পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৭৩৮ প্রবাসী । ৫ম ভাগ । হুর্য্যের নিকটবৰ্ত্তী হওয়া মাত্র কি কারণে ধূমকেতুর পৃচ্চ উগত হয়, এবং কি কারণেই বা সেই পৃষ্ঠ সকল সমরেই স্বৰ্য হইতে দূরে থাকে,এখন তাহীর আলোচনা করা যাউক । পুচ্ছোদগম সম্বন্ধে জ্যোতিবিদগণ বলেন, সমগ্র ধূমকেতুটি একই প্রকার উপাদানে গঠিত নয়। কাজেই সেটি স্বর্যোর নিকটবর্তী হইতে আরম্ভ করিলে, তাপবৃদ্ধির সহিত প্রথমে তাহার সহজ দ্রবনশীল কতক অংশ গলিয়া বাঙ্গাকার প্রাপ্ত হইতে থাকে, এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই বাষ্প দ্বারা পুচ্ছের উদগম আরম্ভ হয়। তার পর ধুমকেতু আরো স্বর্য্যের নিকটবৰ্ত্তী হইলে, যখন তাহার অধিকাংশ উপাদানই গলিয়া বাপাকারে পরিণত হইয়া পড়ে, তখন ক্ষুদ্র পচ্ছাস্করটি সেই বিশাল বাপরাশি দ্বারা পুষ্টাবয়বসম্পন্ন হইয়া দাড়ায়। স্বৰ্য হইতে পুচ্ছের দূরে অবস্থান সম্বন্ধে কারণ উল্লেখ করিতে গিয়া জ্যোতিবিদগণ দুই তিনটি মতবাদ দাড় করাইয়া ফেলিয়াছেন। একদল পণ্ডিত বলেন, তাপধিক্য প্রযুক্ত পুচ্ছের বাষ্পীয় অংশ প্রসারিত হইয়া পড়ে ; এবং এস্থলে সেই প্রসারণ-শক্তিটা সূর্যোর আকর্ষণ অপেক্ষাও অধিক হইয়া দাঁড়ায়। তাই ধূমকেতুর খুব লঘু বাষ্পীয় অংশটা, হুর্য্যের আকর্ষণের প্রতিকূলে প্রসারিত হইয়া পুস্থরচনা করে। আর একদল পণ্ডিত এই মতবাদের প্রতিবাদ করিয়া বলেন, পুচ্ছ ও স্বৰ্য্যনগুলের এই বিকর্ষণের ভাবট সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যাপার। স্বৰ্য্যমণ্ডল হইছত প্রতিনিয়তই অসংখ্য সুগ্ম জড়কণা(Corpuscles) ঋণাত্মক (negativeỳ বিষ্কাতে পূর্ণ হইয়া, ভীমবেগে আকাশের চারিদিকে ছটিয়া চলিয়াছে। সুতরাং সেগুলি ধূমকেতুর পুচ্ছের সংস্পর্শে অসিলেই যে তাঁহাকেও ঋণাত্মক বিজ্ঞাৎপূর্ণ কলিবে তাহ' আমরা বেশ বুঝিতে পারি। আবার ঋণাত্মক বিদ্যুৎপূর্ণ দুটা জিনিস কাছাকাছি আসিলে তাহীদের মধ্যে যে বিকর্ষণ vপস্থিত হয়, তাহাও আমরা জানি । কাজেই এখানে প্রেমণ্ডল ও ধূমকেতু উভয়েই ঋণাত্মক তড়িৎযুক্ত হওয়ায়, ধূমকেতুর পুচ্ছ যে স্বর্য হইতে দূরে যাইবার চেষ্টা করিবে, তাহাঙ্গ আর আশ্চৰ্য্য কি ? বল বাহুল্য, পুচ্ছের অবস্থানের বিশেষত্ব সম্বন্ধে যে দুইটি কারণের উল্লেখ কয় হষ্টল, উভরই সম্পূর্ণ অনুমানের উপর প্রতিষ্ঠিত। স্বৰ্য্যের স্থায় এক বিশাল জড়-স্তপ, ধূমকেতুর অতুষ্ট বাপকে প্রকৃতই আট্‌কাইয়া রাখতে পারে কি না, অস্থাপি কেহই তাতার গণিতসম্মত প্রমাণ প্রদর্শন করিতে পারেন লাই। তাছাড়া সুর্য্যমণ্ডলে সত্য সত্য বিদ্যুৎ আছে কি না, তাহারো কোন প্রমাণ আজও পাওয়া যায় নাই । কাজেই এপর্য্যস্ত কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তি মতবাদ ছুটির মধ্যে, কোনটিতেই বিশ্বাসস্থাপন করিতে পারেন নাই। মনে হয়, ব্যাপারটির কোন বিজ্ঞানসন্মত ব্যাপান দিতে ন পারিয়া, জ্যোতিষিগণ অনেক ইতস্ততের সহিত এই মতবাদ দুটাকে উহাদের জ্যোতির্ষিক গ্রন্থে স্থান দিয়াছেন । ধূমকেতুর পুচ্ছন্থ প্রত্যেক কণার উপর, আলোকের চাপ কি পরিমাণে কাজ করিতে পারে গণনা করিয়া, কয়েকটি বৈজ্ঞানিক সম্প্রতি উপরোক্ত জ্যোতির্ষিক সমস্তাটির মীমাংসা করিয়াছেন । এই অভিনব মতবাদটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ও গণিতসন্মত। এই জন্ত মনে হয়, অতি অর দিনের মধ্যেই, সমগ্র বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় এটিকে সম্পূর্ণ সত্য বলিয়া সাদরে গ্রহণ করিবেন। এই নূতন মতবাদটি বুঝিতে হইলে, আলোকের চাপটা কি, প্রথমে জানা আমশুক । আমরা সকলেই জানি, সৰ্ব্ববাণী অতি স্থা ঈথর নামক এক জিনিসের তরঙ্গবিশেষ দ্বারা আলোকের উৎপত্তি হয় । কিন্তু এই আলোক যে কোন পদার্থের উপর পড়িয় তাহীকে ধাক্কা দিয়া সম্মুখের দিকে ঢাল্লাষ্টতে পারে, তাহা কিছুদিন পূৰ্ব্বেও আমাদের জানা ছিল না। আজ প্রায় কুড়ি বৎসব হইল, আলোকচাপের অস্তিত্বের কথা ভুবনবিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ও গণিতবিদ ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের মনে হঠাৎ উদিত হইরাছিল। তখন তিনি বিবাস্তরের গবেষণায় ব্যস্ত, কাজেই সে সময় ব্যাপারটির মীমাংসা হয় নাই । ইহার তিন বৎসর পরে, আলোকচাপের অস্তিত্বসম্বন্ধীর গণিতসম্মত প্রমাণ দেখা পিয়াছিল । বলা বাহুল্য, গণিতের চক্ষে এই প্রকারে আলোকচাপের অস্তিত্ব দেখিয়া, পণ্ডিতগণ অবাকৃ হইয় পড়িয়ছিলেন, কিন্তু ইহার প্রত্যক্ষপীক্ষসিদ্ধ কোন প্রমাণ না পাইয়া নিছক গণণা সকলে বিশ্বাসস্থাপন করিতে পারেন নাই। ম্যাক্সওগেলেন অকালমৃত্যুর পর, বিষয়টা অনেকদিন চাপ পড়িয়াছিল। তার পর, যখন তাহার অনুমিত প্রায় - - __ o:s