পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৩৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


سیارک ۹ বোনাজি স্বচতুর ব্যক্তি ; তিনি ভোলানাথ বাবুকে থামাইবার জন্ত বলিলেন, “এ অতি সাধু প্রস্তাব ; অন্ত একটুিন আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা কওয়া যাবে। আজ অন্ত রকম প্রসঙ্গ চলুক।” ভোলানাথ বাবু অগত্য | তাহার স্বযুক্তিসূত্রগ্রথিত উপদেশ-মাল, নেকটাইশোভিত কণ্ঠস্বয়ে না পরাইয়া নিরস্ত হইলেন। রায় মহাশয় অবকাশ পাইয়। সুশীলাকে হার্মেনিয়ম বাজাইয় গান গাহিতে বললেন । রুশলী একটু ইতস্ততঃ করিতেই ভোলানাথ বাৰু চট্ট কবিয়া হার্মোনিয়ম খুলিয়া মুর টিপিয়া বলিলেন, “সুশীলার হয়ত লজ্জা হচ্চে ; তা" আমি একটা গীচ্চি। সুশীলা। আমার গাওয়ার পর কিন্তু তোমাকে গাইতে হবে।” কেহই সিংহ-গৰ্জ্জন গুলিতে উৎসুক ছিলেন না ; কিন্তু একটা গানের পরেই সুশীলা গাহিতে পরিবেন শুনিয়া রায় এবং বোনাজি আশ্বস্ত হটলেন । ভোলানাথ বাবু অবিশ্বাসীদিগের অন্ত:করণ ভেদ করিদীয় জল্প, কণ্ঠ ফুলষ্টয়া এবং মাথা দোলাইয় গাহিতে লাগিলেনঃ-মায়ার ছলনে স্কুলে থাকিস্নে রে! ইত্যাদি। গুণীলার মাত, কিন্তু সেই সঙ্গীত শুনিয়া সেখানে আসিলেন , এবং ধীরভাবে ভোলানাথ বাবর গান শুনিলেন। গানটি শেষ করিয়াই ভোলানাথ বাবু বলিলেন, “অনেক দিন গাওয়া অভ্যাস নাই ; গলাটা খুলগ না । আচ্ছ। আর একটা গাই”। আদায় হামোনিয়াম বাঞ্জিল, এবং ই, ঈ, ধ্বনিতে রায়-গৃহ কঁাপিয়া উঠিল । বোনাঞ্জির সেদিন অন্তর কাজ ছিল , তিনি আর অপেক্ষা করিতে না পারিয়া কাল আবার আসিব বলিয়া, ধীরে ধীরে উঠিয়া পলাইলেন। রায় বেচার তাহাকে বিদায় দিশ আসি চেয়ারে বসিয়া ঝিমাইতে লাগিলেন। কেবল ছুই জন শ্রোতা ভোলানাথ বাবুর গান গুলিতেছিলেন ; সুশীল এবং তাহার জননী। চতুর্থ পরিচ্ছেদ । o সম্ভাষণ । একদিন সুশীল দেবী, তাতার ছায়ারূপী ছোট ভাইটিকে, o এবং আয়ারূপিনী মেরী বাউরিকে সঙ্গে করিয়া জলা পাহাড়ে বেড়াইতে গিয়াছিলেন । ফিরিবাল সময়ে দৈবাৎ বোনক্ট্রি সাহেব আসিয়া টুপি হেলাইয়া গুড্‌মৰ্ণিং করিয়া সঙ্গ লইলেন। বোনার্জি জিজ্ঞাসা করিলেন, “মিস্ রয়, আজি কত wo - * - o প্রবাসী। . । ৫ম ভাগ । বেড়িয়ে এলেন ?” সুশীল হাসিয়া বলিলেন, "মুগ্রহ করে আমাকে মিসরয় বলবেন না ; আমি নাথ ভঁড়িয়ে এবং নামের গায়ে ইংরাজি কথা জুড়ে বিবি হইতে চাইনে।” বন্দোপাধ্যায়-পুত্র স্বীয় নামের অতি বিকৃতিতে, কথাটার তীব্রতা যথেষ্ট অনুভব করলেন । কিন্তু তিনি সপ্রতিভ ব্যক্তি ; একটু হাসিয়া বললেন, “আমাদের দেশে একালের মত পুরুষ য়ুমণী লষ্টয়া সামাঞ্জিকতা হয় ত ছিল না ; কাজেই দেশী কথা ভদ্র মহিলাদেয় সম্ভাষণ করার মত শস্ব পাওয়া কঠিন।” স্থশালায় প্রত্যুত্তর, তীব্রতর হুইল ; তিনি বলিলেন, “প্রয়োজন মনে হ’লে কথা পাওয়া অশ্চির্যা হয় না ; কিন্তু বে আদর্শ আমাদের চোখের উপর, তাতে বাঙ্গলা কথাই খুঞ্জে পাওয়া দায়।” বোনাঞ্জি সাহেব তখন নরেনের হাত ধরিয়া চলিতে চলিতে বলিলেন, “আচ্ছা, আপনিই শিথাইয় দিন, আপনাকে কি বলিয়া ডাকিব।” সুশীল৷ রুমাল তুলিয়। মুখ মুছিয়া বলিলেন, “আগে প্রতিবেশীদিগের সঙ্গে একটা কিছু ধৰ্ম্ম স্কুবাৰ থাকিত, সেই হিসাবে লোকে লোককে ডাকিত ; এবং কথা কহিত। এখনত ইংরাঞ্জি প্রথায় আপনার ছোট ভাইও দিদির নাম ধরিয়া ডাকে।” বোলাঞ্জি ভাবিতেছিলেন.যে, বলিবেন বে, ধৰ্ম্মতঃ একটা সম্পর্ক হয়ে গেলে ত গোল চুকিয়া যাইত। কিন্তু কথাটা গলায় অর্টুিকাইয়া গেল। তথন অন্ত কথার প্রসঙ্গ করিয়া বলিলেন, "এবারে দাৰ্জিলিংএর জল বায়ু বড় শ্বাস্থ্যকর মনে হচে ।” স্বাস্থ্যের কথা হইতেই স্থশালার মনে কোমল, স্কৃতি জাগিয়া উঠিল। তিনি অতিমধুরস্বরে বলিলেল, “দাঞ্জিলিংএর জলবায়ুর কাছে আমরা বড় ঋণী ; এখানে না আসিলে মা বাচিতেন না ।”- এক কথার সুশীলার মন কোমল হইয় পড়িল। এ সময়ে যদি বোনৰ্ছি ছ'চারিটি সহানুভূতিজ্ঞাপক কথা কহিতে পারিতেন, ভাহা হইলে প্রণয় সঞ্চার ন হইলেও সৌহার্দ স্থাপিত হইতে পারিত। কিন্তু উtহার কোন কথা কহিবার অবসর পাইবায় পূৰ্ব্বেই লরেটোর । একজন বিবি শিক্ষয়িত্ৰী আসিয়া কুশলাকে অভিবাদন করিলেন। স্বশীল কলিকাতায় এই বিবির কাছে কিছু দিন পড়িয়াছিলেন। এবারে এই মহিলায় মহিলায় আলাপ ১২শ সংখ্যা । ] সাহেব টুপি দোইগ বিদায় অষ্টা চলিয়া গেলেন। অভ্যাস বশতঃই হউক, অথবা ইউরোপীয় মহিলার সমক্ষে বৰ্ব্বরতার পরিচয় দিবেন না বলিয়াই হউক, পূৰ্ব্বোক্ত কথোপকথনের পরেও, রোমাৰ্বি সাহেব নমস্কার করিলেন না। স্বশীল কিন্তু মাথা না ফ্লোষ্টয়া, নমস্কারই করিয়াছিলেন। বেলা দশটা বাজিয়া গেল, কুশল তখন ভীষ্টীকে নিয়ে তাড়াতাড়ি গৃহে ফিরিলেন। মাতার স্বানের সময় হইয়াছিল ; আর বিলম্ব করা চলিত না। পঞ্চম পরিচ্ছেদ । আনন্দের কারণ । যা, রামায়ণ শুনিতে শুনিতে একটু ঘুৰাইয়া পড়িয়াছিলেন। আগাগোড় হনুমানের কথা হইলে নরেনের রেশ মজা ইষ্টত ; কিন্তু একে সংস্কৃত শ্লোক পড়িয়া পড়িয়া তাছার বাঙ্গলা ব্যাখ্যা, তাহার উপর আবাল মাঝে মাঝে ঋষিদের জ্ঞানের কথা ; নরেন গ্রন্থারম্ভেই চক্ষু মুদিয়া বাল্মীকির প্রতিভার ধান কল্পিত। যা ঘুমাইয় পড়িলেন দেখিয়া স্বশীল সেই বিপ্রকরেয় সময়ে নিজ কক্ষে আসিয়া নানা কথা ভাবিতে লাগিলেন। প্রথমেই বোনার্জি সাহেবের কথা মনে পড়িল । তিনি পাক বৈজ্ঞানিকের মভ বোনাজির স্থূলতীত শরীরে স্বাক্ষ জ্ঞান-চুরি চালাষ্টতে লাগিলেন। বোনার্জির প্রেমের প্রকৃতিটা কি ? বিলাতে বাহাই হউক, এ দেশে ত ছেলের বাজাল ভারি গরম ; এক একটা মর হাতীর দামও লক্ষাধিক টাকা । কোন কৃতি ছেলে কোন কুমারীকে বিবাহ কৰ্ব্বেন বল্লেষ্ট, কুমারীকুলের চতুৰ্দশ পুরুষ উদ্ধারলাভ করেন । মেয়ে যদি তৎক্ষণাৎ স্বীকৃত না হয়, তবে কোর্টশিপের শেষ। আমিই কি এত বড় গুণবতী এবং রূপবতী যে, আমার বেলায় একযু খাটল না ? বোনাfঞ্জ সাহেবের বিবাহের প্রয়োজন , বিলতে ফেরত হইলেও ব্ৰাহ্মণের যেয়ে চাই ; অথচ এমনটি চাই, যাহাকে চট্ট করিয়া বিবি করা যায়। এ হিসাবে আমার মত ব্রাহ্মণের মেয়ে কলিকাতায় ত আর দেখিতেছি না । প্রেমের গাঢ়তার এইটিই কারণ কি ? দূর হোকঃ অন্ত কথা ভৰি। তাঁর পর উক্ষ ছুয়িখনি ফেলিয়া দিয়া, ভোলানাথবাবুর তপস্যার ফল । ు: লোকটা বোকাসোকা বটে, কিন্তু বোধ হয় মন্দ লোক নয়। সভ্যতার ধার ধীরেন না বটে, কিন্তু ধৰ্ম্মে কৰ্ম্মে মন আছে । কিন্তু বিলাত ফেরৎ দেখেই দলে নবার চেষ্টা কেন ? ওটা কি দলপুষ্টির নামে একটা অসার গৌরবের আক্টাঙ্ক নয় । যারা ধৰ্ম্মসমাজ গড়িতেছেন বলিয়া শুনিতে পাট, তারা কি বিলাত ফেরৎ সমাজের জঙ্গ লীলারিত হবেন ? ভোলানাথবাবুর কপার হয় ত, আর কোন রকম অর্থ আছে। যাইহোক, শেষ গানটি আষার বেশ লেগেছিল। স্বশীল তখন মৃঢ়স্বরে হাতত্‌পানি ছুড়িয়া গাহিতে লাগিলেন – অপার পপ চলিব তব আলোক হেরি নিত্য · অসার কথা ভুলিব নব পুলকে ভরি চিত্ত। ঐপদতলে রচিলে ঘর - বিপদে স্তু উরিব না। o झलिएश ठत ठाङब्रु दत्र মরণে প্রভু মরিব না । চেতনালাভে বেদন যাবে, অমৃত্তে হব সিক্ত। দাৰ্জিলিং সেদিন চমৎকার রৌদ্রীপ্ত ছিল। ঘরের জানাল খুলিয়া দিয়া স্বনীল সুবিস্তৃত পৰ্ব্বতত্তরঙ্গমালার শিরোভাগে চিরস্থির শুভ ফেনপুঞ্জের শোভা দেখিতে লাগিলেন। অনেকক্ষণ পৰ্য্যন্ত সেখানে বসিয়া থাকিবরি পর আবার বোনাঞ্জির কথা মনে ভাবিলেন, “আমাকে ত কেহ জোর করিয়া বেনজিকে সমৰ্পণ করবে না, অৰ আমি উহার সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করিব কেন " ঘড়িতে তখন টং টং করিয়া তিনটা বাজিয়া গেল। কুশল ঘরের জানাল - বন্ধ করিয়া মাত্র-সন্ধানে গেলেন । - বসিবার ঘরে প্রবেশ করিয়াই দেখিলেন, সকলে সেখানে বসিয়া ডাক পড়িতেছেন ; এবং টেবিলের উপর অনেক প্যাকেট এবং চিঠি। তিনি পহছিৰাধাত্র নরেন বলিয়া । উঠিল, "দিদি, তোমার নামে বই এসেছে, চিঠি এসেছে " হণল চিঠি পণ্ডিয়া একটা প্যাকেট খুলিতে খুলিতে বললেন, “বাবা, পণ্ডিতমশাই আমাকে বিষ্ণুপুরাণ পাঠিয়ে দিয়েছেন। মাকে রাধারণ শোনান প্রায় শেষ হয়ে এল. লিখেছিলেম কি না; তাই বিষ্ণুপুরাণ পাঠিয়েছেন।” গ্রন্থখানির সর্ব পরিচয়ের সময়ে,সঙ্গে না শ্ৰেয়ঃ মনে করিয়া | স্থূলবুদ্ধির জন্য একখানা ভেঁাতা ছুরি বাহিয় করিলেন। পেশ সমজদার নরেন, আগ্রহের সঙ্গে বইখানি খোলার প্রতি - اكسس