল, একটু সত্যের আভাস দিরে বল তুমি আমায় বিবাহ করিলে।" ” о প্রবাসী । { ৫ম ভাগ । যিনি দিন রাত্রির কর্তী, যিনি ঞ্জীবন মরণের দেবত, রিই প্রাগ্রত চক্ষুর সামনে মিথ্যা বলি নাই।’ আকাশের পানে চাহিয়া দেখিলাম, চাদ উঠিয়াছে। আমি সুশীলাকে বাহুযেষ্ঠনে বুকের মধ্যে টানিয়া লইলাম। শুশল চক্ষু নিমলিত করিয়া আমার স্বন্ধে মস্তক রাখিল। দূরে হুলুধ্বনি শুনা গেল । আমি চমকিত হইয়া চারিদিকে চাহিলাম। পায়ে মাটি ঠেকিয়াছে। ভাটা আরম্ভ হইয়াছে। আমরা একটা চরে ঠেকিয়াছি। দূরে শৃগালের প্রহর ঘোষণা করিয়া গেল। আজ কৃষ্ণ দশমী, রাত্রি ১২ট ! কি মহৎ গষ্ট্ৰীয় বিবাহ-বাসর ! 8 আমি কলকাতার সেই আগের স্কুলেই বদলি হইয়া আসিয়াছি এবং সে প্রায় একবৎসর। আমার আবার বদলি হইবার কথা হওয়ায় হেডমাষ্টারের চেষ্টায় আমার কলিকাভার চাকরিই বজায় রহিয়াছে। - না পুত্রবধুর মুখ দেখিয়া স্বচ্ছন্দচিত্তে মহাভারভ শুনিতে শুনিতে নিদ্রা যাইতেছেন। মোক্ষদা বেচার ডেপুটী গৃহিণী হইয়া সাত ঘাটের জল খাইয়া ফিরিতেছে। আর আমি খোসমেজাজে বাহাল তবিয়তে বসিয়া এই কাহিনী ; লিখিতেছি । সুশীলা তার খোকাকে কোলে করিয়া আসিয়া হাসিয়া বলিল, “কি হইতেছে ?” তোমাৰই কাহিনী লিখিতেছি।” তুমি আমার বড় ঠকাইয়াছ। তখন যদি লেখনীনিবারিণী প্রতিজ্ঞাটা করাইয়া লুইতাম !" - আমি হাসিয়া বলিলাম, গতস্ত শোচনা নাস্তি । ঐচারুচন্দ্র বল্যোপাধ্যায় । ১৯শে আষাঢ়, ১৩১২ ৷ পদার্থের মূল উপাদান। -- রকৌশলে চুরুটের ধোয়া ছাড়িলে, ধোঁর খুঞ্জি ফিরিয়া একপ্রকার অঙ্গুরীয়ের আকার প্রাপ্ত হয়, ు : কাছাকাছি আসিলে অঙ্গুরীয়গুলির পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ ১১শ সংখ্যা । ] বিকর্ষণের ভাব দেখা যায়। গত শতাব্দীর শেষে এই ব্যাপারটা অধ্যাপক হেলাহোজ ও লর্ড কেলভিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল। তখন ষ্টক্টার জড়োৎপত্তি ও মহাকর্ষণের (gravitation ) মূল কারণ আবিষ্কারে ব্যস্ত ছিলেন । লর্ড কেলভিনের মনে হইল, ধোয়ার হার একটা লঘু পদার্থের ঘূর্ণনে যে অঙ্গুরীয় উৎপন্ন হয়, তাহতে যখন আকর্ষণ বিকর্ষণের কাজ দেখা যাইতেছে, সৰ্ব্বব্যাপী ঈশ্বরের ঘূর্ণজাত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গুরীয়তেও আকর্ষণ বিকর্ষণের কাজ দেখা সম্ভাবনা। কেলভিন অনুমান করিলেন,—ঈশ্বরের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের ঘূর্ণনজাত স্বল্প অঙ্গুরীয়গুলিই মূল জড় পদার্থ। হেলমহোজ্বও গণিত সাহায্যে গণনা করিয়া দেখাইলেন, ঈশ্বরের অতি হুঙ্ক ঘূর্ণ্যমান বলয়ই মূলজড়পদার্থ। হিসাবে দেখা গেল, সাধারণ জড়পদার্থ যে নিয়মে পরম্পরকে আকর্ষণ করিয়া থাকে, বদি কোন উপায়ে ইধরে স্বল্প অঙ্গুরীয় উৎপন্ন কয়া যায়, তবে ভাহায়াও অবিকল সেই নিয়মে পরস্পরকে আকর্ষণ করিষে। কিন্তু কৃত্রিম উপায়ে কেহই ঈথয়ে সেইপ্রকার ঘূর্ণ্যমান বলয় উৎপন্ন করতে পারিলেন না, কাজেই কেলভিনের অনুমানের সত্যতা প্রমাণিত হইল ম'। পদার্থের মূল উপাদানের রন্থগুট পূর্যের হায় তিমিরাবৃতই রহিয়া গেল। সেই সময় হইতে এপর্যন্ত জড়ের মূল উপাদান নির্ণয় করিবার আর নূতন চেষ্ট হয় নাই। রসায়নবিদগণকে জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা বলেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, তাম্র, লৌহাদি কতকগুলি জিনিস মূল জড়পদার্থ, এবং তাহাদেরই বিচিত্র সন্মিলনে জগতের নানা পদার্থের স্বষ্টি হইতেছে। কাজেষ্ট এপর্য্যন্ত বৈজ্ঞানিক অবৈজ্ঞানিক সকলকেই,বহু মৌলিক জড়ের অস্তিত্ব মানিয়া চলিত হইতেছিল। কিন্তু আজ কাল শুন যষ্টিতেছে ইংলণ্ড, ফ্রান্স ও আমেরিকায় বড় বড় বৈজ্ঞানিকগণ সম্প্রতি একমাত্র মূল জড়পদার্থের সপ্তান পাইয়াছেন। ইহার এই জিনিসটাকে ইলেইন eিlectron) নামে অভিহিত করিয়াছেন। ইলেক্ট ন জিনিসটা কি আলোচনা করা যাউক। পাঠকপাঠকগণ অবশুই অবগত আছেন কাচ ও গাল প্রভৃতি কতকগুলি জিনিসকে ফ্রানেল থ অপর পশমী কাপড় দিয়া পদার্থের মূল উপাদান । Sసిసి ঘষিলে, তাহাতে বিদ্যুৎ জন্মায়, এবং সঙ্গে সঙ্গে ফ্রানেলেও এক প্রকার বিদ্যুৎ গুম হর । এই দুই জাতীয় বিছাতের কাৰ্য্য কতকটা বিপরীত। ফ্রানেলের বিদ্যুৎ গালার বিদ্যুৎকে আকর্ষণ করে, কিন্তু সেই ফ্রানেলের মিহৎকে আর একখণ্ড ফ্লানেলের বিড়াতের নিকট ধরিলে, তখন আর আকর্ষণের তাব দেখা যাইবে না। এস্থলে উভয় বিদ্যুৎ পরস্পর দূরে থাকিবার চেষ্টা করিবে। তবেই দেখা যাইতেছে, একই জাতীর বিদ্যুতের মধ্যে বিকর্ষণ এবং ভিন্নজাতীয় বিদ্যুতের মধ্যে আকর্ষণ, একটা সাধারণ ধৰ্ম্ম। বৈজ্ঞানিকগণ এই দুই জাতীয় বিদ্যুতের মধ্যে একটিকে ধনাত্মক (Positive) এবং অপরটিকে ঋণাত্মক ( Negative ) আখ্যা প্রদান করিয়াছেন । আধুনিক বৈজ্ঞানিকগণ বলিতেছেন, পূৰ্ব্বোক্ত ধনাত্মক বিদ্যুৎটা ঈথরের অতি স্বল্প অংশ ব্যতীত আর কিছুই নয়। রসায়নবিদগণ পরমাণুর যে প্রকার আয়তন নিদ্ধারণ করিয়াছেন, এক একটি ধনাত্মক মিছাৎকণার আয়তন ডাহা অপেক্ষ বৃহত্তর নয়। এগুলির ভার নাই, এবং অতি বৃহৎ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও ভtহাদের অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যায় না। ব্ৰহ্মাণ্ডব্যাপী ঈশ্বরের এক একটি অতি স্বল্প অংশ পৃথক হইয়া বে, কি প্রকারে ধনাত্মক তড়িৎরূপে বিকাশ পায়, তাহা আজও জানা যায় নাই । ঋণাত্মক বিছাৎ সম্বন্ধে অনেক ব্যাপার সম্প্রতি জানা গেছে। স্থল কথায় বলিতে গেলে, এগুলিকে অতি স্বল্প জড় কণা বলিতে হয়। হিসাব করিয়া দেথা গিয়াছে, ইহাদেয় আটশতটি এক সঙ্গে জমাট না বাধিলে একটি হাইড়ে জেন পরমাণুর অনুরূপ ভার পাওয়া বার মা। আয়তনে ইহারা ততোধিক ক্ষুদ্র । হাইড়ে জেনের এক পরমাণুর অধিকৃত স্থানে কোটি কোটি ঋণাত্মক বিদ্যুৎ-কণা অবাধে বিচরণ করিতে পারে। পূৰ্ব্বোক্ত ঋণাত্মক বিদ্যুতের কণাকেই বৈজ্ঞানিকগণ ইলেক্ট ন সংজ্ঞা দিয়াছেন। বায়ুীন কাচের নলের দুই অংশে ব্যাটারির ভারের দুই প্রাস্ত সংলগ্ন রাখিলে, এই ইলেক্টন প্রবাহ দ্রুতবেগে চলতে থাকে। বলুকের গুলি যেমন হঠাৎ বাধা পাইলে, অবরোধক জিনিসটাকে কঁপাইয়া তুলে, বায়ুহান নলের ভিতরকার এই ইলেক্ট্রন প্রবাহও