পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- ՖԳ8 -

    • --l.-l.--

তাহা অপেক্ষ ঢের বেশী। ইহার বেগে অনেক চিনী (ধর্ম নির্ণমের পথ) চুরমার হইয়া গেল বা ঘূরিতে লাগিল । প্রাতঃকালে দেখা গেল যে ইওকোহাম সহরের দশা, যেন কোন শক্র ইহাকে গোলাগুলি দ্বারা বিধ্বস্ত করিয়াছে, সেই প্রকার হইয়াছে। লোকদিগের এত মানসিক উত্তেজনা হইয়াছিল, যে অবিলম্বে "জাপান ভূকম্পল শিক্ষার্থ সোসাইটী” স্থাপিত হইল। ভূকম্পন কি প্রকার ও কিরূপ বেগে ভ্রমণ করে, ইহা নিরূপণের জন্য র্তাহাদিগের চেষ্ট৷ হইতে লাগিল। পূৰ্ব্বে যে সমস্ত যন্ত্রাদি বাহির হইয়াছিল তাহ অকৰ্ম্মণ্য বোধে জাপান গবৰ্ণমেণ্ট নূতন নূতন যন্ত্র আবিষ্কার করিতে লাগিলেন, ভূকম্পের গতির মাপ হইতে আরম্ভ হইতে লাগিল ; এবং ইহার সহিত যে নূতন জ্ঞান পাওয়া গেল,তস্থার পৃথবীর অন্যান্য দেশের ভূকম্পের জ্ঞানজাত ধারণা উণ্টিয়া গেল। ভূমিকম্পবিষয়ক জ্ঞান অনেক বন্ধিত হইল এবং ইঞ্জিনিয়ার ও শিল্পী লোকসকল ক্রমশঃ জানিতে পরিলেন কি রকমে গৃহাদি নিৰ্ম্মাণকাৰ্য্য করিতে হইবে যাহাতে ভূমিকম্পে অতি কম লোকসান হইতে পারে । নিশ্চয় বলিতে হইবে যে, ইহা পরিশ্রমের সীমান্ত ফললাভ নহে ; খাট বিজ্ঞান সম্বন্ধেই ধরুন বা কার্য্যোপযোগিতা সম্বন্ধেই ধরন, ইহার স্পষ্ট ফললাভে জাপান গবর্ণমেণ্ট এতই আনন্দিত হইলেন যে ভূমিকম্পবিদ্যা সম্বন্ধে জাপান বিশ্ববিদ্যালরে একটী অধ্যাপকের পদ স্থাপিত করিলেন। এক সহস্ৰ স্থানে ভূকম্পের ফল নিরীক্ষণার্থ পৰ্য্যবেক্ষণাগার প্রতিষ্ঠিত হইল এবং ১৮৯৩ খু: বিজ্ঞানবিৎ ও কাজের লোকদিগের একটি সভা স্থাপিত হইল। ভূকম্পের অনিষ্টকল কিসে খুব কম হয়, তাহাই নিৰ্দ্ধারণ করা এই সভার কার্য্য। যখন ১৮৯৭ খৃঃঅঙ্গে জুন মাসে ভূমিকম্পে ভারতবর্যের অন্তর্গত আসাম প্রদেশ একেবারে ছারখার হইয়া গিয়াছিল, এই সভ্য হইতে দুইজন সভা সেই সময়ে কি প্রকারে গৃহাদি নিৰ্ম্মাণকাৰ্য্য করিতে হইবে, তাঁহাই জানিবার জন্ত আসাম প্রদেশে প্রেরিত হইয়াছিলেন। এক্ষণে জানাগিয়াছেযেভূমিকম্প প্রায়ইহইয় থাকে, এবং অনেক স্থান দেপিয়া ইহা সাব্যস্ত হইয়াছে যে ৩০ মিনিট অস্তুর আমাদের অধিষ্ঠানভূত পৃথিবী এক একবার লড়েন চড়েন। প্রবাসী। - --- —-m - -ع - - যে সব স্থানে ভূমিকম্প বেশী ও যে সকল কেন্দ্রগুল হইতে ভূমিকম্প উথিত হয়, ইহুদিগের বিষয় এক্ষণে আমর [ ৫ম ভাগ । - ৩য় সংখ্যা । ] - পাহাড় ফাটিয়া অনেক সময়ে জাপানে ভূকম্প হইয়াছে এবং এক স্থানে ভূকম্পের নিমিত্ত ৫০ মাইল লম্বা জমীর ফাট যতদূর জানি, তাহাতে এই সব ব্যাপালের কারণ অনেকটা হইয়াছে এবং অন্তান্ত জায়গায় জমীর ফাঁট পূর্কে থাকা ঠিক্ ঠক্ বলা যার। যদিও অনেক স্থানে দেখিতে পাওল নিবন্ধন ভূমিকম্প হইয়াছে। যায় যে, আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প পাশাপাশি হয়, পৃথিবীর উত্তাপ ক্রমশঃ কম হইয়া যাইতেছে। এইজন্য যেন কেছ মনে না করেন যে দুইএর মধ্যে সাক্ষাৎ কোন সম্বন্ধ আছে। কথন কপূন আগ্নেয়গিরির উদগম প্রথম প্রথম না হওয়াতে অর্থাৎ অবরুদ্ধ হওয়াতে সেই স্থানে কম্পন হইতে পারে কিন্তু ইহা অতি অল্পস্থানবাপী হইয় থাকে। মধ্য-জাপালে ১৮৮৮ খৃঃ ঘথন বান্দেসান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইয়াছিল, তখন কেবলমাত্র ২৫ ক্রোণ স্থান ব্যাপিয়া ভূমিকম্প হইয়াছিল। ইহা দ্বারা এই অযুনিস্ত হয় যে, আগ্নেয়গিরি যেখানে সেখানে কম ভূমিকম্প হই। থাকে। বেশ ভাগ ভূমিকম্প সেই থানে হইয়া থাকে যেখানে আগ্নেয়গিলি নাই। বেশ ভাগ ভূমিকম্প প্রশান্ত মহাসাগর হইতে উত্থিত হইয়া পৃথিবীর স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হয় এবং যতই বেশী দেশের ভিতরে আইসে তত্বই ভূকম্পের বেগ কমিয়া যায়। ভূমিকম্পের উৎপত্তি ---পৃথিবীর উচু নীচু অর্থাৎ উপরিভাগের ঢাল বড় বেশ সেই থানেই বেশ ভূমিকম্প হইয় থাকে। কিম্বা যেখানে ভূতত্ত্ববিং দিগের মতে প্রমাণ আছে, যে পৃথিবীর উপরের স্তর এখনও তৈয়ারী হইতেছে, সেইখানেও ভূমিকম্প বেশ। জাপান হইতে পূৰ্ব্বদিকের এবং আণ্ডিজ পাহাড় হইতে পশ্চিম দিকের জমীর ঢাল ২০ ফুটে ১ ফুট হইতে ৩০ ফুটে ১ ফুট মধ্যে এবং এই সব স্থানে ভূমিকম্প বেশী। অষ্ট্রেলিয়, পূৰ্ব্ব-আমেরিকা, এবং পশ্চিম ইউরোপের জমীর ঢাল ৭• ফুটে ১ এবং ২৫০ফুটে ১ ফুট ; এইসব জায়গায় ভূমিকম্প খুব কমই হয়। হিমাচল ও আপ্লস্ পাহাড়ে ভূমিকম্প বেশ হয়। তাহার কারণ এট যে এই পাহাড় গুলি আধুনিক এবং এখনও ইহাদের নিৰ্ম্মাণকাৰ্য শেষ হয় নাই। যে সব স্থানে ভূমিকম্প হয় তাহাদিগের উপরভাগের জমীরউচ্চতানীত এবং পুথিবীর - - যে সব খন লে - উৎপত্তিতত্ত্ব অনুসারে ইহাই স্পষ্ট বোধ হয় যে পৰ্ব্বতের কুঞ্জ । নের সহিত ভূকম্পের বিশেষ সম্পর্ক আছে। যেহেতু ইগর অভ্যন্তর সঙ্কুচিত হইতেছে। পৃথিবীর উপরিভাগ অভ্যন্তরস্থ শক্ত পিণ্ডের উপর নির্ভর করিয়া থাকিতে চায় । উত্তাপ হ্রাসবশতঃ এই পিণ্ড সঙ্কুচিত হওয়াতেই, পৃথিবীর নানাবিধ নড়ন চড়ন, কোথাও উচু হওয়া, কোথাও বসিয়া যাওয়া, কোথাও পার্থে সরিয়া যাওয়া ইতাদি বাপার ঘটিস্থা থাকে। মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবেও সময়ে সময়ে ভূমিকম্প হইয়া থাকে । সমুদ্রেয় নীচের স্থানগুলি উপরকার অর্থাৎ সমুদ্রের তলার বালী ও মাটর ওজন সহ করিতে না পারায় ফাটিয়া বা বসিয়া যায়, এবং তাহাতে ভূমিকম্প হইয়া থাকে। এমনও হইতে পারে যে উচ্চ উচ্চ সমতল ভূমি অপলারই ওজনে আপনিই হঠাৎ বসিয়া যায়। দুই প্রকার ভূমিকম্পের দৃষ্টান্ত —শতকরা ৯৫ট ভূমিকম্পে এই দেখিতে পাওয়া যায় যে, পুথিবী এদিক ওদিক কম বেণী লিতে থাকে। আর বাকী শতকরা ৫টা ভূমিকম্পে, বড় বড় ভূমিকম্প গুলি যাহার অন্তর্গত, তাঙ্গতে পূৰ্ব্বোক্ত ব্যাপার ত হইই, অধিকন্তু পৃথিবীর উপরভাগ সত্য সত্য একিয় বেকিয়া যায়, যাহা হাজার মাইল দূর পর্যন্ত চলিয়া যায় এবং পরে আরো দূরে সমভাবে বিস্তারিত হইয়া পৃথিবীকে ব্যাপিয়া ফেলে। প্রথমকার ভূমিকম্পে ভূমীর ফাট কম বেশী হইতে পারে। কিম্বা পুরাণ ফাটের সন্নিকটে কম্পন হইতে পারে। কিন্তু জমীকে ধগাইয়া দেওয়া বা উচু করা ইহার কার্য নহে। দ্বিতীয় প্রকার ভূমিকম্পে পাহাড়ের উৎপত্তি বা পাহাড়ের বিলোপ হইয়া থাকে। এবং এই সব ব্যাপার হওয়ার পরে কয়েক মিনিট ধরিয়া কম্পন হইতে থাকে। তাহাকে ভূমিকম্পের অতিকম্প কহ যাইতে পারে। জাপানে অনেক নূতন বস্তু বাহির করা ইয়াছে বস্থার ভূকম্পের গতির বেগ কত এবং উহা এদিক ওদিক কত স্থান ব্যাপিয়া দোলে তাহার ঠিক্ ঠক্‌ মাপ হয়। এই সমস্ত যন্ত্রের দ্বারা এক্ষণে ইহা জানা গিয়াছে যে৫৯ ক্রোশ ব্যবধানে ভূমিকম্প ও তাঁহার ফলাফল । - o

  • १¢

میسی

ভূকম্পের জোর অতি সজোরে অনুভূত হইলেও জর্মী এক ইঞ্চির দশমাংস অপেক্ষ বেশী এদিক ওদিক দোলে না। যখন পৃথিবীর নড়ন চড়ুন আধ ইঞ্চি হয় ইহা তখন পিজনক হইয়া উঠে এবং ১ ইঞ্চি দোলন হইলে প্ৰলয় ব্যাপার অনুভূত হইয়া থাকে। যে ভূমিকম্পে ১৮৯১ খৃষ্টাব্দে ২৬শে অক্টোবর মধ্য-জাপানে ভয়ানক অনিষ্ট উৎপাদন করে, সে সময়ে পৃথিবী ৯ ইঞ্চ এবং ১ ফুট পৰ্য্যন্তও এদিক ওদিক দুলিয়াছিল । এবং এই দোলন চক্ষে দেপা গিয়াছিল। এই যে পৃথিবীর দোদুল্যমান অবস্থা ইহাকোথাও শীত্ব শীঘ্ন হয় কোথাও আস্তে আস্তে হইয়া থাকে। কোথাও-১ মিনিটে. হয়, কোথাও ২ বা ৫ সেকেণ্ডের মধ্যে হয়। কোন কোন পশু পক্ষী অগ্রে ইঙ্গর বাৰ্ত্ত পাইয় চীৎকার করিতে থাকে। ভূমিকম্পের আগে বাদ শব্দ শুনিতে পাওয়া ধায়, তবে বুঝিতে হইবে যে উহা সজোরে আসবে। ছোট ছোট ভূকম্পগুলি করেক সেকেও হইতে ১ মিনিট ধরিয়া থাকে আর বড় বড় কম্পগুলি ২৩ মিনিট হইতে ৬১২ বিনিট কাল থাকে। ভূমিকম্প যেখানে উত্থিত হয় তাহার কয়েক শত ক্রোশের মধ্যে ভূমিকম্পের বেগ প্রতি সেকেণ্ডে ২ কিলোমিটর হইতে ১৬ কিলোমিটার হইয় থাকে। প্রথম বেগ বেশী জোরে ভ্রমণ করে । এই কয়েক শত ক্রোশের অতিরিক্ত স্থানে ভূমিকম্পের বেগ আরও বেশী জোরে ভ্রমণ করে। প্রতি সেকেও ১•১২ কিলোমিটার যাইয়া থাকে । কোন সময়ে ভূমিকম্প বেশী হয় ও কোন সময়ে ভূমিকম্প কম হয় তাহা নিশ্চয় করিয়া বলিতে পায়া যায় না । তবে সাধারণতঃ শত কালে বেশ ভূমিকম্প হইয়া থাকে। গ্রীষ্ম কালে কম হয়। অমাবস্তা পূর্ণিমাতে বিশেষতঃ যে সময় স্বৰ্য্য চন্দ্র পৃথিবীর অতি সন্নিকটে থাকে সেই সময়েও ভূমিকম্পের কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়। ভূমিকম্পের সহিত চঞ্জের যে কিছু সম্পর্ক আছে তাহা বলিতে পারা বায় না। সাধারণত ভূমিকম্প প্রায় নিমানেই বেশী হইয়া থাকে। আবার কেহ কেহ বলেন যে, ভূমিকম্প রাত্রিতে বেশী হইয়া থাকে, - এবং অন্ধকারকেই ভাল মাসে। কেহ কেহ বিবেচনা করেন যে, হুর্যোর মধ্যে কালে দাগের ( Sun-spots) সহিত ভূমি

  • প্রায় ১১•• গজে ১ কিলোমিটার।

-