পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


3b་ ཅི་རྫོང་། - কালে অংসুমাজের আচার ব্যবহার অতিশয় কলুষিত <ছিল। নবরক্তপাত ও পরস্ব লুণ্ঠনই আরবগণের জীবনের প্রধান উদেশ্ব ছিল। পৃথিবীতে আরব জাতিই সৰ্ব্বাপেক্ষ উগ্ৰস্বভাব ছিল ; তাহদের প্রকৃতি আরবের প্রখর স্বৰ্য্য কিরণের মতই জ্বালামী ছিল। মোহাম্মদ ইসলামধৰ্ম্ম প্রচার করিতে আরম্ভ করিলে আরবগণ তাছার প্রতি খড়গ হস্ত হয়। কিন্তু তিনি অপূৰ্ব্ব সাধনাবলে ক্রমে ক্রমে বিচ্ছিন্ন আরবগণকে ঐক্যস্থত্রে বন্ধন করিয়া উচ্ছম্বল সমাজে শান্তি ও সংযম অনিয়ন করিতে সমর্থ হন। মোহাম্মদের তিরোভাবের পর তদীয় উত্তরাধিকারিগণ পররাজা জয়ে প্রবৃত্ত হন। যুদ্ধকালে পাশ্ববর্তী রাজ্যসমূহের দৌৰ্ব্বল্য প্রকাশ পার ; এবং সহজেই ফলশন্তপূর্ণ কতিপর দেশ তীর্থদের অধিকারভুক্ত হয়। ইহাতে আরবগণের কথ পরস্বলোলুপতা জাগ্রত হইয়া উঠে, এবং তাছার অসিহস্তে বিপুল ভূভাগের সর্বত্র ধাবিত হয়। তাহদের পদস্পর্শে বহুসংখ্যক সমৃদ্ধদেশ স্মশানভূমির আকার ধারণ করে, তাহাদের অসিসঞ্চালনে নিৰ্দ্দোষ নরনারীর রক্তস্রোত প্রবাহিত হয়, তাহদের নিষ্ঠুর নিপীড়নে লক্ষ লক্ষ গৃহে হাহাকার ধ্বনি উঠে। ফলতঃ ধৰ্ম্মোৎসাহের পরিবর্তে ধনমানের বাসন আরবগণের হৃদর অধিকার করিয়াছিল। তাহার এই বাসনার পরিতৃপ্তির জন্ত ইসলাম সাম্রাজ্যের ঐক্যস্বত্র ছিন্ন করে, এবং অকুষ্ঠিত চিত্ত্বে ষড়যন্থ, বিশ্বাসঘাতকতা ও স্বজাতির রক্তপাতে নিরত হয়। আলব জাতির এই পলরাঞ্জাছরণ নীতির জঙ্গ আর একটা কুফল ফলিয়াছিল। আরবগণ সাতিশয় মিতাচারী ও অবিলাসী ছিল। বহুসংখ্যক সমৃদ্ধ দেশ অধিকৃত হওয়াতে তাহারা অপরিমিত ধনরত্ন লাভ করে। এই সময় তাঙ্গর পারঙ্গীক প্রভৃতি বিলাসময় ও আরামপ্রিয় জাতির সংস্পর্শে আসিয়াছিল। ইহার ফলে বিলাসিত ও আড়ম্বন্ধপ্রিয়তা ধীরে ধীরে মোসলমান সমাজে প্রবেশলাভ করে। বিলাসবাসনে লিপ্ত হইগেই যে, জাতীয় অধঃপতন উপস্থিত হয়, তাহা তীক্ষদণ ওমরের অপরিজ্ঞাত ছিল না। এই কারণে তিনি আরবসমাজে যাহাতে বিলাসিত লব্ধপ্রবিষ্ট হইতে মা পারে, তম্ভস্থ সৰ্ব্বণী যত্নশীল ছিলেন। পারতের শাসন কৰ্ত্ত সাদে কুফানগরে এক সৌষ্ঠবশালী প্রাসাদ নিন্মাণ প্রবাসা । [ ৫ম ভাগ । করিয়া তাহ বহুমুল উপকরণে সজ্জিত কবেন। অজুয় কালেষ্ট সর্বপ্রকার বিলাসত উন্মলিত করা আবশ্বক বিবেচনা করিয়া ওমর এই নবনিৰ্ম্মিত প্রাসাদ অগ্নিসাং করিবার ছন্ত আদেশ করেন । এই আদেশ প্রতিপালিত ইষ্টয়ছিল। এই আদেশ-লিপির একাংশে ফুৰিত ছিল, "ছানিও, খুসর'র বংশীয় অধিপতিগণ রাজপ্রাসাদ ভট্টতে মৃত্যুলোকে গমন করিয়াছে, আর মোহাম্মদ দরিদ্রাবাস ইষ্টতে স্বৰ্গে আরোহণ করিয়াছেন।” ওমর কাছাকেও বিগালোমুখ দেখিলে প্তাহাকে এইরূপ কঠোর ইত্ত্বে নিবৃত্ত করিতেন। তিনি বলতেন, “পারসীকজাতি স্বলভ বিলাসিত যাহাঁতে মোসলমান সমাজের আহার বিহারে প্রবেশ করিতে না পারে, তজ্জন্ত সতর্ক থাকিও। তোমাদের দেশের মিতাচাল পরিত্যাগ করিও না, ঈশ্বর তোমাদিগকে বিজয়ী রাখিবেন। যদি উচ্চ পরিত্যাগ কর তবে তোমাদের সৌভাগাচক্র নিম্নগামী হইবে।” বস্তুত, আরব জাতির মিতাচারিত ও ভজনিত কষ্টসহিষ্ণুতা তাদৃশ অল্পকাল মধ্যে হবিশাল ইসলাম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অন্ততম কারণ ছিল । , প্রথম যুগের খলিফাগণের অপক্ষপাতিত ও হারবিচার এই ইসলাম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার অন্ত একট কারণ বলিয়া নির্দেশ করা যাইতে পারে। ওমর অপক্ষপাতে ইসলাম সাম্রাজ্যের শাসনদণ্ড পরিচালনা করিতেন। তিনি দ্যায়নিষ্ঠ ও সদ্বিচারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাহার কীপ্তিগাথায় ইতিহাসের পৃষ্ঠা অলঙ্কত রহিয়াছে। কোন সময়ে কতিপয় পৃষ্ঠান রাজকর পরিশোধ কবিতে অসমর্থ হওয়াতে মোসলমান রাজকৰ্ম্মচারিগণ তাহাদিগকে প্রখর রৌদ্রে দণ্ডায়মান করিয়া রাখিয়াছিল। দৈবক্রমে তাছার ওমরের দৃষ্টিপথে পতিত হয়। তিনি তাছাদের অবস্থা অনুসন্ধান করিয়া অবগত হন যে, তাহারা বাস্তবিকই কপর্দকশূন্ত, রাজকর পরিশোধ করিবার সামথ তাহদের নাই। এই কারণ তিনি তাহাদিগকে মুক্তিদান করিতে আদেশ করেন, - এবং উৎপীড়ক কৰ্ম্মচারাদিগকে সঙ্গোধন করিয়া বলেন, “যে যাহা দিতে পারে, তাঙ্গকে তাছা অপেক্ষ অধিক দিতে যাধা করিও না। কারণ আমি প্রেরিত পুরুষকে বলিতে শুনিয়াছি যে, যে ব্যক্তি ইহলোকে মন্থয্যের প্রতি দৌরাত্মা

so ! ss. t +-- ২য় সংখ্যা । ] করে, সে পরলোকে জগন্নামের আগুনে দগ্ধ হয়।” সুরাপান ইসলামশাস্ত্ৰবিরুদ্ধ। কেহ কুরাপান কৰিলে, তাহার পদতলে বিংশতি বাব বেয়াঘাত করিবার ব্যবস্থা আছে। একবার ওমরের জনৈক পুত্র শাস্তবিধি উন্নক্তন করিয়া মদ্যপান করেন । ওমরেয় আদেশে তাঙ্গার পদতলে বিংশতিলায় বেত্ৰাঘাত করা হয় । ফলতঃ, ওমর অপক্ষপাতে দ্যায়বিচার করিতেন । এষ্ট দ্যাল্পবিচার করিয়াই ঠাংকে জীবন দিতে হইয়াছিল। একজন দুৰ্ব্বত্ত তাঙ্গার ছায়বিচারে অসন্তুষ্ট হইয় তাহাকে হত্যা করে। এই নরহস্তার নাম ফিরোজ। ফিরোজ মদিনাবাসী এক ব্যক্তির ক্রীতদাস ছিল। তদীয় প্রভু তাহার পরিশ্রমলব্ধ অর্থ হইতে প্রত্যহ দুইটা করিয়া রৌপ্যমুদ্র গ্রহণ করিতেন। ফিরোজ প্রভুর বিরুদ্ধে ওমরের নিকট অভিযোগ উপস্থিত করে। ওমর সমস্ত অনুসন্ধান করিয়া ফিবোজের প্রতিকূলে নিষ্পত্তি করেন । এই বিচারে ফিরোজ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়। কতিপয় দিবস অন্তে একদিন প্রাতঃকালীন উপাসনার সময় ফিরোজ হঠাৎ মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া ওমরকে তীক্ষযায় ছুরিকা দ্বার বারম্বার আঘাত করে। তিনি তদবস্থাতেই উপাসনার কার্যা শেষ করেন। উপাসনান্তে ওমর গৃহে নীত হয়েন। তাঙ্গার অবস্থ৷ ক্রমশঃ শোচনীয় হইয় উঠে । তখন বিশিষ্ট মোসলমানগণ র্তাহাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করিতে অনুরোদ করেন। তিনি উত্তরে বলেন, “স্বয়ং প্রেরিতৃ পুরুষ যাহা করেন নাই, আমি তাহা করিতে পারিব না।” তীয় বন্ধুগণ এইবাক্যে নিরস্ত ন হই বলেন, “আপনি পুত্র আবদুল্লাকে নেতৃত্ব পদে অভিষিক্ত করুন, আমরা তাঙ্কার বহুত স্বীকার করিব।” ওমর উত্তর করেন, “ওমর হইতেই ওমর পরিবার বথেষ্ট সন্মানগাভ করিয়াছে, আর প্রয়োজন নাই।” অত:পর তিনি উত্তরাধিকারী মনোনয়নের ভার আলী, *সাদ, তালছ, জোবার ও আবদোর রহমানের হস্তে অর্পণ করেন, এবং ভাবী উত্তরাধিকারীকে লক্ষ্য করিয়া নিম্নলিখিত বাক্যগুলি বলেন, “মদিনাবাসিগণ সঙ্কটকালে ইসলাম ও মোসলমানকে আশ্রয়প্রদান করিয়াছেন। ইহাদের প্রতি সৰ্ব্বদা সদয় পাকিবেন। তাহীদের সদগুণবাজির যথোচিত - খোলফায় রাশেদিন । ૧૩૪ - প্রশংসা করিবেন, তাহার কোন বিষয়ে ఖాశ অনেক পরিমাণে ক্ষমাশীল হইবেন । আরবগণের সঠিত সঙ্গ্যবহার করিবেন, ইহারাষ্ট ইসলামের অস্থি মজ্ঞ। তাহাদের নিকট হইতে যে রাজকর সংগৃহীত হইবে, তাহ দরিদ্রের দুঃখমোচন জন্ত ব্যয় করিবেন। পয়গম্বর ইহুদি ও পৃষ্ঠানদিগকে যে সকল অধিকার প্রদান করিয়াছেন, তাঙ্গ হইতে তাঙ্গদিগকে বঞ্চিত করিবেন না। আমার জীবনযাত্রা পূর্ণ হইয়াছে, আপনার জন্য সুগঠিত শাস্তিপূর্ণ সাম্রাজ্য রাপিয়া যাষ্টতেছি। ঈশ্বর ধষ্ট !" এই উপদেশ প্রদানের জবাবষ্ঠিত - পরেই ওমরের জীবনদীপ নিৰ্ব্বাপিত হয়। আপামরসাধারণ সকলেই সৰ্ব্ব গুণালঙ্কত খলিফার অপঘাতে শোকে অভিভূত হয় । ওমর মিতভাষী ও অনলস ছিলেন । তিনি বলিতেন, “চারিট জিনিস একবার গেলে আর কিল্পিয়া পাওয়া যায় না, যথা—উচ্চারিত বাক্য, পরিত্যক্ত শর, গত জীবন এবং উপেক্ষিত স্থনোগ।” সৰ্ব্বজীবে ওমরের দয়া ছিল। একদা ওমর মৎস্ত আহার করিতে অভিলাষ করেন । জারফা নামক একজন পরিচারক চারি মাইল দূরবর্তী স্থানে গমন পূৰ্ব্বক মৎস্ত ক্রয় করিয়া লইয়া আইসে। জারক্ষা স্বভবনে পহুছিয়া উষ্ট্রের গাত্রমার্জন করে, এবঃ তার পর মৎস্ত সহ ওমরের নিকট উপনীত হয়। ওমর বলেন, “উষ্ট্রের কি দশ হইয়াছে, তাহু অগ্ৰে দেধিয়া আসি।” তিনি উষ্ট্রের নিকট গমন করিয়া দেপিতে পান যে, উহার একট কাণের নীচের ঘাম মুচিয়া ফেলিতে ভুল হইয়াছে । তখন তিনি বলেন, “ওমরের রসন পরিতৃপ্ত করিবার স্থত একট পশুকে কষ্ট দেওয়া হইয়াছে। আমি এমৎস্ত স্পর্শ করিব না।” আমরা আর একটী কৌতুকাবহ ঘটনার উল্লেখ করিতেছি। একদা ওমর কাণে ধরিয়া একটা অশ্ব লইয়া যাইতেছিলেন, এই সময় তাহার অপর হস্ত নিজের কাণে সংলগ্ন ছিল । ওমর সকলেল্পষ্ট সুখ দুঃখ বুঝিতে পারিতেন ; একবার তিনি একজন বিরহক্লিষ্ট সৈনিক-রমণীকে বিলাপ করিতে শ্ৰবণ করেন। তাহার বিলাপে তিনি বাথিতচিত্ত হইয় তাহার পতিকে সমরক্ষেত্র হইতে আনয়ন করিবার জন্য দূত প্রেরণ করেন। তিনি নিজের ক্রট সংশোধন জন্ত সৰ্ব্বদা তৎপর ছিলেন। কেহ তাঙ্গার ত্রটি প্রদর্শন করিলে তিনি অতিশয় সন্তুষ্ট হইতেন। তিনি বলিতেন, “যিনি আমার ফ্রট প্রদর্শন