পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩৪


-l.-

দেখা গিয়াছে, স্বায়ু প্রতি সেকেওে একশত ফুট বেগে অম্বভূতিকে বহন করিয়া মস্তিষ্কে পৌছাইয়া দেয়। অর্থাৎ দুইশত ফুট লম্বা কোন বিশাল প্রাণিদেহের একপ্রান্তে আঘাত দিলে, সেই আঘাতজাত বেদন অনুভব করিতে প্রায় দুই সেকেণ্ড কাটিয়া যায়। স্নায়বিক ও মানসিক কাৰ্য্যের বেগকে আমরা এ পর্য্যস্ত দ্রুততার চরম আদর্শবলিয়া কল্পনা করিয়া অসিতেছিলাম, কিন্তু আজকাল সেই দলের বেগেরই একটা সীমা দেখিয়া অবাক ন হইয়া থাকা যায় না। সুতরা বল যাইতে পারে, মনের বেগ অত্যন্ত দ্রুত না হইয়া, অন্তত যদি বিদ্যুদবেগের অনুরূপ হইত, তাহ হইলে আমরা এখনকার কাৰ্য্যের তুলনায় ১৮০•গুণ অধিক কাজ করিতে পারিতাম। ইন্দ্রিয়ের কাৰ্য্যের আরো কতকগুলি সঙ্কীর্ণতার কথা বলিবার আছে। কিছুদিন পূৰ্ব্বে আমাদের চক্ষু ও কর্ণ খুব সুব্যবস্থিত যন্ত্র বলিয়া প্রসিদ্ধ ছিল। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানাগারের নানা স্বগ্ন যন্ত্রের সহিত তুলনা করিয়া, এখন আর কেহই উহাদিগকে সুন্দর যত্ন বলিয়া স্বীকার করিতেছেন না। আকাশের যে স্থানে আমাদেয় চক্ষু একটিও নক্ষত্র দেখিতে পার না, সেই স্থানকে লক্ষ্য করিয়া ফোটােগ্রাঙ্ক যুক্ত দূৰবীন যোজন কবিলে, তথার সহস্ৰ সহস্ৰ নক্ষত্রের অস্তিত্ব প্রকাশ হইয় পড়ে। নগ্নচক্ষু যে স্থানটিকে অতি পরিচ্ছন্ন দেখে, অনুবীক্ষণযন্ত্র সেই স্থানেই শত লত জীবাণুর অস্তিত্ব দেখাইয়া দেয়। দর্শনকায্যে আমাদের চক্ষু যে কতটা অপটু এই সকল ব্যাপারে তাহ আমরা বেশ বুঝিতে পারি। উচু নিচু স্থর অনুসারে হারযোনিয়মের পর্দাগুলিকে যেমন কতকগুলি সপ্তকে (oclave) ভাগ কব হইয়া থাকে, ঈথরের যে সকল ক্ষুদ্র বৃহৎ তরঙ্গ দ্বারা নান আলোকের উৎপত্তি হয় আমরা সেগুলিকে সেই প্রকার নয়টি সপ্তকে ভাগ করিতে পারি। হিসাবে দেথা যায়, এই নয়টি সপ্তকের মধ্যে মানুব কেবলমাত্র একটি সপ্তকের আলোক চন্থ সাহায্যে দেখিতে পায় । তবেই হইল, একটা বৃহৎ হাবমোনিয়মের উপর ও নীচেল দিকের ৫৬ খানি পর্দায় আঙুল না দিয়া, কেবল মধ্যকার সাতখালি পর্দাদ্বারা সুর বাহির করিলে, আমরা যেমন বৃহৎ হারমোনিয়মটার মর্যাদা বুঝিতে পারি না,-সেই প্রকার শত শত ক্ষুদ্র বৃহৎ - a - * প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । --- ঈথর তরঙ্গ দ্বারা আমাদের চারিদিকে যে নব নব আলোকের তুফান উঠিতেছে চক্ষু তাহাব কোন মহিমাই বুঝিতে পারে না। ফোটোগাফেব উন্নত যন্ত্র আজকাল সেই সকল অদৃশুবশিব অস্তিত্ব আমাদিগকে স্বম্পষ্ট দেখাইয়া দিতেছে। চক্ষু যেমন আলোকসাগরে ডুবিয়া থাকিয়াও অক্ষত প্রযুক্ত সকল আলোককে দেখাইতে পারে না ; সেই প্রকার কর্ণও নানা শব্দ যায়। তবঙ্গালিত বায়ুর মধ্যে থাকিয়াও সেই সকল শব্দ আদাদিগকে শুনাইতে পারে না। অন্তি ক্ষুদ্র মক্ষিকার পদক্ষেপে যে মৃদ্ধ শব্দের উৎপত্তি হয়, সাইক্রোফোন নামক যন্ত্রদ্বারা তাহ শুনিতে পাওয়া যায়, কিন্তু আমাদের নগ্নকৰ্ণ সেই শব্দের আঘাতে মোটেষ্ট সাড়া দেয় না । তাপ অনুভব ব্যাপারেও আমাদের ইন্দ্রিয়েল হীনত জানা গেছে। ছায়া হইতে রৌদ্রে গেলে যে তাপের মাত্র বৃদ্ধি পায়, তাহা আমরা বেশ বুঝিতে পারি। কিন্তু তাপের হ্রাসবৃদ্ধি অতি অল্প মাত্রায় হইতে থাকিলে, তাহ অনুভব করিবার শক্তি আমাদের কোন ইঞ্জিয়েরই নাই। র্যাহাঁদেয় স্পশওয়াল অত্যন্ত প্রবল, টাঙ্গারা এক পঞ্চমাংশ ডিঞ্জি পরিমিত উষ্ণতার হ্রাসবৃদ্ধি সহজে অনুভব করিতে পারেন। উষ্ণত এই সীমার নিয়ে গেলে, মানুষের স্পশেন্দ্রিয় তাহাতে আর সাড়া দেয় না। সম্প্রতি অধ্যাপক ল্যাঙলে যোলোমিটার (Bolometer) নামক যে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করিয়াছেন, সেটি আমাদের স্পর্শেক্রিয়কে সম্পূর্ণ পরাভব করিয়াছে। এই যন্ত্রের অনুভবশক্তি আমাদের গাত্রচন্মের শক্তি অপেক্ষা প্রায় দুষ্ট লক্ষ গুণ অধিক । এক ডিগ্রির দশম্বাক্ষ ভাগের একভাগে যে অত্যয় উষ্ণতা থাকে, তাহাও এখন্ত্রে বলা পড়ে। কিন্তু মোটে এক পঞ্চমাংশ ডিগ্রিই আমাদের স্পশেক্রিয়ের অনুভূতির চরম সীমা ! এই সকল নূতন যত্ন ব্যতীত অধ্যাপক ব্রালি BYYYB BDD BBBBBB BBBB BB BBS যে কয়েকটি স্বল্প যন্ত্ৰ নিৰ্ম্মাণ করিয়াছেন, তাহাধের কার্য দেখিলে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি যে কত স্থল তাঙ্গ অরে স্পষ্ট করিা বুঝা যায়। আধুনিক যত্ন মাত্রেই আমাদের ইন্দ্রিয়েব নানা দুৰ্ব্বলতাগুলিকে অতি স্পষ্ট করিয়া দেখাইয়া দিতেছে। ৩য় সংখ্যা । ] - আমাদেল নানা ইন্দ্ৰিয়ের এই সকল দুৰ্ব্বলতাগুলির কথা আলোচনা করিলে মনে হয়, স্বগ্ন যন্ত্রোপ্তাবলের জন্ত গত শতাব্দীতে বিশেষ চেষ্টা ন হইলে, আজ আমরা বিজ্ঞানকে এতটা উন্নত দেখিতে পাইতাম না। প্রকৃতি দেবী যে সকল মহা সত্যকে শত শত রহস্তের কুহেলিকায় আচ্ছন্ন করিয়া আমাদের অক্ষম ইন্দ্রিয়ঙ্কালের অন্তরালে রাখিয়ছিলেন, আধুনিক উন্নত যন্ত্রই সেই কুহেলিকা ভেদ করিয়া সত্যকে উদ্ধার করিবাল পথ দেথাইয়া দিতেছে । অতি প্রাচীন কালের তুলনায় আজ আমরা প্রকৃতই দিব্য ইঞ্জিয় লাভ করিয়াছি । -- ॐधीछ१Iनांनन्छ ज्ञाद्र । খোলফায় রাশেদিন । ওসমান ( ৬৩৪ খৃঃ) । ওমরো অস্ত্যেষ্টিক্রিয়াব পর নির্বাচকমণ্ডলী তদীয় - উত্তরাধিকারী মনোনীত করিবার জন্ত সম্মিলিত হইলেন। | "আপনি এ পস্তাবে স্বীকষ্ট হইতে পারেন কি ” ৭সমান জোবযুর আলীর অমুকূলে মতপ্রকাশ করিলেন ; তালহ! ওসমানের পক্ষসমর্থন করিলেন ; সাদ অবদোর রহমানের নাম প্রস্তাব করিলেন। তাহারা কোন মীমাংসায় উপনীত হইতে ন পারিয়া সে দিনের মত সভৗভঙ্গ করিলেন। অতঃপর মদিনাবাসীদের মতামত গৃহীত হইল। তাছার আলী অথবা ওসমানের মনোনয়ন জন্ত মত প্রকাশ করিলেন। তিন দিন পরে অবদোর বহমান মদিনাবাসী বিশ্বাসীদিগকে মসজিদে আহবান করিলেন। সকলে সমবেত হইলে অবদোর রহমান আলীর হস্তধারণ করিয়া কহিলেন, “হে আলী, যদি আপনি কোরাণের আদেশ, মোহাম্মদের উপদেশ এবং আবুবকর ও ওমলের ব্যবস্থা মত শাসনদণ্ড পরিচালনা করিতে স্বীকত হন, তবে আপনাকে ইসলাম সাম্রাজ্যের অধিনেতৃপদে নিযুক্ত কয়া যাইতে পারে।” আলী উত্তর •করিলেন, “আমি কোরাণের আদেশ ও মোহাম্মদের ব্যবস্থা মত কাৰ্য্য করিব, কিন্তু অন্তান্ত বিষয়ে আমার স্বাধীনতা থাকিলে ।” অবলোর বহমান আলীর এই উত্তর শ্রবণ করিয়া ঠাঙ্গার হস্ত পরিত্যাগপূৰ্ব্বক ওসমানকে জিজ্ঞাসা করিলেন, Aora খোলফায় রাশেদিন । - - - o - - 'J(t - - - আগ্রহসহকারে স্বীকৃত হইয়া ইসলামমণ্ডলীর অধিনায়কত্ব লাভ করিলেন । - ওসমান ইসলাম ধৰ্ম্ম প্রচারের প্রথম বৎসরে মোহাম্মদের শিষ্যত্ব স্বীকার করেন, এবং তদবধি তাহার সহিত সুখে কুঃথে অভিয় ছিলেন । মোহাম্মদ বলিয়াছেন,” প্রত্যেক ব্যক্তির এক একজন সঙ্গী থাকে স্বৰ্গলোকে ওসমান আমার সঙ্গ।” লোকে ওসমানকে জোয়নে বলিত। "জে", প্লয়নে” শব্দের অর্থ জ্যোতিঃস্থয়েল্প অধিকারী। ওসমান রকিয়া ও ওমকল ফন না যোহাম্মদের রূপবতী কস্তাদরকে. পরিণয় সুত্রে আবদ্ধ করিয়াছিলেন, এজন্তই লোকে তাহাকে জোয় রয়নে অর্থাৎ জ্যোতিঃদ্বয়ের অধিকারী বলিত। ওসমান । নিজেও জ্যোতিৰ্ম্ময় পুরুষ ছিলেন। আবদুল্লা হাৰম বলিয়াছেন, “ওসমানের স্তার কুরূপ ব্যক্তি কথনও আমার নয়নগোচর হয় নাই।” পলিকার পদলাভ কালে ঠাহীর বরংক্রম মুগুতিবর্ষ অতিক্রম করিয়ছিল। তিনি দীর্ঘকায় ও খামধর্ণ ছিলেন । তাছার বদনম গুল অপুৰ্ব্ব দ্বীপ্তিসম্পন্ন ছিল । তাঙ্গর সুদীর্ঘ শুভ্ৰ শ্মশ্ররাজি সুরঞ্জিত হইয়া অতি সুন্দর দেপাইত। তিনি ধৰ্ম্মানুষ্ঠানে একাত্ত তৎপর ছিলেন। উপাসনা, উপবাস ও কোরাখপাঠ উাহার অতি প্রিয়কাৰ্য্য ছিল। কিন্তু তিনি পুৰ্ব্বৰস্তু খলিফান্বয়ের ছায় অবিলাসী ছিলেন না। তাহার বাস্তৃত স্বপ্রসিদ্ধ ছিল ; তিনি মুক্তহস্তে ধনদান করিতেন। এই কায়ণ তিনি লোকপ্রিয় ছিলেন। একবার দুভিক্ষ উপস্থিত হইলে তিনি মদিনীর গরিব দুঃখাদিগকে শস্ত বিতরণ করিয়াছিলেন। ওসমান মোহাম্মদ ও তদীয় প্রচারবন্ধুগণের জলকষ্ট নিবারণ জন্ত কুপ খননাথ পয়ত্ৰিশ হাজার দিরহাম ও মসজিদের আয়তন বদ্ধন জন্য লিশ হাজার দিরহাম প্রদান করেন । এই সকল সদনুষ্ঠানের নিমিত্ত তিনি মোসলেম সমাজে অত্যন্ত প্রশংসাভাজন হল। একজন ইতিহাসলেখক লিথিয়াছেন, ওসমান দুষ্টট কাৰ্য্যে মোগম্মদের নিকট হইতে স্বৰ্গলোক ক্রয় করেন। প্রথম জলকষ্ট নিবারণ, দ্বিতীয় শস্ত বিতরণ। ওসমান খলিফার পদে অভিষিক্ত হইয় একটা শুরুতর কার্যে প্রবৃত্ত হন। আবুবকরের সময় সমস্ত কোরণ একত্র সংগৃহীত হয় । এই কোরাণের প্রতিলিপি নানা স্থানে ছড়াইয়। পড়ে। কিন্তু প্রতিলিপিসমূহে নানা প্রকার পরিবর্তন ও - *