পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


习 - i বোনার্জি বিশেষ ভাবে চার টেবিলে নিমন্ত্রিত, তখন তিনি নানা কথায় বোলাঞ্জিকে পরিহাস্য করবেন বলিয়া সঙ্কল্প করিলেন । পিতামাতার সমক্ষে চার টেবিলে তিনি সঙ্কল্পের অনুযায়ী কোন কাৰ্যই করিতে পারেন নাই ; বরং প্রাকৃতিক ধৰ্ম্মে যথেষ্ট শিষ্টাচারেয় পরিচয় দিয়াছিলেন । চ। শেষ করিবার পর যখন সকলে গল্প করিতে বসিলেল, তথনৈ মুশীলার পরিহাস-প্রবৃত্তি জাগিল উঠিতে পারে নাই। ক কহিতে কহিতে বোনার্জি সাহেব পকেট হইতে একখানা ক্ষুদ্র পুস্তিক বাহির করিয়া টিপয়ের উপর রাখিয়া বন্সিলেন, “আপনাদের অবসর হয় ত, এই গ্রন্থখান পড়িবেন।” রার সাহেব গ্ৰন্থখানি হাতে তুলিয়া দেশিলেন, যে তাহার লাম ‘Morning breeze’ এবং তাহার লেখক বা কবি স্বয়ং এম, বোনার্জি। রায় সাহেব তখন পুস্তকধানি কস্তার হাঁতে দিয়া বলিলেন, “দেখ সুশালা, মিষ্টার বোলার্জি কাবত৷ লিখেছেন।” স্বশীল তখন একটু হাসিয়া, পুস্তকের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া, অতি পরিস্ফুট পরিহাসের স্বরে বললেন, “তাই ত! আপনি দেখছি কবি । তা আমার ত কবিত বুঝবার ক্ষমতা কখনো নাই। তা, বাবা পড়বেন এখন।” দাতা যে পুস্তিকাখালি ব্যব্যকে পড়িতে দেন নাই, সুশীল তাহা জানিতেন । ক্লার মহাশয় সুশীলার কথা শুনিয়া হাসিয়া বলিলেন, “ওব ঐ রকমই কথা । কিন্তু এর পয়ে ঐ আগে পড়ে ফেলয়ে। সুশল একটু রকম প্রতিবাদ তুলিয়া যলিল, “সে কি বাবা ? এতগুলো কবিতা পড়ার কি আমার সময় আছে ? নিষ্টার যোলাঞ্জি শুর নিজের রচনা একটু নিজে পড়লে বরং এখন শোনা যেতো। কি বল বাবা ?” বোনার্জি নিৰ্ব্বদ্ধি লোক নহেন ; এ আসবে, এমন সময়ে, ঐ রকম পাতল অনুরোধে কবিতা পড়া সাজে না । তিনি তাড়াতাড়ি কথাটা চাপ দিবার জন্য স্থশালাকে গান গাহিতে অমুরোধ করিলেন। ঘরে কোন বাদ্যযন্ত্র ছিল না বলিয়, রায় এবং রীর-জীয়া বলিলেন, “একটা ব্যঞ্জন আনিয়া রাপা যাবে ; তার পর সুশলীর গান শুনবেন।” কাজেই সেদিনকার অপরাহ-সন্মিলন শীঘ্রই শেয হইল । বোলাঞ্জির বিদায়ের পর সুশীলা মেরীকে ডাকি আনিয়া নিজ কক্ষে বসিলেন। সুশীলা কহিলেন, “স্থাপ্‌ মেরা, আঞ্জ আমি তোকে একটা স্বসমাচার শোনাব ; এটা বাঞ্চল প্রবাসী । , থেকে নয় ; হিন্দুর শাস্ত্র থেকে। তোকে অবগুই শুনতে হবে।” মেরী নাচার হইয়া শুনিতে খসিল । সুশীলা বলিতে লাগিলেন, “সেকালে বৃন্দ্যযন নামে একটা জায়গায় একটি গোয়ালার ছেলে গর চরাতে, আর বঁাশ বাজাতো। আর তার বঁাশ শুনে গোয়ালার মেয়ের দলে দলে তাকে ভাল বাসতে বেতা।” মেরা আশ্চর্য হইয়া বলিল,"তাই নাকি?” স্বশীল বললেন, “তই না তো কি ? আমি কি মিছে বলছি ? পুরুষদের বিশ্বাস, যে তারা বাণী বাঞ্জিয়ে স্বর-জাল পাহলেই মেয়েগুলো কুপকরে পড়ে পা আটকে বসে।” মেরী শেষটুকু তেমন বুঝিল লা। সুশীল তথন বলিলেন, “সেই গোবালাব ছেলের নাম হল কৃষ্ণ, আর—“ এবারে মেরী চট্‌ করিয়া উঠিয়া শিহরিয়া বলিল, “সে ত, চোরের কথা ; প্রতিমাপূজকের কথা ! পাদ্রি সাহেবেয়া কৃষ্ণকে খুব গাল দেন।” স্বশাল বলিলেন, তবে থাক।” মেরী স্বকার্যে চলিয়া গেল । সুশীলা তখন শেল ইষ্টতে জর্জ মেরিডিথের একখানি কবিতা লইয় তাহার Modern Love কবিতাগুলির পৃষ্ঠা উন্টষ্টতে লাগিলেন। পাতা উলটাইতে উটাইতে চোথে পড়িল ;– It is in truth a most contagious game : “Hiding the skeleton" shall be its name. সুশীলা আর পড়িলেন না ; পুস্তকধানি যথাস্থানে রাখিয়া নরেনকে আহার করাইবার উদ্যোগে রন্ধনশালায় গমন করিলেন । তৃতীয় পরিচ্ছেদ । সঙ্গীত । মিষ্টার এল, রয়, আজি উহার বসিবার ঘরে একটা হাৰ্ম্মোনিয়ম অনাইয়। রাথিয়াছেন। বোলাfর্জ যে কখন .আসিয়া পড়িবেন, তাহার ঠিকানা নাই ; এবং মুশীলাকেও তখন গান গাহিতে হইবে। উপস্থিত মৃত গান গাওয়া তত শক্ত নয়, কিন্তু পূৰ্ব্ব হইতে খবর দিয়া বাজনা আনাইয়া গান গাওয়া দুরূহ ব্যাপার । - কুশীল দিপ্রস্তুবে মাকে বই পড়িয়া শুনাইয় থাকেন ; বাবাও শোনেন। আজি তাহারা নাকি ঢের চিঠি লিখিবেন [ ৫ম ভাগ। " --- ১২শ সংখ্যা । ] কিছু পুস্তকের অনুসন্ধানে টিপয়ের উপরহস্তপ্রসারণ করলেন। দৈবযোগে বোলাঞ্জির “প্রভাত সমীরণ” কবিতা হাতে উঠিল। একেই বলে বিধির নির্বন্ধ। কবিতাগ্রন্থের সূচীপত্রট দেখিতে দেখিতেই নরেন আসিয়া চেয়ারে উঠিয় দ্বিন্ধিল কোলে ইয়া পড়িল স্বধলা তখন পুস্তকখানি রাশিয়া দিয়া নরেনের সঙ্গে কাব্য আলোচনায় প্রবৃত্ত হইলেন। বললেন, “জ্ঞাপ্ত নরেন, যে পাহাড়ে আসে সেই কবিতা লেখে। আমি বদি একথান মহাকাব্য, কিম্বা খণ্ডকাব্য, কিম্বা নভেল, কিম্বা’ নাটক লিগে ফেলিত ক্ষতি কি ?” নরেন সে কথা যেমন বুঝিল, তেমনি রকমের জবাব দিল। সে বলিল, “দিদি তুমি বই লিখবে? তা লেথনা ! আমি বুঝতে পাৰ্ব্ব ত ?” - স্বশীল তখন তাহার খেলার পুতুলটিকে বললেন, “আচ্ছা নরেন, তুই বেশ সোজা হয়ে ধাড়াদেখি ; আমি তোকে দেখে দেখে তোর নামে একটা কবিতা রচনা করে ফেলি।” পুতুলটি এ সকল রঙ্গে অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছিল , সে হাসিতে হাসিতে দিদির সম্মুখে সোজা হইয়া দাড়াইল । দিদি যখন টিপয় থেকে কাগজ পেন্সিল নিয়ে, নাথ গেল ইয়া নরেনের নামে কাব্যরচনার উদ্যোগ করিলেন, তখন নরেন বলিল, “দিদি, কবিত্ত লথ কটো তোলার মত ?” দিদি বলিলেন, "চুপ কর, কথা কসনে।” প্রতি শব্দ উচ্চরণ করিতে করিতে স্বশীল তাঙ্গর কবিতার দুটি ছত্র নিৰ্ব্বিবাদে লিখিয়া ফেলিলেন – আজন্মটা সাহেব ইনি, নাম মাষ্টার নরেন। গায় পড়েনি তেলের ছিটে, ধুতি নাহি পরেন। কবিতাটার অন্ত অংশ লেখা শেষ হইলে, মাসিক পত্রে ছাপাইবার যোগ্য হইত কিনা, জানা গেল না। কারণ এই কাব্যলিপি অভিনয়ের প্রারস্তেষ্ট, বসিবার ঘরে কোন আগন্তকের প্রবেশ স্বচিত হইল। সুশীল উঠিয়া গিয়া পরদায় আড়াল হইতে দেখিলেন, ভোলানাথবাবু। ঘাম দিয়া জর ছাড়িল। " বাৰু ভোলানাথ সিংহ, এল.ররের স্বগ্রামবাসী বাল্যকালে কিঞ্চিৎ বন্ধুত্বও ছিল। ইনি এখন কুচবেহারে অর্থ উপাৰ্জ্জন করেন; সম্প্রতি দ্বাঞ্জিলিংএ স্বাস্থ্য উপাৰ্জ্জন করিতে আসিয়াছেন। স্বশীল ইহাকে অতি বালাকালে দেখিয়াছিলেন, বলিয়া কুশলীদেবী একখানি আরাম-চেয়ারে শুইয়া যাহোক কিন্তু যেধিয়াই চিনিতে পারিলেন। ভোলানাথ বাবু রায় তপস্যার ফল । ףטף মহাশয়ের পরিবারিক সংবাদ লইয়া কুফুল ਾਂ দেখিতে চাহিলেন । রীর মুহাশয় তখন সুশীল এবং নরেনকে বসিবার ঘরে ডাকিলেন । ভোলানাথবাবু লুণীলাকে দেখিয়াই হাসিয়া বুলিলেন, “তাইত, সুশীল এখন কত বড় হয়েছে। তুমি আমাকে চিনতে পার গা?” সুশীলা নমস্কার করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “ম কেমন আছে ? সে এখন কোথায় ?” ভোলানাথবাবুর বড়ই আনন্দ হইল। স্বশীল সত্তাই তাঁহাকে চিনিয়াছে, উহার মেয়ে স্ব বা হকুমার স্বপলারচাইতে ছোট। ভোলানাপবাবু সুকুমারীর সংবাদ দিয়া নরেনকে কোলের কাছে নিয়ে বলিলেন, "তোমার সঙ্গে পরিচয়টা হয়ে থাকৃ”। এমন সময়ে মিষ্টার বোনাঞ্জি আলির উপস্থিত হইলেন, এবং লিষ্টার ব্লার তাহাকে ভোলানাথ বাবুর সহিত পরিচয় করিয়া দিলেন। ভোলানাথবাবু ব্ৰাহ্ম। তিনি লোকটি ভাল। কিন্তু প্রচারক না হইয়াও অতিরিক্ত ধৰ্ম্মপ্রচারের তের পোষণ করেন বলিয়া, কখনো কথনে বড় বিষম কাও বাধাইয়া তোলেন। আজিও একাধিক শ্রোতাকে বিশেষ বিলাতপ্রত্যাগত ধৰ্ম্মশূন্ত শ্রোতা, ধৰ্ম্মপথের পথিক করিবার সুবিধা পাইয়া, তাহার উৎসাহ, সুতপুষ্ট যজ্ঞারির মত সতেজে জলিয়া ভঠিল। বোনাড়ি এবং রায়ের সেলাম-আপত্ত্বি কথা তাঙ্গর তাল লাগিল না ; তিনি ভামিলেন ইহারা যাঞ্জে কথায় সময় নষ্ট করিতেছে । * তখন তিনি কাজের কথা তুলিয়া, বোনার্জি এবং রায়কে প্রশ্ন করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন “মহাশয়, আপনার ব্রাহ্মসমাজের সভ্য হন না কেন?” প্রশ্ন শুনিয়াই ব্যেনার্জির মাথা ঘুরিয়া গেল । রাষ্ট্র মহাশয়s উচার সঙ্গতি বুঝিরা উঠিতে না পারিয়া একটু নাক চুলকাইলেন। দেশী রকম হইলে মাথা চুলকাইতেন। ভোলানাথবাবু বললেন, “মহাশয় । আপনার জাতিভেম্ব মানেন না, পৌত্তলিকতা মানেন না, বাল্যবিবাহ দেন না, এবং স্ট্রীস্বাধীনতার পক্ষপাতী , আপনাদের উচিত, ৰে আনুষ্ঠানিক ব্রাহ্ম হইয়া তারতের উপকার করেন - ভোলানাথবাবুর স্বর, প্রথম অকৃটেভ ছাড়িয়া দ্বিতীয়ে উঠিয়াছিল, এবং গলার পিয়া পুষ্টিপাত করিয়াছিল। মনে কখনো বাড়ীতে কাহাকেও চেচিয়া কথা কহিতে শোনে নাই ; সে ধীরে ধীরে দিদির হাটু ধরিয়া ধাড়াইল।