পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- Գ8Ե হষ্টল। একটা বেদী নিৰ্ম্মিত হইল এবং উহাকে পত্ৰ পুষ্পাদি দ্বারা ভূবিত করা হইল। কস্তুদিয় ( ভূতের ওঝা ) বেদীর সম্মুখে মঙ্গোচরণ করিতে লাগিলেন। ইনি জাতিতে ধীবর; ইহার শরীর বেশ বলিষ্ঠ দেখিলে বোধ হয় অপরকে বশীভূত করিবার ক্ষমতা ইহার আছে। নেতুন করায়ে (নৃত্যকারিগণ ) রক্ত ও শ্বেত বঙ্গে দেহাচ্ছাদিত করিয়া, -- নানারূপ বিকটমুৰ্ত্তি মূগস পরিয়া অথবা নানা রংএ মৃথ চিত্রিত করিয়া চারিদিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া বাষ্ঠের সঙ্গে তালে তালে নৃত্য আরম্ভ করিল। এই সময় ভূতগ্রস্ত বালিকাকে আনা হই । কত্ত্বদিয় বালিকার শরীরস্থ ভূতকে চলিয়া যাইতে তুলিলেন ; ইহার উত্তরে তিনি কতকগুলি গালি থাইলেন এবং তর্জন গর্জন শুনিলেন ; ইহার অর্থ ভূত চলিয়া যাইতে ইচ্ছুক নহে। তখন কত্তদিয় দুষ্টট গজ্জ্বলিত মশাল লইয়া ঘুরাইতে লাগিলেন আর মৃত্ন পড়িতে লাগিলেন; বালিকার চক্ষুর উপর প্রখর দৃষ্টি নিয়োজিত করিলেন। ইহাতেও বালিকার শরীরে একঘণ্টা পর্যন্ত কোন ভীতিলক্ষণ দেথা গেল না ; তাহীর চক্ষুর পাতা পড়িল মা ; দষ্টি সমান স্থির রহিল। একঘণ্টা অতীত হইলে তাহার চক্ষুদ্বয় ক্রমশঃ নিমীলিত হইতে লাগিল এবং অবশেষে একেবারে মুদিত হইল । নারিকেল তৈলের সহিত কুঙ্কুম মিশ্রিত করিয়া বালিকার কপালে লাগাষ্টয়া দেওয়া হইল এবং কত্তদিয় ইহার উপর মন্ত্রোচারণসহ ফুৎকার দিতে লাগিলেন। কিন্তু বালিকার এরূপ নিস্তেজ ভাব অধিকক্ষণ স্থায়ী হইল না ; সে আবার পূর্ববৎ চপলতা প্রকাশ করিতে লাগিল ; ইহার কারখ ভূত তখনও উহাকে ছাড়ে নাই । এইবার কতদিয় একটা নিভৃতস্থানস্থিত সাতজন সিংহলীকে ইঙ্গিত করিলেন । ইহাদের প্রত্যেকের হস্তে নানাবিধ মসলনিৰ্ম্মিত ব্যঞ্জন, পান, কুঙ্কুম প্রভৃতি দ্বার – পূর্ণ একথানি কদলী পত্র। এই পত্রগুলি ভূতগণের ভোগের সন্ত বেীর উপর রাখা হইল। কত্তদিয় এক্ষণে ভূতকে জিজ্ঞাসা করিলেন যে সে যাইবে কি না। এত উপাদেয় ভোজ্য দ্রব্য পাইয়াও ভূত যাইতে সম্মত হইল না। তখন - কস্তুদিয় স্বীয় চিত্তকে স্থির করিয়া মানসিক তাড়িত শক্তি -

  • পৈশাচিক নৃত্যের বর্ণনট ১৮৯২ খ্ৰীষ্টাব্দের ऋषयत्रभाग মাইটিস্থ সেঞ্জী হইতে সংগৃহীত। পূর্বোক্ত ইংরাজ রমণই ইহার লেখিকা।

প্রবাসী। ৫ম ভাগ । দ্বারা বালিকার চিত্তবৃত্তিকে বশীভূত করিবার জন্ত তাহার উপর হস্তসঞ্চালন করিতে লাগিলেন", এদিকে একটী পাত্রে রক্ষিত সুগন্ধি ও সংজ্ঞালোপকারী দ্রব্যে অগ্নিসংযোগ করিয়া বালিকার নাসিকার নিয়ে ধরা হষ্টল । অল্পকাল পবে এক কৰ্ণবিদারক চীৎকার করিয়া বালিক সংজ্ঞাশুনা হইয়া ভূতলে পতিত হইল। এই অবস্থায় বালিকাকে তুলিয়া কতদিয় স্ট্রীয় কুটীরে লষ্টয়া গেলেন ; সেখানে অন্য কাহারও যাইবার অধিকার নাই। নৃত্য গীত চলিতে লাগিল। প্রায় রাত্রি দুইটার সময় কত্ত্বদিয় ফিরিলেন । এবার তিনি-সমুদ্রে স্নান করিয়া শুভ্র বসন পরিধান করিয়া আসিলেন। তিনি দক্ষিণ হস্ত উঠাইবা মাত্র গীত বাদ্য বন্ধ হইল। তিনি আপনার মন্ত্রপূত দণ্ডটিকে কুটরের দিকে প্রসারিত করিয়া আপনার দিকে ধীরে ধীরে ঘুরাইলেন, যেন কাহাকেও আহ্বান করা হইল । তিন বরি এইরূপ করিলে পর নিদ্রাভিভূত বালিকা তন্ত্রাবস্থাই ইটা অগিল। এই সময় একটা বনকুকুটকে বেদীর উপর বলি দেওয়া হইল, কারণ রক্তপান না করিয়া ভূত যাইবে না। তাহার পর সন্ধ্যাকালে কুমারী কর্তৃক নিৰ্ম্মিত এক থও স্বত্রে তৈল কুঙ্কুম ও চূর্ণ মখাইয়া বালিকারগাত্রে জড়াইয়া দেওয়া হইল। এটা রক্ষাকবচস্বরূপ। তাহার পর নানা প্রকার সুগন্ধওস্বৰ্গং দ্রব্য জ্বালান হইল ; ইহার ধূমে বালিকা প্রায় সম্যক আবৃত হইয়া গেল । এখন একটা কুষ্মাগুকে দ্বিখণ্ড করা হইল এবং ভূতকে উহার মধ্যে প্রবেশ করিতে আদেশ করা হইল৷ পৈশাচিক নৃত্যরূপ ভূতঝাড়নি অনুষ্ঠানটর এইখানেই অবসান হইল। ভূত কুষ্মাণ্ড মধ্যে প্রবেশ করিয়াছে মনে করিয়া ফটোকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হইল, যাকাতে আর ভূত আসিতে না পারে। কিন্তু যে বালিকাটার কথা এখানে বলা হইতেছে, এ অনুষ্ঠানদ্বারাও তাঁহার ভূত ছাড়িল না; বরং গ্রামে ভূতের দৌরাত্ম্য আরও বাড়িল; লোক জালাতন হইল। গত্যন্তর না দেখিয়া অবশেষে গল-কপপু দেবালে নামক দেবালয়ে বালিকাকে লইয়া যাওয়া স্থির হইল। এই মন্দির কান্দির সন্নিহিত অলুতুনেভের প্রামে অবস্থিত। ইহা বহল নামক এক অতি ছৰ্দান্ত ভূতের স্থান। মন্দিরট অতি প্রাচীন ; বৌদ্ধধৰ্ম্মের আবির্ভাবের পূৰ্ব্বে ইহা হিন্দুদিগের অধিকারে ছিল। স্বর্ণ ও রজত নিৰ্ম্মিত এবং রত্নাখিচিত T ১২শ সংখ্যা । ] f বিবিধ মূৰ্ত্তি বেদীর উপর বিরাজ করিতেছে। কিন্তু বহুশতাব্দীসঞ্চিত ধূলিরাণি দ্বারা ইহাদের সৌন্দর্য্য নষ্ট হইয়া গিয়াছে ; এক্ষণে ইহাদের গাত্রে কীটগণ বাসানিৰ্ম্মাণ করিয়াছে। বালিকাকে বাধিমুক্ত করিবার জন্য মন্দিরে বিশেষ আয়োজন করা চইল। আত্মীয় স্বজন পরিবেষ্টিত হষ্টয়া বালিকাকে পদব্ৰজে প্রায়ু সাড়ে চারি ক্রোশ পথ চলিতে হইল। বহুলকে তুষ্ট করিবার জনা আত্মীয়ের নানাবিধ উপহার লইয়া চলিল। যখন মন্দিরে পছছিবাল আর এক ক্রোশ মাত্র আছে, তখন বালিকার শরীরে ভূতের ভয়ানক প্রভাব প্রকটিত হইল ; হঠাৎ সে থমকিরা দাড়াইল, ক্ষিপ্তের স্থায় চকু ঘুরাইতে লাগিল ; তাহার শরীরে এত বলের সঞ্চার হইল যে দ্বষ্টছন বলিষ্ঠ লোক একট ক্ষীণ বালিকাকে সেস্থান হইতে হটাটতে পারিল না। কিছুক্ষণ এইরূপ স্থির আচঞ্চল থাকিয়া বালিকা একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়িা এবং দুষ্ট হাসি হাসিয়া আবার গম্ভীরভাবে পথ চলিতে লাগিল। তাঁহার পদবিক্ষেপ নিয়মিত ও দৃঢ়তাব্যঞ্জক, যেন সম্মুখে ভীষণ পরীক্ষ উপস্থিত। মন্দিরে পছছিয়া বালিকার আত্মীয়গণ বেদীর সম্মুখে উপহার সামগ্ৰীগুলি রাখিয়া লি এবং ভূত মূৰ্ত্তির নিকট নতজানু টা দীনভাবে অবস্থান করিতে লাগিল। ভূতাভিভূত বালিকা বেগে মন্দিরমধ্যে প্রবেশ করিল এবং ভয়ঙ্কর অঙ্গ ভঙ্গি করিয়া মূৰ্ত্তির সম্মুখে বিশৃঙ্খলভাবে পড়িয় গেল । এক্ষণে কপুর (পুরোহিত) অগ্রসর হইলেন; ভূতপতির নিকট বালিকার কাহিনী বিবৃত করিলেন ; অনেক স্তবস্তুতি করিলেন । মধ্যে মধো বালিকা এক একবার উত্তেজিত হইয়া উঠতে লাগিল। ছষ্ট ইঞ্চ লম্বা বালিকার একটা মোম নিৰ্ম্মিত মূৰ্ত্তি ; একটা রৌপ্যনিৰ্ম্মিত দ্বগোব্য ( ক্ষুদ্র মন্দির ) এবং অন্যান্ত সামগ্ৰী বহলকে উপহার দেওয়া হইল। কপুর তিনবার অনেক স্তুতিবাক্যে প্রার্থনা করিলেন বে বালিকার হেস্থিত ভূতকে চলিয়া যাইতে আদেশ কয় হউক। কিন্তু ইগতেও মল্লযক্ষে যাইতে চাহিল না। তখন দ্বিপ্রহর + 1 ত্রির অপেক্ষা করা হইল। সে সময় ভূতের বিশেষ শক্তিসম্পন্ন হয় এবং পুজাদি দ্বারা সে সময় তাহাদিগকে তুষ্ট to + করিতে পারা খায়। যদি সে সময় কপুয়া কৃতকার্য না চন ভাগ হইলে বালিকার ও তাহার উভয়েরই সমূহ বিপথ, 1. রাবণের দেশে ভূতঝাড়ান। z རྐ ዓ8› ....-ميو-مي...-.... কারণ দুই জনকেই আজীবন ভূতপীড়িত হইয়া থাকিতে হইবে। কিন্তু এরূপ ঘটনা অতি বিরল। যখন রাত্রি দ্ধিপ্রহর হইল, তখনও বালিকা সেক্টরূপ অবাধা। অতএব শারীরিক পীড়া উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হইল। মন্দিরে কণ্টকাৰ্বত যষ্টিগুচ্ছ রাখা থাকে ; ইহার দ্বারা ভূতে-পাওয়া লোককে প্রহার করা হয়, যাহাতে ভূত পরাভব স্বীকার করে। এ দৃপ্ত বড়ই ভয়ঙ্কর। উধার আলোক দৃষ্টিগোচর , হইবার পূৰ্ব্বে ভূতকে পরাজিত করা আবশ্যক। ভয়ঙ্কররূপে প্রহৃত হইয়া বালিকার মুখ হইতে নানাপ্রকার অসংলগ্ন মানববোধাতত পৈশাচিক বাক্য নির্গত হইতে লাগিল এবং সঙ্গে সঙ্গে গালিও বাহির হইল। কপুত্ব প্রধার করিয়া চলিলেন এবং মধ্যে মধ্যে ভূতপতি বহুলকে স্তৰ করিতে লাগিলেন। এক ঘণ্টাকাল পরে হঠাৎ একটী গগনভেম্বী চীৎকারে সকলে স্তম্ভিত হইল। এই সময় কপুর ভুতকে প্রশ্ন করলেন, “তুমি এখন যাইবে কি না " বালিকার মুখ হইতে ক্ষীণ স্বরে সিংহলী ভাষায় এই কয়টা কথা বাহির হইল, “ই আমি আদেশপালন করিলাম ; আমি চলিলাম। আমাকে রক্ষা কর, হে বহল বন্দর দেবুজ,হে মহাপ্রতাপশালী ভূতশ্রেষ্ঠ, তুমি রাজা রিস্সমোনির ( বিশ্ব নির) নিয়েই আসন পাইবার যোগ্য। আমি বই ; আমি চলিলাম।” কপুর গম্ভীর স্বরে, এবং কৃতজ্ঞতাবাল্পক বাক্যে উত্তর করিলেন "তথ্যস্ত”। ভূত ছাড়িল । বালিক নিস্পনভাবে পড়িয়া রছিল। এ অবস্থায় তাহার সন্নিবীনে আসার বা তাহাকে স্পর্শ করার অধিকার কপুয়া ছাড়া আর কাহারও নাই । তিনি বালিকার কটিদেশে একটা রণ-র-লুল (পবিত্র স্বত্র ) বাধির দিলেন, বাহতে একটা মন্ত্রপূত কবচ পরাইয় দিলেন, তৎপরে ক্রমান্বয়ে মুবাসিত জল, সুগন্ধ পুষ্প, তাম্বুল, চন্দন ও কুস্থ চুর্ণ তাহার উপর ছড়াইয়া দিলেন। এমন । সমাপন করিয়া কপুর নতজানু হইলেন এবং হস্ত প্রসারিতকরিয়া এই আশীৰ্ব্বচনটী উচ্চারণ করলেন, “আমি প্রাগ্রাকরিতেছি দে আমার ধৰ্ম্মাচরণ, আমার শক্তি, এবং আমার জীবনের প্রভাবে এই রমণী হস্থ এক পবিত্র শরী: লাভ করুক।” এই বলিয়া তিনি একখানি নূতন শুভ বদনদ্বারা বালিকার দেহ আচ্ছাদিত করিয়া দিলেন। উষাকাল পর্যন্ত মন্দিরে সব নিস্তন্ধ রহিল। প্রত্যুষে কপুর চলিল o