পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২৮ করিতে হইবে। সে বিপদ এই–পরপদদলিত জাতির অনেক সময়ে একদিকে আঘাত পাইয়া অপৰদিকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঝুঁকিয় পড়ে। বর্তমানকে অন্ধকারময় ও নৈরাপ্তপুর্ণ দেখিয়া অতীতকে অতিরিক্ত মাত্রাতে আশ্রয় কয়ে । আমাদের যাহা কিছু ছিল ভাল ছিল, তাহার মত আব হইতে পারে না, আমাদেয় দ্যায় কোন জাতি প্রতিষ্ঠালাভ করিয়াছে ? আমরা কি না করিয়াছি । ধিজ্ঞান দর্শনে, ধৰ্ম্ম কৰ্ম্মে আমাদের মত প্রাচানে কোন জাতি হইয়াছে ইত্যাদি ইত্যাদি। পরে “আমরা অনেক কায়াছ” এই জ্ঞান হইতে “আমাদের করিখার কিছু নাই”, এই জ্ঞানে স্খলিত হইয় পড় অতি সহজ। তাহ হইলেই মাচুর্য সৰ্ব্ববিধ উন্নতি-বিমুখ হইয় পড়ে । তাঁহা হইলে আয় জাতীয় উন্নতিৰ আশা থাকে না । অতীতের প্রতি আস্থা ভাল—কিন্তু অতীত-পূজা ভাল নহে। ফ্রান্স, জৰ্ম্মানি, যুক্ত-রাজ্য প্রভৃতি পাশ্চাতা জাতি সকল, এমন কি প্রাচ্য জাপান পর্য্যন্ত, কোনও উন্নতিশীল জাতি স্বীয় স্বীয় অতীতের প্রতি আস্থাহীন নহে ; কিন্তু সে আস্থা তাহাদিগকে অপর জাতিদিগের তাল বিযয় লইতে বিমুখ করে নাই। অপর দিকে চীন ও ভারতবর্ষে অতিরিক্ত মাত্রাতে অতীত-পূজা থাকাতে ইহারা অপব জাতি সকলের নিকট হইতে ভাল বিষয় কিছু লষ্টতে পাবিলেছেন না ; সৰ্ব্ববিধ উন্নতির প্রতি বিমুখ হইস রহিয়াছেন। বলিতে গেলে এই দুই দেশে অতীত-পূজার প্রতি অধিক ঝোক না দিয়া, বর্তমান ও ভাবী উন্নতির প্রতি অধিক ঝোক দিলে ভাল হয়। কিন্তু কেহ হয় ত প্রশ্ন করিবেন, অতীতের প্রতি আস্থা হইতে অতীত-পুঞ্জার পার্থক্য কোপায় । উত্তর-অতীতের প্রতি আস্থা বখন এরূপ উৎকট কোটতে যায়, যে তাহা বর্তমান উন্নতিয় পথ রোধ করে, এবং মানবের চিন্তাশক্তিকে থৰ্ব্ব করে, তখন ভাগ অতীত-পুঞ্জাতে দাড়ায় । মন্নিষ যখন অতিরিক্ত মাত্রাতে অতীতের দোহাই দেয় তখন বোঝা যায় দে, সে স্বাধীনচিন্তার শক্তি হারাইয়াছে। তাই বলিয়াছি অতীত-পূজা তাই নহে, অতীতের প্রতি আস্থা ভাল। প্রথম প্রথম ইংরাঞ্জী শিক্ষা এদেশ দিগকে স্বজাতির অতীতের প্রতি অতিরিক্ত মাত্রাতৃে প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । আস্থাহীন কবিরাছিল। কিছুদিন হইতে তাহারই প্রতিক্রিয় চলিতছে । মার্কিন সাধু এমারস একস্থানে বলিয়াছেন“গতা এমন জিনিস যে যদি তুমি অসাবধানত বশতঃ তাহা পথে ফেলিয়া যাও, তোমাকে পিছাটয় কুড়াইয়া লইতে আসিতেই হইবে।” বৰ্ত্তমান শিক্ষিত দলের চিত্তে যেন তাহাই - দেখিতেছি। তাছাদের অগ্রগামী ব্যক্তিগণ এক সময়ে অসাবধানত বশতঃ যাহা পথে ফেলিয়া গিয়াছিলেন, তাহাই । তাহারা পিছাইযা কুড়াইয়া লইতে আসিতেছেন। বাহী হউক, এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার আলোচনাতে খাব অধিক সময় না দিয়া প্রকৃত বিষয়ের অনুসরণ করি। আমরা প্রবল প্রতিপক্ষগণের সমক্ষে চিন্তারাজ্যে স্বাধীন ভাবে দাড়াইতে পারি—এই জ্ঞানটা স্বদেশানদিগের মনে বঙ্কিত কয় আবখ্যক হঠয়াছে। ইহা কবিতে গেলেই লেখা যাইবে বিদেশীয়দিগকে ভুলিয়া গিয়া আমাকের কি করিযায় আছে, আমাদের দ্বারা কতদূর হইতে পারে, সেই বিষয়ে মনোনিবেশ করা উচিত। স্বামলা কিছু করিব, আমরা কিছু কবিব, এরূপ একটা ধূয়া তুলিয়া দিতে পারলেও ভাল হয়। শিল্পশিক্ষার জন্ত এদেশীয় যুবকদিগকে জাপান প্রভূতি দেশে পাঠাইবার যে চেষ্ট হইতেছে, ভাহা এইরূপ একটা ধূয়া তুলিবার পক্ষে অনেক সহায়তা করবে। রবি বাবু “স্বদেশী সমাজ, স্বদেশ সমাজ" বলিয়া যে আন্দোলন তুলিয়াছেন, তাহাও এইরূপ একটা ধূ তুলিবার পক্ষে বিশেষ সহায় বলিয়া মনে করি। কিন্তু এই আন্দোলনের মধ্যে একটী বিযয় দেখিয়া কিছু ক্ষুঃ হুইতেছি । ইহারা অকারণ কংগ্রেস পক্ষীয়দিগের সহিত বিয়োগ উৎপন্ন করিতেছেন। যেন স্বাধীনভাবে স্বদেশ্যে উন্নতিসাধনের চেষ্টা ও কংগ্রেসেল আন্দোলন ইহার মধ্যে কোনও বিষাদ আছে । আমি ত ইহায় মধ্যে কোনও 1লবাগ দেখিতে পাষ্ট না । কংগ্রেস রাজদ্বাপে আঘাত করিয়া যে স্বদেশের স্বস্ত বিশেষ কোনও অধিকারলাত করিতে পারিবেন তাহাব অধিক আশা নাই। আর তাহ না করতে যে ভগ্নহৃদয় বা নিরাশ হইতে হইবে তাহাও মহে। কংগ্রেস তিনটী মহা কার্য সাধন কয়িতেছেন, তাহা কেছ অঙ্গীকার করিতে পারেন না ; এবং সে জন্য কংগ্রেসের প্রয়োজনীয়তা আছে। ৩য় সংখ্যা । ] প্রথম, দেশবাসিদিগকে আপনাদের বর্তমান বাজনীতিত্তে মনোযোগী করা, এবং বর্তমান সুখ দুঃখে অভিনিবিষ্ট করা। কংগ্রেসের আলোচ্য বিষয় সকল সংবাদপত্রের গুপ্ত দিয়া আপামর সাধারণ সকলের নিকট উপস্থিত হইতেছে, এবং সকলকেই রাজনীতির ভাল মন্দ বিচারে অভ্যস্ত করিতেছে। ইহা একটা মহোপকায় ; কাৰণ যে দেশেল অধিকাংশ লোক আপনাদেয় দেশের শাসনকাৰ্য্য ও তৎসংক্রান্ত সদসৎ বিষয়ের আলোচনাতে বিমুখ ও উদাসীন সে দেশে স্বায়ত্ব-শাসন প্রতিষ্ঠিত হইতে পারে না ; এবং হইলেও স্বফল প্রসব করে ল । দ্বিতীয় মহোপকায় কংগ্রেসের অধিবেশন ও আলোচনা দেশের লোকের মনে স্বদেশপ্রেম জাগাইতেছে। লোকে ধখন দেখিতেছে, দেশের সকল প্রদেশের ভাল ভাল লোকেলা স্বদেশেল কল্যাণোদেশে অর্থের ক্ষতি ও শ্রম স্বীকার করিয়া সকলে সমবেত হইতেছেন ; তথন স্বতঃই লোকের মনে স্বদেশানুরাগ উদ্দীপ্ত হইতেছে। ইহা কি কম উপকার ? বলিতে কি, কংগ্রেস এত বৎসল কার্য না করিলে, স্বদেশী সমাজ বলিয়া একটা কথাই উঠিতে পারিত না । কংগ্রেসের তৃতীয় কাৰ্য্যটীও সামান্ত নয়। ইহা বর্ষে বর্ষে বিভিন্ন প্রদেশের, বিভিন্ন সামাজিক অবস্তার, বিভিন্ন ধৰ্ম্মেয় বাক্তিগণকে এক স্বদেশাতুলাগস্থত্রে আবদ্ধ করিয়া একস্থলে অনিয়া উপবিষ্ট করিতেছে । তাহারা কংগ্রেস মণ্ডপে সমবেত হইয়া অতি প্রবলরূপে অনুভব করিতেছেন যে, তাহারা একদেশের লোক, ঠাহীদের স্বথ দুঃখ এক, তাহদেয় আশা ও আকাঙ্ক্ষা এক, তাহাঁদের প্রাপ্য অধিকায় এক। ইহাতে ভাবতীয় একতাপ্রবৃত্তিকে অদ্ভূতরূপে বদ্ধিত করিতেছে। আমি এই ভাবতীয় একতা সাধনকে কংগ্রেসের মহাবুল কাৰ্য্য বলিয়া মনে করি। অতএব বলি স্বদেশী সাজ যদি করিতে চাও কয়, এদেশের শক্তিতে, এদেশের চেষ্টাতে, এদেশের উপাদানে যতদূর হয় করিবার চেষ্টা কর, তাহাতে উপকার ভিন্ন অপকাল নাই। কল কথা এই যেমন করিয়া পার, "আমদের দ্বারা কি হয় দেখি", এই ধুয়াটা তুলিয়া দেও। ধূয়া ভুলিয়া দেওয়া একটা মস্ত কথা ! ইহাতে আর কিছুনা করুক স্বদেশী ধূয়া । ఇసి যদি সকল বিষয়েই পাশ্চাত্য রাজ্যের দিকে চাওয়াটা ঘুচায় তাহা হইলেও মহালাভ। এই ধুয়াটা তুলিবার জন্ত আমার একটা প্রস্তাব আছে, তাহ বলিতেছি । এই প্রস্তাবকে কার্ঘ্যে পরিণত করিবার জন্ত কাজে কিছু করা আমার শরীরের বর্তমান অবস্থাতে সাধ্যায়ত্ত নহে। ইহা দেশহিতৈষী ব্যক্তিগণের বিচারার্থ অৰ্পণ করিতেছি । প্রস্তাব । ১ম । জাতীয় সকল প্রদেশের শিক্ষিত ব্যক্তিদিগের নিৰ্ব্বাচিত প্রতিনিধি লইয়। “জাতীয় স্বাবলম্বন সভা” নামে একটা সভা স্থাপিত হউক । ২য়। প্রত্যেক প্রদেশের রাজধানীতে ইহার প্রাদেশিক শাপ সভা সকল স্থাপিত হউক । ৩য়। প্রাদেশিক শাখা সকল প্রধানতঃ ছয় বিভাগে বিভক্ত হইয়৷ কাৰ্য্য করুক। (ক) শিল্প যাণিজ্য বিভাগ। (থ) জ্ঞান বিজ্ঞান বিভাগ । (গ) সাহিত্য বিভাগ। (ঘ) রাজনীতি বিভাগ । (ঙ) সমাজ ও নীতি বিভাগ । (চ) দৈহিক বিভাণ। ৪র্থ। প্রত্যেক বিভাগে স্বদেশীয়দিগের দ্বারা যে কিছু উন্নতি সাধিত হইতে পারে, তাহার উপায় আবিষ্কার করা, তাহাতে উৎসাহ দেওয়া, ও তাঁহার ফল সংগ্রহ করা, ও সেই ফল সকলের গোচর করা ঐ সকল প্রদেশিক শাখার প্রধান কাৰ্য্য হউক । ৫ম । প্রত্যেক পাঁচ বৎসর অস্তুর বিশেষ বিশেষ নিদিষ্ট স্বালে এই স্বাবলম্বন-সভার মহামেলা করিবার নিয়ম প্রবৰ্ত্তিত হউক । তাঁহাতে বিদেশীয়দিগকে সভাপতি হইবার জন্ঠ ডাকা হইবে ল । এ দেশীয়গণই তাহার সকল কাৰ্য্য করিবেন। তাহাতে কংগ্রেসের অধিবেশন হইবে, শিল্প প্রদর্শনী থাকিবে, বিজ্ঞানাদির প্রদর্শনী থাকিবে, ব্যায়াম, কুন্তী, ক্রীড়া প্রভৃতির প্রদর্শনী থাকিবে ; এবং পুৰ্ব্ববৰ্ত্তী পাঁচ বৎসরে দেশের যে কোনও প্রদেশে স্বজাতীয়দিগের চেষ্টাতে, স্বজাতীয়দিগের যে কোন উন্নতি সাধিত হইয়াছে, তাহার বিবরণ প্রকাশ করা হইবে।