পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>:RSు প্রবাসী । নিবেশ করিত , এবং সেই সকলেব নিৰ্ব্বাহ বিষয়ে যথাসাধ্য পরস্পরের সাহায্য করিত। বস্ত হইয়া গ্ৰাম ভাসিয়া যায়, গ্রামবাসিগণ একত্র হইল, পরামর্শ করিয়া কেহ বা থাটিয়া দিল, কেহ যা অর্থসাহায্য করিল—সকলে মিলিয়া ও মরক্ষার একটা উপায় নিৰ্দ্ধারণ করিল ; গ্রামে হিংস্ৰ জঙ্গর ভয় উপস্থিত, তাহারা সকলে একত্র হইয়া তাহা নিবারণের একটা উপায় নিৰ্দ্ধারণ করিল ; রাজকোষে অর্থ প্রেরণের প্রয়োজন, মোড়লের আহবানে সকলে একত্র হইয়া _পরামর্শনস্ত প্রত্যেকে যথাসাধ্য কর দিয়া সে দায় উদ্ধার করিল -থামে দুই পরিবারে ঘোর বিবাদ উপস্থিত, বা অপর কোনও সামাজিক প্রশ্ন উপস্থিত, গ্রামদাসিগণ পঞ্চায়েতের দ্বারা তাহার নিম্পত্তি করিয়া লইল। এইরূপে পলার্থচিন্তার জন্ত আহত হওয়াতে গ্রামবাসী জনসাধারণের চিত্তে পরার্থ-প্রবৃত্তি প্রবল ইষ্টত ; দায়িত্ব-জ্ঞানা-জনিত এক প্রকার উদার স্থায়পরতার উদ্রেক করিত ; তাছার ইহ ভাবিতে অভ্যস্ত হইত যে, জনসমাজে স্বৰ্থে বাস করিতে হইলে স্বার্থের স্থায় পবার্থেও মনোনিবেশ করিতে হয়। এরূপ শিক্ষার স্থায় সামাজিক শিক্ষা আর হইতে পারে না । ইহাই জনসমাজের মূল ভিত্তি। এই সৰ্ত্তেষ্ট জনসমাজের প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল ; এবং এই সৰ্বই প্রাচীনকালের প্রত্যেক সামাজিক ব্যবস্থাকর্তার মনে প্রবল ছিল। “ভূমি যদি আত্মরক্ষার জন্ত, নিজের স্বগ সুবিধার জন্ত, সমাজের আশ্রয় চাও, এবং অপয়ের সাহায্যের অপেক্ষা কর, তবে অপরকে যাহায্য করিবার জষ্ঠ প্রস্তুত থাক,”—মূল ভাব এট। কিন্তু বৰ্ত্তমান সভ্যতার এই একটা শোচনীয় ভাব দেখা যাইতেছে যে, ইহাতে মল্লযুকে আত্মস্থথে স্নগী করিতেছে । আমার প্রতিবেশীর সুখ দুঃখ আমার চিন্তনীয় বিষয় নহে, এই ভাব অতিরিক্ত মাত্রাতে যাওয়াতে মাচুব পরার্থচিন্তাবিমুখ হইয়া পড়িতেছে । যাকু ইগ বাহিরের কথা। আমরা বর্তমান বিদেশীয় অধিকারকে যে জাতীয় ক্ষুদ্রাশয়তার উৎপাদক কারণ বলিয়াছি তাহার কারণ এষ্ট,–বর্তমান রাঞ্জাব কি দেশের বুদ্ধিধিষ্ঠাসম্পন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদিগকে, কি গ্রামের প্রজাসাপানীকে. সকলকেই পয়ার্থচিন্তা ও দায়িত্বজ্ঞানের উপযোগী কাৰ্য্য হইতে এক প্রকাল বঞ্চিত বাখিতেছেন । কোথার ঠাঙ্গর শিক্ষ [ ৫ম ভাগ । বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এদেশবাসীদিগকে স্বদেশশাসন বিষয়ে উন্নত ও দায়িত্বপূর্ণ কার্য দিলেন, তাহ না করিয়া বরং ঠাঙ্গদের রাজনীতির গতি উন্নত পদ্ধ হইতে এদেশীয়দিগকে দূরে বাথিবীর দিকেই দেখিতেছি । ওদিকে গাম্য শাসনপ্রণালী দেশমধ্যে ধাঙ্গ কিছু ছিল তাহা তাহারা অনেক স্থলে ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছেন । এক্ষণে যদিও কোনও কোনও স্থলে গ্রাম মিউনিসিপালিট ও পঞ্চায়েৎ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠিত করিবার চেষ্টা করিতেছেন বটে, কিন্তু প্ৰজাগণকে প্রয়ভ শক্তি দিতে না পারাতে ভাঙ্গা জিনিষ আর ভাল করির গড়িতেছে না। ইহার কল এই হইতেছে যে, দেশের ক্ষুদ্র ও মহৎ সকল লোকের মনে এই ভাব দৃঢ় নিবদ্ধ হইতেছে যে, এই বিদেশীয় বাজোর স্বযোগে আমরা যে যা করিয়া লইতে পারি করিয়া লইতে হইবে ; অর্থাৎ স্বার্থসাধন করাই এই সুযোগের প্রকৃত সদ্ব্যবহার । এইরূপে স্বীর্থই মানুষের ধ্যানে জ্ঞালে প্রযেশ করিতেছে ! স্বাৰ্থ চিন্তাই মানুষের অধিকাংশ সময়, ও অধিকাংশ মানসিক শক্তিকে অধিকার করিতেছে । ষ্টতার মধ্যে যে কতিপয় ব্যক্তি দেশবাসিগুশেল মনে স্বদেশ-প্রিয়ত৷ জাগাইবার চেষ্টা করিতেছেন, তাহাদের হস্তে কি কঠিন কাৰ্য্যের ভারই পড়িয়াছে ! স্বদেশের কল্যাশ কিসে হয়, এ প্রশ্নের প্রতি কে প্রণিধান করে । ঐ যে কলিকাতায় বড়বাজারে সহস্ৰ সহস্র মাড়োয়ারি কিনিতেছে বেচিতেছে, উহাদের কয়জন ভাবে স্বদেশের কল্যাণ কিসে হয় ? রেলযোগে কলিকাতা হইতে সিদ্ধ দেশ পৰ্য্যন্ত যাত্রা কবৃ, তৃতীয় শ্রেণীর গাড়িতে যাত্রা করিলে ত কথাই নাই, ভদ্র ময্যবিত্ত-সেবিত মধাম শ্রেণীর গাড়িতে যাও, চব্বিশ ঘণ্ট আরোহীদিগেয় কথাবাৰ্ত্তার প্রতি মনোযোগ রাখ, কি শুনিলে ? দেশেয় কল্যাণ কিসে হয় এ চিন্তা কতবাব দেখিবে ? তাহদের অধিকাংশ লোক দেশের কল্যাণের কোনও যায় ধাবে না। ক্ষুদ্র চিন্তা, ক্ষুদ্র কথা অবিশ্বাস্ত লোতে বহিতেছে। তাহদের আদর্শ পুরুব কংগ্রেসের নেতৃগণ । মহেন ; কিন্তু অমুক গ্রামেয় অমুক ধনী, যিনি চুরি চামারি, জাল, জুয়াচুরি করিয়া বিপুল ধল সংগ্ৰহ কলিয়াছেন । আবার বলি এই জাতীয় ক্ষুদ্রাশয়তার অপেক্ষা জাতীয় পণাধীনতায় অধিক অনিষ্ট ফল আর কিছু দেখিতেছি না। ৩য় সংখ্যা । ] - দ্বিতীয় অনিষ্ট কলজাতীয় ইন-চিন্থত । প্রবল বিদেশায়ের গছিত প্রতিদ্বন্দিতাতে আপনাকে আপনিহারাষ্টয় ফেলার মত দুৰ্গতি আর হইতে পারে না। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মুখে ষ্টুড়িাইয়া বলিতেছে,-“তুই কিছুই নহি, তোল দ্বারা কিছুষ্ট হইতে পারে না, আমার অনুগ্রহ প্রার্থী হওয়াই তোর জীবন ধারণের উপায়”—শুনিয়া আমার মনও যদি বলে, "তাই ত আমি ত কিছুই নষ্ট, আমার দ্বারা ত কিছুষ্ট হইতে পারে না”—তাহা হইলে আমার আর উপায় নাই! আমি ইন থাকিবারই উপযুক্ত। বাক্তিগত আত্মাদলের ছায় জাতীয় আত্মাদর জাতীয় মহন্ত্রের নিদান। যে মানুষ আপনার শক্তিকে আপনি আদর করে না, সে স্বভাবতঃই নীচ হুইয়া পড়ে। একটা কথা এদেশে সাধারণ লোকের মধ্যে প্রচলিত আছে—“হাতীর চোক ছোট বলে সে আপনাকে আপনি দেখে না, আপনাকে আপনি জানে না, এই জন্যই সে মায়ষের তাতে এত সহজে কালু হয়।” হাতীর পক্ষে ইহা সতা কি না বলিতে পারি না। তবে একথা যথার্থ যে, যে ব্যক্তি আপনার শক্তির পরিচয় আপনি পায় নাই, আপনার প্রতি ধীর সাহস নাই, সে আপনাকে আপনি বড় করিতে পারে না। বিদেশরদিগের সহিত প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিবন্ধন যে আমাদের শিল্প বাণিজ্যাদি নষ্ট হইয়া যাইতেছে, প্রজাকুল বুকতাড়িত মেষগুথের স্থায় দিশহারা হইয়া পড়িতেছে এখন সে কথা বলিতেছি না। আয় ৪ গুঢ়তর স্থানে জাতীয় আত্মাদরের অভাব প্রবিষ্ট হইয়া দে জাতীয় ইনচিত্তত আনিয়া দিতেছে ও তৎসঙ্গে সঙ্গে যে জাতীয় অবনতি ঘটাইতেছে তাহার প্রতি স্বদেশবাদিগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি। সেটা এই—আমরা যেন চিন্তার জগতেওঁ বিদেশীয়দিগের সমক্ষে সোঁজ হইয় দাড়াইতে পারিতেছি না। উহারা আমাদিগকে বলিয়া দিয়াছেন—“থাম । থাম! তোমাদের দ্বারা বড় বা ভাল কিছু হটতে পারে না ; তোমরা বৰ্ব্বর ও চিন্তাশক্তিহীন জাতি ; বিজ্ঞান দর্শন ধৰ্ম্মনীতি প্রভৃতি বিষয়ে এক সময়ে তোমরা বাহা কিছু করিয়াছ তাহা কিছুই নহে ; এখনও ও সকল সম্বন্ধে তোমরা যে বেশ কিছু করিবে তার আশা নাই, তোমরা সৰ্ব্বথা আমদের অনুবন্ত্রী হও ; আমাদের চরণে বসিয়া স্থান বিজ্ঞান - .میسیم اسلامی است - স্বদেশী ধূয় ৷ ১২৭ ধৰ্ম্ম প্রভূতি শিক্ষা কর।” এই কথা শুনিয়া আমরাও মনে করেস্িেছ আমাদের দ্বারা জ্ঞান, বিজ্ঞান, ধৰ্ম্মাদি সম্বন্ধে ভাল বা বড় কিছু হয় লাই এবং হইতে পারে না : ধৰ্ম্মাদি বিষয়েও আমাদিগকে পাশ্চাত্য জগতের চরণে বসিতে হুইবে-এইটাই আমাদের জাতীয় হীন-চিত্ততা । এইটাই এই বিদেশীয় অধিকারের দ্বিতীয় গুরুতর অনিষ্ট ফল । বিদেশায় প্রতিদ্বন্দ্বিত আমাদিগকে যেন সামলাষ্টতে দিতেছে না। যেন আমরা নিঃশ্বাস মেলিবার সময় পাইতেছি না? একটু নিলিবিলি ইয়া বসিয়া যে একটা কিছু ভাবিব তাহার যেন - সময় পাইতেছি না । আমাদের চিস্তাক্ষেত্রে প্রতিদিন লন্ডন নুতন বিষয় আসিয়া আমাদের চিত্তকে বহির্মুখ করিতেছে ; আমরা নিবিষ্টচিত্তে জ্ঞালের অনুসরণ করিতে পারভেড়ি ল। একান্ত মনে আত্মা ও পরমাত্মার চিস্তাতে রত হইতে পারিতেছি না। হায়! আমরা জাতীয় আহ্বাদর হারাইয়া ফেলিতেছি । এই জাতীয় আত্মাদর কিরূপে থাকে । আমরা কিছু হইতে পারি, আমরা কিছু করিতে পারি—এই জ্ঞান কিরূপে আসে - এস্থলে একটি গুরুতর বিষয় বিবেচা আছে। ব্যক্তিগত আত্মাদরের মূলে দেখিতে পাই, অতীতের উপরে সর্বদা নির্ভর থাকে। যে ব্যক্তি একটা কিছু কলিয়াছে—সে আর একটা কিছু করিতেসাহস পায়। বিদ্যাসাগর মহাশয় | ঘোর দারিদ্রোর মধ্যে জন্মিয় পুরুষকারের গুণে উচ্চ পদে আরোহণ করিয়াছিলেন, এই জন্তই তিনি বলিতে পারিয়াছিলেন–“ারিদ্র্যকে ডরাই না, আমার পথ আমি খুলিয়া লইৰ ।” তেমনি মানুষ নিজ শক্তির পরিচয় আগ্রে লা পাইলে সে শক্তির উপরে জোয় করিয়া দাড়াইতে পাবে না। অতএব বর্তমান আত্মাদর অতীত মতত্ত্বের উপরে দণ্ডায়মান থাকে । অতএব এ যেশে জাতীয় আত্মদের বঙ্কিত করিতে হইলে, এ দেশীয় অতীত মহকুকে জাতীয় স্মৃতিতে উদ্দীপ্ত করিতে দুইৰে : আমরা এক সময়ে কিছু করিয়াছি এই জ্ঞানকে স্বাড়াইতে হইবে। আমাদের প্রাচীন গৌরব যাহা কিছু সাড়ে তাহাকে বিদেশীয়গণ যে ভাবে নামাষ্টয় দিতে চাচিতেছেন সে ভাবে নামষ্টিয়া দিতে দেওয়া হইবে না । তাহাকে তুলিয়া ধরিতে হইবে । কিন্তু তাহা করিতে গিয়া আর এক বিপদকে পরিহার